Showing posts with label সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ- আবূ মালিক কামাল বিন আস-সাইয়্যিদ সালিম. Show all posts
Showing posts with label সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ- আবূ মালিক কামাল বিন আস-সাইয়্যিদ সালিম. Show all posts

Thursday, December 7, 2017

হাদীসের পরিচয়ঃ হাদীস কত প্রকার, সহীহ , হাসান, যঈফ ও মাওযু হাদীস কাকে বলে ?

হাদীসের পরিচয়ঃ  হাদীস কত প্রকার, সহীহ , হাসান, যঈফ ও মাওযু হাদীস কাকে বলে ?


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।
২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।
৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ

সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহঃ লেখকের কথা (مقدمة المؤلف)

লেখকের কথা (مقدمة المؤلف)


الحمد لله على آلائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في أرضه وسمائه، وأشهد أن محمدً عبده ورسوله وخاتم أنبيائه، صلى الله عليه وعلى وآله وأصحابه صلاة دائمة إلى يوم لقائه وسلم تسليمًا كثيرًا.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। আসমান ও জমীনে তাঁর কোন শরীক নেই । আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ () তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তার পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ নাবী। তাঁর (মুহাম্মাদ ) উপর, তাঁর পরিবার বর্গের উপর এবং তাঁর সকল সাহাবার উপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত সদা-সর্বদা অজস্র সালাম ও শামিত্মর ধারা বর্ষিত হোক।
অতঃপর

সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহঃ যে তিনটি কারণ আমাকে বইটিকে এ পদ্ধতিতে ও বিন্যাসে সাজাতে উদ্বুদ্ধ করেছে

যে তিনটি কারণ আমাকে বইটিকে এ পদ্ধতিতে ও বিন্যাসে সাজাতে উদ্বুদ্ধ করেছে


প্রথমত: পুরাতন ফিক্বহ শাস্ত্রগুলোর কিছু নেতিবাচক মনোভাব। সেটা গঠনগত দিক থেকে হতে পারে কিংবা বিষয়বস্ত্তগত দিক থেকে হতে পারে:[1]
ক। গঠনগত, বিন্যাসগত ও অধ্যায়গত দিকগুলো হলো: এ সমস্ত কিতাবের মধ্যে কিছু কিতাবের বিষয়বস্ত্তগুলো এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যে, একটি বিষয় অন্যটির মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে। ফলে কাঙিক্ষত মাসআলাটি উদ্ঘাটন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন কি বিশেষজ্ঞদের কাছেও এটা দুষ্কর হয়ে যায়। বিশেষ করে এ সমস্ত কিতাবে বিষয়ভিত্তিক কোন সূচিপত্র উল্লেখ করা হয় নি, যা উল্লেখ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গবেষকদের কাছে সহজ সাধ্য হত।
আরেকটি হলো:

সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহঃএ গ্রন্থ প্রণয়নের পদ্ধতি (المسلك في هذا الكتاب)

এ গ্রন্থ প্রণয়নের পদ্ধতি (المسلك في هذا الكتاب)


অতঃপর উল্লেখিত তিনটি বিষয় আমাকে এ গ্রন্থটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে উৎসাহিত করেছে। আমি আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এর দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানদের উপকার দান করেন এবং তিনি যেন এটাকে তার দ্বীনের পা--ত্য অর্জনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে একটি পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করেন। আর আমি অন্যের মাঝে যে নেতিবাচক দিকগুলো দেখে সমালোচনা করেছি, তা থেকে যেন তিনি আমাকে দূরে রাখেন। এ ধরনের নেতিবাচক বিষয়ের ক্ষেত্রে আমিও নিজেকে ত্রুটিমুক্ত মনে করছি না।
নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে আমি এ গ্রন্থকে সাজিয়েছি:

ইলমে ফিক্বহ এর উৎপত্তি (نشأة علم الفقه)

ইলমে ফিক্বহ এর উৎপত্তি (نشأة علم الفقه)


মহানাবী () এর যুগে ফিক্বহ শাস্ত্র (الفقه في عهد النبي صلى الله عليه وسلم)
জেনে রাখুন! রাসূল () এর স্বর্ণযুগে ফিক্বহ শাস্ত্র রচিত হয় নি। বর্তমান যুগের ফক্বীহগণ যেমনটি তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন বিধানের রুকনসমূহ, শর্তসমূহ, আদাব বা শিষ্টাচারসমূহ প্রণয়ন ও দলীল দ্বারা একটিকে অপরটি থেকে পৃথক করার যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, রাসূল () এর যুগে ধর্মীয় বিধান নিয়ে এরূপ আলোচনা হয় নি। বর্তমান যুগের ফক্বীহগণ তাদের কর্মের রূপরেখা তৈরি করেছেন এবং এ রূপরেখা গুলোর সমালোচনা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। যে বিধানকে যতটুকু সীমাবদ্ধ রাখা দরকার ততটুকু সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এরূপ অনেক কার্যক্রম বর্তমান যুগের ফক্বীহদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। আর রাসূল () এর স্বর্ণযুগের রূপরেখাটা ছিল এরূপ যে,

আহলুল হাদীস ও আহলুর রা’য় এর মাঝে মতভেদের কারণ (أسباب الاختلاف بين أهل الحديث وأهل الرأي)

আহলুল হাদীস ও আহলুর রা’য় এর মাঝে মতভেদের কারণ (أسباب الاختلاف بين أهل الحديث وأهل الرأي)


