Showing posts with label কথোপকথনের বৈধাবৈধ. Show all posts
Showing posts with label কথোপকথনের বৈধাবৈধ. Show all posts

Friday, December 15, 2017

মিথ্যা বলা হারাম কেন?

মিথ্যা বলা হারাম কেন?


 মিথ্যা বলা হারাম

 মিথ্যা বলা হারাম
মহান আল্লাহ বলেন,  ﴿ وَلَا تَقۡفُ مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٌۚ  ٣٦ ﴾ [الاسراء: ٣٦]
অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। (সূরা ইসরা ৩৬ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,  ﴿ مَّا يَلۡفِظُ مِن قَوۡلٍ إِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيبٌ عَتِيدٞ ١٨ ﴾ [ق: ١٨]
অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। [ক্বাফ ১৮ আয়াত)

মিথ্যা থেকে বাচার উপায়!!

মিথ্যা থেকে বাচার উপায়!!


মিথ্যা যে একটি বদ অভ্যাস তাতে কেউ সন্দেহকরে বলে আমি মনে করি না, কারণ মিথ্যাকে রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্বংসকর বলে মন্তব্যকরেছেন। আরো বলেছেন, মিথ্যামুনাফেকীর নিদর্শন। মানুষ মিথ্যা বলতে বলতেএক সময় আল্লাহর দরবারে মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্তহয়। আর সত্য বলা ও সত্য বলার প্রচেষ্টায় রতথাকলে আল্লাহ্ তাকে সত্যবাদী বলে লিখেনেন; এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামেরএকটি হাদীসের ভাষ্যই উদ্ধৃত করলাম।কথা উঠেছিল আমাদের এক শিক্ষককে নিয়ে যিনিমিথ্যা কথা বলতে ছাত্রদেরকে নিষেধ করতেন।একদা আমরা তার বৈঠকখানায় অবস্থান করছিলাম,

Friday, November 24, 2017

পরকীয় কথায় কানাচি পাতা হারাম

পরকীয় কথায় কানাচি পাতা হারাম


লোকেরা কোন গোপন কথা আড়ালে আস্তে বলাবলি করলে অথবা দূরে ফিস্ফিসিয়ে কথা বললে কোন দেওয়াল বা দরজা বা পর্দার আড়াল থেকে কান খাড়া করে কর্ণপাত করা বা তাদের সেই গোপন কথা কান পেতে শোনা বৈধ নয়, যে কথা শোনাতে তারা অপছন্দ করে।
রাসুল (সাঃ) বলেন,

Monday, November 13, 2017

কবীরা গুনাহঃ ১৫৪. উচ্চ স্বরে কুর‘আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া

