Sunday, October 15, 2017

বিয়ে ও ঈদের সময় ‘দুফ’ বাজিয়ে ছোট ছোট মেয়েরা বৈধ গীত গাইতে পারে। অন্য খুশীর উপলক্ষ্যেও কি অনুরূপ দুফ বাজিয়ে গীত গাওয়া যায়?

বিয়ে ও ঈদের সময় ‘দুফ’ বাজিয়ে ছোট ছোট মেয়েরা বৈধ গীত গাইতে পারে। অন্য খুশীর উপলক্ষ্যেও কি অনুরূপ দুফ বাজিয়ে গীত গাওয়া যায়?

বিয়ে ও ঈদ ছাড়া অন্য কোন খুশীর উপলক্ষ্যে ‘দুফ’ বাজানো বৈধ নয়। একদা কোন যুদ্ধ থেকে মহানবী ﷺ বিজয়ী হয়ে ফিরে এলে একটি কৃশকায় দাসী এসে বলল, ‘(হে আল্লাহর রাসুল!) আমি নযর মেনেছিলাম যে, আপনি ভালভাবে ফিরে এলে আমি আপনার কাছে দুফ বাজাব।’ নবী ﷺ বললেন, “তুমি যদি নযর মেনে থাকো, তাহলে তা পুরা কর। আর না মেনে থাকলে তা করো না।” সুতরাং দাসীটি দুফ বাজাতে থাকল। ইতিমধ্যে আবু বাকর এসে প্রবেশ করলেন। তখনও সে বাজাতে থাকল। অন্য কেউ এসে উপস্থিত হলেও সে বাজাতে থাকল। অবশেষে উমার প্রবেশ করলে দুফটাকে সে নিজ পেছনে লুকিয়ে কাপড়ে মুখও লুকাতে লাগল। তা দেখে আল্লাহ্‌র রাসুল ﷺ উমারের উদ্দেশ্যে বললেন, “শয়তানও তোমাকে ভয় পায় হে উমার!”  (আহমাদ, তিরমিযী, সিঃ সহীহাহ ১৬০৯ নং)

উক্ত হাদিস থেকেও বুঝা যায় যে, বিয়ে ও ঈদ ছাড়া অন্য উপলক্ষ্যে দুফ বাজানো বৈধ নয়। অবশ্য নযর পালন করা ও সে ব্যাপারে নবী ﷺ এর অনুমতি দেওয়া এ কথার দলীল যে, এ কেবল তার ফিরে আসার জন্য নির্দিষ্ট। যেহেতু তার নিরাপদে ফিরে আসার বিষয়টি ঈদ ও বিয়ের চাইতেও বেশি খুশীর বিষয়।  (আলবানী)

গজল গাওয়া ও শোনা কি বৈধ?

গজল গাওয়া ও শোনা কি বৈধ?

গজলও গানের মতোই। তা অসার ও অশ্লীল না হলে এবং শিরকে ও বিদআতমুক্ত থাকলে গাওয়া এবং শোনা বৈধ। কিন্তু তাতে বাজনা বা মিউজিক থাকলে তা যতই ভাল ও তাওহীদমূলক হোক, গাওয়া ও শোনা বৈধ নয়।

গান-বাজনা শোনা বৈধ কি? সেই সমস্ত টি,ভি সিরিজ দেখা বৈধ কি? যাতে অর্ধনগ্না নারীদেহ প্রদর্শন হয়?

গান-বাজনা শোনা বৈধ কি? সেই সমস্ত টি,ভি সিরিজ দেখা বৈধ কি? যাতে অর্ধনগ্না নারীদেহ প্রদর্শন হয়?

গান-বাজনা শোনা হারাম। আর তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে লেশমাত্র সন্দেহ নেই। সলফে সালেহীন; সাহাবা ও তাবেঈন কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, গান অন্তরে মুনাফিকী  (কপটতা) উদগত করে। উপরন্ত গান শোনা-অসার বাক্য শোনা এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পর্যায়ভুক্ত। আর আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যারা অজ্ঞতায় লোকেদেরকে আল্লাহ্‌র পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য অসাড় বাক্য বেছে নেয় এবং আল্লাহ্‌র প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। ওদেরই জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।” (সূরা লুকমান ৬ আয়াত)

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘সেই আল্লাহ্‌র কসম যিনি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই! নিশ্চয় তা (অসার বাক্য) হচ্ছে গান।’ সাহাবাগণের ব্যাখ্যা (তফসীর) এক প্রকার দলীল। তফসীরের তৃতীয় পর্যায়ে এর মান রয়েছে। যেহেতু তফসীরের তিনটি পর্যায়; কুরআনের তাফসীর কুরআন দ্বারা, কুরআনের তাফসীর সুন্নাহ দ্বারা এবং কুরআনের তাফসীর সাহাবাগণের উক্তি দ্বারা। এমনকি কিছু উলামার সিদ্ধান্ত এই যে, সাহাবীর তাফসীর রাসূল ﷺ এর তফসীরের পর্যায়ভুক্ত। কিন্তু শুদ্ধ অভিমত এই যে, তা রাসুল ﷺ এর তাফসীরের পর্যায়ভুক্ত নয়। অবশ্য তা বিভিন্ন উক্তিসমূহের মধ্যে সঠিকতার অধিকতর নিকটবর্তী।

