Friday, October 13, 2017

ইদ্দত যদি মহিলার গর্ভে সন্তান আছে কি না, তা দেখার জন্য হয়, তাহলে স্বামী ছেড়ে এক দেড় বছর মায়ের বাড়িতে থাকার পর যে মহিলাকে স্বামী তালাক দেয়, তাঁকেও কি অতিরিক্ত তিন মাসিক অথবা মাসিক না হলে তিন মাস ইদ্দত পালন করতে হবে?

ইদ্দত যদি মহিলার গর্ভে সন্তান আছে কি না, তা দেখার জন্য হয়, তাহলে স্বামী ছেড়ে এক দেড় বছর মায়ের বাড়িতে থাকার পর যে মহিলাকে স্বামী তালাক দেয়, তাঁকেও কি অতিরিক্ত তিন মাসিক অথবা মাসিক না হলে তিন মাস ইদ্দত পালন করতে হবে?

আসলে ইদ্দত শুরু হবে তালাকের পর থেকে। ইতিপূর্বে সে স্বামীর সাথে বহু দিন যাবৎ মিলন না করে থাকলেও বিধান এটাই যে, তালাক হওয়ার পর নির্ধারিত ইদ্দত পালন করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“”তালাকপ্রাপ্তা (বর্জিতা) নারীগণ তিন রজঃস্রাব কাল প্রতীক্ষায় থাকবে। (অর্থাৎ বিবাহ করা থেকে বিরত থাকবে) (বাকারাহঃ ২২৮)

বিবাহের পর স্বামীর সাথে বাসর বা মিলন হওয়ার আগেই যদি স্বামী মারা যায়, তাহলে কি ইদ্দত পালন করতে হবে? ঐ স্ত্রী কি তার ওয়ারেস হবে?

বিবাহের পর স্বামীর সাথে বাসর বা মিলন হওয়ার আগেই যদি স্বামী মারা যায়, তাহলে কি ইদ্দত পালন করতে হবে? ঐ স্ত্রী কি তার ওয়ারেস হবে?

হ্যাঁ, ঐ স্ত্রীকে ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগন চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে।” (বাকারাহঃ ২৩৪)

এখানে মহান আল্লাহ আমভাবে সকল স্ত্রীর প্রতিই একই নির্দেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) বলেছেন, “যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।” ৬০২ (বুখারী ও মুসলিম)

এখানে মহানবী (সঃ) আমভাবে সকল স্ত্রীর প্রতিই একই নির্দেশ দিয়েছেন। অনুরূপ মীরাসের আয়াতেও আম নির্দেশ আছে। সুতরাং সে স্বামীর (এক চতুর্থাংশ সম্পত্তির) ওয়ারেশ হবে; যদি অন্য কোন বাধা না থাকে। ৬০৩ (ইবনে বায)

গ্রন্থঃ দ্বীনী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য


গর্ভস্থ ভ্রুন যদি গর্ভচ্যুত হয়, তাহলে কি গর্ভবতীর ইদ্দতকাল শেষ হয়ে যাবে?

ভ্রুন ভূমিষ্ঠ হলেই গর্ভবতীর ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে। (সাদী) যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “ গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।” (ত্বালাক্বঃ ৪)

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্বামী হটাৎ মারা যায়। ঐ স্ত্রীকে কি ইদ্দত পালন করতে হবে? ঐ স্ত্রী কি তার ওয়ারেস হবে?

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্বামী হটাৎ মারা যায়। ঐ স্ত্রীকে কি ইদ্দত পালন করতে হবে? ঐ স্ত্রী কি তার ওয়ারেস হবে?

যে তালাকে স্ত্রী প্রত্যনয়ণযোগ্য থাকে সেই (রজয়ী) তালাক পাওয়া অবস্থায় স্ত্রীকে শোকপালনের ইদ্দত পালন করতে হবে এবং স্বামীর ওয়ারেসও হবে। কারণ পূর্বেই মতোই। পক্ষান্তরে বায়েন বা খোলা তালাক পাওয়ার ইদ্দতে অথবা ফাসখের ইদ্দতে থাকলে স্ত্রীকে শোকপালনের ইদ্দত পালন করতে হবে না এবং সে স্বামীর ওয়ারেসও হবে না। ৬০১ (ইবনে উষাইমীন)

কোন পড়ুয়া ছাত্রীর স্বামী মারা গেলে সে কীভাবে ইদ্দত পালন করবে? তার কি বিদ্যালয়ে যাওয়া বৈধ হবে?

কোন পড়ুয়া ছাত্রীর স্বামী মারা গেলে সে কীভাবে ইদ্দত পালন করবে? তার কি বিদ্যালয়ে যাওয়া বৈধ হবে?