জেনে রাখুন! তাবেঈ ও তার পরবর্তী যুগের একদল আলিম রায়ের মাঝে ডুবে থাকাকে অপছন্দ করতেন এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ফাৎওয়া প্রদান ও মাসআলা উদ্ভাবন করাকে ভয় পেতেন। হাদীস বর্ণনা করাই ছিল তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতে হাদীস ও আসার গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার কাজটি প্রসারতা লাভ করে। বিভিন্ন পুসিত্মকা ও পা-ুলিপি লেখালেখির কাজ শুরু হয়। অতঃপর তারা তৎকালীন সময়ের বড় বড় বিদ্বানের সাক্ষাৎ লাভের জন্য হিজাজ, সিরিয়া, ইরাক, মিশর, ইয়ামান ও খোরাসানের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিভ্রমণ করে হাদীসগুলোকে গ্রন্থে একত্র করেন ও বিভিন্ন পা-ুলিপির অনুকরণে গ্রন্থ প্রণয়ন করার প্রয়াস চালিয়ে যান। ফলে

১ম ও ২য় শতাব্দীতে মানুষের অবস্থা

১ম ও ২য় শতাব্দীতে মানুষের অবস্থা


জেনে রাখুন! ১ম ও ২য় শতাব্দীতে মানুষ কোন মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ করতেন না। এ ব্যাপারে আবূ তালিব আল মক্কী ‘কূতুল কুলূব’ গ্রন্থে বলেন ‘‘গ্রন্থাবলী ও দলসমূহ নব আবিষ্কৃত। বিভিন্ন বক্তব্য, একই মাযহাবের মাধ্যমে ফাৎওয়া দেয়া, সে মাযহাবের অভিমতকেই গ্রহণ করা, সকল ক্ষেত্রে সে মাযহাবেরই উদ্ধৃতি দেয়া এবং সে মাযহাবের উপর পাণ্ডিত্য অর্জন করার আগ্রহ ১ম ও ২য় শতাব্দীর মানুষের মাঝে ছিল না’’।
ইবনে হুমাম ‘তাহরীর’ গ্রন্থে বলেন:

কুরআন ও সুন্নাহর উপর আমল করা ওয়াজিব

প্রথম সতর্কবাণী: কুরআন ও সুন্নাহর উপর আমল করা ওয়াজিব


প্রথম সতর্কবাণী: কুরআন ও সুন্নাহর উপর আমল করা ওয়াজিব[1]
জেনে রাখা আবশ্যক যে, কুরআন ও সুন্নায় বহু দলীল রয়েছে। সুতরাং সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির উচিৎ একতাবদ্ধ হয়ে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূল () এর উপর আমল করা।
আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন:
﴿اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ
তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ হতে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর (সূরা : আল আরাফ-৩)
 ‘‘আল্লাহ্‌ তোমাদের উপর যা অবতীর্ণ করেছেন’’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ‘কুরআন’ এবং এর ব্যাখ্যাকারী গ্রন্থ ‘হাদীস’। কোন মানুষের মতামত নয়। আল্লাহ্‌ বলেন:

অনুসৃত ইমামদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান

দ্বিতীয় সতর্কবাণী: অনুসৃত ইমামদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান


জেনে রাখুন! চার ইমাম ও অন্যান্য ইমামের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান হল, সমস্ত ন্যায়নিষ্ঠ মু’মিনের ব্যাপারে আমাদের যে অবস্থান তার মত। আর তা হল, তারা যে জ্ঞান ও তাকওয়ার অধিকারী ছিলেন এ জন্য তাদের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করা, তাদেরকে সম্মান করা, তাদের মর্যাদা প্রদান করা ও তাদের প্রশংসা করা। কিতাব ও সুন্নাহ এর প্রতি আমলের ক্ষেত্রে আমরা তাদের আনুগত্য করব। কুরআন ও সুন্নাহ তাদের মতামতের উপর অগ্রাধিকার পাবে। তাদের অভিমত

সুন্নাহ অনুসরণ করতে যেয়ে ইমামগণের অনুসারীগণ কর্তৃক তাদের কিছু কথা পরিহারের নমুনা:

সুন্নাহ অনুসরণ করতে যেয়ে ইমামগণের অনুসারীগণ কর্তৃক তাদের কিছু কথা পরিহারের নমুনা:


পূর্বোলেস্নখিত কারণ সাপেক্ষ ইমামগণের অনুসারীবৃন্দ-
﴿ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ۞ وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ
পূর্ববর্তীদের অধিক সংখ্যক এবং পরবর্তীদের অল্প সংখ্যক লোক (সূরা ওয়াক্বিয়াহ-১৩,১৪)
স্বীয় ইমামদের সব কথা গ্রহণ করতেন না। বরং তাদের অনেক কথাই তারা বাদ দিয়েছেন যখন সুন্নাহ বিরোধী বলে স্পষ্ট হয়েছে।
এমনকি ইমামদ্বয় মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) ও আবূ ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) তাদের শাইখ আবূ হানীফার (রাহিমাহুল্লাহ) প্রায় এক তৃতীয়াংশ মাযহাব-এর বিরোধিতা করেছেন।

Wednesday, December 6, 2017

মুসলিম কি নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসরণ করতে বাধ্য?

মুসলিম কি নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসরণ করতে বাধ্য?


নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, রাসূল () মানুষদেরকে নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসরণ করতে বাধ্য করেন নি। বরং তিনি তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক করে দিয়েছেন। কেননা রাসূল () যা নিয়ে এসেছেন, হক্ব তারই মধ্যে সীমাবদ্ধ। সুতরাং কোন একনিষ্ঠ ব্যক্তি যদি একটু ভেবে দেখেন, তাহলে তার কাছে বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে যে, দলীল ছাড়া নির্দিষ্ট কোন ইমামের মাযহাবের তাক্বলীদ করা বড় অজ্ঞতা ও ভয়াবহ বিপদের নামান্তর। বরং তা নিছক প্রবৃত্তির অনুসরণ ও স্বজনপ্রীতি বৈ কিছু নয়। মুজতাহিদ ইমামগণও এর বিরোধিতা করেছেন। যেমনটি তাদের উক্তিতে আমরা দেখেছি।
অতএব যে ব্যক্তি দলীলের অনুসরণ করবে সে স্বীয় ইমামসহ সকল ইমামেরই অনুসরণ করবে এবং

মুকাল্লিদরা (দলীলবিহীন অনুসরণকারী) দু’টি বিষয়ে প্রতারিত হয়:[1]

মুকাল্লিদরা (দলীলবিহীন অনুসরণকারী) দু’টি বিষয়ে প্রতারিত হয়:[1]


জেনে রাখা ভাল যে, মুকাল্লিদরা দু‘টি ক্ষেত্রে প্রতারিত হয়ে থাকেন। তারা মনে করে যে, তাদের এ ধারণা সত্য। অথচ তা সত্য থেকে অনেক দূরে। এ ধারণা দু’টি আল্লাহ্‌র নিন্মোক্ত সাধারণ বাণীর  অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্‌ বলেন:
                             ﴿ إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا
নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে ধারণা কোন কার্যকারিতা রাখে না (ইউনূস-৩৬)
রাসূল (সাঃ) বলেন:

সংশয়: মুজতাহিদ ছাড়া সাধারণ ভাবে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি আমল করা নিষিদ্ধ:[1]

সংশয়: মুজতাহিদ ছাড়া সাধারণ ভাবে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি আমল করা নিষিদ্ধ:[1]


জেনে রাখুন যে, পরবর্তী উসূলবিদগণের মতে, মুজতাহিদ ছাড়া সাধারণভাবে কুরআন ও সুন্নাহ’র প্রতি আমল করা নিষিদ্ধ। তারা বলেন ইজতিহাদের শর্ত হলো:
  1. মুজতাহিদকে বালেগ হতে হবে।
  2. জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে।
  3. সৃষ্টিগতভাবে তীক্ষ্ম বুঝের অধিকারী হতে হবে।
  4. আক্বলী দলীল (প্রমাণ বিহীন বুদ্ধিজাত মতামত) সম্বন্ধে জানতে হবে। মূলতঃ এ আক্বলী দলীলটা অস্তিত্বহীনতারই নামান্তর। আর আক্বলী দলীল এ জন্যই জানতে হবে যে,

সংশয়: আল্লাহ্‌র বাণী ﴾ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿ ‘‘সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জেনে থাক’’ (সূরা নাহল-৪৩) এর বাস্তবায়ন

সংশয়: আল্লাহ্‌র বাণী ﴾ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿ ‘‘সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জেনে থাক’’ (সূরা নাহল-৪৩) এর বাস্তবায়ন


জেনে রাখুন! যে, মুকাল্লিদগণ আল্লাহ্‌র বাণী বাস্তবায়নের দাবীতে- ﴿فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
‘‘সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জেনে থাক’’ (সূরা নাহল-৪৩)- দ্বারা দলীল পেশ করে থাকে। তারা বলে, অত্র আয়াতে আল্লাহ্‌ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি জানেন না তিনি যেন তার চেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নেন। আর তারা বলেন যে, আমাদের একথার পেছনে অত্র আয়াতটি দলীল।
মহানাবী () এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জানেন না, তিনি যেন জানা ব্যক্তিকে প্রশ্ন করে তা জেনে নেন। জনৈক ব্যক্তির মাথায় আঘাত লাগা মর্মে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন:

মুকাল্লিদদের তর্ক-বিতর্ক

মুকাল্লিদদের তর্ক-বিতর্ক


ইমাম ইবনে আব্দিল বার আসারের মাধ্যমে দলীল উল্লেখ করার পর তাক্বলীদকে নিন্দনীয় ও নিষেধ উল্লেখ করে বলেন, ফক্বীহ ও আহলে নাযরদের একটি দল নাযরিয়া (চিন্তাগত) ও আকলিয়া (বুদ্ধিজাত) দলীল দ্বারা তাক্বলীদকে বৈধ মনে করেন। অতঃপর তিনি বলেন:[1]
‘‘এ ব্যাপারে আমি মাযিনী (রাহ.) এর চেয়ে উত্তম কথা আর কাউকে বলতে দেখি নি। আর তা হলো, যে তাক্বলীদ দিয়ে বিধান বাস্তবায়ন করতে চায়, তাকে যদি বলা হয়,

