Showing posts with label হাদিসের কিতাব- হাদিস. Show all posts
Showing posts with label হাদিসের কিতাব- হাদিস. Show all posts

Thursday, May 10, 2018

হাদিস ছাড়া শুধু কুরআন অনুসরণ কতটুকু যৌক্তিক?

হাদিস ছাড়া শুধু কুরআন অনুসরণ কতটুকু যৌক্তিক?
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমার রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি হল পাঁচটি যথাঃ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা’বুদ বা উপাস্য নেই এবং সাক্ষ্য প্রদান করা যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযান মাসে সাওম পালন করা এবং সামর্থ্য বান ব্যক্তির বাইতুল্লায় হজ্জ সম্পদান করা। [সহিহ বুখারি, হাদীস নম্বর ৮; সহিহ মুসলিম, হাদীস নম্বর ১৬]
ইসলামের এই পাঁচটি হল ইবাদতের মুল ভিত্তি, যার উপর ইসলাম দাড়িয়ে আছে। এর কোন একটি আমল সঠিকভাবে পালন করতে হলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা ছাড়া আমল করা কখনও সম্ভব নয়।
ক। সালাতঃ সালাত মুসলমানের উপর সবচেয়ে বড় ফরয ইবাদত। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

Thursday, May 3, 2018

রোযা ও রমাযান সম্পর্কিত ৫১টি যয়ীফ ও জাল হাদীস!!!!!!!!!!!!!!


রোযা ও রমাযান সম্পর্কিত ৫১টি যয়ীফ ও জাল হাদীস!!!!!!!!!!!!!!
রোযা ও রমাযানকে কেন্দ্র করে বহু যয়ীফ ও জাল হাদীস লোকমুখে তথা বহু বই-পুস্তকে প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। এ স্থলে সেই শ্রেণীরই কিছু হাদীস সংক্ষেপে উল্লেখ করব। যাতে পাঠক তা পাঠ করে সতর্ক হতে পারেন এবং তদ্দবারা আমল ও তাতে উল্লেখিত কথার উপর বিশ্বাস না করে বসেন। আর এ কথা বিদিত যে, কোন জাল তো দূরের কথা, কোন যয়ীফ হাদীস দ্বারা আমল করা বৈধ নয়; চাহে সে হাদীস আহকাম সম্পর্কিত হোক অথবা ফাযায়েলে আ’মাল সম্পর্কিত। বরং সহীহ ও শুদ্ধভাবে যে সব হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাই আমলের জন্য যথেষ্ট; যদি আমরা সত্যপক্ষে আমল করতে চাই।[1] উক্ত প্রকার কিছু হাদীস নিম্নরূপঃ-

Saturday, April 7, 2018

প্রশ্ন (১/২৪১) : রিজাল শাস্ত্র কি? প্রত্যেক আলেমের জন্য রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক কি?

প্রশ্ন (১/২৪১) : রিজাল শাস্ত্র কি? প্রত্যেক আলেমের জন্য রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক কি?

-মামূন, বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : রিজাল শাস্ত্র হ’ল হাদীছের সনদ সম্পর্কে জ্ঞান। অর্থাৎ সনদে যে সকল বর্ণনাকারী রয়েছেন তারা নির্ভরযোগ্য কি-না, সে সম্পর্কিত বিশেষায়িত জ্ঞান। ইসলামী শরী‘আতের বিধি-বিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেমদের জন্য রিজালশাস্ত্র জানা আবশ্যক। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তারতম্য থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। ওলামায়ে সালাফ কেবল হাদীছের জ্ঞান থাকলেই তাকে আলেম হিসাবে গণ্য করতেন না,

Monday, February 5, 2018

হাদীসের মর্যাদা ও হাদীস অমান্য করার পরিণতি

হাদীসের মর্যাদা ও হাদীস অমান্য করার পরিণতি

হাদীস অস্বীকার প্রসঙ্গে দুটি কথা:
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, বর্তমান যুগে অগণিত ফিতনার মাঝে একটি বড় ফিতনা হল হাদীস অস্বীকার করা ফিতনা। এই হাদীস অস্বীকার কারীর দল তাদের নোংরা নখর বের করে সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্বত্বা এবং হাদীসে রাসূলের উপর কঠিন ভাবে আক্রমণ শুরু করেছে। কারণ, হাদীস থেকে মুসলমানদের দূরে সরাতে পারলে মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরানো পানির মত সোজা। এ জন্য তারা ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও ওয়া মাহফিল, সভা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের এই জঘন্য অপ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষকে তারা হাদীসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান করে তুলছে। হাদীসের অপব্যাখ্যা করে তার মানহানি করছে। হাদীসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে। তারা বলতে চায় শুধু কুরআন যথেষ্ট। হাদীস মানার প্রয়োজন নাই। হাদীস বা সুন্নাহ শব্দটি তারা শুনতে চায় না। যার কারণে এরা নিজেদেরকে নাম দিয়েছে আহলে কুরআন বা কুরআনের অনুসারী।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎ বাণী কত সত্য ভাবে প্রকাশিত হয়েছে!! তিনি বলেছেন:

হাদীস জাল করার সূত্রপাত কখন হলো?

