Monday, December 4, 2017

আমি মিলাদুন্নবী পালন করি না। কিন্তু পরিবারের বাকী সবাই তা পালন করে। তারা বলেন: আমার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি না। এ বিষয়ে কোন উপদেশ আছে কী?

আমি মিলাদুন্নবী পালন করি না। কিন্তু পরিবারের বাকী সবাই তা পালন করে। তারা বলেন: আমার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি না। এ বিষয়ে কোন উপদেশ আছে কী?


আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।
 এক:
প্রিয় ভাই, আপনি এ বিদআতটি পরিহার করে উত্তম কাজটি করেছেন যে বিদআতটি অভ্যাসের মত মানুষের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে। যারা আপনাকে নবীর অনুসরণের ঘাটতি উল্লেখ করে অপবাদ দিল অথবা ইসলামী আদর্শের উপর আপনার অবিচলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আপনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার দরকার নেই। এমন কোন রাসূল নেই যাঁর সাথে লোকেরা তিরস্কার করেনি বা তাঁর বিবেক-বুদ্ধি ও দ্বীনদারির উপর অপবাদ দেয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন:

যে ব্যক্তির ইচ্ছা আছে ও সক্ষমতা আছে তার জন্য প্রতিবছর হজ্জ করা উত্তম? নাকি প্রতি তিন বছরে একবার হজ্জ করা উত্তম? নাকি প্রতি দুই বছরে একবার হজ্জ করা উত্তম?

যে ব্যক্তির ইচ্ছা আছে ও সক্ষমতা আছে তার জন্য প্রতিবছর হজ্জ করা উত্তম? নাকি প্রতি তিন বছরে একবার হজ্জ করা উত্তম? নাকি প্রতি দুই বছরে একবার হজ্জ করা উত্তম?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
 আল্লাহ তাআলা সামর্থ্যবান মুকাল্লাফ (শরয়ি ভারপ্রাপ্ত) ব্যক্তির উপর জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরজ করেছেন। একবারের বেশি হজ্জ আদায় করলে সেটা নফল হজ্জ হিসেবে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে। শরয়ি দলিলে নফল হজ্জের কোন সংখ্যা নির্ধারণ সাব্যস্ত হয়নি। বরং

হজ্জ ভিসা বিক্রি করার হুকুম কি? যে ভিসাগুলো বের করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

হজ্জ ভিসা বিক্রি করার হুকুম কি? যে ভিসাগুলো বের করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
যে ব্যক্তি নিজে হজ্জ করতে চায় না তার জন্য হজ্জ ভিসা বের করা জায়েয নেই। যে ব্যক্তি হজ্জ করার ইচ্ছায় ভিসা নিয়েছেন কিন্তু পরে তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে সে ব্যক্তির ভিসা পেতে যা খরচ হয়েছে তিনি তার খরচের দামেই ভিসাটি বিক্রি করবেন। অর্থাৎ হজ্জের ভিসা বিক্রিকে একটা ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করা,

নামাযের বাহিরে ‘আউজুবিল্লাহ’ ছাড়া কুরআন পড়ার হুকুম কী?

নামাযের বাহিরে ‘আউজুবিল্লাহ’ ছাড়া কুরআন পড়ার হুকুম কী?


আলহামদুলিল্লাহ।
আলেমগণ ইজমা (ঐকমত্য) করেছেন যে, ‘আউজুবিল্লাহ’ কুরআনের অংশ নয়। তবে কুরআন তেলাওয়াতের সময় আউজুবিল্লাহ পড়তে হয়। যেহেতু কুরআন তেলাওয়াত সবচেয়ে উত্তম আমল। কুরআন তেলাওয়াত থেকে দূরে রাখার জন্য শয়তানের চেষ্টা চূড়ান্ত পর্যায়ে।
জমহুর ফিকাহবিদগণের মতে, ‘আউজুবিল্লাহ’ পড়া সুন্নত। আতা ও ছাওরি এর মতে, এটি পড়া ওয়াজিব। যেহেতু আল্লাহ বলেছেন:

মক্কার হারাম এলাকার সীমানা কতটুকু? গোটা মক্কা কি হারামের অন্তর্ভুক্ত?