তাক্বলীদ (দলীলবিহীন অনুসরণ) ও ইত্তেবার (দলীলভিত্তিক অনুসরণ) মধ্যে পার্থক্য

তাক্বলীদ (দলীলবিহীন অনুসরণ) ও ইত্তেবার (দলীলভিত্তিক অনুসরণ) মধ্যে পার্থক্য


শানকীত্বী (রাহি.) বলেন,[1] জেনে রাখুন যে, তাক্বলীদ ও ইত্তেবার মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরী। ইত্তেবার স্থলে কোন অবস্থাতেই তাক্বলীদ করা বৈধ নয়। এর বিস্তারিত আলোচনা এই যে, যে সব বিধানের ব্যাপারে কুরআন, হাদীস অথবা মুসলমানদের প্রকাশ্য ইজমার দলীল পাওয়া যায় সে সব ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই তাক্বলীদ বৈধ নয়। কেননা যে ইজতিহাদ দলীল বিরোধী তা বাতিল হিসেবে গণ্য। আর ইজতিহাদের ক্ষেত্রে ছাড়া তাক্বলীদ করা যাবে না। কেননা কুরআন ও হাদীসের দলীলসমূহ প্রত্যেক মুজতাহিদের উপর কর্তৃত্ব দান করে । সুতরাং

ইমামদের তাক্বলীদকারীদের ব্যাপারে সতর্কতা

ইমামদের তাক্বলীদকারীদের ব্যাপারে সতর্কতা


জেনে রাখুন! যে ব্যক্তি মনে করে প্রত্যেক বিষয়ে ইমামের তাক্বলীদ করা ছাড়া তার কোন উপায় নেই। কেননা সে কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবা ও তাবেঈদের মতামত এবং এ ইমাম ছাড়া অন্য কারও মতামত দ্বারা দলীল দিতে সক্ষম নয়।
তার জন্য পরিপূর্ণভাবে সতর্ক থাকা ওয়াজিব হবে, যেন সে সত্য থেকে দূরে অবস্থিত ইমামের বক্তব্য থেকে এবং সে ইমামের পরবর্তীতে তার মাযহাবের নীতির ভিত্তিতে যা সংযোজিত হয়েছে সে ক্ষেত্রেও যেন সে পার্থক্য করতে পারে  এবং

দলীলের অনুসরণ করার মানে এ নয় যে, এর দ্বারা ইমামের মতামতের বিরোধিতা করা হলো

দলীলের অনুসরণ করার মানে এ নয় যে, এর দ্বারা ইমামের মতামতের বিরোধিতা করা হলো


মাযহাবপন্থি কতিপয় মুকাল্লিদ ধারণা করে যে, কুরআন-সুন্নাহ’র দলীলের ইত্তেবার দিকে দাওয়াত দেয়া এবং ইমামদের কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী মতামতগুলোকে বর্জন করা হলে সাধারণভাবে ইমামদের সকল কথাকে পরিত্যাগ করা হলো ও তাদের ইজতিহাদের উপকারিতাকে বর্জন করা হলো।

আল্লামা আলবানী (রাহি.) বলেন:[1]

মতানৈক্যের মধ্যে কি কোন প্রশস্ততা ও রহমত রয়েছে? এবং হক্ব কি বিভিন্ন প্রকার হয়?

সর্বশেষ হলো: মতানৈক্যের মধ্যে কি কোন প্রশস্ততা ও রহমত রয়েছে? এবং হক্ব কি বিভিন্ন প্রকার হয়?


অনেক মানুষ এমন রয়েছে যারা নিজেদেরকে ফিক্বহী মাযহাবের দলভুক্ত বলে সম্বোধন করে। বিশেষ করে বর্তমান যুগে এটা বেশি পরিলক্ষিত হয়। মূলতঃ এরা এমন অস্বীকারকারী যারা স্ব-স্ব মাযহাবকে ধরে রাখতে চায় এবং তা থেকে সরে যেতে চায় না। তারা মনে করে যে, এ সব মাযহাবের যে কোন একটি গ্রহণ করা দরকার। ফলে তারা ঐ সব পছন্দনীয় বিষয়কে বৈধ করে যা তাদের মুগ্ধ করে এবং যা তাদের প্রবৃত্তির অনুযায়ী হয়। আর তারা এ সব মাযহাবের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়, যদিও এ দাবীগুলো দলীলের বিপক্ষে যায়। তারা তাদের দাবীর পক্ষে এ দলীল উপস্থাপন করে যে, ‘‘এ ব্যাপারে কোন একজন বিদ্বান বলেছেন। আর ( اختلاف أمتي رحمة ) ‘‘আমার উম্মতের মতভেদ রহমত স্বরূপ’’-এ হাদীস দ্বারা যুক্তি পেশ করে বলে যে, উম্মতের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে।

এ সংশয়টির জবাব দিয়ে আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:[1] এর উত্তর, দুভাবে হবে:
প্রথম উত্তর:
হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়, বরং তা বাত্বিল, তার কোন ভিত্তি নেই। আল্লামা সুবকী বলেন: আমিও এ হাদীসের সূত্র পাই নি । না  সহীহ, না যঈফ, না জাল হাদীস।
আমার মতে: বরং এ শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে: ( . . . اختلاف أصحابي لكم رحمة ) অর্থ: ......... আমার সাহাবাদের মতভেদ তোমাদের জন্যে রহমত।  ( أصحابي كالنجوم فبأيهم اقتديتم اهتديتم ) অর্থ: ‘‘আমার সাহাবাগণ তারকারাজির ন্যায়, তাদের যাকেই তোমরা অনুসরণ করবে হিদায়াত পেয়ে যাবে।’’
এ উভয় বাক্যই বিশুদ্ধ নয়, প্রথমটি মারাত্মক দুর্বল, আর দ্বিতীয়টি জাল। আমি সবক’টিকে
 ( سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة )  গ্রন্থের ৫৮-৫৯, ৬১ নম্বরে যাচাই করে দেখেছি।


