Showing posts with label সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান. Show all posts
Showing posts with label সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান. Show all posts

Monday, January 29, 2018

সৎ কাজ এর আদেশ অসৎ কাজর নিষেধঃ ইসলামে দাওয়াত এর গুরুত্ব

সৎ কাজ এর আদেশ অসৎ কাজর নিষেধ

ইসলামে দাওয়াত এর গুরুত্ব

*****বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম*****
আজ আমি আপানাদের প্রতি এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলব
যে বিষয় নিয়ে মুসলিমদের ২% লোকও হয়তো ভাবে না।
সেটা হলঃ দাওয়াহ। মানুষকে আল্লাহ্র পথে আহ্বান করা।
এই কাজটির গুরুত্ব কতটুকু?
আমি নিজে তো ইসলামের বিধি-বিধান, আল্লাহ্র সকল হুকুম-
আহকাম মেনে চললাম কিন্তু আমার পাশের ভাইয়ের আল্লাহ্
গোলামী সম্পর্কে কোন সঠিক ধারণা নেই, সে এটাও
জানেনা কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? ফলে সে ইসলামের বিধি-

Sunday, January 28, 2018

পুন্যের বা ভাল কাজের অসংখ্য পথ!

পুন্যের অসংখ্য পথ

 পুণ্যের পথ অনেক
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ﴾ [البقرة: ٢١٥]
অর্থাৎ “তোমরা যে কোন সৎকাজ কর না কেন, আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত।”(সূরা বাক্বারা ২১৫ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
﴿وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ ﴾ [البقرة: ١٩٧]
অর্থাৎ “তোমরা যে সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন।” (আল-বাক্বারাহ: ১৯৭ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
﴿ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴾ [الزلزلة: ٧]
অর্থাৎ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলেও সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,

Tuesday, January 23, 2018

আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় আমলসমূহ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি যাবতীয় প্রশংসায় প্রশংসিত এবং সব ধরনের মহত্তর গুণে গুণান্বিত। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি তার বান্দাদের প্রিয় বস্তুর দিক রাস্তা দেখান এবং প্রিয় বস্তু-গুলোকে বান্দার জন্য সহজ করেন। আর সালাত ও সালাম নাযিল হোক বিশেষভাবে বাছাইকৃত রাসূলের উপর যিনি আমানতদার। আর আমার প্রভুর সালাত ও সালাম কিয়ামত অবধি সব সময় বর্ষিত হোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর। আমীন।
অতঃপর,
যে সব আমল আল্লাহ তাঁর বান্দাদের থেকে অধিক পছন্দ করেন এবং অধিক খুশি হন, আল্লাহর গোলামীকে পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে একজন বান্দা সে আমলগুলি করতে, যে চেষ্টা ও পরিশ্রম করে তারই ভিত্তিতে আল্লাহর প্রতি বান্দার মহব্বত পূর্ণতা লাভ করে এবং বান্দার প্রতি তার রবের মহব্বত বাস্তব রূপ নেয়।
বিষয়টি যেহেতু এমনই,

Monday, November 13, 2017

কবীরা গুনাহঃ ১৪০. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের মহান দায়িত্ব পরিহার করা

১৪০. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের মহান দায়িত্ব পরিহার করা


সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের মহান দায়িত্ব পরিহার করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«لُعِنَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ بَنِيْ إِسْرَآئِيْلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُوْدَ وَعِيْسَى بْنِ مَرْيَمَ، ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَّكَانُوْا يَعْتَدُوْنَ، كَانُوْا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُّنْكَرٍ فَعَلُوْهُ، لَبِئْسَ مَا كَانُوْا يَفْعَلُوْنَ».
‘‘বানী ইস্রাঈলের (ইহুদি ও খ্রিস্টানদের) কাফিরদের উপর লা’নত দাঊদ ও ’ঈসা বিন্ মারইয়াম (‘আলাইহিমুস-সালাম) এর মুখে এবং তা এ কারণে যে, তারা ছিলো ওহীর আদেশ বিরোধী এবং সীমা লঙ্ঘনকারী। তারা একে অপরকে কৃত গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ করতো না। মূলতঃ তাদের উক্ত কাজ ছিলো অত্যন্ত নিকৃষ্ট’’। (মা’য়িদাহ্ : ৭৮-৭৯)
’হুযাইফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

Monday, October 23, 2017

কোন কোন ভাল আমলের প্রশংসা শোনা গেলে তাঁর ফলে কি ঐ আমল বাতিল গণ্য হবে?