মক্কার হারাম এলাকার সীমানা কতটুকু? গোটা মক্কা কি হারামের অন্তর্ভুক্ত?


আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।
মক্কার হারাম এলাকা সুনির্দিষ্ট। হারামের চতুর্দিকে সীমানা-পিলার বসানো আছে এবং পিলারের উপর সাধারণ মানুষের বুঝার জন্য তথ্য লেখা আছে।
ইমাম নববি বলেন:
মদিনার দিকে মক্কার হারাম এলাকার সীমানা হচ্ছে মক্কা থেকে ৩ মাইল দূরে তানয়ীমের আগে বনি নিফার গোত্রের বাড়িঘরের কাছাকাছি। ইয়েমেনের দিকের সীমানা হচ্ছে- মক্কা থেকে ৭ মাইল দূরে আদাত লাবানের প্রান্তভাগ। তায়েফের দিকের সীমানা হচ্ছে-

নামায না পড়ে সিয়াম পালন করা কি জায়েয?

নামায না পড়ে সিয়াম পালন করা কি জায়েয?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
বে-নামাযীর যাকাত, রোজা, হজ্জ ইত্যাদি কোনো আমলই কবুল হয় না।
ইমাম বুখারী (৫২০) বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ )
     “যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।”
“তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল:

কোন কাফের যদি রমজানের দিনের বেলায় ইসলাম গ্রহণ করে তবে সে যেই দিন ইসলাম গ্রহণ করেছে সেই দিনের বাকি অংশ মুফাত্তিরাত (রোজা-ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ) থেকে বিরত থাকা কি তার উপর আবশ্যক?

কোন কাফের যদি রমজানের দিনের বেলায় ইসলাম গ্রহণ করে তবে সে যেই দিন ইসলাম গ্রহণ করেছে সেই দিনের বাকি অংশ মুফাত্তিরাত (রোজা-ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ) থেকে বিরত থাকা কি তার উপর আবশ্যক?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“হ্যাঁ, ঐ দিনের বাকি অংশে মুফাত্তিরাত (রোজা-ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ) থেকে বিরত থাকা তার জন্য আবশ্যক। কারণ তিনি এখন যাদের উপর রোজা পালন করা ওয়াজিব তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন। তাই দিনের বাকী সময় মুফাত্তিরাত থেকে বিরত থাকা তার জন্য আবশ্যক হবে। এই মাসয়ালাটি রোজা পালনে প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হওয়া সংক্রান্ত মাসয়ালার বিপরীত। প্রতিবন্ধকতা দূর হলেও

আমি ওজু করে কুরআন শরিফ পড়া শুরু করেছি। কুরআন শরিফ পড়ার মাঝখানে যদি সাদা স্রাব নির্গত হয় তাহলে কি কুরআন শরিফ পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুনরায় ওজু করতে হবে?

আমি ওজু করে কুরআন শরিফ পড়া শুরু করেছি। কুরআন শরিফ পড়ার মাঝখানে যদি সাদা স্রাব নির্গত হয় তাহলে কি কুরআন শরিফ পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুনরায় ওজু করতে হবে?


আলহামদুলিল্লাহ।
এক:
লঘু অপবিত্রতা নিয়ে স্পর্শ না করে কুরআন শরিফ পড়া জায়েয আছে। অনুরূপভাবে তাফসির গ্রন্থসমূহ স্পর্শ করা এবং সেখান থেকে কুরআন পড়া জায়েয আছে। তবে ওজু ছাড়া কুরআন শরিফ স্পর্শ করা জায়েয নেই। এ বিষয়ে আরও জানতে 10672 নং ফতোয়া দেখুন।
দুই:
জরায়ু থেকে নির্গত সাদা স্রাব পবিত্র। তবে

যে কারাবন্দী মাটির নীচে অন্ধকার সেলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে, নামাযের সময় জানার তার কোন সুযোগ নেই, রমজান মাস কখন শুরু হবে সে সম্পর্কে তার কাছে কোন তথ্য নেই সে কিভাবে নামায ও রোজা আদায় করবে?