দ্বিতীয় উত্তর: হাদীসটি যঈফ হওয়ার সাথে সাথে তা কুরআন বিরোধীও বটে। কেননা মতবিরোধ থেকে বিরত ও ঐকমত্য থাকার ব্যাপারে আদেশ সংক্রান্ত আয়াত এত বেশি প্রসিদ্ধ যে, তা উলেস্নখের অপেক্ষা রাখে না। তবে দৃষ্টান্ত স্বরূপ কিছু উল্লেখ করা যায়।
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন:
وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ﴿
আর তোমরা পরস্পরে বিবাদ কর না, তাহলে অকর্মণ্য হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি হারিয়ে যাবে (সূরা: আনফাল-৪৬)
তিনি আরও বলেন:
﴿وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ * مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ
আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা তাদের দ্বীনে বিভেদ সৃষ্টি করেছে আর নিজেরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত (সূরা: রূম-৩১,৩২)
তিনি আরও বলেন:
وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ * إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ ﴿
তোমার পালনকর্তা যাদেরকে অনুগ্রহ করেন তারা ব্যতীত অন্যান্যরা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে (সূরা: হুদ-১১৮,১১৯)
তোমার প্রতিপালক তাদেরকে অনুগ্রহ করেন যারা মতভেদ করে না, সুতরাং বুঝা গেল যারা বাত্বিলপন্থি তারাই মতভেদ করে। তবে কোন বিবেক বলবে যে, মতভেদ করা রহমত?
অতএব, সাব্যাস্ত হলো যে, এ হাদীস বিশুদ্ধ নয়, না সনদের (সূত্রের) দিক দিয়ে আর না মতনের (শব্দের) দিক দিয়ে। এখনি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, কুরআন হাদীসের উপর আমল বন্ধ রাখার জন্য এ হাদীসকে সংশয়ের উৎস বানানো বৈধ নয়, যে ব্যাপারে ইমামগণও আদেশ দিয়েছেন।
যখন দ্বীনের ব্যাপারে মতভেদ নিষিদ্ধ হলো তবে সাহাবা ও তাদের পরবর্তী ইমামগণের মতভেদ সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী? আর তাদের মতবিরোধ ও পরবর্তীদের মতপার্থক্যের মধ্যে কি কোন তফাৎ রয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, উভয় মতানৈক্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে যা দু’টি বিষয়ের ভিতর দিয়ে প্রকাশ পায়।
এক- মত পার্থক্যের কারণ।
দুই- তার প্রতিক্রিয়া।
সাহাবাদের মধ্যকার মতভেদ ছিল অনিবার্য কারণ সাপেক্ষ, যা তাদের বুঝের বেলায় স্বভাবগতভাবেই সংঘটিত হয়েছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে মতপার্থক্য তৈরির জন্য নয়। এর সাথে আরও কিছু বিষয় যোগ হবে যা তাদের যুগে মতবিরোধকে অপরিহার্য করেছে যা তৎপরর্তীকালে দূর হয়ে যায়। আর এটি এমন মতানৈক্য যা থেকে সম্পূর্ণ উদ্ধার পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। উপরোক্ত আয়াত বা তার সমার্থবোধক আয়াতসমূহের নিন্দাও তাদেরকে স্পর্শ করবে না। কেননা এক্ষেত্রে জবাবদিহিতার শর্ত বিদ্যমান নেই। আর তা হচ্ছে ইচ্ছা বা পীড়াপীড়ি করে অটল থাকা।
কিন্তু বর্তমান যুগের অন্ধ অনুসরণকারীদের (মুকাল্লিদদের) মধ্যকার মতভেদ এমন পর্যায়ের যাতে সাধারণত কোন ওযর নেই। কেননা তাদের কারও নিকট কখনও কুরআন হাদীসের এমন দলীল প্রকাশিত হয় যা সাধারণত তিনি যে মাযহাবের অনুসরণ করেন না তার সমর্থন করে, তখন তিনি শুধু এজন্যই তা পরিত্যাগ করেন যে এটি তার মাযহাবের বিপরীত, আর অন্য কোন কারণে নয়। যার পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, মাযহাবটাই তার কাছে যেন আসল অথবা এটাই সেই দ্বীন যা নিয়ে মুহাম্মাদ () আগমন করেছেন, আর অন্য মাযহাব হচ্ছে ভিন্ন আরেক দ্বীন যা রহিত হয়ে গেছে।
অপর আরেক দল এদের বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তারা এই বিসত্মর মতানৈক্যপূর্ণ মাযহাবগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন শরীয়াত মনে করেন। যেমন স্পষ্ট ভাষায় তাদের পরবর্তীদের কেউ কেউ একথা বলেছেন:
لا حرج على المسلم أن يأخذ من أيها ما شاء ويدع ما شاء إذ الكل شرع
