Showing posts with label জামায়াত ও মাজহাব. Show all posts
Showing posts with label জামায়াত ও মাজহাব. Show all posts

Sunday, October 22, 2017

মহান আল্লাহ যে জিনিসকে হালাল করেছেন, তা হারাম এবং যে জিনিসকে হারাম করেছেন, তা হালাল করার ব্যপারে কোন ইমাম, আলেম বা সরকারের অনুগত্য করা কী?

এই শ্রেণীর অনুগত্য তিন ভাবে হতে পারেঃ-
(ক) আল্লাহ্‌র বিধানে অসন্তোষ প্রকাশ করে অথবা তা অপছন্দ করে গায়রুল্লাহর বিধানকে পছন্দ করে তাঁর অনুগত্য করা। এর ফলে মুসলিম ‘কাফের’ হয়ে যায়। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
“এটা এ জন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তাঁরা তা অপছন্দ করে। সুতরাং আল্লাহ তাঁদের কর্মসমূহ নিষ্ফল করে দেবেন। (মুহাম্মাদঃ ৯) আর এ কথা বিদিত যে, একমাত্র কাফেরদেরই যাবতীয় আমল নিষ্ফল করা হয়।
(খ) গায়রুল্লাহর বিধানের অনুগত্য করা। তবে এ কথা মনে প্রানে বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ্‌র বিধানই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং মানুষের জন্য অধিক কল্যাণকর। কিন্তু কোন কুপ্রবৃত্তিবশে, কোন লোভ বা লাভের খাতিরে গায়রুল্লাহর বিধানের অনুগত্য করা। এ অনুগত্যে মুসলিম কাফের হবে না। যেহেতু শে আল্লাহ্‌র বিধানকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে না। বরং স্বার্থবশে তা পালন করে না। সুতরাং তাকে ফাসেক বলা যাবে।
(গ) না জেনে গায়রুল্লাহর বিধানের অনুগত্য করা। অথবা সে মনে করে যে, সেটাই আল্লাহ্‌র বিধান। এ ক্ষেত্রে দুই অবস্থা হতে পারেঃ-
একঃ তাঁর পক্ষে আল্লাহ্‌র বিধান জানা সম্ভব। কিন্তু সে জানার চেষ্টা করে না। অথচ মহান আল্লাহ অজানা বিধান উলামার নিকট জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
“তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদের জ্ঞিজ্ঞাসা কর;” (নাহলঃ ৪৩, আম্বিয়ামঃ ৭) এ অবস্থায় সে গোনাহগার হবে।
দুইঃ তাঁর পক্ষে আল্লাহ্‌র বিধান জানা সম্ভব নয়। সুতরাং সে কোন আলেম, নেতা বা সরকারের অন্ধানুকরন করে। এমতবস্থায় তাঁর কোন অপরাধ হবে না। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন,
“যে ব্যক্তিকে বিনা ইলমে (ভুল) ফতোয়া দেওয়া হয়, তাঁর পাপ বর্তে মুফতীর উপর।” ৭৭ ( আবু দাঊদ ৩৬৫৭, ইবনে মাজাহ ৫৭, দারেমী ১৫৯ নং)
এ অবস্থায় যদি অন্ধঅনুকরণকারীর অপরাধ গণ্য করা হয়, তাহলে তাতে বড় সমস্যা দেখা দেবে এবং ভুলের আশংকায় কেউ কেউ আলেমের কথায় ভরসাই রাখবে না। ৭৮ (ইবনে ঊষাইমীন)

দ্বীনে মধ্যমপন্থা কী?

দ্বীনে মধ্যমপন্থা কী?