কোন কোন ভাল আমলের প্রশংসা শোনা গেলে তাঁর ফলে কি ঐ আমল বাতিল গণ্য হবে?


আমলকারীর নিয়তে প্রশংসা নেওয়ার নিয়ত না থাকলে প্রশংসনীয় আমল বাতিল হয় না। যেহেতু আবু যার্র (রঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসুলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেশা করা হল; বলুন, “ যে মানুষ সৎকাজ করে, আর লোকে তাঁর প্রশংসা করে থাকে (তাহলে এরূপ কাজ কি রিয়া বলে গণ্য হবে?)” তিনি বললেন, “এটা মুমিনের সত্বর সুসংবাদ।” ১৪০

অনেক সময় ভাল কাজ করি। অতঃপর এর ফলে লোকমাঝে চর্চা হয়, আমার সুনাম ও সুখ্যাতি হয়। অথচ আমি মনে মনে তা চাইনি। তাতে কি তা বাতিল হয়ে যাবে?

অনেক সময় ভাল কাজ করি। অতঃপর এর ফলে লোকমাঝে চর্চা হয়, আমার সুনাম ও সুখ্যাতি হয়। অথচ আমি মনে মনে তা চাইনি। তাতে কি তা বাতিল হয়ে যাবে?


মনে সুনামের কামনা না থাকা সত্ত্বেও যদি মানুষের মাঝে কারো সুনাম হয়, তাহলে জানতে হবে এটা তাঁর সত্বর সওয়াব। তবে তাতে তাঁর পরকালের সওয়াব বরবাদ হয়ে যাবে না। একদা রাসুলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল; বলুন, “যে মানুষ সৎকাজ করে, আর লোকে তাঁর প্রশংসা করে থাকে, (তাহলে এরূপ কাজ কি রিয়া বলে গণ্য হবে?)” তিনি বললেন,

Tuesday, October 17, 2017

কোন ব্যক্তি তার পরিজনকে নামায পড়তে আদেশ করা সত্ত্বেও যদি তারা তার কথা না শোনে, তাহলে সে ব্যক্তি তাদের সাথে এক সংসারে বসবাস করবে, নাকি পৃথক হয় যাবে?

যদি ওই ব্যক্তির পরিজনবর্গ আদৌ নামায না পড়ে, তবে তারা কাফের, মুরতাদ্দ এবং ইসলাম এবং বহির্ভূত। আর ঐ ব্যক্তির সাথে একত্রে বাস করা বৈধ নয়। অবশ্য তার উপর ওয়াজেব যে, তাদেরকে দাওয়াত দেবে, বারবার উপদেশ দেবে এবং নামাযের জন্য পুনঃপুন তাকিদ করবে। সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করবেন। যেহেতু

কেউ স্বপ্নাদিষ্ট হোলে কি করবে?

কেউ স্বপ্নাদিষ্ট হোলে কি করবে?

আদেশ ভাল কাজের হলে পালন করবে এবং খারাপ কাজের হলে উপেক্ষা করবে। অবশ্য ভাল মন্দকে শরিয়তের মানদণ্ডে বিচার করতে হবে।

দ্বীনের কোন কোন দাঈ দ্বীন মানতে ও মানাতে আবেগের সাথে কঠোরতা ও অতিরঞ্জন প্রদর্শন করে। এ ব্যাপারে দ্বীনের নির্দেশ কি?

দ্বীনের কোন কোন দাঈ দ্বীন মানতে ও মানাতে আবেগের সাথে কঠোরতা ও অতিরঞ্জন প্রদর্শন করে। এ ব্যাপারে দ্বীনের নির্দেশ কি?

দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা বৈধ নয়। আবেগ থাকা ভাল, তবে শরিয়তের লাগাম থাকা জরুরী। নচেৎ তার গতিবেগ তুফান তুলে সর্বনাশ ও সন্ত্রাস আনায়ন করতে পারে। এ জন্যই মহান আল্লাহ দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

“হে গ্রন্থধারিগন! তোমরা ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া মিথ্যা বলো না।” (সুরা নিসাঃ১৭১)

“বল, ‘হে ঐশী গ্রন্থধারিগন! তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করো না এবং যে সম্প্রদায় ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে ও অনেকে পথভ্রষ্ট করেছে এবং সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না।’  (সুরা মাইদাহঃ ৭৭ আয়াত)

অনুরূপ তিনি দ্বীন দুনিয়ার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করতেও নিষেধ করেছেন। তিনি তার নবী (সঃ) ও মুমিন বান্দাগণকে আদেশ দিয়ে বলেছেন,

“অতএব তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ, সেইভাবে সুদৃঢ় থাক এবং সেই লোকেরাও যারা (কুফরি হতে) তওবা করে তোমার সাথে রয়েছে, আর সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় তিনি তোমাদের কার্যকলাপ সম্যকভাবে প্রত্যক্ষ করেন। (সুরা হুদ ১১২ আয়াত)

মহানবী (সঃ) বলেছেন, “ তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা থেকে দুরে থাকো। কারণ দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের ধ্বংস করেছে।।” (আহমাদঃ ১৮৫৪, ইবনে মাজাহ ৩০২৯ নং, হাকেম প্রমুখ)

মহানবী (সঃ) দ্বীনের দাঈদেরকে বলেছেন, “তোমরা সহজ কর, কঠিন কর না। সুসংবাদ দাও, বীতশ্রদ্ধ করো না। পরস্পর মেনে মানিয়ে চল, মতবিরোধ করো না।” (বুখারি ৩০৩৮, মুসলিমঃ ৪৫২৬ নং)

“নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তার উপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দিবে।) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাক এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও।” (বুখারি)

নিজের লোক উপদেশ গ্রহণ না করে যদি পাপে অবিচল থাকে, তাহলে কি তার সাথে পথ চলা যাবে?

নিজের লোক উপদেশ গ্রহণ না করে যদি পাপে অবিচল থাকে, তাহলে কি তার সাথে পথ চলা যাবে?

মন্দ কাজে বাধা দানের তিনটি ধাপ পার হলে তাঁর সাথে পথ চলা বর্জন করতে হবে, যদি মনে হয় যে, তাকে বর্জন করলে সে শিক্ষা ও উপদেশ নেবে। পক্ষান্তরে যদি মনে হয় যে, তাকে বর্জন করলে সে আরও খারাপ হয়ে যাবে, তাহলে বর্জন না করে যথাসাধ্য সংশোধনের চেষ্টা করে যেতে হবে এবং তাকে উপদেশ দেয়ার জন্য এমন দাঈ নির্বাচন করতে হবে, যিনি সম্ভবতঃ কৌশলে তার মনে পরিবর্তন আনতে পারবেন। আর হিদায়াত তো আল্লাহর হাতে। অবশ্য সে সময় তার সাথে বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তা বজায় রাখা চলবে না। (ইবনে বাজ রহঃ)

কিছু অল্প শিক্ষিত আলেম অথবা বাংলা পড়ুয়া আধুনিক শিক্ষিত ফতোয়াবাজি করেন। তাদের এ কাজ কি যথাযথ?

কিছু অল্প শিক্ষিত আলেম অথবা বাংলা পড়ুয়া আধুনিক শিক্ষিত ফতোয়াবাজি করেন। তাদের এ কাজ কি যথাযথ?