অন্যান্য মহিলাদের মতো তার জন্যও স্বগৃহে ইদ্দত পালন করা তাতে সকল প্রকার সৌন্দর্য ও সুগন্ধি বর্জন করা জরুরী। অবশ্য নিজের একান্ত প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারে। সুতরাং দিনের বেলায় সে বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করে আসতে পারে। ৬০০ (লাজনাহ দায়েমাহ)

অবশ্য ইদ্দতের ভিতরে হজ্জ সফরে যেতে পারে

স্বামী মারা গেলে মহিলা কোথায় ইদ্দত পালন করবে?

স্বামী মারা গেলে মহিলা কোথায় ইদ্দত পালন করবে?


যে গৃহ থেকে স্বামী মরার খবর পাবে, সেই গৃহ তার জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক হলে সেখানে ৪ মাস ১০ দিন অথবা গর্ভকাল ইদ্দত পালন করবে। মহানবী (সঃ) ফুরাইআহকে বলেছিলেন,
“তুমি সেই গৃহে অবস্থান কর, যে গৃহে তোমার কাছে তোমার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ এসেছে।” ৫৯৯ (আহমাদ ৬/৩৭০, ইবনে মাজাহ ২০৩১, হাকেম ২/২২৬, ত্বাবারানীর কাবীর ১০৮৪ নং, বাইহাক্বী ৭/ ৪৩৪)
সুতরাং সে যদি সেই সময় স্ত্রীর মায়ের বাড়িতে থাকে এবং শ্বশুরবাড়ি অপেক্ষা সেই বাড়ি সুবিধাজনক ও নিরাপদ হয়, তাহলে

তালাক ও শোক পালনের ইদ্দত কখন থেকে শুরু হবে? খবর জানার পর থেকে, নাকি তালাক ও মরনের দিন থেকে?

তালাক ও শোক পালনের ইদ্দত কখন থেকে শুরু হবে? খবর জানার পর থেকে, নাকি তালাক ও মরনের দিন থেকে?


তালাক ও শোক পালনের ইদ্দত খবর জানার পর থেকে নয়, বরং তালাক ও মরনের দিন থেকে গণ্য হবে। সুতরাং যদি কোন মহিলা তিন মাসিকের পর খবর পায় যে, তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে, তাহলে নতুন করে সে আর ইদ্দত পালন করবে না। অনুরূপ যদি কোন মহিলা ৪ মাস ১০ দিন পর জানতে পারে যে, তার স্বামী মারা গেছে, তাহলে তাকে আর ইদ্দত পালন করতে হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, তালাকের ইদ্দত অন্য মহিলাদের জন্য ভিন্ন রকম।

“তোমাদের যেসব স্ত্রীদের মাসিক হবার আশা নেই, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যাঁদের এখনো মাসিক হয়নি তাঁদেরও। আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।” (ত্বালাক্বঃ ৪)
যেমন শোকপালনের ইদ্দতও গর্ভকাল পর্যন্ত।

স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তাদের সন্তান কার নিকট থাকবে?

স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তাদের সন্তান কার নিকট থাকবে?


মহানবী (সঃ) বলেছেন, “পূর্ণবিবাহ না হওয়া পর্যন্ত মহিলা তার সন্তানের বেশী হকদার।” ৫৯৭ (দারাকুত্বনী ৪১৮ নং, সিসঃ ৩৬৮ নং) অবশ্য মায়ের মধ্যে কোন প্রতিকূল গুণ থাকলে আলাদা কথা। সেক্ষেত্রে বাপই সন্তানের অধিকার পাবে। যেমন মায়ের হাতে সন্তান থাকলে খারাপ হয়ে যাবে--- এই আশঙ্কা থাকলে সে সন্তানের অধিকার হারাবে। পড়ন্ত সন্তান যদি জ্ঞান সম্পন্ন হয়, তাহলে তাকে এখতিয়ার দেওয়া হবে। সে যাকে বেছে নেবে, সেই তার প্রতিপালনের দায়িত্ব পাবে। ৫৯৮ (তিরমিযী ১৩৫৭, ইবনে মাজাহ ২৩৫১ নং)

রজয়ী তালাক দিয়ে ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় স্ত্রী যদি ফিরতে না চায়, তাহলেও কি সে স্ত্রী থাকবে?

রজয়ী তালাক দিয়ে ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় স্ত্রী যদি ফিরতে না চায়, তাহলেও কি সে স্ত্রী থাকবে?

রজয়ী তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে দু’জনকে সাক্ষী রেখে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলে সে স্ত্রীই থাকবে, যদিও সে ফিরতে রাজী না হয়।৫৯৬ (লাজনাহ দায়েমাহ) তালাকের পর এমন স্বামীর সাথে স্ত্রী সংসার করতে না চাইলে খোলা তালাক নিতে পারে।

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পুনরায় ফিরে পেতে চাইলে করণীয় কি?