দ্বীন মানতে কিছু লোক চরমপন্থি আছে, কিছু আছে নরম ও ঢিলেপন্থী এবং কিছু আছে মধ্যমপন্থী। কেও দ্বীন ও ইবাদত এর ক্ষত্রে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন করে, সহজটাকে কঠিন করে এবং কেও একেবারে ঢিলেমি করে, অবজ্ঞা ও অবহেলা করে এবং কঠিনটাকে সহজ মনে করে। অথচ প্রত্যেক জিনিসের মাঝামাঝিটাই ঠিক।
আমাদের দ্বীনই হল মধ্যমপন্থী। তাতে অতিরঞ্জন নেই। মহানবী (সঃ) ও তাঁর সাহাবাবর্গের পথই হল মধ্যমপন্থা। মহানবী (সঃ)-এর তরীকাই হল মাঝামাঝি আচরণ।
আনাস (রঃ) বলেন যে, তিন ব্যাক্তি নবী (সঃ)-এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী (সঃ)-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর যখন তাঁদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হল তখন তাঁরা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন, “তোমাদের সঙ্গে নবী (সঃ)-এর তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু তোমাদের তাঁর চেয়ে বেশি ইবাদত করা প্রয়োজন)”। সুতরাং তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, “ আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়ব।” দ্বিতীয়জন বললেন, “আমি সারা জীবন রোযা রাখব, কখনো রোযা ছাড়ব না।” তৃতীয়জন বললেন, “আমি নারী থেকে দূরে থাকব, জীবনভর বিয়েই করব না।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা এই এই কথা বলেছ? শোনো! আল্লাহ্‌র কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করি, তাঁর ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশি রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখি এবং রোযা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” ৭০ (বুখারী-মুসলিম)

সুতরাং তাঁর তরীকাতেই আছে মধ্যমপন্থী আচরণ। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যাক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তাঁর উপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দেবে।) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাক এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও।” ৭৫ (বুখারী)
বুখারির অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তোমরা সরল পথে থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, সকাল-সন্ধায় চল (ইবাদত কর) এবং রাতের কিছু অংশে। আর তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, তাহলেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাবে।”

যারা ঢিলাপন্থী, তাঁরা সুন্নতের উপর আমল করে না, নফল আদায় করতে সচেষ্ট হয় না, বরং অনেক সময় ফরয আদায়েও শৈথিল্য করে।

উদাহারন স্বরূপঃ-
(ক) একটি লোক ফাসেক (পাপাচার), সে কবীরা গোনাহ করে, কিন্তু নামায পড়ে এবং শিরক করে না। চরমপন্থি বলে, “আমি তাঁকে সালাম করব না, তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব। তাঁর সাথে কথা বলব না।”
নরমপন্থী বলে, “পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। আমি তাঁকে সালাম করব, তাঁর সাথে সুসম্পর্ক রাখব, তাঁর সাথে হেসে-খেলে উঠাবসা করব।”
আর মধ্যমপন্থী বলে, “আমি তাঁর পাপের জন্য তাঁকে ঘৃণা করব এবং ঈমানের জন্য ভালোবাসব। তাঁকে বর্জন করায় যদি কোন উপকার থাকে, তাহলে তাঁকে বর্জন করব।”
(খ) চরমপন্থী লোক স্ত্রীকে চরণের দাসী মনে করে। নরমপন্থী তাঁকে নিজের প্রভু মনে করে, বানরের মত তাঁর কোথায় উঠ-বস করে। আর মধ্যমপন্থী তাঁকে বন্ধু মনে করে। সে জানে, “ নারীদের তেমন ন্যায়-সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাঁদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (বাকারাহঃ ২২৮)
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “কোন ইমানদার পুরুষ যেন কোন ইমানদার নারী (স্ত্রীকে) ঘৃনা না করে। যদি সে তাঁর একটি আচরণে অসন্তষ্ট হয়, তবে অন্য আচরণে সন্তষ্ট হবে।” ৭৬ (মুসলিম)

বিতর্কিত সমস্যায় কার সমাধান গ্রহণ করব?

বিতর্কিত সমস্যায় কার সমাধান গ্রহণ করব?

কোন বিষয়ে মতভেদ থাকলে অথবা একই সময়ে দুই আলেমের ভিন্নমুখী ফতোয়া হলে তাঁর ফতোয়া গ্রহণ করতে হবে যার ফতোয়া কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বেশি নিকটবর্তী মনে করেন। যাকে ইলম ও তাকওয়া বেশি বড় মনে হয়। যেমন একই রোগের দুই ডাক্তারের দুই রকম চিকিৎসা পদ্ধতি ও রায় শোনেন, তাহলে যাকে আপনি বড় ও অভিজ্ঞ ডাক্তার মনে করেন, তাঁর চিকিৎসা ও পথ্য গ্রহণ করবেন।
যদি তুলনা করার উপায় না থাকে, তাহলে যার ফতোয়া মানার দিক থেকে সহজ, তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী আমল করবেন। যেহেতু দ্বীন সহজ। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তিনি তোমাদের কষ্ট চান না। (বাকারাহঃ১৮৫)
“আল্লাহ তোমাদেরকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে চান না।” ( মায়িদাহঃ ৬)
“তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিনটা আরোপ করেননি।” (হাজ্জঃ ৭৮)