অবশ্যই না। ফতোয়া দেওয়ার কাজ সকলের নয়। একমাত্র সঠিকার্থের মুফতী ছাড়া অন্য কেউ ফতোয়া দিতে পারেন না। অবশ্য ফতোয়া নকল করতে পারেন। এছাড়া যে বিষয়ে পূর্বেকার কোন ইমাম বা মুফতীর ফতোয়া নেই, সে বিষয়ে নিজের বুঝ অনুযায়ী হালাল হারাম বলার জন্য মুখ না খোলাই কর্তব্য। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবার জন্য তোমরা বলো  না, ‘এটা হালাল এবং এটা হারাম।’ যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না। (নাহলঃ ১১৬)

 মহানবী (সঃ) বলেছেন, “যাকে বিনা ইলমে ফতোয়া দেওয়া হয়, তার গোনাহ বর্তায় মুফতির উপর।” (আবু দাউদ ৩৬৫৭, হাকেম, সঃ জামে ৬০৬৮ নং

অনেকে সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান না করে বলে, ‘এ সব আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহই দ্বীনের হেফাজত করবেন। আর আল্লাহই তো বলেছেন, “হে মু’মিন গন! তোমাদের আত্নরক্ষা করাই কর্তব্য। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” (মায়িদাহঃ ১০৫) সুতরাং তাদের কথা কি ঠিক?

না। তাদের এ কথা ঠিক না। কারণ আল্লাহর শরয়ী ইচ্ছা, দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে। তিনি দ্বীনের দাওয়াতের মাধ্যমেই দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। আর আয়াতের অর্থ এই নয় যে, ‘আপন বাঁচলে বাপের নাম।’ অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দানের কাজ করতে হবে না। আবু বকর সিদ্দীকি (রঃ) বলেন,

কোন আপত্তিকর কাজ যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপত্তি কিভাবে সম্ভব?

যে কাজে বিতর্ক ও উলামাদের মতভেদ আছে, সে কাজে বাধা দেওয়া বা আপত্তি করার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, তা ইজতিহাদি কি না? অর্থাৎ তাতে মতভেদ স্বাভাবিক কি না? উভয় পক্ষের দলীল সমপর্যায়ের কি না? তা হলে আপত্তি করা যাবে না। যেমনঃ যদি কেউ ডবল শব্দে ইকামত দেয়, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে বুকে হাত না বাঁধে, সিজদায় হাঁটু আগে বাড়ায়, রুকু পেলে রাকআত গণ্য না করে, তাহলে তাতে আপত্তি করা ঠিক নয়। অবশ্য

হাত দ্বারা আপত্তি করার অধিকার ও কর্তব্য কার আছে?

যার ক্ষমতা আছে তাঁর। যেমন শাসন কর্তৃপক্ষ, বাড়ির মুরব্বী, স্বামী, বাপ প্রভৃতি।
সুতরাং যার ক্ষমতা নেই অথবা ক্ষমতা আছে, কিন্তু তা প্রয়োগ করলে ফিতনা বা মারামারি হওয়ার আশঙ্কা আছে অথবা অপেক্ষাকৃত বড় নোংরা সংঘটিত হওয়ার ভয় আছে, তাহলে তা প্রয়োগ করা যাবে না। (ইবনে বাজ)

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন খারাপ কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা ।” অন্তর দ্বারা আপত্তি ও পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব?

সে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা সেই কাজকে ঘৃণা করবে এবং সেই সাথে তাঁর কাজীর সংস্রব বর্জন করবে। যেহেতু আপত্তি  না জানিয়ে তাঁর সাথে স্বাভাবিক ভাবে উঠা বসা করা বনী ইসরাইল দের কর্মের শামিল হয়ে যাবে। যাদের মহান আল্লাহ বলেছেন,
“ বনী ইসরাইলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল, তারা দাউদ ও মারয়্যাম তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা যেসব খারাপ কাজ করত, তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত, নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।” (মায়িদাহঃ ৭৮-৭৯)

আমি যে কাজ নিজে করতে পরি না, তা অপরকে করতে কি আদেশ করতে পারি? যে কাজ নিজে বর্জন করতে পারি না, তা অপরকে বর্জন করতে আদেশ করতে কি পারি?