পক্ষান্তরে গান-বাজনা শ্রবণ করার অর্থই হল, সেই কর্মে আপতিত হওয়া, যা থেকে নবী ﷺ সাবধান করেছেন। বিতি বলেন, “নিশ্চয় আমার উম্মতের মধ্যে এমন কতক সম্প্রদায় হবে যারা ব্যাভিচার, রেশম বস্ত্র, মদ্য এবং বাদ্য-যন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (বুখারী) অর্থাৎ, তারা নারী-পুরুষের অবৈধ যৌন সম্পর্ক, মদপান এবং রেশমের কাপড় পরাকে হালাল ও বৈধ মনে করবে অথচ তারা পুরুষ, তাঁদের জন্য রেশম বস্ত্র পরিধান বৈধ নয়। অনুরূপ মিউজিক বা বাজনা শোনাকেও বৈধ ভাববে। আর বাদ্য-যন্ত্র, যার শব্দে মন উদাস হয়, এমন অসার যন্ত্রকে বলে। হাদিসটিকে ইমাম বুখারী আবু মালেক আল আশআরী অথবা আবু আমের আল আশআরী থেকে বর্ণিত করেছেন।

সুতরাং এই কথার উপর ভিত্তি করে আমি আমার মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দের প্রতি গান-বাদ্য শ্রবণ করা থেকে সাবধান হওয়ার জন্য এই উপদেশবানী প্রেরণ করছি। তারা যেন এমন আলেমদের কথায় ধোঁকা না খাঁয়, যারা বাদ্য যন্ত্রকে বৈধ বলে মত প্রকাশ করেছেন। যেহেতু এর অবৈধতার সপক্ষে সমস্ত দলীল ব্যক্ত ও সুস্পষ্ট।

আর টিভি সিরিজ যাতে মহিলা প্রদর্শিত হয় তা দেখাও হারাম। যেহেতু তা ফিতনা (বিঘ্ন) এবং (অবৈধ) নারীর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার দিকে ধাবিত করে। পরন্ত সমস্ত সিরিজের অধিকাংশই ক্ষতিকারক। যদিও তাতে পুরুষ নারীকে এবং নারী পুরুষকে দর্শন না করে। যেহেতু এসবের পশ্চাতে সাধারণতঃ উদ্দেশ্য থাকে সমাজেকে তার আচরণ এবং চরিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত করা। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন মুসলমানদেরকে এই অনিষ্ট থেকে বাঁচান। আর আল্লহই অধিক জানেন। (ইবনে উষাইমীন)

প্রশ্ন: স্বামীর অনুপস্থিতে স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য কি? স্বামী তার ভাই-বোনদেরকে দেখা-শোনার দায়িত্ব দিলে তা কি পালন করা আবশ্যক?

প্রশ্ন: স্বামীর অনুপস্থিতে স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য কি? স্বামী তার ভাই-বোনদেরকে দেখা-শোনার দায়িত্ব দিলে তা কি পালন করা আবশ্যক?

উত্তর: স্বামীর অনুপস্থিতিতে একজন নারীর দায়িত্ব হল, নিজের ইজ্জত, তার স্বামী ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতির রক্ষণা-বেক্ষণ করা।

- আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল (রক্ষণাবেক্ষণকারী),.... আর নারী তার স্বামীর ঘর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, আর তাকে তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অপর এক বর্ণনায় আছে: ‘নারী তার স্বামীর ঘর ও তার সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, আর তাকে তাদের ব্যাপারে তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)
- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর জন্য সাওম (নফল রোযা) পালন করা বৈধ নয়; আর স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে তার গৃহে প্রবেশ করতে দেবে না ...।” - ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. হাদিস বর্ণনা করেন)।

ইসলাম একজন স্ত্রীকে তার স্বামী ছাড়া আর কারও আনুগত্য করাকে আবশ্যক করে নি। তবে স্বামী যদি বিদেশে যাওয়ার সময় তার ছোট ভাই-বোনদেরকে দেখা-শোনার দায়িত্ব দিয়ে যায় তাহলে স্ত্রীর এই দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। এটি স্বামীর প্রতি সদাচারণ ও  ইহসানের অন্তর্ভূক্ত।

স্বামীর ছোট-ভাই বোনদেরকে দেখা শোনার ব্যাপারে  জাবের (রা.)-এর একটি ঘটনা খুবই স্মরণীয়।  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন, 'তুমি কুমারী নারী বিয়ে না করে তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করেছ কেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমার বাবা মারা গেছেন। আমার ছোট ছোট কয়েকজন বোন রয়েছে, তাদের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার জন্যই আমি বয়স্ক নারী বিয়ে করেছি। ' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন'- (বোখারি, মুসলিম)।
দেখুন, জাবির রা. ছোট ছোট বোনদের লালন-পালন ও শিক্ষা দিক্ষার প্রয়োজনে বয়স্ক নারীকে বিয়ের কথা বললে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দুআ করেছেন। তিনি তাক তার উদ্দেশ্যে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেন নি। এখান থেকে প্রমাণিত হয়, প্রয়োজনে একজন স্বামী তার ভাই-বোনদের দেখা-শোনার দায়িত্ব দিতে পারে। আর একজন আদর্শ স্ত্রী আন্তরিকতা সহকারে যথাসম্ভব তার স্বামীর পরিবারে সাহায্য করবে।  এটি সুন্দর দাম্পত্য গড়তে ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
++++++++++++++
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল*
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

প্রশ্ন: ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর জন্য কি শশুর-শাশুড়ির সেবা করা ফরয? আর জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বসবাসের বিধান কি?