হাদীস জাল করার সূত্রপাত কখন হলো?
ডঃ মুসতাফা হুসনী আস-সুবায়ী
হিজরী চল্লিশ সন হলো সুন্নাতের অনাবিল বিশুদ্ধতা এবং এর মধ্যে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ও জাল হাদীস রচনার একটি চিহ্নিত সীমারেখা। এরপর সুন্নতে চললো সংযোজন; সুন্নতকে করা হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার এবং অভ্যন্তরীন বিচ্ছিন্নতাবাদের মাধ্যম। অর্থাৎ হিজরী চল্লিশ সন পর্যন্ত সুন্নত ছিল পবিত্র। তারপর এ দুর্ঘটনাটি ঘটল তখন, যখন হযরত আলী ( রাঃ ) ও হযরত মুয়াবিয়া ( রাঃ ) এর মধ্যকার বিরোধ যুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করলো। রক্ত ক্ষয় হলো প্রচুর, অনেক লোক প্রাণ হারালো, মুসলমানরা হয়ে পড়লো বিভক্ত বিভিন্ন দলে। বেশিরভাগ লোকই ছিলো হযরত আলী ( রাঃ ) এর পক্ষে মুয়াবিয়া ( রাঃ ) এর বিপক্ষে। তারপর উদ্ভব

★ হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ>>> হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

★ হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ>>> হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ <<<পরবর্তী পোষ্ট: সহীহহাদীস এর সংজ্ঞা এবং কেন সহীহ হাদীসের উপর আমাদের আমলকরতে হবে।প্রসংগ কথাবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।সকল প্রশংসা কেবল মহান আল্লাহ রাবুল আলামিনয়ের, অসংখ্যদরুদ বিশ্ব মানবতার মহান শিক্ষক ও নেতা রাসুল পাক (স:) ও তারবংশ ধরদের প্রতি এবং হাজার ও সালাম সে সব বীর মুজাহিদদেরপ্রতি, যারা যুগে যুগে আল্লাহর জমিনে আল্লাহরদ্বীনকে বিজয়ী করতে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন।আমার প্রাণ প্রিয় জ্ঞান পিপাসু মুমিন মুক্তাকী ভাইএবং বোনেরা আমি হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় পরিভাষা আল্লাহরমেহের বানীতে এই জন্য লেখার প্রয়োজন মনে করলাম আমাদেরঅনেক বাংলাদেশী ভাই এবং বোনেরা কুয়েতে এবং অন্যান্যা মুসলিমরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং এদের ভিতর যারা আলেমতারা মাশাআল্লাহ এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। কিন্তু যারা আলেমনা কিন্তু কুরআন হাদীস পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে চান বিশেষকরে সেই দ্বীনি ভাইয়েরা এবং বোনেরা আশা করি অনেক উপকৃতহবেন।হাদীস কাকে বলে?হাদীস শব্দের আভিধানিক অর্থ কথা, বাণী, সংবাদ

সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা, হাদীসে কুদসী এবংকোরআন ও হাদীসে কুদসী’র মধ্যে পার্থক্য ।

>>>> সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা, হাদীসে কুদসী এবংকোরআন ও হাদীসে কুদসী’র মধ্যে পার্থক্য <<<<ইসলামী শরীয়তের দুটি মূল উৎস হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ্হাদীছ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ততোমরা ঐ দুটিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্তপথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি হল আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন)এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত (আল-হাদীছ)। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালেক, মিশকাত হা/১৮৬; আল-মুস্তাদরাক লিল হাকেম, সনদ হাসান)যেহেতু উপরোক্ত দুটি উৎসই ইসলামী জীবন-যাপনের মূল হাতিয়ারএবং এর উপরেই মুসলমানদের হেদায়াত নির্ভরশীল, সেহেতু যুগপরস্পরায় ইসলামের শত্রুরা এ দুটি মূল উৎসের মাঝেই ভেজালঢুকানোর চেষ্টা করেছে। কুরআন যেহেতু মহানবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়েই লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল।কণ্ঠস্থ ছিল বহু ছাহাবীর। কাজেই তারা কুরআনে হাত দেওয়ারদুঃসাহস দেখাতে পারেনি। কিন্তু