অর্থ: মুসলিম ব্যক্তির বেলায় এ সব মাযহাব থেকে ইচ্ছা মাফিক গ্রহণ ও বর্জনে কোন আপত্তি নেই যেহেতু এগুলো প্রত্যেকটি (স্বতন্ত্র) শরীয়ত।
আর উভয় প্রকারের লোকজনই কখনও কখনও সেই বাত্বিল হাদীস اختلاف أمتي رحمة ) ) ‘‘আমার উম্মতের মতভেদ রহমত স্বরূপ’’ দ্বারা প্রমাণ পেশ করে থাকে। তাদেরকেও উক্ত হাদীস দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে দলীল গ্রহণ করতে শুনেছি। তাদের কেউ কেউ আবার এ হাদীসের কারণও দর্শায় এ বলে যে, মতভেদটা এজন্যই রহমত যে, এতে জাতির উপর উদারতা প্রদর্শন করা হয়। এ ব্যাখ্যাটি পূর্বোক্ত আয়াতসমূহের স্পষ্ট বিরোধী ও ইমামগণের পূর্বোলেস্নখিত বক্তব্যসমূহের মর্মবিরোধী হওয়া ছাড়াও তাদের কারও কারও স্পষ্ট প্রতিবাদও এর বিরুদ্ধে এসেছে।
ইবনু কাসিম বলেন: আমি মালিক এবং লাইসকে বলতে শুনেছি রাসূল () এর সাহাবাদের মতবিরোধ সম্পর্কে লোকজন যে রকম বলে যে, এতে উদারতা রয়েছে তা সঠিক নয় বরং তা হচ্ছে ভুল অথবা শুদ্ধের ব্যাপার মাত্র।
আশহাব বলেন: ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হলো ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে রাসূল () এর বিশ্বসত্ম কোন সাহাবীর বর্ণনাকৃত হাদীসের কোন একটি হাদীস অবলম্বন করল আপনি কি তাকে এ ব্যাপারে স্বাধীন মনে করেন? তিনি বললেন: ‘‘আল্লাহ্‌র শপথ, না, যতক্ষণ হক্ব পর্যন্ত না পৌঁছে, হক্বতো একটাই, বিপরীতমুখী দু’টি কথাকি একই সাথে সঠিক হয়? সত্য ও সঠিক একটাই হয়’’।
ইমাম শাফেঈর সাথী মাযিনী বলেন: রাসূল () এর সাহাবাগণ মতবিরোধ করেছেন, তাদের একজন অপরজনের ভুল ধরেছেন এবং তাদের একজন অপরজনের মতামত বিবেচনা করে দেখেছেন এবং তার উপর মন্তব্য করেছেন। যদি তাদের সব কয়টি কথা সঠিকই হত, তবে তারা এমনটি করতেন না।
আর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একদা উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) এবং ইবনু মাসউদ (রাঃ) কে একটিমাত্র কাপড় পরিধান করে সালাত (বিশুদ্ধ হওয়া না হওয়া) এর ব্যাপারে মতানৈক্য করতে দেখে তাদের উপর রাগান্বিত হন। যখন উবাই বললেন: একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা সুন্দর ও চমৎকার কাজ। আর ইবনু মাসউদ বললেন, এটা তো কেবল ঐ সময়কার কথা যখন কাপড় কম ছিল। তখন উমার (রাঃ) রাগান্বিত হয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন রাসূল () এর এমন দু’জন সাহাবী মতভেদ করছেন যাদের অনুকরণ করা হয় এবং যাদের কথা গ্রহণীয়। তবে উবাই সঠিক বলেছেন আর ইবনু মাসউদ চেষ্টায় ত্রুটি করেন নি। কিন্তু আমার আজকের এই বক্তব্য শুনার পর যে কাউকে এ বিষয়ে মতভেদ করতে শুনব তাকেই এ এ (শাস্তি) প্রদান করব।
ইমাম মাযানি আরও বলেন: যে ব্যক্তি মতভেদকে জায়েয রাখে এবং এ ধারণা পোষণ করে যে, কোন একটি বিষয়ে যদি দু’জন আলিম মতবিরোধ করেন এবং একজন বলেন: এটা হালাল আর অপরজন বলেন: এটা হারাম? তবে তাদের উভয়জনই তাদের গবেষণায় হক্বের উপর আছেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে- তুমি এ কথা দলীল ভিত্তিক বলেছ, নাকি ক্বিয়াস (অনুমান) ভিত্তিক? যদি বলে: দলীল ভিত্তিক, তবে তাকে বলা হবে কিভাবে দলীল ভিত্তিক হয় অথচ কুরআন (এর বিপক্ষে) মতানৈক্যকে নিষেধ করছে? যদি সে বলে যে, আমি কিয়াস দ্বারা করেছি। তাহলে বলা হবে কিভাবে করতে পার? যেখানে আসল (কুরআন ও সুন্নাহ) বলছে মতভেদ করা যাবে না। আর তুমি কিভাবে মতভেদকে বৈধ করার জন্য এর উপর কিয়াস করছ? এটা কোন আলিমতো দূরের কথা কোন বিবেকবান ব্যক্তি বৈধ বলতে পারে না।
যদি কেউ বলেন: আপনি ইমাম মালিক থেকে যা উল্লেখ করলেন যে হক্ব একটাই হয় একাধিক হয় না, তাতো অধ্যাপক যুরক্বা তার আলমাদখালুল ফিক্বহী ( المدخل الفقهي ) গ্রন্থে  (১/৮৯) যা লিখেছেন তার বিপরীত হয়ে যাচ্ছে। তিনি লিখেছেন: খলীফা আবূ জা’ফর আল মানসূর এবং তার পরে খলীফা হারুনুর রশীদ স্থির করেন যে, ইমাম মালিক এর মাযহাব ও তার কিতাব ( الموطأ ) কে আব্বাসীয় রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সংবিধান হিসেবে পরিগণিত করবেন তাতে মালিক উভয়কে বাধা দেন এবং বলেন: ‘‘রাসূল () এর সাহাবাগণ (ফিক্বহের) শাখা-প্রশাখার মাসআলায় মতভেদ করেছেন এবং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন আর তাদের প্রত্যেকেই সঠিক’’।