১৫৪. উচ্চ স্বরে কুর‘আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া


উচ্চ স্বরে কুর‘আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া হারাম কাজ।
আবূ সা’ঈদ্ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মসজিদে ই’তিকাফ করলে সাহাবাদের উচ্চ কিরাত শুনতে পান। তখন তিনি পর্দা উঠিয়ে বলেন:
أَلَا إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّهُ، فَلَا يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَلَا يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِيْ الْقِرَاءَةِ أَوْ قَالَ: فِيْ الصَّلَاةِ.
‘‘জেনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই তার প্রভুর সাথে একান্তে আলাপ করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন এ সময় অন্যকে কষ্ট না দেয় এবং নামাযের ভেতরে বা বাইরে উচ্চ স্বরে কিরাত না পড়ে’’।
 (আবূ দাউদ ১৩৩২)
উচ্চ স্বরে কিরাত পড়ার চাইতে নিচু স্বরে কিরাত পড়ায় সাওয়াব বেশি।
’উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
الْـجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ، وَالْـمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْـمُسِرِّ بِالصَّدَقَةِ.
‘‘উচ্চ স্বরে কুর‘আন পড়া প্রকাশ্য সাদাকার ন্যায়। আর নিচু স্বরে কুর‘আন পড়া লুক্কায়িত সাদাকার ন্যায়’’। (আবূ দাউদ ১৩৩৩)
তবে উচ্চ স্বরে কুর‘আন পড়ায় কারোর কোন ক্ষতি না হয়ে যদি লাভ হয় তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রাত্রি বেলায় ঘর থেকে বের হয়ে দেখলেন আবূ বকর (রাঃ) নিচু স্বরে নামায পড়ছেন আর ’উমর (রাঃ) উচ্চ স্বরে। যখন তাঁরা উভয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একত্রিত হলেন তখন তিনি বললেন: হে আবূ বকর! আমি একদা তোমাকে নিচু স্বরে নামায পড়তে দেখলাম। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন: হে আল্লাহ্’র রাসূল! আমি যাঁর সাথে একান্তে আলাপ করছিলাম তিনি তো আমার আওয়ায শুনেছেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমর (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে ’উমর! আমি একদা তোমাকে উচ্চ স্বরে নামায পড়তে দেখলাম। তখন ’উমর (রাঃ) বললেন: হে আল্লাহ্’র রাসূল! আমি শয়তানকে তাড়াচ্ছিলাম আর ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাচ্ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো দেখলেন বিলাল (রাঃ) এক সূরাহ থেকে কিছু আয়াত আবার অন্য সূরাহ থেকে আরো কিছু আয়াত তিলাওয়াত করছেন। তখন তিনি বিলাল (রাঃ) কে একদা এ ব্যাপারে জানালে তিনি বলেন: কথাগুলো খুবই সুন্দর! আল্লাহ্ তা‘আলা সবগুলো একত্রিত করে নিবেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে বললেন: তোমরা সবাই ঠিক করেছো। (আবূ দাউদ ১৩৩০)
‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা জনৈক সাহাবী রাত্রি বেলার নামাযে উচ্চ স্বরে কিরাত পড়েছেন। ভোর হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বললেন: আল্লাহ্ তা‘আলা অমুককে দয়া করুন! সে গতরাত আমাকে অনেকগুলো আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমার পড়া থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলো। (আবূ দাউদ ১৩৩১)

কবীরা গুনাহঃ ১৩০. তৃতীয় জনকে দূরে রেখে অন্য দু’ জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলা

১৩০. তৃতীয় জনকে দূরে রেখে অন্য দু’ জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলা


তৃতীয় জনকে দূরে রেখে অন্য দু’ জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলা আরেকটি হারাম কাজ। তেমনিভাবে তৃতীয় জনের সামনে অন্য দু’ জন এমন ভাষায় কথা বলা যা সে বুঝে না অথবা এমন আকার-ইঙ্গিতে কথা বলা যা সে বুঝে না তাও হারাম। কারণ, তাতে সে সত্যিই ব্যথিত হবে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্’ঊদ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

Sunday, November 12, 2017

কবীরা গুনাহঃ ৮৯. যে কথায় আল্লাহ্ তা‘আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা

৮৯. যে কথায় আল্লাহ্ তা‘আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা


যে কথায় আল্লাহ্ তা‘আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
বিলাল্ বিন্ ’হারিস্ মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللهِ، مَا يَظُنَّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ، فَيَكْتُبُ اللهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ، وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللهِ، مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ، فَيَكْتُبُ اللهُ عَلَيْهِ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ.
‘‘তোমাদের কেউ কখনো এমন কথা বলে ফেলে যাতে আল্লাহ্ তা‘আলা তার উপর খুবই সন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছুবে। অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামত পর্যন্ত তার উপর তাঁর সন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন। আবার তোমাদের কেউ কখনো এমন কথাও বলে ফেলে যাতে আল্লাহ্ তা‘আলা তার উপর খুবই অসন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছুবে; অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামত পর্যন্ত তার উপর তাঁর অসন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন’’।
(তিরমিযী ২৩১৯; ইব্নু মাজাহ্ ৪০৪০; আহমাদ ৩/৪৬৯; হা’কিম ১/৪৪-৪৬; ইব্নু হিববান ২৮০; মা’লিক ২/৯৮৫)

Sunday, October 15, 2017

অনেকে কাবা গৃহের তওয়াফ ও হাজারে আসওয়াদের চুম্বনকে পৌত্তলিকতার সাথে তুলনা করে, তা কি ঠিক?