সহিহ হাদিসে কুদসি (১ম পর্ব)

 
 
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য এবং দরূদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল, তার পরিবারবর্গ, তার সাথী ও তার সকল অনুসারীদের ওপর। অতঃপর,
“সহিহ হাদিসে কুদসি” গ্রন্থটি আমার নিকট বিশুদ্ধ প্রমাণিত  হাদিসে কুদসির বিশেষ সংকলন। এখানে আমি সনদ ও ব্যাখ্যা ছাড়া হাদিসে কুদসিগুলো উপস্থাপন করেছি। হাদিসগুলো সূত্রসহ উল্লেখ করে হুকুম ও শব্দের জরুরী অর্থ বর্ণনা করে ক্ষান্ত হয়েছি। আল্লাহ আমার এ আমল কবুল করুন এবং এর দ্বারা সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব হাদিস আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেছেন আলেমগণ সেগুলোকে “হাদিসে কুদসি” নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহর নাম “কুদ্দুস” এর সাথে সম্পর্কযুক্ত করে এসব হাদিসকে ‘কুদসি’ বলা হয়। (“কুদ্দুস” অর্থ পবিত্র ও পুণ্যবান।)
“হাদিসে কুদসি” ও কুরআনুল কারিমের মধ্যে পার্থক্য:

যঈফ ও জাল হাদীছ ।ছিহাহ সিত্তাহ বলা কতদূর সঠিক?

যঈফ ও জাল হাদীছ,

সংকলন: আখতারুল আমান, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী مركز دعوة الجاليات بالجبيل
জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