প্রশ্ন: ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর জন্য কি শশুর-শাশুড়ির সেবা করা ফরয?
আর জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বসবাসের বিধান কি?
----------------
উত্তর: ইসলামী শরিয়তে স্ত্রীর জন্য তার স্বামী ছাড়া অন্য কারও সেবা করাকে ফরয করা হয় নি। স্বামীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন বা অন্য কাররই নয়।
তবে শশুর-শাশুড়ির সেবা করা যেমন স্বামীর প্রতি ইহসান ও ভালবাসার বর্হি:প্রকাশ অন্যদিকে নেকীর কাজ তাতে কোন সন্দেহ নাই। কোন স্ত্রী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার শশুর-শাশুড়ির খেদমত করে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে আখিরাতে পুরষ্কার প্রদান করবেন ইনশাআল্লাহ।
আমাদের সমাজে শশুর-শাশুড়ির সেবা করাকে একজন নারীর ভালোগুণ হিসেবে ধরা হয়। তাই সামাজিক এই সুন্দর কালচারটি বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিৎ।

তাছাড়া এটাও মনে রাখা দরকার যে, তার জীবনেও কনো একদিন এমন সময় আসতে পারে যখন তার পত্রবধুর সেবা প্রয়োজন দেখা দিবে। তাই সে যদি এখন সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় শশুর-শাশুড়ির সেবা করে তবে সে যখন শাশুড়ি হবে তখন আশা করা যায়, তার পুত্রবধুরা তার সেবা করবে।

আর জয়েন্ট ফ্যামিলীতে যদি দেবর-ভাশুর বা নন মাহরাম কেউ থাকে তবে আলাদাভাবে ঘর করা উচিৎ। কেননা, এ ধরণের ফ্যামিলীতে অনিচ্ছাবশত: নানাভাবে পর্দার লঙ্ঘণ ঘটে থাকে। والله المستعان
-------------------------------
আমীন।
++++++++++++++
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল*
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

Saturday, October 14, 2017

দাড়ি কি মোটেই ছাঁটা চলবে না? নাকি সৌন্দর্যের জন্য এক মুঠির বেশি দাড়ি ছেঁটে ফেলা যায়?

দাড়ি কি মোটেই ছাঁটা চলবে না? নাকি সৌন্দর্যের জন্য এক মুঠির বেশি দাড়ি ছেঁটে ফেলা যায়?


নবী ﷺ– এর ব্যাপক নির্দেশ পালন করতে গিয়ে দাড়িকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ভাল। যেহেতু তিনি যে দাড়ি ছাঁটতেন, তাঁর সহীহ দলীল নেই। তবে সাহাবীদের আমল থেকে বুঝা যায় যে, এক মুঠির অতিরিক্ত দাড়ি ছেঁটে ফেলা যায়।  

দাড়ি রাখা কি সুন্নত, নাকি ওয়াজেব?

দাড়ি রাখা কি সুন্নত, নাকি ওয়াজেব?


দাড়ি রাখা সকল নবীর সুন্নত (তরীকা)। কিন্তু উম্মতের জন্য তা পালন করা ওয়াজেব। যেহেতু আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা দাড়ি বাড়াও আর মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য রঙ) খেযাব লাগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।” (আহমাদ, সহীহুল জামে ১০৬৭ নং)
তিনি আরো বলেছেন, “মোছ ছেঁটে ও দাড়ি রেখে অগ্নিপূজকদের বৈপরীত্য কর।” (মুসলিম ২৬০ নং)


চুল নখ ইত্যাদি কেটে ফেলার পর তা দাফন করা কি বিধেয়?


সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমার কর্তৃক এরূপ আমল বর্ণিত আছে। অনেক ফুকাহাও তা মুস্তাহাব মনে করেন। (ইবনে উষাইমীন) আর এ কথা বিদিত যে, বহু যাদুকর তা দিয়ে যাদুও করে থাকে। সুতরাং সতর্কতাই বাঞ্ছনীয়।

শোনা যায়, ‘মোছের পানি হারাম।’ – একথা কি ঠিক?

শোনা যায়, ‘মোছের পানি হারাম।’ – একথা কি ঠিক?


যে পানিতে মোছ ডুবেছে, সে পানি প্রকৃতিগতভাবে ঘৃণ্য হতে পারে। তবে সে পানি পান করা হারাম, তা বলা যায় না। অবশ্য মোছ ছেঁটে ছোট করার নির্দেশ আছে শরীয়তে। আল্লাহ্‌র রাসুল ﷺ বলেছেন, “তোমরা দাড়ি বাড়াও, মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য) খেযাব লাগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।”  (আহমাদ, সহীহুল জামে ১০৬৭ নং)
তিনি আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি তাঁর মোছ ছাঁটে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।”৬৯৬ (তিরমিযী ২৭৬২, সহীহুল জামে ৬৫৩৩ নং)

অনেক মহিলার ধারনা, লম্বা নখে সৌন্দর্য আছে। সুতরাং নখ লম্বা ছেড়ে রাখায় কোন দোষ আছে কি?

অনেক মহিলার ধারনা, লম্বা নখে সৌন্দর্য আছে। সুতরাং নখ লম্বা ছেড়ে রাখায় কোন দোষ আছে কি?