যে কারাবন্দী মাটির নীচে অন্ধকার সেলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে, নামাযের সময় জানার তার কোন সুযোগ নেই, রমজান মাস কখন শুরু হবে সে সম্পর্কে তার কাছে কোন তথ্য নেই সে কিভাবে নামায ও রোজা আদায় করবে?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
এক:
আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন সকল মুসলিম বন্দীর আশু মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন, নিজ করুণায় তাদেরকে ধৈর্য্য-শক্তি ও সান্ত্বনা দান করেন, তাদের অন্তরগুলো আত্মপ্রশান্তি ও একীন দিয়ে ভরপুর করে দেন এবং মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথের দিশা দেন যে পথে তাঁর প্রিয়ভাজনগণ (আউলিয়াগণ) সম্মানিত হবেন এবং তাঁর শত্রুরা লাঞ্ছিত হবে।     
দুই:
আলেমগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে,

পিতামাতা জীবিত থাকাবস্থায় আমি যদি তাঁদের পক্ষ থেকে সদকা করি তাঁদেরকে অবহিত করা বা জানানো কি অপরিহার্য? পিতামাতা ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে সদকা করা কি জায়েয। আমি কি অন্য কোন লোকের পক্ষ থেকে সদকা করতে পারি?

পিতামাতা জীবিত থাকাবস্থায় আমি যদি তাঁদের পক্ষ থেকে সদকা করি তাঁদেরকে অবহিত করা বা জানানো কি অপরিহার্য? পিতামাতা ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে সদকা করা কি জায়েয। আমি কি অন্য কোন লোকের পক্ষ থেকে সদকা করতে পারি?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
অন্যের পক্ষ থেকে সদকা করলে সে সদকার ব্যাপারে ঐ ব্যক্তিকে জানানো ওয়াজিব নয়। অনুরূপভাবে শুধু নিকটাত্মীয়ের পক্ষ থেকে সে সদকা হওয়া শর্ত নয়। বরং আত্মীয় বা অনাত্মীয় যে কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা জায়েয।
‘নাইলুল মাআবির বি শারহি দালিলিত তালিব’ (১/২৩৭) গ্রন্থে এসেছে-
জীবিত বা মৃত মুসলমানের জন্য যদি কোন মুসলিম নেক কাজ করে এর সওয়াব উৎসর্গ করে মুসলিম সে সওয়াব পাবে। যদিও

প্রশ্ন: বিশাল সাহারা অঞ্চলে কখনও গ্রীষ্মকালে রমজান মাস আসে এবং সিয়াম পালন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের জন্য তা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং কয়েক বছর ধরে এই অবস্থা বিরাজমান থাকে। তারা কিভাবে সিয়াম পালন করবে?

প্রশ্ন: বিশাল সাহারা অঞ্চলে কখনও গ্রীষ্মকালে রমজান মাস আসে এবং সিয়াম পালন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের জন্য তা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং কয়েক বছর ধরে এই অবস্থা বিরাজমান থাকে। তারা কিভাবে সিয়াম পালন করবে?


উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।     
“রমজান মাস শুরু হলে প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরয়ি ভারপ্রাপ্ত), মুকীম (স্বগৃহে অবস্থানকারী) সুস্থ মুসলিমের উপর সিয়াম পালন করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

প্রশ্ন: যাদের অঞ্চলে দিন ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ হয় তারা কি করবে? তারা কি রোজার জন্য বিশেষ কোন হিসাব করে নিবে? যাদের অঞ্চলে দিন খুব ছোট তারা কি করবে? একইভাবে যাদের অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত থাকে তারা কি করবে? তারা কিভাবে নামায ও রোজা আদায় করবে?