ইসলামী শরীয়তের দুটি মূল উৎস হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ্‌ হাদীছ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ঐ দুটিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি হল আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত (আল-হাদীছ)। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালেক, মিশকাত হা/১৮৬; আল-মুস্তাদরাক লিল হাকেম, সনদ হাসান)
যেহেতু উপরোক্ত দুটি উৎসই ইসলামী জীবন-যাপনের মূল হাতিয়ার এবং এর উপরেই মুসলমানদের হেদায়াত নির্ভরশীল, সেহেতু যুগ পরস্পরায় ইসলামের শত্রুরা এ দুটি মূল উৎসের মাঝেই ভেজাল ঢুকানোর চেষ্টা করেছে। কুরআন যেহেতু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়েই লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল। কণ্ঠস্থ ছিল বহু ছাহাবীর। কাজেই তারা কুরআনে হাত দেওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ ছিল এর কিছুটা ব্যতিক্রম। হাদীছ তখন লিখিত আকারে ছিল না। ছিল বিভিন্ন ছাহাবীর স্মৃতিপটে সংরক্ষিত। তাও আবার গচ্ছিত আকারে নয়। লিখিত আকারে খুব কমই সংরক্ষিত ছিল। এই সুযোগে ইসলামের চির শত্রুরা ও মুসলিম নামধারী বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল এই দ্বিতীয় উৎসের মধ্যে তাদের কালো হাত বসিয়েছে। হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম এবং যা শরীয়ত নয় তাকে শরীয়তে রূপ দেওয়ার জন্য বহু হাদীছ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম দিয়ে জাল করেছে। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামীন যুগে যুগে এমন পণ্ডিতদেরও আবির্ভাব ঘটিয়েছেন, যারা ঐ সমস্ত যঈফ ও জাল হাদীছগুলিকে ছাটাই বাছাই করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইমাম ইবনুল জাওযী বলেন, যখন কারো পক্ষে কুরআন মজীদে অনুপ্রবেশ ঘটানো সম্ভব হয়নি, তখন কিছু সংখ্যক লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ বর্ণিত করতে শুরু করে এবং তিনি বলেননি এমন কথাও তাঁর নাম দিয়ে চালাতে শুরু করে। আর এর প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তায়ালা এমন আলেমদের আবির্ভাব ঘটালেন, যাঁরা মিথ্যা বর্ণনা অপসারণ করতে শুরু করেন এবং ছহীহ হাদীছ কোনটি তা স্পষ্ট করে দেন। আল্লাহ তায়ালা এরূপ পণ্ডিত ব্যক্তিদের থেকে কোন যুগকেই শূন্য রাখেননি। তবে এ ধরনের ব্যক্তিত্বদের অস্তিত্ব সাম্প্রতিককালে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি বর্তমানে তাদের প্রাপ্তি পশ্চিমা ডলফিন প্রাপ্তির চেয়েও দুর্লভ হয়ে পড়েছে। (সিলসিলাতুল আহাদীছ আয-যাঈফাহ ওয়াল মওযূআহ ১/৪১।)
ইমাম ইবনুল জাওযীর যুগেই যখন হাদীছের মহা পন্ডিতদের এরূপ অভাব দেখা দিয়েছিল, সেখানে বর্তমান যুগে এ অভাব আরও তীব্র হওয়া স্বাভাবিক নয় কি? বাস্তব পরিস্থিতিও তাই। সারা বিশ্বে আজ যঈফ ও জাল হাদীছের ছড়াছড়ি। কি খতীব, কি ওয়ায়েয, কি প্রবন্ধকার, কি তথাকথিত মুহাদ্দিস সকলের মুখে শুধু যঈফ ও জাল হাদীছ শুনা যায়। কিন্তু এগুলি থেকে সতর্ককারী রয়েছেন কজন? যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানীসহ হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিত্ব ছাড়া? তাদের লেখনীও আবার আরবীতে। যা বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য বুঝা কষ্টকর।
এই ঘোলাটে পরিস্থিতি অনুধাবন করেই আমরা উভয় বাংলার মানুষকে যঈফ ও জাল হাদীছ থেকে সতর্ক করার জন্য কলম হাতে নিয়েছি। আমরা বাংলার মুমিন সমাজকে জানিয়ে দিতে চাই যে, হাদীছ বর্ণনায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হাদীছের অবস্থা না জেনে তা দিয়ে দলীল পেশ করা যাবে না। আমরা আরও চাই বাংলার মানুষকে ঐ সমস্ত হাদীছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, যেগুলিকে তারা অজ্ঞতা বশত: কিংবা ঐ রকম বই-কিতাব না থাকায় ছহীহ হাদীছ মনে করে আমল করে আসছে। অথচ তা নিতান্তই যঈফ বা জাল। বহুকাল আগে থেকেই হাদীছ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ এগুলোকে যঈফ ও জাল হাদীছ বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং বর্তমান যুগের হাদীছ শাস্ত্রবিদগণও ওগুলোর যঈফ ও জাল হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর মিথ্যা রোপ করার কঠিন গোনাহ হতে রক্ষা করা।
যঈফ ও জাল হাদীছের সঙ্গা:
যঈফ হাদীছঃ যে হাদীছে ছহীহ ও হাসান হাদীছের শর্তসমূহ পাওয়া যায় না, তাকেই যঈফ হাদীছ বলে। (ইমাম নববী, মুক্বাদ্দামাহ মুসলিম পৃঃ ১৭; হাদীছ সংকলনের ইতিহাস, (ইফাবা ১৯৯২) পৃঃ ৩৯।)
ছহীহ হাদীছঃ ছহীহ হাদীছ ঐ হাদীছকে বলা হয় যার বর্ণনা সূত্র ধারাবাহিক রয়েছে এবং বর্ণনাকারীগণ সর্বতোভাবে ন্যায়পরায়ণ। যাদের স্মরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর এবং যে হাদীছের মধ্যে কোন প্রকার দোষ নেই এবং অপর ছহীহ হাদীছের বিরোধীও নয়। (মিন আত্বয়াবিল মিনাহ ফি ইলমিল মুছত্বালাহ ও শরহে নুখবাতুল ফিক্‌র অবলম্বনে)।
হাসান হাদীছঃ ছহীহ হাদীছের সকল গুণ বিদ্যমান থাকার পর বর্ণনাকারীদের স্মরণশক্তি যদি কিছুটা হালকা প্রমাণিত হয় তবে তাকে হাসান হাদীছ বলা হয়। (প্রাগুক্ত)।
মাউযু বা জাল হাদীছঃ মাউযু বা জাল হাদীছ এর অপর নাম মিথ্যা হাদীছ। মওযু হাদীস বলা হয় ঐ হাদীকে যা বানানো হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। (ডঃ মাহমুদ আহ-ত্বাহ্‌হান, তায়সীরু মুছতালাহিল হাদীছ, পৃঃ ৮৯।)
হাদীছ বর্ণনায় সতর্কতা অবলম্বন: হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্দোষ রাবীর হাদীছ গ্রহণ করতে হবে। পক্ষান্তরে যে রাবী দোষী সাব্যস্ত হবে, তার বর্ণিত হাদীছ প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
আল্লাহ বলেন:
(يا أيُّهاَ الَّذِيْنَ آمَنُواْ إنْ جاَءَكُمْ فاَسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوْا
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে কোন ফাসেক ব্যক্তি কোন খবর দিলে তা যাচাই কর।” (হুজুরাত-৬)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
( منَ حَدَّثَ عَنِّيْ بِحَدِيْثٍ يَرَى أنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أحَدُ الْكاَذِبِيْنَ )
“যে ব্যক্তি আমার থেকে এমন হাদীছ বর্ণনা করে যে, তার ধারণা হয় ওটা মিথ্যাও হতে পারে, তবে সে অন্যতম সেরা মিথ্যুক। (মুসলিম)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
( كَفَى باِلْمَرْءِ كَذِباً أنْ يُحَدِّث بِكُلِّ ماَ سَمِعَ )
“একজন ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই (পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে) বলে বেড়াবে।” (মুক্বাদ্দামা মুসলিম)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
( مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فاَلْيَتَبَوَّءْ مَقْعَدَهُ مِنْ الناَّرِ )
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার উপরে মিথ্যা রোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (বুখারী ও মুসলিম)।
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছগুলি দ্বারা এটাই প্রতিভাত হয় যে, হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং ঢালাওভাবে হাদীছ বর্ণনা করা যাবে না। বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে হাদীছটি সত্যিকার অর্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ কি-না। যে ব্যক্তি শোনামাত্রই বর্ণনা করে সে অন্যতম সেরা মিথ্যুক এবং জেনে বুঝে মিথ্যা রোপ করলে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, এ বাক্যগুলো থেকে হাদীছের ছহীহ-যঈফ যাচাই কতটুক আবশ্যক তা সহজেই অনুমেয়।
ছহীহ-যঈফ যিনি পার্থক্য করতে জানেন না, তিনি আলেম নন:
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ও ইসহাক বিন রাহওয়াইহ বলেন, যে আলেম হাদীছের ছহীহ-যঈফ ও নাসেখ-মানসূখ জানেন্‌ না, তাকে আলেমই বলা চলে না। (মারেফাতু উলুমুল হাদীস গ্রন্থের বরাতে সহীহ তারগীব তারহীবের ভূমিকা- পৃঃ- ১৩)
ছিহাহ সিত্তা বলা কতদূর সঠিক?
আমরা বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এসব মহামতি ইমামদের হাদীছ গ্রন্থ গুলিকে ছিহাহ সিত্তাহ বলে থাকি। যার অর্থ হাদীছের ছয়টি ছহীহ কিতাব। আসলে কি এ ছয় খানি কিতাবই ছহীহ হাদীছের কিতাব? একমাত্র ছহীহ হাদীছের কিতাব বলতে বুখারী ও মুসলিমকে বুঝানো হয়। যে দুটিকে একত্রে ছহীহায়েন বলা হয়। এই দুই কিতাবের সাথে অনেক বিদ্বান মুওয়াত্ত্বা মালিককেও শামিল করেছেন। এর বাইরে কোন কিতাবই নিরঙ্কুশ ছহীহ হাদীছের কিতাব নয়। বরং সব হাদীছের বিতাবেই ছহীহ-যঈফ মিশ্রিত রয়েছে। আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীছ মিশ্রিত রয়েছে। সুতরাং এগুলিকে বুখারী ও মুসলিমের সাথে মিলিয়ে ছিহাহ সিত্তাহ বলা ঠিক নয়। এমন কি সহীহ বুখারী মুসলিম ছাড়া অন্যান্য হাদীসের কিতাবের সংকলকগণ তাদের কিতাবগুলোকে সহীহ হিসেবেও নাম করণ করেন নি। যদিও অনেক আলেম এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ হাদীস সহীহ হওয়ার উপর ভিত্তি করে সিহাহ সিত্তাহ বলেছেন।
বিদ্বানদের গণনা মতে ঐ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীছের সংখ্যা তিন হাযারের ঊর্ধ্বে রয়েছে। যেমন মুহাদ্দিস আলবানী (রহঃ) এর চারটি যঈফ গ্রন্থ অবলম্বনে বলা যায়-
• নাসাঈতে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ৪৪০ টি
• আবুদাউদে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ১১২৭ টি
• তিরমিযীতে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ৮২৯ টি
• ইবনু মাজাহ্‌তে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ৯৪৮ টি
———————————–
মোট = ৩৩৪৪ টি
এই চার খানা কিতাবকে পুরোপুরিভাবে ছহীহ হাদীছের সংকলন জ্ঞান করার কারণেই আমরা এগুলোর মধ্যে সন্নিবেশিত হাদীছগুলিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি না বা করার প্রয়োজন মনে করি না। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভুল।
আল্লামা মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ইয়ামানী বলেন: সুনানে ইবনে মাজাহ আবূদাউদ ও নাসাঈর পরবর্তী পর্যায়ের গ্রন্থ। উহার হাদীছসমূহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো আবশ্যক। উহাতে ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়ে একটি মওযূ হাদীছ রয়েছে। (হাদীছ সংকলনের ইতিহাস, (ইফাবা, ১৯৯২), পৃঃ ৫৬১। গৃহীত: ত্বানক্বীহুল আনওয়ার।)
উপরোক্ত চারখানা বিতাবের বাইরেও এমন অনেক কিতাব রয়েছে যার বেশীর ভাগ হাদীছ ছহীহ। যেমন ছহীহ ইবনু খুযায়মা, ছহীহ ইবনু হিব্বান প্রভৃতি।
মোটকথা, হাদীছের প্রসিদ্ধ চয় খানা বিতাবকে ছিহাহ সিত্তাহ না বলে কুতুবু সিত্তাহ বা ছহীহাইন ও সুনানে আরবাআহ বলা উচিত।
প্রকাশ থাকে যে, অনেকে মনে করেন, যঈফ হাদীছ ফযীলতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। বরং ফযীলত ও আহকাম সর্বক্ষেত্রেই যঈফ হাদীছ বর্জনীয়। ইহাই মুহাক্কেক্বীন বিদ্বানদের চূড়ান্ত ফায়সালা। আল্লামা জামালুদ্দীন ক্বাসেমী বলেন, ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহ্‌ইয়া ইবনে মঈন, ইবনুল আরাবী, ইবনে হাযম এবং ইবনু তাইময়াহ প্রমুখ মনীষীগণ বলেন, ফযীলত কিংবা আহকাম কোন ব্যাপারেই যঈফ হাদীছ আমল যোগ্য নয়। (ফাওয়ায়েদুত্‌ তাহদীস পৃঃ ৯৫)
পরিশেষে, আল্লাহ আমাদের সকলকে যঈফ ও জাল হাদীছ চিনার ও তা থেকে সতর্ক থাকার সাথে সাথে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক আমল করার তাওফীক দিন-আমীন!
الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ على الأمة
إعداد: أختر الأمان ، الداعية بمركز دعوة الجاليات بالجبيل
যঈফ ও জাল হাদীছ এবং মুসলিম সমাজে তার কুপ্রভাব
সংকলন: আখতারুল আমান
مركز دعوة الجاليات بالجبيل