লম্বা নখে সৌন্দর্য নেই। অবশ্য বিকৃত পছন্দের অনেকের নিকট তা থাকতে পারে। কিন্তু শরীয়তে নখ লম্বা করার অনুমতি নেই। বরং মানুষের প্রকৃতি তা লম্বা রাখার বিরোধী। তাই চল্লিশ দিনের মাথায় তা কেটে ফেলতেই হবে। মহানবী ﷺ বলেছেন, “প্রকৃতিগত আচরণ পাঁচটি অথবা পাঁচটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ,
(১) খাতনা (লিঙ্গত্বক ছেদন) করা।
(২) লজ্জাস্থনের লোম কেটে পরিষ্কার করা।

হাদিসে এসেছে, ‘সাধাসিদা বা আড়ম্বরহীন হয়ে থাকা ঈমানের অন্ত ভুক্ত।’ তাঁর মানে কি সৌন্দর্য অবলম্বন করা ঈমানের আলামত নয়?

হাদিসে এসেছে, ‘সাধাসিদা বা আড়ম্বরহীন হয়ে থাকা ঈমানের অন্ত ভুক্ত।’ তাঁর মানে কি সৌন্দর্য অবলম্বন করা ঈমানের আলামত নয়?


উক্ত হাদীসের অর্থ হল, লেবাসে-পোশাকে মুসলিম অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি, বিলাসিতা ও অপচয় করবেনা। তাঁর পোশাকে জাঁকজমক, ঠাটবাট ও আড়ম্বর থাকবে না। নচেৎ সৌন্দর্য অবলম্বন করা দোষের নয়। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যার হৃদয়ে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে সে জান্নাতে যাবে না।” এক ব্যক্তি বলল, ‘লোকে তো পছন্দ করে যে, তাঁর পোশাক ও জুতা সুন্দর হোক (তাহলে সে ব্যক্তির কী হবে?)’ নবী (সাঃ) বললেন,

শিশু কিশোরীকে বুক ওঠার আগে বগল কাটা ফ্রক পরানো কি বৈধ নয়?

শিশু কিশোরীকে বুক ওঠার আগে বগল কাটা ফ্রক পরানো কি বৈধ নয়?


উত্তরঃ মুসলিম মায়ের উচিৎ, শৈশব থেকেই মায়ের ইসলামী লেবাসে অভ্যস্ত করে তোলা। কিশোরী মেয়ের প্রতি পাশবিক অত্যাচারের খবর প্রায় শোনা যায়। সুতরাং তাঁর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা আদৌ উচিৎ নয়। বলা বাহুল্য, শেলোয়ারের সাথে ফুল হাতা কামিস বা ফ্রকই পরানো উচিৎ। সেই সাথে মাথায় ওড়না। যাতে শৈশব থেকেই তাঁর মনে লজ্জাশীলতা, অপ্রগলভতা ও ধর্মভীরুতা স্থান করে নিতে পারে।

নক্সাদার বোরখা পরা কি বৈধ? চোখের পাতায় অতিরিক্ত লোম বা ল্যাশ লাগানো বৈধ কি?

নক্সাদার বোরখা পরা কি বৈধ?


মহিলার লেবাসের সৌন্দর্য; দৃষ্টি-আকর্ষী রঙ, নক্সা, ফুল ইত্যাদি গোপন করার জন্যই বোরখা বা চাদর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই বোরখা বা চাদরই যদি জরিদার, এমব্রয়ডারি করা, ফুলছাপা ইত্যাদি হয়, তাহলে তো আর উপরে আরো একটা বোরখা পরা ওয়াজেব হয়ে যায়। সুতরাং চাদর বা বোরখা সাদা-সিধা হবে, যা সৌন্দর্য গোপন করবে এবং বিতরণ করবে না। যা দেখে পুরুষের মনে শ্রদ্ধা সৃষ্টি করবে এবং আকর্ষণ সৃষ্টি করবে না।  (ইবনে জিবরীন) 

চোখের পাতায় অতিরিক্ত লোম বা ল্যাশ লাগানো বৈধ কি?


বৈধ নয়। এটাও পরচুলা লাগানোর মতো জালিয়াতির পর্যায়ে পড়ে। আর এমন প্রসাধিকা মহিলা অভিশপ্তা।  (ইবনে জিবরীন)

বাড়িতে পাখি পোষা কি জায়েয়? চোখের ভিতরে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা কি বৈধ?

বাড়িতে পাখি পোষা কি জায়েয়?


সৌন্দর্য ও বিলাসিতার জন্য পিঞ্জারা বা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রেখে পাখি পোষা, হওয বা পাত্রের মধ্যে পানি রেখে মাছ পোষা বৈধ, যদি সঠিকভাবে খেতে ও পান করতে দেওয়া হয় এবং কোন প্রকারে যুলুম না করা হয়।
আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) বলেন, “একজন মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গেছে, যাকে সে বেঁধে রেখে খেতে দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি; যাতে সে নিজে স্থলচর কীটপতঙ্গ ধরে খেত।” (বুখারী ২৩৬৫, ৩৪৮২, মুসলিম ২২৪২ নং)
বুঝা গেল, যদি তাকে খেতে দিত, তাহলে জাহান্নামে যেত না।  (ইবনে বায)

চোখের ভিতরে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা কি বৈধ?


প্রয়োজন হলে অবশ্যই বৈধ। তবে বিনা প্রয়োজনে কেবল চোখের সৌন্দর্য আনয়নের জন্য অর্থের অপচয় ঘটানো ঠিক নয়। বৈধ নয় অনুরূপ সৌন্দর্য নিয়ে কাউকে ধোঁকা দেওয়া।  (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

বৈধ খেলাধুলার সময় শর্ট প্যান্ট পরা কি বৈধ কি?

বৈধ খেলাধুলার সময় শর্ট প্যান্ট পরা কি বৈধ কি?