আর মহানবী (সঃ) বলেছেন, “সহজ কর, কঠিন করো না।”
আবারও বলি যে, এ হল সাধারণ মানুষের জন্য, যারা নিজে দলীল যাচাই-বাছাই করতে পারে না এবং দুই আলেমের মধ্যে পাথক্য নির্ণয়ও করতে পারে না। পক্ষান্তরে যাদের সে ক্ষমতা আছে [দলিল যাচায় বাছায় করা, পার্থক্য নির্ণয় করার], তাঁদের জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে সঠিক সমাধান জেনে নেওয়া জরুরী।  (ইবনে উষাইমীন)

Tuesday, October 17, 2017

মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কিভাবে করা যাবে?

মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কিভাবে করা যাবে?

কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ হবে অস্ত্র শস্ত্রের মাধ্যমে। কিন্তু মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ হবে ইলম ও বয়ানের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ বলেন, “হে নবী! তুমি কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম এবং তা কত নিকৃষ্ট ঠিকানা। (তাওবাহঃ ৭৩, তাহরীমঃ ৯)

মহানবী (সঃ) মুনাফিকদের জানা চেনা স্বত্বেও তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রয়োগ করেননি। কারণ তা করা হলে কাফেররা বলতো যে, মুহাম্মাদ নিজের সঙ্গী সাথীদের হত্যা করেছে।

সুফী পন্থি মুসলিম কি হক পন্থি? ‘সুফী’ কেন বলা হয়?

সুফী পন্থি মুসলিম কি হক পন্থি? ‘সুফী’ কেন বলা হয়?

সুফীপন্থিরা হকপন্থি নয়। কারন তাদের আকিদাহ সহিহ নয়। তাদের আকিদা ও আমল, দুয়া ও দুরদ শিরক ও বিদআতে  ভর্তি। তাদের অনেকের দাবি যে, মসজিদে নববিতে মহানবী (সঃ) এর খিদমতে যে সকল সাহাবা আসহাবে সুফফাহ নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন, তাদের প্রতি সম্পর্ক জুড়েই ‘সুফী’ বলা হয়। কিন্তু এ কথা ঠিক নয় কারণ তা হলে তাদেরকে ‘সুফী’ না বলে ‘সুফফি’ বলা হত। কেউ বলেছে, সাফওয়াহ’র  দিকে সমৃদ্ধ করে ‘সুফী’ বলা হয়। এ কথাও ঠিক নয়। কারণ তা হলে তাদেরকে ‘সুফী’ না বলে ‘সাফাবি’ বলা হত। তাছাড়া তাদের হৃদয় মন সাফ নয় বরং শিরক ও বিদআতে পরিপূরণ। সঠিক কথা এই যে, তারা যে লেবাস পরত, সাধারনতঃ তা ‘সুফ’ দ্বারা তৈরি হত। এক জন্য সেই দিকে সম্বন্ধ করে তাদেরকে ‘সুফী’ বলা হয়। ভাষাগত ভাবে এটাই সঠিক। (লাজনাহে দায়েমাহ)

ধর্ম নিরপেক্ষ বাদী কি মুসলিম থাকতে পারে?

ধর্ম নিরপেক্ষ বাদী কি মুসলিম থাকতে পারে?

উক্ত প্রশ্নটি ‘নির্দল কি কমিউনিস্ট পার্টির লোক’ - এর মতো। যে নির্দল, সে কোন দলের হতে পারে না। অবশ্য নির্দল কোন নির্দিষ্ট দল হলে হতে পারে। অনুরূপ ধর্ম নিরপেক্ষ বা ধর্মহীন যে,  সে মুসলিম থাকতে পারে না। বরং কোন ধর্মেরই হতে পারে না। তবে ধর্মহীন মানবতাবাদী হতে পারে। এ হল আসল অর্থে। অবশ্য যদি কেউ ইসলামে বিশ্বাস রেখে ‘রাজনীতিতে ধর্মের স্থান নেই’ বলে, তাহলে তার বিধান ভিন্ন। কিন্তু সে যদি ‘সব ধর্ম সমান’ বলে, তাহলে সে মুসলিম থাকতে পারে না। কারন মহান আল্লাহ বলেন,

“নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট (একমাত্র মনোনীত) ধর্ম।” (আলে ইমরানঃ ১৯)

যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম অন্বেষণ করবে, তার পক্ষ হতে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর সে হবে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত । (আলে ইমরানঃ ৮৫)

শতধা বিচ্ছিন্ন দলে দলে বিভক্ত মুসলিম সমাজে নব আলোকপ্রাপ্ত মুসলিম বা নও মুসলিমরা কোন দলে সামিল হবে?