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পুনরায় ফিরে পেতে চাইলে করণীয় কি?

একই সঙ্গে তিন বা ততোধিক বার অথবা একবার তালাক দিলে তা এক তালাক রজয়ী হয়। তাকে ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। ইদ্দত পার হয়ে গেলে স্ত্রী হারাম হয়ে যায়। তারপরেও তাকে পেতে চাইলে নতুনভাবে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু নিয়মিত তিন তালাক দেওয়ার পর সে সুযোগ আর থাকে না। অবশ্য সে মহিলার অন্যত্র বিবাহ হলে, অতঃপর স্বামী তাকে স্বেচ্ছায় তালাক দিলে অথবা মারা গেলে ইদ্দতের পর আগের স্বামী তাকে পূর্ণবিবাহ করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “ অতঃপর উক্ত স্ত্রীকে যদি সে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তবে সে পর্যন্ত না ঐ স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ করবে, তার পক্ষে সে বৈধ হবে না। অতঃপর ঐ দ্বিতীয় স্বামী যদি তাকে তালাক দেয় এবং যদি উভয় মনে করে যে, তারা আল্লাহ্‌র সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে, তাহলে তাদের (পুনর্বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে) ফিরে আসায় কোন দোষ নেই। এ সব আল্লহর নির্ধারিত সীমারেখা, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ ঐগুলি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।” (বাকারাহঃ ২৩০)

জ্ঞাতব্য যে, এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে ‘হালালা-বিবাহ’ দিয়ে স্ত্রী হালাল করা বৈধ নয়। যেহেতু তাতে স্ত্রী হালাল হয় না।

সতর্কতার বিষয় যে, তালাকের বিষয় যে, তালাকের বিষয়টি সকল ক্ষেত্রে এক রকম নয়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে স্থানীয় কাযীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্ত্রীর মাসিক অবস্থায় তালাক দেওয়া হারাম। কিন্তু কোন সময় মাসিক থাকলেও তালাক দেওয়া যায়?

স্ত্রীর মাসিক অবস্থায় তালাক দেওয়া হারাম। কিন্তু কোন সময় মাসিক থাকলেও তালাক দেওয়া যায়?

তিন সময় মাসিক থাকলেও তালাক দেওয়া যায়।
(১) তার সাথে মিলন না হয়ে থাকলে।
(২) গর্ভাবস্থায় মাসিক অব্যাহত থাকলে।
(৩) খোলা তালাক হলে। ৫৯৪ (বুখারি, মুসলিম)

স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেছে বলে কি প্রথম স্ত্রীর তালাক চাওয়া বৈধ; যদিও বৈধভাবে শরীয়তসম্মত বিবাহ হয়।


স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেছে বলে কি প্রথম স্ত্রীর তালাক চাওয়া বৈধ; যদিও বৈধভাবে শরীয়তসম্মত বিবাহ হয়।

শরীয়তের শর্ত মেনে দুজনকেই সুখী রাখতে পারলে প্রথমার তালাক চাওয়া বৈধ নয়। যেমন দ্বিতীয়ার জন্যও বৈধ নয় প্রথমাকে তালাক দিতে স্বামীকে চাপ দেওয়া।

মহানবী (সঃ) বলেন, “যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে, সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।” ৫৯২ (আবূ দাঊদ ২২২৬, তিরমিযী ১১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫ নং, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩১৬, সহীহুল জামে ২৭০৬ নং)

নবী (সঃ) বলেন, “কোন মহিলা তার বোনের (সতীনের) তালাক চাইবে না; যাতে সে তার পাত্রে যা আছে, তা ঢেলে ফেলে দেয়। (এবং একাই স্বামী প্রেমের অধিকারীনী হয়)” ৫৯৩ (আবূ দাঊদ ২২২৬, তিরমিযী ১১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫ নং, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩১৬, সাহীহুল জামে ২৭০

স্বামী ছয় মাস স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক না রাখলে আপনা আপনি তালাক হয়ে যায় কি?

স্বামী ছয় মাস স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক না রাখলে আপনা আপনি তালাক হয়ে যায় কি?