যে প্যান্টে জাং খোলা যায়, সে প্যান্ট পরাই বৈধ নয়। হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট পরে খেলাধুলা করা বা সাঁতার কাটা যায়। জাং খোলা খেলোয়ারের খেলা দেখাও দর্শকের জন্য বৈধ নয়।
মহানবী (সঃ) বলেন, “তুমি তোমার ঊরু খুলে রেখো না এবং কোন জীবিত অথবা মৃতের উরুর দিকে তাকিয়ে দেখো না।”  (আবূ দাঊদ, সহীহুল জামে ৭৪৪০ নং)
অন্যত্র বলেন, “তুমি তোমার জাং ঢেকে নাও। কারণ, জাং হল লজ্জাস্থান।” (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাকেম ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে ৭৯০৬ নং)
পক্ষান্তরে কিশোরী ও যুবতীদের জন্য বৈধ নয় কোন পুরুষ (প্রশিক্ষক বা অন্য পুরুষের) সামনে অনুরূপ ব্যায়াম, শরীর-চর্চা বা খেলাধুলা করা অথবা সাঁতার কাটা বৈধ নয় এবং তা দর্শন করাও বৈধ নয়।

সৌন্দর্যের জন্য প্লাস্টিক সার্জারি বৈধ কি?

সৌন্দর্যের জন্য প্লাস্টিক সার্জারি বৈধ কি?


প্লাস্টিক সার্জারি দুটি উদ্দেশ্যে করা হয়ঃ আঙ্গিক ত্রুটি দূরীকরণের উদ্দেশ্যে অথবা অতিরিক্ত সৌন্দর্য আনয়নের উদ্দেশ্যে। প্রথম উদ্দেশ্যে বৈধ। যেমন বিকৃত ও কুশ্রী মুখমণ্ডলে সৌন্দর্য আনয়নের উদ্দেশ্যে করা যায়। কিন্তু দ্বিতীয় উদ্দেশ্যে বৈধ নয়। কারণ তাতে আল্লাহ্‌র সৃষ্টিতে বিকৃতি সৃষ্টি করা হয়। যা শয়তানের প্ররোচনায় করা হয়। (সূরা নিসা ১১৯ আয়াত)
আর মহানবী (সঃ) (হাত বা চেহারায়) দেগে যারা নকশা করে দেয় অথবা করায়, চেহারা থেকে যারা লোম তুলে ফেলে (ভ্রু চাছে), সৌন্দর্য আনার জন্য যারা দাঁতের মাঝে ঘসে (ফাঁক ফাঁক করে) এবং আল্লাহ্‌র সৃষ্টি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটায় (যাতে তাঁর অনুমতি নেই) এমন সকল মহিলাদেরকে আল্লাহ্‌র অভিশাপ দিয়েছেন।  (বুখারী ৪৮৮৬ নং, মুসলিম ২১২৫ নং, আসহাবে সুনান)

স্বামীর চোখে অধিক সুন্দরী সাজার জন্য কি মাথার পরচুলা, নকল চুল বা টেসেল ব্যবহার করা যায়?

স্বামীর চোখে অধিক সুন্দরী সাজার জন্য কি মাথার পরচুলা, নকল চুল বা টেসেল ব্যবহার করা যায়?


মহিলার সুকেশ সৌন্দর্যের অন্যতম। মাথায় আদৌ চুল না থাকলে ত্রুটি ঢাকার জন্য পরচুলা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু অধিক চুল দেখাবার জন্য তা বৈধ নয়। যেহেতু ‘যে অপরের মাথার পরচুলা বেঁধে দেয় এবং সে নিজের মাথায় তা বাঁধে, এমন উভয় মহিলাকেই নবী (সঃ) অভিশাপ করেছেন।’ (বুখারী ৫৯৪১, মুসলিম ২১২২, ইবনে মাজাহ ১৯৮৮ নং)


হাদীসের নির্দেশমতে বগলের লোম ছিঁড়ে বা তুলে ফেলতে হয়। কিন্তু

বিউটি পার্লারে সুন্দরী সাজতে যাওয়া কি মুসলিম মহিলাদের জন্য বৈধ?

বিউটি পার্লারে সুন্দরী সাজতে যাওয়া কি মুসলিম মহিলাদের জন্য বৈধ?


কয়েকটি কারণে বৈধ নয়ঃ
(ক) অপ্রয়োজনে তাতে অর্থের অপচয় হয়।
(খ) পুরুষ কর্মচারীর স্পর্শ নিতে হয়।
(গ) অপরের সামনে লজ্জাস্থান খুলতে হয়।
(ঘ) সৌন্দর্যে অনেক ক্ষেত্রে কাফের মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়।
(ঙ) অনেক সময় গুপ্ত ক্যামেরায় মহিলার নগ্ন ছবি ধরে রাখা ও নেটে প্রচার করা হয়।

হাতের নখ লম্বা করা কি হারাম? নখে নখ পালিশ লাগানো কি বৈধ?

হাতের নখ লম্বা করা কি হারাম?


হাতের নখ কেটে ফেলা প্রকৃতিগত সুন্নত। নবী (সঃ)বলেছন, “প্রকৃতিগত আচরণ (নবীগণের তারীকা) পাঁচটি অথবা পাঁচটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ,
(১) খাতনা (লিঙ্গাত্বক ছেদন )করা।
(২) লজ্জাস্থানের লোম কেটে পরিষ্কার করা।
(৩) নখ কাটা।
(৪) বগলের লোম ছিঁড়া।
(৫) গোঁফ ছেঁটে ফেলা।”  (বুখারী, মুসলিম)
আনাস (রঃ) বলেন,

সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু চাঁছা কি বৈধ?

সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু চাঁছা কি বৈধ?


বৈধ নয়। কারণ ‘আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা দেহাঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায় এবং সে সব নারীদের উপর, যারা ভ্রু চেঁছে সরু করে, যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আলাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।’ (বুখারী, মুসলিম)    

মুসলিম মহিলার জন্য শাড়ি পরা কি বৈধ?

মুসলিম মহিলার জন্য শাড়ি পরা কি বৈধ?


শাড়ি যদি সারা দেহকে ঢেকে নেয়, তাহলে বৈধ। বলা বাহুল্য, পেট-পিঠ বের করে রেখে অথবা পাতলা শাড়ি পরা বৈধ নয়। অনুরূপ এমন লেবাসও বৈধ নয় যাতে নারী দেহের কোনও সৌন্দর্য প্রকাশ প্রকাশ পায়। যে নারীরা এমন শাড়ি বা লেবাস পরে, তারা সেই নারীদলের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) বলেছেন,

পাকা চুল দাড়িতে কি কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ?

পাকা চুল দাড়িতে কি কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ?


পাকা চুল দাড়ি সাদা না রেখে রাঙিয়ে রাখা তাকীদাপ্রাপ্ত সুন্নত। তবে তাতে কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ নয়। জাবের (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিনে আবু কুহাফাকে আনা হল। তখন তাঁর চুল দাড়ি ছিল ‘ষাগামা’ ফুলের মত সাফেদ (সাদা)। নবী (সঃ) বললেন,

পুরুষদের জন্য সোনা ছাড়া অন্য ধাতুর চেন পরা কি বৈধ?

পুরুষদের জন্য সোনা ছাড়া অন্য ধাতুর চেন পরা কি বৈধ?


যে অলংকার সাধারণতঃ মহিলাদের, তা পুরুষদের পরা বৈধ নয়। গলার চেন, কানের দুল, হাতে বালা ইত্যাদি পুরুষরা পরতে পারে না। কারণ তাতে মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। যেমন মহিলারা পুরুষদের মতো প্যান্ট শার্ট পরতে পারে না। কারণ তাতে পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে এবং

পুরুষদের জন্য সোনা ব্যবহার হারাম। কিন্তু শোনা যায়, চার আনা পরিমাণ নাকি জায়েয, যাতে বিপদে কাজে আসে। --- এ কথা কি ঠিক?

পুরুষদের জন্য সোনা ব্যবহার হারাম। কিন্তু শোনা যায়, চার আনা পরিমাণ নাকি জায়েয, যাতে বিপদে কাজে আসে। --- এ কথা কি ঠিক?


পুরুষের জন্য সোনার চেন, ঘড়ি, আংটি, বোতাম, কলম ইত্যাদি ব্যবহার বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেন, “সোনা ও রেশম আমার উম্মতের মহিলাদের জন্য হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে।”  (তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত ৪৩৪১ নং)
ইবনে আব্বাস (রঃ) হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তাঁর হাত থেকে তা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন,

মহিলার দেহ থেকে লোম তুলে ফেলা কি বৈধ?

মহিলার দেহ থেকে লোম তুলে ফেলা কি বৈধ?


মহিলাদের দেহে তিন প্রকার লোম আছে।
(ক) যা তুলে ফেলা ওয়াজেব। যেমন বগল ও গুপ্তাঙ্গের লোম।
(খ) যা তুলে ফেলা হারাম। যেমন ভ্রুর লোম।
(গ) যে লোম তোলার ব্যাপারে কোন আদেশ নিষেধ নেই, তা তুলে ফেলা বৈধ। যেমন পিঠ বা পায়ের লোম। অনুরূপ চেহারার পুরুষের মতো দাড়ি গোঁফের অস্বাভাবিক লোম।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহ্‌র অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর,

বিনা অহংকারে পরিহিত বস্ত্র গাঁটের নিচে ঝুলানো হারাম কি না?

বিনা অহংকারে পরিহিত বস্ত্র গাঁটের নিচে ঝুলানো হারাম কি না?


পুরুষদের জন্য পরিহিত বস্ত্রপায়ের গাঁটের নিচে ঝুলান হারাম, তাতে অহংকারের উদ্দেশ্য হোক অথবা অহংকারের উদ্দেশ্যে না হোক। তবে যদি তা অহংকারের প্রকাশের উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে তার শাস্তি অধিকতর কঠিন ও বড়। যেহেতু সহীহ মুসলিমের আবূ যার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে নবী (সঃ)বলেন,

#দোয়া_কবুল_না_হওয়ার_কারণগুলো_কি_কি?

#দোয়া_কবুল_না_হওয়ার_কারণগুলো_কি_কি?
----------------------------------------------------------------------
কিছু পাপ আছে যা বান্দার মাঝে উপস্থিত থাকলে তার দুয়া কবুল হওয়ার জন্য বাঁধা হয়ে যায়। তাই খেয়াল রাখতে হবে, এই পাপগুলো এড়িয়ে চলতে হবে, যদি কেউ চায় তার দুয়া কবুল করা হোক।
🔘🔘 হারাম খাদ্য, হারাম পানীয় ও হারাম বস্ত্রঃ
-
কেউ হারাম কোনো খাবার খেলে বা কারো খাবার হারাম টাকায় কেনা হলে, পোশাক হারাম বা হারাম টাকায় কেনা হলে আল্লাহ ঐ অবস্থায় তার দুয়া কবুল করেন না।
-
👉 রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

গোসলের পর প্রস্রাব দ্বার থেকে বীর্য বের হতে দেখলে কি পুনরায় গোসল করতে হবে?