শতধা বিচ্ছিন্ন দলে দলে বিভক্ত মুসলিম সমাজে নব আলোকপ্রাপ্ত মুসলিম বা নও মুসলিমরা কোন দলে সামিল হবে?

মহানবী (সঃ) বলেছেন, “ইয়াহুদি একাত্তর দলে এবং খ্রিস্টান বাহাত্তর দলে দ্বিধা বিভক্ত হয়েছে। আর এই উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। যার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব কটি জাহান্নামে যাবে।” অতঃপর ওই একটি দল প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন, “তারা হল জামাআত, যে জামাআত আমি ও আমার সাহাবা যে মতাদর্শের উপর আছি তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।” (সুনান আরবাআহ, মিশকাত ১৭১-১৭২। সিলসিলাহ সহিহাহ ২০৩, ১৪৯২ নং)

সুতরাং নব আলোকপ্রাপ্ত মুসলিম বা নও মুসলিমরা সেই দলে বা জামাআতে শামিল হবে, যে দলে নবী (সঃ) ও তার সাহাবাদের মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে। সব দলের দাবি একই হলে, জ্ঞান ও বিবেককে কাজে লাগিয়ে সঠিক দল অনুসন্ধান করা ওয়াজেব। যে দল সবার কথার উপর নবী (সঃ) এর কথাকে প্রাধান্য দেয়, যে দল কোন মাজহাবী তাকলিদে ফাঁসে না, কোন বুজুর্গের তাজিম ও তাকলিদে বাড়াবাড়ি করে না, সে দল কোন বিদআত ও বিদআতিকে প্রশ্রয় দেয় না, যে দল কোন শিরকের মৌন সমর্থনও করে না, যে দল গদির লোভে পাশ্চাত্য রাজনীতির গড্ডালিকা স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয় না, যে দল কিতাব ও সহিহ সুন্নাহর উপর আমল করে, কোন জাল জইফ হাদিসকে ভিত্তি করে  আমল করে না ইত্যাদি। আর নিদর্শন আছে সেই হক পন্থি দলের, জ্ঞানী ও উদার মানুষের তা চিনতে ভুল হয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“ যারা তাগুতের পূজা হতে দুরে থাকে এবং আল্লাহর অনুরাগী হয়, তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার দাসদেরকে--- যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং যা উত্তম তারই অনুসরণ করে। ওরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান।” (সূরা জুমার ১৭-১৮ আয়াত)

দ্বীনের বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ইমাম বা আলেমের ‘তাকালিদ' অন্ধানুকরন করা বৈধ কি?

দ্বীনের বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ইমাম বা আলেমের ‘তাকালিদ' অন্ধানুকরন করা বৈধ কি?

দ্বীনের বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ইমাম বা আলেমের 'তাকালিদ' অন্ধানুকরন করা বৈধ নয়। যারা বলেন, চার মাজহাবের মধ্যে কোন এক মাজহাবের তাকালিদ করা ফরয, তাঁদের নিকট ‘ইজম’ ছাড়া কোন দলীল নেই। অথচ এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ‘ইজম’ (ঐকমত্য) হয়নি। পড়ন্ত আয়েম্মায়ে আরবাআহ তাঁদের তাকালিদ করতে নিষেধ করে গেছেন এবং প্রত্যকেই বলেছেন, “সহিহ হাদিস হলে, সেটাই আমার মাজহাব। তাঁরা নিজেরও কারও তাকালিদ করেননি। ইমাম শাফেয়ী ইমাম মালেকের ছাত্র, তিনি নিজ ওস্তাদের তাকালিদ করেননি।  ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ইমাম শাফেয়ীর ছাত্র, তিনিও নিজ ওস্তাদের তাকালিদ করেননি। যেহেতু সঠিকার্থে তাকালিদ করতে হলে একমাত্র মহানবী (সঃ) এরই করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“যে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রাসুল ও তোমাদের নেতৃবর্গ (ও উলামা) দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর । (নিসাঃ ৫৯)

তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন --- ওর মীগোশতা তো আল্লাহরই নিকট। (শূরাঃ ১০ )

তবে তাকালিদ বৈধ নয় বলেই যে সকলেই মুজতাহিদ হয়ে যাবে, তা নয়। যে মুজতাহিদ হতে পারবে না, সে মুজতাহিদ উলামাগনের ইত্তিবা করবে। যার মত কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর কাছাকাছি হবে, তার মতকে মেনে নেব। কোন নির্দিষ্ট আলেম বা ইমামের ইত্তিবা করবে না। প্রত্যেক ইমামের ফিকাহ থেকে উপকৃত হবে তালেব ইলম। যারা ফিকাহ সহিহ হাদিসের অনুসারী তারই ফিকাহকে গ্রহণ করে নেবে। যাদের ফিকাহ সহিহ হাদিস বিরোধী হবে, তাঁদের কোন অজুহাত অবশ্যই আছে। সুতরাং তাঁদের এবং সকল আহলে সুন্নাহর ইমামের নাম উল্লেখের সময় ‘রাহিমাহুল্লাহ’ বলবে। তাঁদের প্রতি কোন কুমন্তব্য করবে না। এরাই তো তাঁরা, যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,

“যারা তাগুতের পূজা  হতে দুরে থাক  এবং আল্লাহর অনুরাগী হয়, তাঁদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার দাসদেরকে --- যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং উত্তম তার অনুসরণ করে। ওরাই তাঁরা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান।”  (জুমারঃ ১৭-১৮)

http://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=2305

Friday, October 6, 2017

শতধা বিচ্ছিন্ন দলে দলে বিভক্ত মুসলিম সমাজে নব আলোকপ্রাপ্ত মুসলিম বা নও মুসলিমরা কোন দলে সামিল হবে?

শতধা বিচ্ছিন্ন দলে দলে বিভক্ত মুসলিম সমাজে নব আলোকপ্রাপ্ত মুসলিম বা নও মুসলিমরা কোন দলে সামিল হবে?


মহানবী (সঃ) বলেছেন, “ইয়াহুদি একাত্তর দলে এবং খ্রিস্টান বাহাত্তর দলে দ্বিধা বিভক্ত হয়েছে। আর এই উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। যার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব কটি জাহান্নামে যাবে।” অতঃপর ওই একটি দল প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন, “তারা হল জামাআত, যে জামাআত আমি ও আমার সাহাবা যে মতাদর্শের উপর আছি তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।” (সুনান আরবাআহ, মিশকাত ১৭১-১৭২। সিলসিলাহ সহিহাহ ২০৩, ১৪৯২ নং)
সুতরাং নব আলোকপ্রাপ্ত মুসলিম বা নও মুসলিমরা সেই দলে বা জামাআতে শামিল হবে, যে দলে নবী (সঃ) ও তার সাহাবাদের মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে। সব দলের দাবি একই হলে, জ্ঞান ও বিবেককে কাজে লাগিয়ে সঠিক দল অনুসন্ধান করা ওয়াজেব। যে দল সবার কথার উপর নবী (সঃ) এর কথাকে প্রাধান্য দেয়, যে দল কোন মাজহাবী তাকলিদে ফাঁসে না, কোন বুজুর্গের তাজিম ও তাকলিদে বাড়াবাড়ি করে না, সে দল কোন বিদআত ও বিদআতিকে প্রশ্রয় দেয় না, যে দল কোন শিরকের মৌন সমর্থনও করে না, যে দল গদির লোভে পাশ্চাত্য রাজনীতির গড্ডালিকা স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয় না, যে দল কিতাব ও সহিহ সুন্নাহর উপর আমল করে, কোন জাল জইফ হাদিসকে ভিত্তি করে  আমল করে না ইত্যাদি। আর নিদর্শন আছে সেই হক পন্থি দলের, জ্ঞানী ও উদার মানুষের তা চিনতে ভুল হয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“ যারা তাগুতের পূজা হতে দুরে থাকে এবং আল্লাহর অনুরাগী হয়, তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার দাসদেরকে--- যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং যা উত্তম তারই অনুসরণ করে। ওরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান।” (সূরা জুমার ১৭-১৮ আয়াত)

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