আমি বলছি: এ ঘটনাটি ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ, কিন্তু শেষের কথাটি ‘‘প্রত্যেকেই সঠিক’’ তার কোন ভিত্তি আমি জানতে পারি নি- ঐ সকল বর্ণনা ও গ্রন্থাদির মাধ্যমে আমি যেগুলো অবগত হয়েছি। তবে আবূ নুআইম তার ‘আল হিলইয়াহ্’ ( الحلية ) গ্রন্থে (পৃ.৬/৩৩২) একটি মাত্র বর্ণনা নিয়ে এসেছেন যাতে মিক্বদাম ইবনু দাউদ রয়েছেন, একে যাহাবী দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাছাড়া এর শব্দ হচ্ছে: ( وكل عند نفسه مصيب ) অর্থ: প্রত্যেকেই নিজের বিচারে সঠিক।
তার কথা عند نفسه প্রমাণ বহন করে যে, ( المدخل ) গ্রন্থে আংশিক বর্ণনা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনটি কেনই বা হবে না যেখানে এটা ইমাম মালিক থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিরোধিতা করছে যা হচ্ছে এই যে, হক্ব এক, তা একাধিক হয় না, যেমন এর আলোচনা অতিবাহিত হয়ে গেল। এর উপরে সাহাবা, তাবিঈন এবং মুজতাহিদ ইমাম চতুষ্টয় ও অন্যান্য ইমামগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ইমাম ইবনু আব্দিল বার বলেন: (পৃ.২/৮৮) সংঘাতপূর্ণ দুই পক্ষের উভয় বক্তব্যই যদি সঠিক হত তবে সালাফদের একজন অপরজনের গবেষণা, বিচার এবং ফাৎওয়াতে ভুল ধরতেন না। বিবেকও একথা অস্বীকার করে যে, কোন বস্ত্ত আর তার বিপরীতমুখী বস্ত্ত উভয়টাই সঠিক হবে। কি সুন্দরইনা বলেছেন যিনি এ কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
إثبات ضدين معا في حال         أقبح ما يأتي من المحال
অর্থ: দু’টি বিপরীত বস্ত্তকে একই অবস্থায় এক সাথে সাব্যাস্ত করা অশোভনীয় এবং অসম্ভবও বটে।
যদি বলা হয়: এই বর্ণনা যদি ইমাম থেকে ভুল সাব্যাস্তই হয়, তবে মানসূর যখন মানুষকে তাঁর কিতাব الموطأ )) এর উপর ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন তখন তিনি কেন তা গ্রহণ না করে অস্বীকৃতি জানেই?
আমি বলছি: সর্বাধিক সুন্দরতম যে বর্ণনা সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি তা হচ্ছে ঐটি যেটি হাফিয ইবনু কাসীর তার শারহ ইখতিসারি উলূমিল হাদীস গ্রন্থে (পৃ.৩১) উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক বলেন: ‘‘লোকজন এমন সব বিষয় একত্রিত করেছে ও জেনেছে যা আমি (হয়ত) জানতে পারি নি’’। একথা তার (ইমাম মালিকের) জ্ঞান ও ইনসাফের পূর্ণতার প্রমাণ। যেমন ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।
সুতরাং সাব্যাস্ত হলো যে, সব মতভেদই মন্দ এবং তা রহমত নয়। তবে কোন কোন মতভেদ এমন রয়েছে যার উপর মানুষকে পাকড়াও করা হবে যেমন গোঁড়া মাযহাবপন্থিদের মতভেদ। আর কোনটি এমন যে, তার উপর পাকড়াও করা হবে না। যেমন সাহাবা ও তাদের অনুসারী ইমামগণের মতভেদ। আল্লাহ্‌ তাদের দলে আমাদের একত্রিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের অনুসরণ করার তাওফীক্ব দান করুন। এখন প্রকাশ পেল যে, সাহাবাগণের মতভেদ ছিল মুকাল্লিদদের মতভেদ থেকে আলাদা।
সারকথা: সাহাবাগণ নিরুপায় অবস্থায় মতভেদ করেছেন। কিন্ত তারা মতভেদের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং যতদূর সম্ভব এ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন। পক্ষান্তরে, মুকাল্লিদগণ মতভেদপূর্ণ বিষয়ের বিরাট এক অংশে এ মতবিরোধ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও তারা একমত হয় না এবং এর জন্য চেষ্টাও করে না, বরং তারা একে সাব্যাস্ত করে। তাই উভয় মতবিরোধের মধ্যে বিরাট দূরত্ব রয়েছে। এ পার্থক্য ছিল কারণের দিক থেকে।