অনেকে কাবা গৃহের তওয়াফ ও হাজারে আসওয়াদের চুম্বনকে পৌত্তলিকতার সাথে তুলনা করে, তা কি ঠিক?


আদৌ ঠিক না। কারণ তওয়াফে কাবাগৃহে পূজার উদ্দেশ্য হয় না, যেমন মূর্তিপূজা বা কবরপূজা হয়। আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করে তার আদেশ পালন করা হয় এবং তাতে তারই সন্তুষ্টি কামনা করা হয়। অনুরূপ হাজারে আসওয়াদের চুম্বনও দেওয়া হয়, যেহেতু তা একটি ইবাদত। তাতে মহানবী (সঃ) এর অনুসরণ করা হয় এবং তাতে সওয়াব হয়। আমরা জান্নাতকে ভালবাসি বলে, জান্নাতের পাথরে চুমা দিই। পাথর থেকে কোন বরকতের আশায় নয়।

পাথর চুম্বকের মত চুম্বনকারীর পাপ শোষণ করে না। বরং আল্লাহর নবী (সঃ) এর অনুসরণে তাকে চুম্বন দিলে পাপ ক্ষয় হয়। উমার (রঃ) পাথর চুম্বন দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘(হে পাথর!) আমি জানি তুমি একটা পাথর। তুমি কোন উপকার করতে পার না, অপকারও না। যদি আমি আল্লাহর রাসুল (সঃ) কে তোমাকে চুম্বন দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন দিতাম না। ‘ (বুখারি, মুসলিম, আবুদ দাউদ, তিরমিজি, নাসাই)

অনেক মানুষকে সত্যের দিশা দিতে গেলে বাপ দাদার দোহাই দেয়। অনেকে কোন বড় আলেম বা নেতার দোহাই দেয়। এমন দোহাই দিয়ে কি সত্য প্রত্যাখ্যান করা উচিত?

অনেক মানুষকে সত্যের দিশা দিতে গেলে বাপ দাদার দোহাই দেয়। অনেকে কোন বড় আলেম বা নেতার দোহাই দেয়। এমন দোহাই দিয়ে কি সত্য প্রত্যাখ্যান করা উচিত?


অবশ্যই না। প্রত্যেকের বাপ দাদা তার নিজের কাছে শ্রদ্ধেয়। কিন্তু প্রত্যেকের বাপ দাদা যে হকপন্থী, তার নিশ্চয়তা কোথায়? হকের মাপকাঠি কোন ব্যক্তিত্ব নয়, হকের মাপকাঠি হল কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ। বাপ দাদার দোহাই দিয়ে হক প্রত্যাখ্যান করার রোগ অনেক পুরাতন। কুরআন মজিদের বহু জায়গায় সে কথা উল্লেখিত রয়াছে। মহান আল্লাহ দাদুপন্থিদের ব্যাপারে বলেছেন,

অনেক লোককে কোন কাজে নিষেধ করতে গেলে বলে, ‘সবাই তো এটা করে !’ কেউ বলে, ‘লোকে তো করছে !’ কেউ বলে, ‘এত লোক করছে, তারা কি ভুল পথে আছে নাকি?’ ইত্যাদি। তাদের এমন বলা বৈধ কি?

অনেক লোককে কোন কাজে নিষেধ করতে গেলে বলে, ‘সবাই তো এটা করে !’ কেউ বলে, ‘লোকে তো করছে !’ কেউ বলে, ‘এত লোক করছে, তারা কি ভুল পথে আছে নাকি?’ ইত্যাদি। তাদের এমন বলা বৈধ কি?


লোকের দোহাই দিয়ে কোন কাজ করা বা বর্জন করা কোন মুসলিমের উচিৎ নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বর্তমানে সরকার গঠন করতে পারে, সত্য গঠন করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন,
“আর যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানভিত্তিক কথাবার্তাই বলে থাকে।” (আনআমঃ ১১৬)
“তুমি যতই আগ্রহী হও না কেন,

কোন সন্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করা বৈধ কি?

কোন সন্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করা বৈধ কি?