শরীয়তে আপনা আপনি তালাক বলে কোন কথা নেই। তালাক দিতে হয়, না হয় নিতে হয়। উভয় পক্ষ সম্মত থাকলে ছয় মাস কেন, ছয় বছরও দূরে থাকতে পারে। অবশ্য স্বামী নিখোঁজ হয়ে গেলে, সে কথা ভিন্ন। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে পূর্ণ চার বছর অপেক্ষা করার পর আর চার মাস দশদিন স্বামী মৃত্যুতে ইদ্দত পালন করে স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করতে পারে। ‘লিআন’ হওয়ার পর স্বামী স্ত্রীর মাঝে আপনা আপনি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তদনুরূপ বিবাহ অবৈধ প্রমাণিত হলে, স্বামী স্ত্রীর একজন মুরতাদ হয়ে গেলে সাথে সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। 

আমি স্ত্রীকে বলেছিলাম, ‘তুমি তোমার দোলাভাইয়ের বাড়ী গেলে তোমাকে তালাক।’ অতঃপর সে আমার কথা মানেনি, সে তার দুলাভাইয়ের বাড়ী গেছে। এখন কি তালাক হয়ে যাবে? এখন আমার করণীয় কি?

আমি স্ত্রীকে বলেছিলাম, ‘তুমি তোমার দোলাভাইয়ের বাড়ী গেলে তোমাকে তালাক।’ অতঃপর সে আমার কথা মানেনি, সে তার দুলাভাইয়ের বাড়ী গেছে। এখন কি তালাক হয়ে যাবে? এখন আমার করণীয় কি?

অবাধ্য বউকে বাধ্য করার জন্য তালাকের হুমকি দেওয়া যায়, কিন্তু তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার সংকল্প না থাকলে তালাক দিয়ে ফেলতে হয় না। তবুও নিয়ত যদি জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং তালাক দেওয়ার থাকে, তাহলে তালাক হয়ে যাবে। ইদ্দতের মধ্যে তাকে যথা নিয়মে ফিরিয়ে নিতে হবে। পক্ষান্তরে তাকে কেবল সক্তভাবে বাধা দেওয়ার নিয়ত থাকলে এবং তালাকের নিয়ত আদৌ না থাকলে তালাক হবে না। বরং তার মান হবে কসমের। সে ক্ষেত্রে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে।

গ্রন্থঃ দ্বীনী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য


আমি মায়ের বাড়িতে ছিলাম। স্বামী বলেছিল, ‘আজ তুমি বাড়ী না ফিরলে, তোমাকে তালাক।’ আমি বাড়ী ফিরতে চাইছিলাম। কিন্তু আমার ভাই জেদ ধরে আমাকে ফিরতে দিল না। এখন আমার কি তালাক হয়ে গেছে?

যদি আপনার ভাইয়ের আপনাকে জোরপূর্বক আটকে রাখার কথা সত্য হয়, তাহলে তালাক হবে না। ৫৯১ (মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম) পড়ন্ত স্বামীর মনে তালাকের নিয়ত না থাকলে এবং কেবল তাকীদ উদ্দেশ্য হলে তাকে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে।

কোন স্বামী যদি স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুমি অমুকের বাড়ী গেলে তোমাকে তালাক।’ অতঃপর স্ত্রী তা অমান্য করে অমুকের বাড়ী চলে গেলে তালাক হয়ে যাবে কি?


কোন স্বামী যদি স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুমি অমুকের বাড়ী গেলে তোমাকে তালাক।’ অতঃপর স্ত্রী তা অমান্য করে অমুকের বাড়ী চলে গেলে তালাক হয়ে যাবে কি?

তালাক নির্ভর করছে স্বামীর নিয়তের উপর। স্বামীর উদ্দেশ্যে যদি সত্যই তালাক দেওয়ার থাকে, তাহলে তালাক হয়ে যাবে। তালাকের নিয়ত না থাকলে এবং স্ত্রী যাতে অমুকের বাড়ী না যায়, সে ব্যপারে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে থাকলে তালাক হবে না। তবে সে ক্ষেত্রে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। ৫৯০ (ইবনে জিবরীন)

বিয়ে পড়ানোর পর স্বামী স্ত্রীর দেখা সাক্ষাৎ হওায়ার আগেই যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাহলে স্ত্রী কি মোহর পাওয়ার অধিকার রাখে?

বিয়ে পড়ানোর পর স্বামী স্ত্রীর দেখা সাক্ষাৎ হওায়ার আগেই যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাহলে স্ত্রী কি মোহর পাওয়ার অধিকার রাখে?

মোহর বাধা হলে অর্ধেক মোহর পাবে। বাধা না হলে কিছু খরচ পত্র পাবে। আর তার কোন ইদ্দত নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“ যদি স্পর্শ করবার পূর্বে স্ত্রীদের তালাক দাও, অথচ মোহর পূর্বেই ধার্য করে থাক, তাহলে নির্দিষ্ট মোহরের অর্ধেক আদায় করতে হবে। কিন্তু যদি স্ত্রী অথবা যার হাতে বিবাহ বন্ধন, সে যদি মাফ করে দেয়, (তাহলে আলাদা কথা।) অবশ্য তোমাদের মাফ করে দেওয়াই আত্নসংযমের নিকটতর। তোমরা নিজেদের মধ্যে সহানুভূতি (ও মর্যাদার) কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ তার সাম্যক দ্রষ্টা। (বাকারাহঃ ২৩৭)”

“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বিশ্বাসী রমণীদেরকে বিবাহ করার পর ওদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিলে তোমাদের জন্য তাদের কোন পালনীয় ইদ্দত নেই। সুতরাং তোমরা ওদেরকে কিছু সামগ্রী প্রদান কর এবং সৌজন্যের সাথে ওদেরকে বিদায় কর।” (আহযাবঃ ৪৯)

তালাক স্বামীর হাতে দেওয়া হল কেন? স্ত্রী তালাক নিতে পারে দিতে পারেনা কেন?