প্রশ্ন: যাদের অঞ্চলে দিন ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ হয় তারা কি করবে? তারা কি রোজার জন্য বিশেষ কোন হিসাব করে নিবে? যাদের অঞ্চলে দিন খুব ছোট তারা কি করবে? একইভাবে যাদের অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত থাকে তারা কি করবে? তারা কিভাবে নামায ও রোজা আদায় করবে?


উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ।

যাদের অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার পরিসরে রাতদিন হয় তারা দিবাভাগে রোজা পালন করবে। দিবাভাগ ছোট হোক কিংবা বড় হোক। আলহামদুলিল্লাহ, দিবাভাগ ছোট হলেও সে ভাগে রোজা রাখা তাদের জন্য যথেষ্ট। পক্ষান্তরে যাদের দিনরাত ২৪ ঘণ্টার চেয়ে দীর্ঘ হয় যেমন–

প্রশ্ন: যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি, রমজানের রোজা রেখে পড়াশুনা করতে পারতাম না। সে জন্য দুই রমজানের কিছু রোজা আমি রাখি নি। এখন আমার উপর কি শুধু কাযা ওয়াজিব; নাকি শুধু কাফফারা ওয়াজিব? নাকি কাযা কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব?

প্রশ্ন: যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি, রমজানের রোজা রেখে পড়াশুনা করতে পারতাম না। সে জন্য দুই রমজানের কিছু রোজা আমি রাখি নি। এখন আমার উপর কি শুধু কাযা ওয়াজিব; নাকি শুধু কাফফারা ওয়াজিব? নাকি কাযা কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব?


উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ।
এক: রমজান মাসে রোজা পালন ইসলামের অন্যতম একটি ভিত্তি। যে ভিত্তিগুলোর উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:  

প্রশ্ন: রমজান মাসে যেসব মুসলিম সিয়াম পালন করে না তাদের সাথে আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত? এবং তাদেরকে রোজা রাখার প্রতি দাওয়াত দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি?

প্রশ্ন: রমজান মাসে যেসব মুসলিম সিয়াম পালন করে না তাদের সাথে আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত? এবং তাদেরকে রোজা রাখার প্রতি দাওয়াত দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি?


উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
 নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে ঐ সমস্ত মুসলমানকে রোযা রাখার প্রতি দাওয়াত দেয়া, রোজা রাখার প্রতি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা এবং এ মহান ইবাদত পালনে অবহেলা করা থেকে তাদেরকে সাবধান করা ওয়াজিব।
 ১। তাদেরকে অবহিত করা যে, রোজা একটি ফরজ ইবাদত, ইসলামে রোজার মর্যাদা অতি মহান, ইসলাম যে ভিত্তিগুলোর উপর নির্মিত রোজা সেগুলোর অন্যতম।
 ২। রোজা পালনের মহান প্রতিদান তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

প্রশ্ন: রাতের বেলা সহবাস করার পর কখনো কখনো দিবাভাগে জরায়ু থেকে বীর্য বের হয়, এতে কি রোজা ভঙ্গ হবে? এমতাবস্থায় নামাযের জন্য গোসল করা কি ফরজ হবে?

প্রশ্ন: রাতের বেলা সহবাস করার পর কখনো কখনো দিবাভাগে জরায়ু থেকে বীর্য বের হয়, এতে কি রোজা ভঙ্গ হবে? এমতাবস্থায় নামাযের জন্য গোসল করা কি ফরজ হবে?


উত্তর :সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
এক:
রাতের বেলা সহবাস করার পর দিনে যদি বীর্য বের হয় এতে রোজা ভঙ্গ হবে না। আমাদের জন্য সূর্যাস্ত থেকে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস বৈধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে,

প্রশ্ন: আমাদের কিছু মুসলিম ভাই সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত রমজান মাসের আগমন সম্পর্কে জানতে পারেননি। জানার পর থেকে তারা রোজা থেকেছেন। এই রোজা কি তাদের জন্য যথেষ্ট হবে, নাকি তাদেরকে এর বদলে কাযা রোজা রাখতে হবে?