কোন সন্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করায় কোন দোষ নেই। যেমন দোষ নেই নিজের ছেলে ছাড়া অন্য কোন স্নেহভাজনকে ‘বেটা’ বলে সম্বোধন করা। এ সম্বোধনের উদ্দেশ্য থাকে পিতার মত শ্রদ্ধা এবং পুত্রের মতো স্নেহ প্রকাশ। পিতৃতুল্যকে ‘পিতা’ বলা এবং পুত্রতুল্যকে ‘বেটা’ বলা, তদনুরূপ মাতৃতুল্যকে ‘মাতা’ বা ‘মা’ বলা এবং কন্যতুল্যকে ‘বেটি’ বলায় কোন বংশীয় সম্বন্ধ উদ্দিষ্ট থাকে না।
আল কোরআনে জন্মদাত্রী মা ছাড়া অন্য মহিলাকে ‘মা’ বলার কথা এসেছে। মহানবী (সঃ) এর স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা বলা হয়েছে।
নবী, বিশ্বাসীদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষাও অধিক প্রিয় এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মা। (আহযাবঃ ৬)
অতঃপর

অনেকে বলে, ‘নামায পড়ে কি হবে? নামায পড়ে কে বড়লোক হয়েছে?’ এ কথা কি ঠিক?

অনেকে বলে, ‘নামায পড়ে কি হবে? নামায পড়ে কে বড়লোক হয়েছে?’ এ কথা কি ঠিক?


এ কথা দুনিয়াদারী দৃষ্টিভঙ্গির ফলশ্রুতি। যেহেতু নামায পড়ে ইহলোকে বড়লোকে হওয়া জায় না। বরং নামায পড়ে পরলোক বড়লোক হওয়া যায়। নামায ইহকালে মানুষেকে অশ্লীলতা ও নোংরামি থেকে দূরে রেখে মানুষকে মানুষ করে রাখে, সঠিক মুসলিম বানায়। আর পরকালে তাকে ইচ্ছা সুখের  বাসস্থান দান করে। পরন্ত নামায পড়লে ইহকালের সুখ নয়, বরং পরকালের সুখ লাভের জন্যই পড়া উচিৎ।

কাউকে ‘আল্লাহর খলিফা’ বলা জায়েজ কি?

কাউকে ‘আল্লাহর খলিফা’ বলা জায়েজ কি?


কাউকে আল্লাহর খলীফা বলা জায়েজ না। মানুষ আল্লাহর খলীফা হতে পারে না। বরং আল্লাহই মানুষের ‘খলীফা’ হতে পারেন; যেমন সফরের দুয়াতে আমরা বলে থাকি, ‘আন্তাস সাহিবু ফিসসাফার আলখালিফাতু ফিল আহলে।’ একদা আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) কে ‘আল্লাহর খলীফা বলা হলে, তিনি বলেছিলেন,  ‘আমি আল্লাহর খলীফা নই। বরং আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর খলীফা।’ ( বানী সিঃ যযীফাহ ৮৫ নং)

যারা বলে ‘ব্যভিচারী পাথর ছুড়ে মারলে, চোরের হাত কাটলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।’ তাদের এমন বক্তব্য কি ঠিক ?

যারা বলে ‘ব্যভিচারী পাথর ছুড়ে মারলে, চোরের হাত কাটলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।’ তাদের এমন বক্তব্য কি ঠিক ?


অবশ্যই ঠিক নয়। এমন অপরাধী মানবকে কে অধিকার দিয়ে রেখেছে? যারা এ কথা বলে, তারা কি মানুষ খুন করে না? তারা কি কারো ফাঁসি দেয় না? আসলে তাদের কাছে ওই শ্রেণির অপরাধ বড় নয়, বরং তাদের কাছে ব্যভিচার কোন অপরাধই নয়। আর আল্লাহর বিধান তো তারা মানেই না।
মানবের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। কিছু অপরাধের ফলে তিনিই তাদের মানবাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিধান দিয়েছেন।  যেহেতু

অনেকে বলে, ‘যার পীর নেই, তার পীর শয়তান।’ এ কথা কি ঠিক?