মিথ্যা বা জাল হাদীস প্রচারের ভয়াবহ পরিণতি!!

মিথ্যা বা জাল হাদীস প্রচারের ভয়াবহ পরিণতি!!


*যা নবী(স) বলেন নাই তা বলা মানে নবীর(স) এর নামে মিথ্যা বলা, ফলে তার স্থান হবে জাহান্নাম*
🔴 *মিথ্যা হাদিস প্রচারের ভয়াবহ পরিণতি*🔴
*যে হাদিস জাল করে বা বানোয়াট করে বা মিথ্যা হাদিস ছড়ায় এবং যে ব্যক্তি ঐ মিথ্যা হাদিস প্রচারে সহযোগীতা করে, আর যারা তা অনুসরণ করবে, তাদের সমস্ত গুনাহ ঐ ব্যক্তিদের ঘাড়ে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত জমা হতে থাকবে।*
সর্ব প্রথমে আমি অযোগ্য ব্যক্তি ক্ষমা চাচ্ছি ও বিনীত অনুরোধ করছি, যদি কখনো মনে হয় যে, আমি নবী (স) এর পথ থেকে সামান্যতম ও বিচ্যুত হচ্ছি,তাহলে অবশ্যই আমাকে সতর্ক করবেন।
📚কুরান বলেঃ

Sunday, February 4, 2018

যয়ীফ হাদিস অথচ মানুষ এগুলোই সবচেয়ে বেশী আমল করে!

যয়ীফ হাদিস অথচ মানুষ এগুলোই সবচেয়ে বেশী আমল করে-
১- যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় আউজু বিল্লাহিস সামি’ইল আলিমি মিনাশ সাইতনির রজিম বলে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা দুয়া করবেন ও ঐ দিন তার মৃত্যু হলে শহীদী মৃত্যু হবে। (হাদিস জয়ীফ- জয়ীফ আত তিরমিজি-২৯২২)

২- যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন ১বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে ১০বার কুরআন খতমের নেকী দিবেন। (এর সনদ খুবই দুর্বল- সিলসিলাহ যয়িফাহ ১৩৩৬)

