শুক্রবারে যোহ্র ও আসরের মধ্যবর্তী
সময়ে (?) ২ রাকআত; প্রথম রাকআতে আয়াতুল কুরসী ১ বার ও সূরা ফালাক্ব ২৫ বার
এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস ১ বার এবং সূরা ফালাক্ব ২০ বার পড়া।
ফযীলত: মরার পূর্বে স্বপ্নে আল্লাহর ও বেহেশ্তে নিজের জায়গার দর্শন লাভ!
এই দিনে মাগরেব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ১২ রাকআত নামায।
ফযীলত: বেহেশ্তে মহল লাভ, সমগ্র মুসলিম জাতির তরফ থেকে সদকাহ্ দেওয়ার সওয়াব লাভ এবং পাপ নাশ হবে।
এ
কথা প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে কোন ইবাদত কবুল হওয়ার মূল ভিত্তি হল
তওহীদ। আর তা শুদ্ধ হওয়ার মৌলিক শর্ত হল ২টি; ইখলাস ও মুহাম্মাদী তরীকা।
সুতরাং যে নামায মুহাম্মাদী তরীকায় নেই, তাতে পূর্ণ ইখলাস থাকলেও তা বিদআত।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের এ (দ্বীন) ব্যাপারে নতুন কিছু
উদ্ভাবন করবে যা তার পর্যায়ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১৪০নং) “যে ব্যক্তি এমন আমল করে, যাতে আমাদের কোন নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” (মুসলিম, সহীহ ১৭১৮নং) “আর নবরচিত কর্মসমূহ থেকে দূরে থেকো। কারণ,
হযরত
আবু উমামা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহ রসূল (সাঃ) বলেন “যে ব্যক্তি কোন
ফরয নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে স্বগৃহে থেকে ওযূ করে (মসজিদের দিকে) বের হয়
সেই ব্যক্তির সওয়াব হয় ইহ্রাম বাঁধা হাজীর ন্যায়। আর যে ব্যক্তি কেবলমাত্র
চাশতের নামায পড়ার উদ্দেশ্যেই বের হয়, তার সওয়াব হয় উমরাকারীর সমান। এক
নামাযের পর অপর নামায; যে
চাশতের
নামাযের কমপক্ষে ২ রাকআত এবং ঊর্ধ্বপক্ষের কোন নির্দিষ্ট রাকআত সংখ্যা
নেই। অবশ্য মহানবী (সাঃ) নিজে এই নামায ৮ রাকআত পড়তেন বলে প্রমাণিত।
পক্ষান্তরে তাঁর কথায় প্রমাণিত ১২ রাকআত।
উম্মেহানী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, মহানবী (সাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর ঘরে চাশতের সময় ৮ রাকআত নামায পড়েছেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১৩০৯নং)
স্বালাতুয-যুহা
বা চাশতের নামাযের সময় শুরু হয় সূর্য যখন দর্শকের চোখে এক বর্শা (এক
মিটার) পরিমাণ উপরে ওঠে। অর্থাৎ সূর্য ওঠার মোটামুটি ১৫ মিনিট পরে এই নামায
পড়া যায়। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ৪/১২২) আর শেষ হয়
সূর্য ঢলার আগে। তবে উত্তম হল, সূর্য পূর্বাকাশে উঁচু হওয়ার পর যখন মাটি
গরম হতে শুরু করবে তখন এই নামায পড়া। মহানবী (সাঃ) বলেন, “সূর্য উঠে গেলে
তারপর নামায পড়। কারণ,
মুসলিমদের প্রতি কাফেরদের অত্যাচারের সময় পাঁচ-ওয়াক্ত নামাযের শেষ রাকআতের রুকূ থেকে মাথা তুলে কুনূত পড়া বিধেয়। (আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ১২৯০নং)
এই কুনূতকে কুনূতে নাযেলাহ্ বলা হয়। এই কুনূতে মুসলিমদের জন্য দুআ এবং
অত্যাচারী কাফেরদের বিরুদ্ধে বদ দু’আ করা বিধেয়। দুই হাত তুলে দুআ করবেন
ইমাম এবং ‘আমীন-আমীন’ বলবে মুক্তাদীগণ। এই কুনূতের দুআর ভূমিকা নিম্নরুপ:-
বিত্র
নামায যথা সময়ে না পড়া হলে তা কাযা পড়া বিধেয়। মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে
ব্যক্তি বিত্র না পড়ে ঘুমিয়ে যায় অথবা তা পড়তে ভুলে যায় সে ব্যক্তি যেন তা
স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেয়।” (আহমাদ, মুসনাদ, সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্),হাকেম, মুস্তাদরাক, জামে ৬৫৬২নং) তিনি আরো বলেন,
অবশ্য
এ ব্যাপারে একটি ব্যতিক্রম নামায হল, বিতরের পরে ২ রাকআত সুন্নত বসে বসে
পড়া। মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, রসূল (সাঃ) (বিত্র নামাযের) সালাম ফিরার পর বসে