অনেকে বলে, ‘যার পীর নেই, তার পীর শয়তান।’ এ কথা কি ঠিক?


কথাটি ঠিক। কারণ নিজে নিজে সঠিক পথ পাওয়ার চেষ্টা করলে ভ্রষ্টতাই স্বাভাবিক। তবে পীর মানে ওস্তাদ। পীর মানে বিদআতি মুর্শিদ নয়, প্রচলিত তরীকার কোন সূফীপন্থী নয়। যেমন ওস্তাদ কেবল একটা ধারাই বাঞ্ছনীয় নয়। শিক্ষার্থী মুসলিমের উচিৎ, যাকে হকপন্থী অভিজ্ঞ আলেম দেখবে, তাকেই ওস্তাদ বলে গণ্য করবে। যেহেতু মুসলিম কোন ব্যক্তি দেখে হক চেনে না, বরং হক দেখে ব্যক্তি চেনে। সুতরাং যে পীর বা ওস্তাদ পিরানে পীর অ উস্তাজুল আসাতিজাহ নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর অনুসারী নয়,

দাড়ি রাখতে বললে বা অন্য সৎকাজের উপদেশ দিলে অনেকে বলে, ‘তাকওয়া বুকে’ । এ কথা বলে সৎকাজ থেকে পিছল কাটা কি ঠিক?

দাড়ি রাখতে বললে বা অন্য সৎকাজের উপদেশ দিলে অনেকে বলে, ‘তাকওয়া বুকে’ । এ কথা বলে সৎকাজ থেকে পিছল কাটা কি ঠিক?


অবশ্যই ঠিক নয়। মহানবী (সঃ) নিজে বুকের প্রতি ইঙ্গিত করে অবশ্যই বলেছেন ‘তাকওয়া এখানে’। কিন্তু তা এ কথার দলিল নয় যে,  বাহ্যিক আমল জরুরী নয়। তাছাড়া হৃদয়ে তাকওয়া থাকলে বাহ্যিক দেহ ও আমলে তাঁর বহিঃপ্রকাশ অবশ্যই ঘটবে। যেহেতু রাসুল (সঃ) বলেছেন, “দেহের মধ্যে একটি গোশতপিণ্ড রয়েছে, যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হল হৃদপিণ্ড (অন্তর)” (বুখারি ও মুসলিম)

‘পোড়া কপাল’, ‘কপালে লেখা’, ‘কপালে ছিল’, বা ‘কপাল খারাপ’ ইত্যাদি বলা বৈধ কি?

‘পোড়া কপাল’, ‘কপালে লেখা’, ‘কপালে ছিল’, বা ‘কপাল খারাপ’ ইত্যাদি বলা বৈধ কি?


প্রত্যেকের ভাগ্য লেখা আছে ‘লাওহে মাহফুজ’- এ। সেটাই হল মুল ভাগ্যলিপি। মহান আল্লাহ বলেন,
“পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে, আমার তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে, নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে তা খুবই সহজ। (হাদিদঃ২২)
কিন্তু জীবনের তফসীলী ভাগ্য লেখা হয় মায়ের পেটে। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,

কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে তার কি ‘নিজের চরকায় তেল দাও’ বলা বৈধ?

কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে তার কি ‘নিজের চরকায় তেল দাও’ বলা বৈধ?


কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে বা তার অন্যায়ে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকারীদের  ‘নিজের চরকায় তেল দাও’, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার’ ইত্যাদি বলে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয়। যেহেতু তার জবাবে বলা যায় যে, ‘আমরা পরের চরকায় তেল দিতেও আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ ও মন্দকাজে বাধা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এটা আমাদেরও ব্যক্তিগত ব্যাপারে।’ (ইবনে উসাইমিন)

এক মহিলার অভ্যাস যে, সে তাঁর সন্তানদেরকে অভিশাপ ও গালিমন্দ করে থাকে। কখনো বা তাদেরকে প্রত্যেক ছোট বড় দোষে কথা দ্বারা, কখনো বা প্রহার করে কষ্ট দেয়। ই স্ত্রীর ব্যাপারে আমার ভূমিকা কি হতে পারে? এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে দ্বীনের নির্দেশ কি? যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দুরে সরে যাব এবং সন্তানরা তাঁর সঙ্গে থাকবে? অথবা আমি কি করব?