মহান আল্লাহ বলেন,
“কি আশ্চর্য! তোমরা নিজেদের বিস্মৃত হয়ে মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, অথচ তোমরা কিতাব (গ্রন্থ) অধ্যায়ন কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?” (বাকারাহঃ ৪৪)
রাসুল (সঃ) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হওয়ে যাবে এবং সে তাঁর চারপাশে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন

আমি একজন ধার্মিক মহিলা। আমার বাড়ি বা প্রতিবেশীতে যে সকল আপত্তিকর কর্ম ঘটে, তাতে বাধা দিলে লোকে আমাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করে। গান বাজনা শুনতে, গীবত চর্চা করতে নিষেধ করলে আমাকে অনেকে ‘সেকেলে’ মেয়ে বলে। এ ক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?

আপনার জন্য ওয়াজেব এই যে, আপনি উত্তম কথা ও ভঙ্গিমার মাধ্যমে নম্রতা ও ভদ্রতার সাথে গোনাহর কাজে আপত্তি জানাবেন। পারলে দলীল উল্লেখ করে উপদেশ দেবেন। তাঁরা গ্রহণ করুক চাই না করুক, আপনি তাঁদের গোনাহে শরিক হবেন না। তাঁদের গীবত ও গান বাজনার মজলিসে বসবেন না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“তুমি যখন দেখ, তাঁরা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি

বড়দেরকে গীবত ইত্যাদি আপত্তিকর কর্মে লিপ্ত দেখে বাধা দিলে তাঁরা রেগে ওঠেন। বিশেষ করে পিতামাতা হলে তাঁদের রাগ কি আমার জন্য ক্ষতিকর হবে?

অবশ্যই না। তবে বড়দের সঙ্গে আদব বজায় রেখে হিকমতের সাথে অসৎ কর্মে বাধা দিতে হবে। আর কেউ রাগলে তাঁর রাগের উপর ধৈর্য ধারণ করতে হবে। লুকমান হাকিম তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, ‘হে বৎস ! যথারীতি নামায পড়, সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজে বাধা দান কর এবং আপদে বিপদে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এটিই দৃঢ় সংকল্প কাজ। (লুকমানঃ ১৭)

রোজাদার ব্যক্তি ভুল করে পানাহার করলে আল্লাহই তাকে খাওয়ান এবং তাঁর রোজাও শুদ্ধ। কিন্তু যে ব্যক্তি তাকে পানাহার করতে দেখবে, সে কি তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে পানাহারে বাধা দেবে? নাকি আল্লাহ খাওয়াচ্ছেন বলে তাকে খাওয়ার সুযোগ দেবে?

যে ব্যক্তি রোজাদার ব্যক্তিকে পানাহার করতে দেখবে, তাঁর জন্য ওয়াজেব তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। যেহেতু সে ভুলে পানাহার করেছে। আর রোজা অবস্থায় পানাহার হারাম। অনুরূপ রোজাদারের উচিৎ, স্মরণ হওয়া মাত্র সাথে সাথে মুখ থেকে খাবার ফেলে দেওয়া। (ইবনে উসাইমিন)

বহু মানুষ আছে, যারা চোখের সামনে খারাপ কাজ হতে দেখেও বাধা দেয় না। পরন্ত যারা সে কাজ করে, তাদের সাথে ভাল সম্পর্কও রাখে, উঠা বসা করে, সহবস্থান করে। মন চটে যাওয়ার ভয়ে তাদের কাজে কোন প্রকার আপত্তি জানায় না। জানি না, তাদের মনে ঘৃণা আছে কি না। আর ঘৃণা থাকলেও কি কোন কাজে দেবে? এর শ্রেণীর লোকেদের ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কি?

এই শ্রেণীর লোকেরা আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ) এর অবাধ্য। এদের ইমান সবচেয়ে দুর্বল। তাদের হৃদয়ে আছে বিপদজনক ব্যাধি। তারা বিলম্বে অথবা অবিলম্বে আল্লাহর শাস্তি বা আজাবের উপযুক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (নিসাঃ ১৪০)

তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যাঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দুরে সরে পড়,

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