বসে ২ রাকআত নামায পড়তেন। (মুসলিম, সহীহ) হযরত উম্মে সালামাহ্ বলেন। ‘তিনি বিতরের পর বসে বসে (হাল্কা করে) ২ রাকআত নামায পড়তেন।’ (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, মিশকাত ১২৮৪নং)
রাত্রের
সর্বশেষ নামায হল বিতরের নামায। বিতরের পর আর কোন নামায নেই। অতএব যদি কেউ
শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না মনে করে এশার পর বিত্র পড়ে নেয় অতঃপর শেষ
রাত্রে উঠতে সক্ষম হয়, সে তাহাজ্জুদ পড়বে কিন্তু আর দ্বিতীয় বার বিত্র
পড়বে না। কারণ, মহানবী (সাঃ) বলেন, “এক রাতে দুটি বিত্র নেই।”
কুনূতের
দুআ (শেষ রাকআতের) রুকুর আগে বা পরে যে কোন স্থানে পড়া যায়। হুমাইদ বলেন,
আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কুনূত রুকূর আগে না পরে? উত্তরে তিনি
বললেন, ‘আমরা রুকূর আগে ও পরে কুনূত পড়তাম।’ (ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ১২৯৪নং)
অনুরুপ (দুআর মত)হাত তোলা ও না তোলা উভয় প্রকার আমলই সলফ কর্তৃক বর্ণিত আছে। (তুহ্ফাতুল আহওয়াযী ১/৪৬৪)
বিত্র নামায একটানা এক সালামে ৯, ৭, ৫, ৩ রাকআত পড়া যায়।
৯ রাকআত বিতরের নিয়ম হল, ৮ রাকআত একটানা
পড়ে তাশাহ্হুদে বসতে হবে। তাতে আত্-তাহিয়্যাত ও দরুদ-দুআ পড়ে সালাম না
ফিরে উঠে গিয়ে আরো এক রাকআত পড়ে সালাম ফিরতে হবে। (মুসলিম, মিশকাত ১২৫৭নং)
৭ রাকআত বিতরের নিয়ম হল, ৬ রাকআত একটানা
পড়ে তাশাহ্হুদে বসতে হবে। তাতে আত্-তাহিয়্যাত ও দরুদ-দুআ পড়ে সালাম না
ফিরে উঠে গিয়ে আরো এক রাকআত পড়ে সালাম ফিরতে হবে। (সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্), আবূদাঊদ, সুনান ১৩৪২, নাসাঈ, সুনান ১৭১৯নং)
বিতরের
সময় এশার পর থেকে নিয়ে ফজরের আগে পর্যন্ত। মহানবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহ
তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত নামায প্রদান করেছেন। আর তা হল বিতরের নামায
সুতরাং তোমরা তা এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নাও।” (আহমাদ, মুসনাদ, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১০৮নং)
সাহাবী গুযাইফ বিনহারেস বলেন, একদা আমি
আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ‘--- নবী (সাঃ) বিতরের নামায প্রথম
রাত্রিতে পড়তেন, নাকি শেষ রাত্রিতে?’ তিনি বললেন, ‘কখনো তিনি প্রথম
রাত্রিতে বিত্র পড়তেন, আবার কখনো শেষ রাত্রিতে।’ আমি বললাম,
বিত্র
নামায সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। এ নামায আদায় করতে মহানবী (সাঃ) উম্মতকে
উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, ‘বিত্র ফরয নামাযের মত
অবশ্যপালনীয় নয়; তবে আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাকে সুন্নতের রুপদান করেছেন;
তিনি বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ বিত্র (জোড়হীন), তিনি বিত্র (জোড়শূন্যতা বা
বেজোড়) পছন্দ করেন। সুতরাং
‘শুরূক্ব’ অর্থ সূর্য উদিত হওয়া। ‘ইশরাক্ব’ অর্থ চমকিত হওয়া। ‘যোহা’ অর্থ সূর্য গরম হওয়া। এই ছালাত সূর্যোদয়ের পরপরই প্রথম প্রহরের শুরুতে পড়লে একে ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’ বলা হয় এবং কিছু পরে দ্বিপ্রহরের পূর্বে পড়লে তাকে ‘ছালাতুয যোহা’ বা চাশতের ছালাত বলা হয়।
কিছু সুন্নত আছে যা পড়া মুস্তাহাব, কিন্তু তাকীদপ্রাপ্ত নয়। এমন কিছু সুন্নত নামায নিম্নরুপ:-
আসরেরপূর্বে২অথবা৪রাকআত:
হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি কৃপা করেন যে আসরের পূর্বে ৪ রাকআত নামায পড়ে।” (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্, সহীহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ, সহিহ তারগিব ৫৮৪নং)
পূর্বের
একাধিক হাদীসে উল্লেখ হয়েছে যে, এশার পরে মহানবী (সাঃ) ২ রাকআত সুন্নত
নিজের ঘরে পড়তেন। পক্ষান্তরে এশার নামায পর বাড়ি ফিরে তাঁর ৪ অথবা ৬ রাকআত
নামায পড়ার হাদীস সহীহ নয়।