৩- যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়াহ পাঠ করবে,

Saturday, February 3, 2018

জেনে নিন মহানবী ( সাঃ ) এর ২১৩ টি মহা মূল্যবান বাণী:

জেনে নিন মহানবী ( সাঃ ) এর ২১৩ টি মহা মূল্যবান বাণী: হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আল্লাহর সর্বশেষ নবী।  দুনিয়াতে যারা তাঁর  দেখানো পথে চলবে,  পরকালে তারাই জান্নাতে  যাবে। তারাই জাহান্নাম  থেকে মুক্তি পাবে।  আমরা তাঁর উম্মত বা অনুসারী  দল। আমরা তাঁর দেখানো  পথে চলি। সঠিক পথ পাবার  জন্যে তিনি আমাদের  কাছে দুটি জিনিস রেখে  গেছেন। একটি হলো  আল্লাহর কুরআন। আর অপরটি  হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।  নবীর সুন্নাহ সম্পর্কে জানা  যায় হাদীস থেকে।  হাদীসের অনেকগুলো বড় বড়  গ্রন্থ আছে । নবীর বাণীকে  হাদীস বলে।  নবীর কাজ কর্ম এবং  চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদীস  বলে।  নবীর সমর্থন এবং আদেশ  নিষেধের বর্ণনাকেও  হাদীস বলে।  ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে  জানাবার জন্যে  আমাদেরকে আল্লাহর বাণী  কুরআন মজীদকে বুঝতে হবে  এবং মানতে হবে।  ঠিক তেমনি

জাল ও য’ঈফ হাদীসঃ ১-১৯

জাল ও য’ঈফ হাদীসঃ 1-19
আবদুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল /
জাল ও য’ঈফ হাদীসঃ ১–১০
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় বন্ধুগণ, আমরা জানি, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস এক একটি
আইন, একটি সংবিধান ও একটি নীতি। যার সূত্র ধরে
যুগে যুগে মানব জাতি তাদের করণীয় ও বর্জনীয়
নির্ধারণ করবে। এর মাধ্যমে মানবতা তাদের জীবন
চলার দিক নির্দেশনা খুঁজে নিবে। তাই যে কোন
হাদীস গ্রহণ করার আগে তা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত
হওয়া অপরিহার্য। যার কারণে যুগে যুগে
মুহাদ্দেসীনগণ হাদীসের বিশুদ্ধতা অনুসন্ধানের
নিমিত্তে হাদীসের বর্ণনাকারী, বর্ণনা সূত্র এবং

খুব উপকারী কিছু হাদীস

খুব উপকারী কিছু হাদীস
১. ﺍﺗَّﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺣَﻴْﺜُﻤَﺎ ﻛُﻨْﺖَ ﻭَﺃَﺗْﺒِﻊْ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔَ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔَ
ﺗَﻤْﺤُﻬَﺎ ﻭﺧَﺎﻟِﻖِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺑِﺨُﻠُﻖٍ ﺣَﺴَﻦٍ
“আল্লাহকে ভয় কর যেখানেই থাকনা
কেন। অন্যায় কাজ হয়ে গেলে
পরক্ষণেই ভাল কাজ কর। তবে ভাল
কাজ অন্যায়কে মুছে দিবে আর

একগুচ্ছ মনি-মুক্তা(হাদীস)

সুপ্রিয় বন্ধু, মনি-মুক্তা, হিরা-জহরত, ডাইমন্ড ইত্যাদি পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু। কিন্তু আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি হাদীস এসব থেকেও মহামূল্যবান। এখানে হাদীসের রত্ন ভান্ডার থেকে একগুচ্ছে মনি-মুক্তা আপনাদেরকে উপহার প্রদান করা হল। হাদীসগুলোর ভাষা খুব সংক্ষিপ্ত ও সহজ-সরল কিন্ত অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূর প্রসারী । এগুলো ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিটি কথাই মুখস্ত রাখার মত। প্রতিটি বাক্যই সোনার হরফে লিখে রাখার মত। তবে আসুন, হাদীসগুলো পড়ি। সেই সাথে সেগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করি। আল্লাহ আমাদেরকে সব সময় ইসলামের আলোকিত সরল পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।

১. اتَّقِ اللَّه حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعْ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا وخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ
“আল্লাহকে ভয় কর যেখানেই থাকনা কেন। অন্যায় কাজ হয়ে গেলে পরক্ষণেই ভাল কাজ কর। তবে ভাল কাজ অন্যায়কে মুছে দিবে আর মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার কর।“ (তিরমিযী-সহীহ)
২. ((إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ))
“সব কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল।“(সহীহ বুখারী)