গোসলের পর প্রস্রাব দ্বার থেকে বীর্য বের হতে দেখলে কি পুনরায় গোসল করতে হবে?


গোসলের পর প্রস্রাবদ্বারে থেকে বীর্য বের হলে তা উত্তেজনাবশতঃ নয়, বরং তা কোনভাবে ভিতরে আটকে থাকা বীর্য। সুতরাং তাতে পুনরায় গোসল করা ওয়াজেব নয়। তা প্রস্রাবের মতো, তা পুনরায় ধুয়ে ফেলে ওযু করলেই যথেষ্ট।  (ইবনে বায)

মিলনের পর বাথরুমে প্রস্রাব করতে গিয়ে দেখি মাসিক শুরু হয়ে গেছে। তাহলে আমাকে কি মিলনের গোসল করতে হবে?


স্বামী সহবাসের পর মাসিক শুরু হয়ে গেলে গোসল ফরয নয়। কারণ সে ফরয পালনে কোন লাভও নেই। সে গোসলের পর সে পবিত্র হবে না। সুতরাং মাসিক বন্ধ হওয়ার পর গোসল ফরয। কিন্তু মাসিক অবস্থায় যদি কুরআন মুখস্থ পড়তে হয়, তাহলে তাঁকে গোসল করতে হবে। কারণ বীর্যপাত ঘটিত অপবিত্রতায় সঠিক মতে কুরআন পড়া বৈধ নয়।  (শায়খ সা’দ আল-হুমাইদ)

স্বামী সহবাসের পর গোসল করার পূর্বে মহিলার জন্য কি ঘর সংসারের কাজকর্ম ও রান্না-বান্না করা বৈধ নয়?

স্বামী সহবাসের পর গোসল করার পূর্বে মহিলার জন্য কি ঘর সংসারের কাজকর্ম ও রান্না-বান্না করা বৈধ নয়?


স্বামী সহবাসের পর গোসল করার পূর্বে মহিলার জন্য ঘর সংসারের কাজকর্ম ও রান্না-বান্না করা অবৈধ নয়। যা অবৈধ, তা হল, নামায, কা’বা-ঘরের তওয়াফ, মসজিদে অবস্থান, কুরআন স্পর্শ ও তিলাওয়াত। এ ছাড়া অন্যান্য কাজ বৈধ।
একদা আবূ হুরাইরা এর সাথে মহানবী (সঃ) এর মদ্বীনার এক পথে দেখা হল। সে সময় আবূ হুরায়রা অপবিত্রাবস্থায় ছিলেন। তিনি সরে গিয়ে গোসল করে এলেন। নবী (সঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,

সহবাসের পর সত্বর গোসল করা কি জরুরী?

সহবাসের পর সত্বর গোসল করা কি জরুরী?


সহবাসের পর সত্বর গোসল করে নেওয়া উত্তম। নচেৎ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাছাড়া হটাৎ এমন প্রয়োজনও পড়তে পারে, যাতে গোসল করা জরুরী। অবশ্য নিশ্চিন্ত হলে ঘুমোবার আগে অথবা কাজকর্ম বা পানাহার করার আগে ওযু করে নেওয়া মুস্তাহাব।  (বুখারী ৩৮৩, মুসলিম ৩০৫-৩০৬ নং)

আমি একজন বিধবা যুবতী। অনেক সময় স্বপ্নে দেখি, আমি পূর্ণ তৃপ্তির সাথে সহবাস করছি। কিন্তু ঘুম ভাঙবার পর শরমগাহে কোন অতিরিক্ত তরল পদার্থ লক্ষ্য করি না। এতে কি আমার জন্য গোসল ফরয হবে?


শরমগাহে বীর্য লক্ষ্য না করলে গোসল ফরয নয়।  (ইবনে উসাইমীন, মুমতে ১/২৩৪) যুবক ও যদি স্বপ্নে সহবাস করে এবং ঘুমিয়ে উঠে বীর্য না দেখে, তাহলে গোসল ফরয নয়। যেমন ঘুমিয়ে উঠে কাপড়ে বীর্য দেখলে এবং স্বপ্নদোষ হওয়ার কথা মনে না থাকলেও গোসল ফরয।

বীর্যপাত হলে গোসল ফরয। লিঙ্গাগ্র স্ত্রীলিঙ্গে প্রবেশ করলে এবং বীর্যপাত না হলেও গোসল ফরয। কিন্তু নিরোধ ব্যবহার করে প্রবেশ করালে এবং বীর্যপাত না হলে কি গোসল ফরয ?

বীর্যপাত হলে গোসল ফরয। লিঙ্গাগ্র স্ত্রীলিঙ্গে প্রবেশ করলে এবং বীর্যপাত না হলেও গোসল ফরয। কিন্তু নিরোধ ব্যবহার করে প্রবেশ করালে এবং বীর্যপাত না হলে কি গোসল ফরয ?


মহানবী (সঃ) বলেছেন, “যখন স্বামী তার স্ত্রীর চার শাখা (দুই হাত দুই পায়ের) ফাকে বসবে এবং লিঙ্গে লিঙ্গে স্পর্শ করবে, তখন গোসল ওয়াজেব হয়ে যাবে। (মুসলিম ৩৪৯ নং) নিরোধ ব্যবহার করে লিঙ্গে লিঙ্গে স্পর্শ না হলেও যেহেতু প্রবেশ করিয়ে তাতে যৌনতৃপ্তি অর্জন হয়, সেহেতু গোসল করতে হবে।”


সঙ্গমে লিপ্ত অবস্থায় কলিংবেল বেজে উঠায় উঠে গিয়ে দরজা খুলি এবং তার পর আর সুযোগ হয়নি এবং আমাদের বীর্যপাতও হয়নি। এতে কি গোসল জরুরী?