এক মহিলার অভ্যাস যে, সে তাঁর সন্তানদেরকে অভিশাপ ও গালিমন্দ করে থাকে। কখনো বা তাদেরকে প্রত্যেক ছোট বড় দোষে কথা দ্বারা, কখনো বা প্রহার করে কষ্ট দেয়। এই অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে আমি তাকে একাধিকবার উপদেশ দিয়েছি। কিন্তু সে উত্তরে বলেছে, ‘তুমিই ওদের স্পর্ধা বাড়ালে অথচ ওরা কত দুষ্ট।’ শেষ ফল এই দাঁড়াল যে, ছেলেরা তাকে অবজ্ঞা করে তাঁর কথা নেহাতই অগ্র্যাহ্য করতে লাগল। তাঁর বুঝে নীল যে, শেষ পরিণাম তো গালি ও প্রহার। এই স্ত্রীর ব্যাপারে আমার ভূমিকা কি হতে পারে? এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে দ্বীনের নির্দেশ কি? যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দুরে সরে যাব এবং সন্তানরা তাঁর সঙ্গে থাকবে? অথবা আমি কি করব?


ছেলে মেয়েদেরকে অভিসম্পাত করা অন্যতম কবিরাহ গোনাহ; অনুরূপ অন্যান্যদেরকেও অভিশাপ করা, যারা এর উপযুক্ত নয়। নবী (সঃ) হতে শুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনি বলেন, “মুমিনকে অভিশাপ করা তাকে হত্যা করার সমান।”
তিনি আরও বলেন,

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আজ্ঞাবহ ধার্মিকদের প্রতি বিদ্রূপ হানার হুকুম কি?

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আজ্ঞাবহ ধার্মিকদের প্রতি বিদ্রূপ হানার হুকুম কি?


আল্লাহ ও তদীয় রাসুলের আজ্ঞাবহ ধর্মভীরু মুসলিমকে ধর্মের যথার্থ অনুগত হওয়ার কারণে বিদ্রূপ করা হারাম এবং তা মানুষের জন্য বড় বিপদজনক আচরণ। কারণ এ কথার আশংকা থাকে যে, ধর্মভীরুদেরকে তাঁর ঐ অবজ্ঞা তাঁদের আল্লাহর দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকাকে অবজ্ঞা করার ফল হতে পারে। তখন তাদেরকে ঠাট্টা ব্যঙ্গ করার অর্থই হবে, তাঁদের সেই পথ ও তরিকাকে ঠাট্টা ব্যঙ্গ করা, যার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত। যাতে তারা ঐ লোকেদের অনুরূপ হবে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

পাপ কাজে সতর্ক করলে অনেকে বলে, ‘আল্লাহ ক্ষমাশীল’। তাঁদের এমন আশাবাদীর কথা বলা বৈধ কি?

পাপ কাজে সতর্ক করলে অনেকে বলে, ‘আল্লাহ ক্ষমাশীল’। তাঁদের এমন আশাবাদীর কথা বলা বৈধ কি?

তাঁদের জন্য এমন আশাবাদীর কথা বলে পাপ নির্বিচল থাকা অবশ্যই বৈধ নয়। যেহেতু তাঁদের জানা দরকার যে, মহান আল্লাহর যেমন মহা ক্ষমাশীল, তেমন তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। তিনি বলেন,

“আমরা বান্দাদেরকে বলে দাও, ‘নিশ্চয় আমিই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু এবং আমার শাস্তিই হল অতি মর্মম্ভেদ শাস্তি।’ ( হিজরঃ ৪৯-৫০)

“ তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (মায়িদাহঃ ৯৮)

সুতরাং তার একটা গুণবাচক দিকে ধরে থেকে অন্য দিকটা ভুলে যাওয়া আদৌ উচিৎ নয়। আশার  সাথে ভয়ও থাকা উচিৎ। (ইবনে উসাইমিন)

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