তালাক স্বামীর হাতে দেওয়া হল কেন? স্ত্রী তালাক নিতে পারে দিতে পারেনা কেন?

যেহেতু পুরুষ মহিলার তুলনায় জ্ঞানে পাকা, ক্রোধের সময় বেশী ধৈর্যশীল। নচেৎ স্ত্রীর হাতেও তালাক থাকলে সামান্য ঝামেলাতেই সে ‘তোমাকে তালাক’ বলে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে থাকত। যেমন অনেক মহিলা সামান্য কিছু হলেই রেগে বলে বসে, ‘আমাকে তালাক দাও’, ‘আমি তোমার ভাত খাব না’ ইত্যাদি।

স্বামীর নিকট থেকে কখন তালাক নেওয়া বৈধ এবং কখন ওয়াজেব?

স্বামীর নিকট থেকে কখন তালাক নেওয়া বৈধ এবং কখন ওয়াজেব?

যখন স্বামী এমন কাজ করবে, যা কবীরা গোনাহ এবং তা কুফরী নয়, বুঝানোর পরও মানতে চাইবে না, তখন তালাক নেওয়া বৈধ। যেমন ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদি। কিন্তু সে কাজ করার ফলে মানুষ ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়, তার সাথে সংসার করা বৈধ নয়। তউবা না করলে সে ক্ষত্রে তালাক নেওয়া ওয়াজেব। যেমন মাযার যাওয়া, শিরক করা, দ্বীন, আল্লাহ বা তার রাসুলকে গালি দেওয়া, নামায ত্যাগ করা ইত্যাদি। ৫৮৯ (ইবনে উষাইমীন)

যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীকে বলে, ‘আমি তোমার নিকট থেকে আল্লাহ্‌র পানাহ চাচ্ছি’ তাহলে কি তাকে স্ত্রী রূপে রাখা যাবে?

যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীকে বলে, ‘আমি তোমার নিকট থেকে আল্লাহ্‌র পানাহ চাচ্ছি’ তাহলে কি তাকে স্ত্রী রূপে রাখা যাবে?

স্ত্রী যদি স্বামী থেকে আল্লাহ্‌র পানাহ চাইলে আল্লাহর নামের তা’যীম করে তাকে তা দেওয়া ওয়াজেব। মহানবী (সঃ) বলেছেন, “কেউ আল্লহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাকে আশ্রয় দাও। আর যে আল্লাহ্‌র নামে যাঞ্চা  করবে, তাকে দান কর।”(আবূ দাঊদ, নাসাঈ) তার এক স্ত্রী তার নিকট আল্লাহ্‌র পানাহ চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি বিশাল সত্তার পানাহ চেয়েছ। সুতরাং তুমি তোমার মায়ের বাড়ী চলে যাও।’ ৫৮৮ (বুখারী ৫২৫৪ নং)

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে মা বলে ‘যিহার’ করেছে। অতঃপর তাকে তালাক দিয়েছে। তাকে কি ‘যিহারের’ কাফফারা আদায় করতে হবে?

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে মা বলে ‘যিহার’ করেছে। অতঃপর তাকে তালাক দিয়েছে। তাকে কি ‘যিহারের’ কাফফারা আদায় করতে হবে?

তালাক দেওয়ার পর যিহারের কাফফারা আদায় করতে হবে না। যেহেতু সে তার স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

“যারা নিজেদের স্ত্রীর সাথে যিহার করে এবং পরে তাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাহলে (এর প্রায়শ্চিত্ত)একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসের মুক্তিদান। এর দ্বারা তোমাদেরকে সদুপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন।” (মুজাদালাহঃ ৩)

সুতরাং স্ত্রীকে স্পর্শ না করতে হলে, কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কোন হতভাগা স্বামী স্ত্রীকে ‘তুই আমার মা বা মায়ের মত’ বললে ‘যিহার’ হয়। কিন্তু যদি কোন হতভাগী স্ত্রী ‘তুমি আমার বাপ বা বাপের মত’ বলে। তাহলে তার বিধান কি?