সঙ্গমে লিপ্ত হলেই এবং লিঙ্গাগ্র (সুপারি) যোনিপথে প্রবেশ করালেই গোসল ফরয। তাতে বীর্যপাত হোক বা না হোক।

আমরা নতুন বর কনে। ইসলামের বিধান মানার ব্যাপারেও আমাদেরকে নতুন বলতে পারেন। আমরা জানতে চাই, আমাদের প্রেমকেলিতে কোন সময় গোসল করা ফরয হয় এবং কোন সময় হয় না।

আমরা নতুন বর কনে। ইসলামের বিধান মানার ব্যাপারেও আমাদেরকে নতুন বলতে পারেন। আমরা জানতে চাই, আমাদের প্রেমকেলিতে কোন সময় গোসল করা ফরয হয় এবং কোন সময় হয় না।


স্বামী স্ত্রীর যৌন জীবনে বিভিন্ন অবস্থা হতে পারে এবং সেই অবস্থা অনুযায়ী বলা যাবে, কখন গোসল ফরয এবং কখন তা ফরয নয়। স্পর্শ, চুম্বন দংশন, মর্দন, প্রচাপন ইত্যাদিড় ক্ষেত্রে যদি প্রস্রাবদ্বার থেকে আঠালো তরল পদার্থ বের হয়, তাহলে তাতে গোসল ফরয নয়। তাতে ওযু নষ্ট হয়ে যায়। কাপড়ে লাগলে

স্বামীর যৌন সুখে বাঁধা দেওয়া অথবা মিলন না দিয়ে তাকে রাগান্বিত করা অভিশাপের কাজ জানি। কিন্তু সে যদি অবৈধ মিলন প্রার্থনা করে এবং তাতে রাজি না হই, তাহলেও কি অভিশপ্তা হব ?

স্বামীর যৌন সুখে বাঁধা দেওয়া অথবা মিলন না দিয়ে তাকে রাগান্বিত করা অভিশাপের কাজ জানি। কিন্তু সে যদি অবৈধ মিলন প্রার্থনা করে এবং তাতে রাজি না হই, তাহলেও কি অভিশপ্তা হব ?


স্বামী যদি অবৈধ মিলন চায় এবং তাকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যদি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন বা তার অবাধ্যচরণ হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে অভিশাপ আসার কোন প্রশ্নই আসে না। বরং “আল্লাহ্‌র অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির বাধ্য হওয়া যাবে না।” (আহমাদ, হাকেম, মিশকাত ৩৬৯৬ নং) সুতরাং স্বামী যদি রমযানের দিনে অথবা মাসিক অবস্থায় মিলন চায় অথবা পায়খানার দ্বারে সঙ্গম করতে চায়, তাহলে স্ত্রীর তাতে সম্মত হওয়া বৈধ নয়। তাতে সে রাগারাগি করলেও সে রাগ তার অন্যায়। সে স্বামী একজন যালেম। আর স্ত্রীর উচিৎ, যালেম স্বামীর সাহায্য করা। একদা রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, “তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত।” আনাস (রঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসুল! অত্যাচারিত কে সাহায্য করার বিষয়টি তো বুঝলাম; কিন্তু অত্যাচারীকে কিভাবে সাহায্য করব?’ তিনি বললেন, “তুমি তাকে অত্যাচার করা হতে বাঁধা দেবে, তাহলেই তাকে সাহায্য করা হবে।” (বুখারী)

বাসায় পানি না থাকার ফলে ফজরের নামাজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে যদি আমি মিলনে রাজি না হই, তাহলে তাতেও কি আমি অভিশপ্তা হব?

দিসে আছে, “যদি কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী) রাগাম্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিশতাগণ তাকে সকাল অবধি অভিশম্পাত করতে থাকেন।” কিন্তু বাসায় পানি না থাকার ফলে ফজরের নামাজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে যদি আমি মিলনে রাজি না হই, তাহলে তাতেও কি আমি অভিশপ্তা হব?


পানি না থাকলে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়া যাবে। সুতরাং সেই ওজরে স্বামীর যৌন সুখে বাঁধা দেয়া উচিৎ নয়। যেহেতু শরীয়তে এমন বিধান নেই যে পানি না থাকলে তোমরা নাপাক হয়ো না। বরং বিধান হল, “হে বিশ্বাসিগন! তোমরা নেশার অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা কি বলছ, সেটা বুঝতে পার এবং

গোসল করার মত পানি নেই জেনেও কি মিলন করা বৈধ?

গোসল করার মত পানি নেই জেনেও কি মিলন করা বৈধ?


গোসল করার মত পানি নেই জেনেও মিলন অবৈধ নয়। মিলনের সময় মিলন বৈধ। নামাযের সময় পানি না পাওয়া গেলে যথানিয়মে তায়াম্মুম করে নামাজ বৈধ। আবু যার পানি না থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী মিলন করলে নবী (সঃ) তাকে তায়াম্মুম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “দশ বছর যাবত পানি না পাওয়া গেলে মুসলিমের ওযুর উপকরণ হল পাক মাটি। পানি পাওয়া গেলে গোসল করে নাও।” ৬৫২(আহমাদ, আবূ দাঊদ ৩৩৩ নং)

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