প্রশ্ন: আমাদের কিছু মুসলিম ভাই সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত রমজান মাসের আগমন সম্পর্কে জানতে পারেননি। জানার পর থেকে তারা রোজা থেকেছেন। এই রোজা কি তাদের জন্য যথেষ্ট হবে, নাকি তাদেরকে এর বদলে কাযা রোজা রাখতে হবে?


উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
সংবাদপ্রাপ্তির পর থেকে দিনের বাকি অংশ রোজা-ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থেকে তাঁরা সঠিক কাজটি করেছেন। তবে সেই দিনের বদলে তাদেরকে আরেকটি রোযা কাযা করতে হবে। [গবেষণা ও ফাত্‌ওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১০/২৪৫)]
 সেই দিনের পরিবর্তে আরেকটি রোজা কাযা করা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হল, তারা রাত থেকে রোজার নিয়্যত করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

প্রশ্ন: রমজান মাসে মাগরিবের নামাযের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেতেন। এরপর জামাতের সাথে মাগরিবের নামায আদায় করতেন। প্রশ্ন হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরজ নামায পড়ার পর আগে কি সুন্নত আদায় করতেন নাকি ইফতার খেতেন? আমার এ প্রশ্নটি এসেছে এ ক্ষেত্রেও রাসূলের সুন্নত আদায় করার তীব্র আগ্রহ থেকে।

প্রশ্ন: রমজান মাসে মাগরিবের নামাযের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেতেন। এরপর জামাতের সাথে মাগরিবের নামায আদায় করতেন। প্রশ্ন হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরজ নামায পড়ার পর আগে কি সুন্নত আদায় করতেন নাকি ইফতার খেতেন? আমার এ প্রশ্নটি এসেছে এ ক্ষেত্রেও রাসূলের সুন্নত আদায় করার তীব্র আগ্রহ থেকে।


উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ হচ্ছে- সবচেয়ে পরিপূর্ণ আদর্শ। তিনি রোজা থাকলে কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না পেতেন তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না পেতেন তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করতেন। এরপর মাগরিবের ফরজ নামায আদায় করতেন। ঘরে এসে সুন্নত নামায আদায় করতেন।
আনাস (রাঃ) বলেন:

প্রশ্ন: রমজানের দিনের বেলায় কু-অভ্যাস এর কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে; যদি বীর্যপাত না হয়?

প্রশ্ন: রমজানের দিনের বেলায় কু-অভ্যাস এর কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে; যদি বীর্যপাত না হয়?


উত্তর :সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
হস্তমৈথুন (কু অভ্যাস) রোজা ভঙ্গের কারণ। যে ব্যক্তি হস্তমৈথুন করেছে তাকে সেদিনের রোজা কাযা করতে হবে এবং এই মহাপাপ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
শাইখ বিন বায (রহঃ) বলেন:

প্রশ্ন: কোন এক বছর রমজান মাসের যে দিনগুলোতে আমার মাসিক ছিল সেদিনগুলোতে আমি রোজা ভেঙ্গেছি। কিন্তু অনেক বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও আমি সে রোজাগুলো রাখতে পারিনি। আমি আমার দায়িত্বে থেকে যাওয়া সে রোজাগুলোর কাযা পালন করতে চাচ্ছি। কিন্তু কয়দিন আমি রোজা ভেঙ্গেছি সেটা আমার মনে নেই। এখন আমি কী করব?

প্রশ্ন: কোন এক বছর রমজান মাসের যে দিনগুলোতে আমার মাসিক ছিল সেদিনগুলোতে আমি রোজা ভেঙ্গেছি। কিন্তু অনেক বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও আমি সে রোজাগুলো রাখতে পারিনি। আমি আমার দায়িত্বে থেকে যাওয়া সে রোজাগুলোর কাযা পালন করতে চাচ্ছি। কিন্তু কয়দিন আমি রোজা ভেঙ্গেছি সেটা আমার মনে নেই। এখন আমি কী করব?