এ ক্ষেত্রে মহিলার পক্ষ থেকে যিহার হবে না। কেবল মহিলাকে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। ৫৮৭ (ইবনে বায)

কোন লম্পট যদি শালী বা শাশুড়ির সাথে অথবা পুত্রবধূর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে তার বিবাহিতা স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে কি?


কোন লম্পট যদি শালী বা শাশুড়ির সাথে অথবা পুত্রবধূর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে তার বিবাহিতা স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে কি?
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কোন মাহরামের সাথে ব্যাভিচার করা সবচেয়ে বড় ব্যাভিচার। কিন্তু কোন অবৈধ সম্পর্ক বৈধ সম্পর্ককে ছিন্ন করতে পারে না। অবৈধভাবে মিলন ঘটালেই সে তার স্ত্রী হয়ে যায় না এবং তার মা বা মেয়ে স্ত্রীর বন্ধন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হয়ে যায় না।
মহান আল্লাহ কাকে কাকে বিবাহ হারাম--- সে কথা বলার পর বলেছেন,

অনেক পুরুষ আছে, যাঁদের কন্যা সন্তান হলে স্ত্রীকে দোষ দেয়, তাকে ঘৃণা করতে শুরু করে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় হলে তো রেহাই নেই। এমন পুরুষদের ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কি?

অনেক পুরুষ আছে, যাঁদের কন্যা সন্তান হলে স্ত্রীকে দোষ দেয়, তাকে ঘৃণা করতে শুরু করে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় হলে তো রেহাই নেই। এমন পুরুষদের ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কি?

নিঃসন্দেহে এমন আচরণ বর্তমানের পণ ও যৌতূক প্রথার করাল গ্রাসের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় দুর্বল ঈমানের মানুষ দ্বারা ঘটে থাকে। আর যে স্বামী কন্য প্রসব করার জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে, তার জ্ঞানও দুর্বল। কারণ, বীজ তো তারই। জমির দোষ কি? তাছাড়া কন্যা তার জন্য ভালো হবে না মন্দ, তাই বা সে জানল কি করে? সমাজে দেখা যায় যে, কত কন্যার পিতামাতা সুখী এবং কত পুত্রের পিতা মাতা চিরদুঃখী। তাহলে আল্লাহ্‌র উপর ভরসা রেখে তার দেওয়া ভাগ ও ভাগ্য নিয়ে কি সন্তষ্ট হওয়া উচিৎ নয়?

পরন্ত কন্যা সন্তান অপছন্দ করা জাহেলী যুগের আচরণ। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“তাকে সে সংবাদ দেওয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্নগোপন করে; সে চিন্তা করে যে, হীনতা সত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুতে দেবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে, তা কতই না নিকৃষ্ট।” (নাহলঃ ৫৯)

কৃত্রিমভাবে সন্তান নেওয়ার বিধান কি?

কৃত্রিমভাবে সন্তান নেওয়ার বিধান কি?

কৃত্রিম উপায়ে সন্তান প্রজনন মূলতঃ দুইভাবে হয়ে থাকেঃ

(ক) অভ্যান্তরিক প্রজনন। আর তা এভাবে হয় যে, পুরুষের বীর্য সিরিঞ্জের সাহায্যে  নারীর গর্ভাশয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে রাখা হয়।
(খ) বাহ্যিক প্রজনন। আর তা এইভাবে হয় যে, নারী পুরুষের বীর্য নির্দিষ্ট টেস্ট টিউবে নিয়ে মিলন ঘটানোর পর যথাসময়ে নারীর গর্ভাশয়ে রাখা হয়।

উক্ত দুই পদ্ধতির প্রজনন অনুসারে ছয় ভাবে সন্তান নেওয়া হয়ে থাকে। ইসলামী শরীয়তে তার কিছু বৈধ, কিছু অবৈধ।

প্রথমতঃ অভ্যান্তরিক প্রজননঃ 
১। সঙ্গমের সময় স্বামীর বীর্য স্ত্রীর গর্ভাশয়ে কারণবশতঃ না পৌছলে তা নিয়ে সিরিঞ্জের সাহায্যে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করে সন্তান নেওয়া।
২। স্বামীর বীর্যে শুক্রকীট না থাকলে অন্য কোন পুরুষের বীর্য নিয়ে সিরিঞ্জের সাহায্যে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করে সন্তান নেওয়া।