আর প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে উভয় মতভেদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আরও স্পষ্ট, আর তা এই যে, সাহাবাগণ অমৌলিক বা খুঁটিনাটি বিষয়ে মতবিরোধ করা সত্ত্বেও- তারা ঐক্যের ভাবমূর্তিকে কঠিনভাবে সংরক্ষণ করতেন। যে সব বিষয় ঐক্যবাক্যের মধ্যে বিক্ষিপ্ততা সৃষ্টি করে তা থেকে তারা সম্পূর্ণ বিরত থাকতেন। যেমন তাদের মধ্যে কেউ সশব্দে বিসমিল্লাহ বলার পক্ষে মত ব্যক্ত করতেন আবার কেউ এটি ঠিক মনে করতেন না। তাদের কেউ রাফউল ইয়াদাইন করা মুস্তাহাব মনে করতেন আবার কেউ তা মনে করতেন না। এমনিভাবে কেউবা মহিলা স্পর্শ করলে ওযূ ভঙ্গ হওয়ার পক্ষে ছিলেন আবার অন্যরা ছিলেন এর বিপক্ষে। তা সত্ত্বেও তারা সবাই এক ইমামের পিছনে সালাত পড়তেন এবং মাযহাবী মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে তাদের কেউ ইমামের সাথে সালাত পড়া থেকে বিরত থাকেন নি।
পক্ষান্তরে, মুকাল্লিদগণের (অন্ধ অনুসারীদের) মতবিরোধ হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। যার পরিণতি এই দাঁড়িয়েছে যে, মুসলিমগণ দুই সাক্ষ্যবাণী তথা আল্লাহ্‌ ও রাসূলের সাক্ষ্য প্রদানের পর পরই সর্বপ্রধান ভিত্তি সালাতের ব্যাপারে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তারা সবাই একত্রে এক ইমামের পিছনে সালাত পড়তে অস্বীকৃতি জানায় এই বলে যে, ভিন্ন মাযহাবের ইমামের সালাত বাত্বিল, আর না হয় অন্ততপক্ষে মাকরূহ। আমরা একথা শুনেছি এবং দেখেছি যেমন অন্যরাও দেখেছে। কেনইবা তা হবে না যেখানে আজকের দিনে প্রসিদ্ধ কিছু মাযহাবের কিতাবে স্পষ্টাক্ষরে সালাত মাকরূহ বা বাত্বিল হওয়ার কথা বিদ্যমান রয়েছে? যার পরিণতি হিসেবে আপনি কোন কোন দেশে একই জামে মাসজিদে চারটা মেহরাব দেখতে পাবেন যাতে পর পর চারজন ইমাম সালাত পড়ান। লোকজনকে দেখতে পাবেন তাদের ইমামের জন্য অপেক্ষা করছে অথচ অপর আরেকজন ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত পড়ছেন।
বরং মুকালিস্নদদের কারও কারও নিকট মতানৈক্য এ পর্যন্ত গড়িয়েছে যে, তারা হানাফী বর এবং শাফেঈ কন্যার মধ্যে বিয়ে নিষেধ করেছে। পরবর্তীতে হানাফীদের নিকট প্রসিদ্ধ এক লোক যাকে ( مفتي الثقلين ) জ্বিন ইনসান উভয় জাতির মুফতী উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি হানাফী পুরুষের সাথে শাফেঈ কন্যার বিবাহ বৈধ বলে ঘোষণা দেন এ কারণ দর্শিয়ে যে, সেই মহিলাকে আহলুল কিতাব (ইহুদী ও খৃষ্টানদের) পর্যায়ভুক্ত ধরে নেয়া হবে। যার অর্থ এই যে, এর বিপরীত বৈধ নয় অর্থাৎ শাফেঈ বরের সাথে হানাফী কন্যার বিয়ে বৈধ নয়। যেমন কিতাবী (ইহুদী-খৃষ্টান) বরের সাথে মুসলিম কন্যার বিবাহ বৈধ নয়।
অনেক দৃষ্টান্ত থেকে এ দু’টি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো যা জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য ঐ অশুভ পরিণতির কথা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছে যা পরবর্তীদের মতবিরোধ এবং এর উপর জড়বদ্ধ থাকার ফলশ্রুতিতে ঘটেছে। এটা পূর্বসূরীদের মতভেদের চেয়ে ভিন্ন। কেননা তাদের মতপার্থক্যের কোন অশুভ পরিণতি জাতির উপর পতিত হয় নি। এজন্যই তারা দ্বীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উপর নিষেধাজ্ঞা বহনকারী আয়াতগুলোর আওতার বাইরে। কিন্তু পরবর্তীদের কথা এর চেয়ে ভিন্ন। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে তাঁর সঠিক পথের সন্ধান দিন।
ফুটনোটঃ

[1] ‘সিফাতু সালাতিন্নাবী’ (পৃ:৫৯-৬৬)

নিম্নোক্ত প্রাণীগুলো মৃত হওয়া সত্ত্বেও নাপাক নয়

নিম্নোক্ত প্রাণীগুলো মৃত হওয়া সত্ত্বেও নাপাক নয়


(ক) মাছ ও পঙ্গপালের মৃত দেহ:
এগুলো পাক। কেননা মহানাবী () বলেন:
»أحلت لنا ميتتان ودمان : الميتتان : الحوت والجراد والدمان : الكبد والطحال »
‘‘দুই প্রকারের মৃত ও দুই প্রকারের রক্ত আমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। সেই মৃত দু’টি হলো- মাছ ও পঙ্গপাল বা টিড্ডি। আর দু‘প্রকারের রক্ত হলো, যকৃত ও পস্নীহা’’।[1]  
(খ) এমন প্রাণীর মৃত দেহ যে সব প্রাণীর রক্ত প্রবহমান নয় । যেমন: মাছি, মৌমাছি, পিঁপড়ে ও ছারপোকা ইত্যাদি। মহানাবী () বলেন:

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