Thursday, February 1, 2018

ইসলামে সুন্নাহ’র অবস্থান

ইসলামে সুন্নাহ’র অবস্থান


بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين, و الصلاة و السلام على نبينا محمد خاتم النبين, القائل: « ألا و إني أتيت القرآن و مثله معه » ( أخرجه احمد في مسنده)
(সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; আর সালাত ও সালাম আমাদের নবী সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, যিনি বলেছেন: “জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আমাকে আল-কুরআন দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তারই সদৃশ বিষয় তথা সুন্নাহ দেয়া হয়েছে।”[1])।

অতঃপর:
নিশ্চয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ সুসংবাদদানকারী, সতর্ককারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে এমন সময় প্রেরণ করেছেন, যখন রাসূল প্রেরণের বিরতিকাল চলছিল এবং হেদায়াত পাওয়ার সকল পথ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; অতঃপর তিনি তার মাধ্যমে অজ্ঞতার অন্ধকারকে আলোকিত করেছেন এবং ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন; আর তিনি সবকিছু স্পষ্টভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর উম্মতকে সমুজ্জ্বল পথের উপর রেখে গেছেন, তার রাত্রি যেন দিনের আলোর মত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

আন্‌-নওয়াবীর (৪০) চল্লিশ হািদস

আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হািদস

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

হাদীস – ১
আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস্ উমার ইবন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন—
আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
“সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়্যত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।”

Wednesday, January 31, 2018

সোনামনিদের হাদীস শিক্ষা আসর-১

সোনামনিদের হাদীস শিক্ষা আসর-১
পূর্বকথা
ঘুমিয়ে আছে জাতির পিতা সব শিশুরই অন্তরে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। শিশুদের হাতেই নির্মিত হবে আমাদের আগামীর দিনগুলো। কথাগুলো আমরা প্রায়ই বলে থাকি। এসব বাক্য থেকে শিশুদের সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। এরা যদি যোগ্য, নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শে বলীয়ান হয়ে গড়ে ওঠে তাহলে আমাদের ভবিষ্যত আলোকিত হবে। অন্যথায় তা হবে তমসাপূর্ণ।
শিশুদের মেধার সুষ্ঠু বিকাশ ও নৈতিকতার উন্মেষ ঘটাতে সবচেয়ে জরুরী তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তাদের পর্যাপ্ত সুস্থ বিনোদন ও নির্মল পঠনসামগ্রীর ব্যবস্থা করা। এতে ব্যর্থ হলে

সহিহ হাদিসে কুদসি (১ম পর্ব)

 
 
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য এবং দরূদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল, তার পরিবারবর্গ, তার সাথী ও তার সকল অনুসারীদের ওপর। অতঃপর,
“সহিহ হাদিসে কুদসি” গ্রন্থটি আমার নিকট বিশুদ্ধ প্রমাণিত  হাদিসে কুদসির বিশেষ সংকলন। এখানে আমি সনদ ও ব্যাখ্যা ছাড়া হাদিসে কুদসিগুলো উপস্থাপন করেছি। হাদিসগুলো সূত্রসহ উল্লেখ করে হুকুম ও শব্দের জরুরী অর্থ বর্ণনা করে ক্ষান্ত হয়েছি। আল্লাহ আমার এ আমল কবুল করুন এবং এর দ্বারা সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব হাদিস আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেছেন আলেমগণ সেগুলোকে “হাদিসে কুদসি” নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহর নাম “কুদ্দুস” এর সাথে সম্পর্কযুক্ত করে এসব হাদিসকে ‘কুদসি’ বলা হয়। (“কুদ্দুস” অর্থ পবিত্র ও পুণ্যবান।)
“হাদিসে কুদসি” ও কুরআনুল কারিমের মধ্যে পার্থক্য:

সহিহ হাদিসে কুদসি (২য় পর্ব)

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(والأرْضُ جَميعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ القيامةِ والسَّماواتُ مَطوِيَّاتٌ بِيَمِينِه)
73- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ( قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «يَقْبِضُ اللَّهُ الْأَرْضَ وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ» . ( خ, م, جه ) صحيح
৭৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তা‘আলা জমিন তাঁর হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে মুড়িয়ে নিবেন, অতঃপর বলবেন: আমিই বাদশাহ, দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?”। [বুখারি, মুসলিম ও ইব্‌ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।

74- عَنْ ابْنِ عُمَرَ -رضي الله عنهما- عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يَقْبِضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْأَرْضَ، وَتَكُونُ السَّمَوَاتُ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ». ( خ ) صحيح
৭৪. ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