দ্বিতীয়তঃ বাহ্যিক প্রজননঃ
৩। স্বামী স্ত্রীর বীর্য নিয়ে টেস্ট টিউবে রেখে মিলন ঘটিয়ে যথাসময়ে তা স্ত্রীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করে সন্তান নেওয়া।
৪। স্ত্রীর গর্ভাশয় সুস্থ, কিন্তু ডিম্বাণু না থাকার ফলে স্বামীর বীর্য এবং অন্য কোন মহিলার ডিম্বাণু নিয়ে প্রজনন টেস্ট টিউবে মিলন ঘটিয়ে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করে সন্তান নেওয়া।
৫। স্বামীর বীর্যে শুক্রকীট না থাকলে এবং স্ত্রীর গর্ভাশয় সুস্থ, কিন্তু তার ডিম্বাণু না থাকার ফলে অন্য পুরুষের বীর্য এবং কোন মহিলার ডিম্বাণু নিয়ে প্রজনন টেস্ট টিউবে মিলন ঘটিয়ে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করে সন্তান নেওয়া।
৬। স্ত্রীর গর্ভাশয় সন্তান ধারনে অক্ষম হলে অথবা গর্ভ ধারণের কষ্ট বরণ না করতে চাইলে স্বামী স্ত্রীর বীর্য নিয়ে টেস্ট টিউবে রেখে মিলন ঘটিয়ে যথা সময়ে তা অন্য কোন মহিলার গর্ভাশয়ে স্থাপন করে সন্তান নেওয়া যায়।

সরাসরি ব্যভিচার ছাড়া উক্ত ছয় উপায়ে সন্তান গ্রহণ প্রচলিত রয়েছে বিশ্বের বহু দেশে এবং সে জন্য বীর্য ব্যাংকও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এই শ্রেণীর সন্তান নেওয়ার বিধান নিম্নরূপঃ

কেবল বিলাসিতার জন্য কৃত্রিম পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়া ইসলামে বৈধ হতে পারে না। কারণ, পর্যাপ্ত কারণ ব্যতিরেকে স্বামী ছাড়া অন্য কোন পুরুষের নিকট স্ত্রীর লজ্জাস্থান প্রকাশ করা বৈধ নয়। তাছাড়া চিকিৎসার জন্য প্রথমতঃ মুসলিম মহিলা ডাক্তারের সাহায্য গ্রহণ করা ওয়াজেব। তা না পাওয়া গেলে অমুসলিম মহিলা ডাক্তার। তা না পাওয়া গেলে অমুসলিম ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করানো বৈধ। তাতেও কোন পুরুষ ডাক্তারের সাথে কোন রুমে একাকিনী চিকিৎসা করানো বৈধ নয়। জরুরী হলে, সেই রুমে তার স্বামী অথবা অন্য মহিলা থাকবে।

বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের উদ্দেশ্যে মুসলিম মহিলার ডাক্তারের কাছে যাওয়া বৈধ। তবে সন্তান গ্রহণের ছয়টি পদ্ধতির মধ্যে কেবল প্রথম ও তৃতীয় পদ্ধতি ব্যবহার করা বৈধ। আর উক্ত উভয় পদ্ধতিতে যে সন্তান হবে, তা হবে বৈধও সন্তান।

পরিশেষে সতর্কতার বিষয় এই যে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া যেন মুসলিম উক্ত দুটি বৈধ পদ্ধতিও অবলম্বন না করে, কারণ তাতেও টেস্ট টিউবের মাধ্যমে অজ্ঞাত পরিচয় শুক্রাণুর অনুপ্রবেশ ঘটার আশঙ্কা থাকে। ৫৮৫ (মাজলিসুল মাজমাইল ফিকহী)

গর্ভ নিরোধক ট্যাবলেট ব্যবহার বৈধ কি? টেস্ট টিউবের মাধ্যমে গর্ভ সঞ্চার করা কি বৈধ ?

গর্ভ নিরোধক ট্যাবলেট ব্যবহার বৈধ কি?

মুসলিমের উচিৎ, সংখ্যা বৃদ্ধিতে শরীয়তের উদ্দেশ্যকে সফল করা। তবুও যদি ওটি প্রয়োজন পড়ে, যেমন মহিলা যদি রোগা হয়, প্রত্যেক বছর সন্তান হওয়ার ফলে অতি দুর্বল হয়ে পড়ে, অথবা অন্য কোন সমস্যা থাকে, তাহলে ট্যাবলেট ব্যবহার করে সাময়িক ভাবে সন্তান বন্ধ রাখতে পারে। অবশ্যই সেই সাথে স্বামীর অনুমতি ও ডাক্তারের পরামর্শও জরুরী। পক্ষান্তরে জীবন হানির আশঙ্কা ছাড়া ছাড়া চিরতরের জন্য গর্ভধারণের পথ বন্ধ করে দেওয়া বৈধ নয়।  (ইবনে উষাইমীন)


টেস্ট টিউবের মাধ্যমে গর্ভ সঞ্চার করা কি বৈধ ?

বীর্য স্বামীর হলেও তা টেস্ট টিউবের মধ্যে রেখে স্ত্রী গর্ভে রাখতে গিয়ে তার লজ্জাস্থান খোলা যায়, তা স্পর্শ করা হয় ইত্যাদি। আমার মতে বলে স্বামী স্ত্রীর উচিৎ, এ কাজ না করে আল্লাহ্‌র তকদীরে সন্তষ্ট থাকা। ৫৮৪ (ইবনে জিবরীন)

সন্তান বেশি হলে মানুষ গরীব হয়ে যায়। এ কথা বলা কি ঠিক?

সন্তান বেশি হলে মানুষ গরীব হয়ে যায়। এ কথা বলা কি ঠিক?

অবশ্যই ঠিক নয়। কারণ রুযীর মালিক আল্লাহ। কেউ কারো রুযীর দায়িত্ব নিতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, “এমন বহু জীব জন্তু আছে, যারা নিজেদের রুযী বহন করে না; আল্লাহ্‌ই ওদেরকে এবং তোমাদেরকে রুযী দান করেন। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।” (আনকাবূতঃ ৬০)

“দারিদ্র্যের কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তোমাদেরকে ও তাঁদেরকে জীবিকা দিয়ে থাকি।” (আনআমঃ ১৫১)

“তোমাদের সন্তানদেরকে তোমরা দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করো না, আমি তাঁদেরকে জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাঁদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।”(বানী ইস্রাঈলঃ ৩১)

বাপ মায়ের আদেশ পালন করা ওয়াজেব। কিন্তু তারা যদি বউ তালাক দিতে বলে, তাহলে করণীয় কি?

বাপ মায়ের আদেশ পালন করা ওয়াজেব। কিন্তু তারা যদি বউ তালাক দিতে বলে, তাহলে করণীয় কি?

বাপ মায়ের আদেশ পালন করা ওয়াজেব। কিন্তু তারা যদি অন্যায় আদেশ করে, তাহলে তা পালন করা হারাম। সুতরাং বউ তালাক দিতে বললে কারণ জানতে হবে। কারণ যদি সঠিক হয় এবং সে কারণে বউ তালাক দেওয়া ওয়াজেব হয়, তাহলে বুঝানোর পর তালাক দেবে। পক্ষান্তরে কারণ যদি সঠিক না হয়, কেবল বউয়ের প্রতি ঈর্ষাবশতঃ হয়, তাহলে তালাক দেওয়া বৈধ নয়। পুরুষকে পরীক্ষা দিতে হবে সংসারের এই মা বউয়ের দ্বন্দ্বে। শরীয়তই হবে সঠিক ফয়সালাদাতা। কোন আবেগ বা প্রেম, কোন ঈর্ষা বা হিংসা অথবা কোন পার্থিব লোভ লালসা যেন পুরুষকে কারো প্রতি অন্যায়াচরণে বাধ্য না করে।

বিবাহের চার মাস পর আমার স্ত্রীর সাথে আমার মায়ের মনোমালিন্য শুরু হয়ে গেল। এখন শান্তি বজায় রাখার জন্য যদি অন্যত্র কোথাও মা বাবাকে ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করি, তাহলে কি আমি গোনাহগার হব? নাকি আমি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেব?

বিবাহের চার মাস পর আমার স্ত্রীর সাথে আমার মায়ের মনোমালিন্য শুরু হয়ে গেল। এক সময় অশান্তি করে সে মায়ের ঘরে চলে গেল। অতঃপর পুনরায় সে আমাদের বাড়ী আসতে চাইল না। সে বলল, ‘যদি আমাকে নিয়ে আপনি অন্য কোথাও অথবা আমার বাপের বাড়িতে থাকতে পারেন, তাহলে সংসার করব। নচেৎ না।’ এখন আমি কি করি? আমার মা বাপ বউ এর খিদমত চায়। কিন্তু আমরা অশান্তি চাই না। এখন শান্তি বজায় রাখার জন্য যদি অন্যত্র কোথাও মা বাবাকে ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করি, তাহলে কি আমি গোনাহগার হব? নাকি আমি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেব?

সংসারে এটি একটি মহাসমস্যা। মা ও বউ এর খেয়াল খুশীর মাঝে পুরুষ দিশেহারা হয়ে যায়। মায়ের মন রক্ষা করা জরুরী। আবার বিনা পর্যাপ্ত কারণে তালাক দেওয়া হারাম। সুতরাং শেষ পথ এটাই যে, আপনি বউ নিয়ে অন্যত্র বাস করুন, মায়ের সংসার থেকে পৃথক হয়ে যান। তবে মা বাপের সুবিধা অসুবিধা কথা ভুলবেন না। আপনার দ্বারা যতটা সম্ভব, আপনি ততটা তাদের খিদমত করবেন। পারলে তাদের জন্য দাসী রেখে নেবেন। ৫৮২ (ইবনে উষাইমীন)    

http://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=461

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