উত্তর :সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আপনাকে তিনটি কাজ করতে হবে:
এক: এই বিলম্বের কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে; যে অবহেলা হয়েছে সে অবহেলার কারণে অনুশোচনা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ রকম না করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন:

আমি প্রশ্নটি আগেও করেছিলাম। আশা করি এর উত্তর দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন। কারণ এর আগে আমি সন্তোষজনক জবাব পাইনি। প্রশ্নটি তারাবীর নামায সম্পর্কে। তারাবীর নামায কি ১১ রাকাত, নাকি ২০ রাকাত? সুন্নাহ অনুযায়ী তো তারাবীর নামায ১১ রাকাত । শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ “আলক্বিয়াম ওয়াত তারাউয়ীহ” বইতে বলেছেন তারাবী নামায ১১ রাকাত। এখন কিছু মানুষ সেসব মসজিদে নামায পড়েন যেখানে ১১ রাকাত তারাবী পড়া হয়। আবার কিছু মানুষ সেসব মসজিদে নামায পড়েন যেখানে ২০ রাকাত তারাবী পড়া হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রে এটি একটি সংবেদনশীল মাসয়ালা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যিনি ১১ রাকাত তারাবী পড়েন তিনি ২০ রাকাত সালাত আদায়কারীকে ভৎর্সনা করেন। আবার যিনি ২০ রাকাত তারাবী পড়েন তিনি ১১ রাকাত সালাত আদায়কারীকে ভৎর্সনা করেন। এটা নিয়ে একটা ফিতনা (গোলযোগ) সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মসজিদে হারামেও ২০ রাকাত তারাবী পড়া হয়। তাহলে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে সুন্নাহর বিপরীত আমল হচ্ছে কেন? কেন তাঁরা মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে ২০ রাকাত তারাবী নামায আদায় করেন?

আমি প্রশ্নটি আগেও করেছিলাম। আশা করি এর উত্তর দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন। কারণ এর আগে আমি সন্তোষজনক জবাব পাইনি। প্রশ্নটি তারাবীর নামায সম্পর্কে। তারাবীর নামায কি ১১ রাকাত, নাকি ২০ রাকাত? সুন্নাহ অনুযায়ী তো তারাবীর নামায ১১ রাকাত । শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ “আলক্বিয়াম ওয়াত তারাউয়ীহ” বইতে বলেছেন তারাবী নামায ১১ রাকাত। এখন কিছু মানুষ সেসব মসজিদে নামায পড়েন যেখানে ১১ রাকাত তারাবী পড়া হয়। আবার কিছু মানুষ সেসব মসজিদে নামায পড়েন যেখানে ২০ রাকাত তারাবী পড়া হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রে এটি একটি সংবেদনশীল মাসয়ালা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যিনি ১১ রাকাত তারাবী পড়েন তিনি ২০ রাকাত সালাত আদায়কারীকে ভৎর্সনা করেন। আবার যিনি ২০ রাকাত তারাবী পড়েন তিনি ১১ রাকাত সালাত আদায়কারীকে ভৎর্সনা করেন। এটা নিয়ে একটা ফিতনা (গোলযোগ) সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মসজিদে হারামেও ২০ রাকাত তারাবী পড়া হয়। তাহলে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে সুন্নাহর বিপরীত আমল হচ্ছে কেন? কেন তাঁরা মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে ২০ রাকাত তারাবী নামায আদায় করেন?


উত্তর:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আলেমদের ইজতিহাদনির্ভর মাসয়ালাগুলো নিয়ে কোন মুসলিমের সংবেদনশীল আচরণ করাকে আমরা সমীচীন মনে করি না। যে আচরণের কারণে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও ফিতনা সৃষ্টি হয়।
শাইখ ইবনে উছাইমীন রহিমাহুল্লাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যিনি ইমামের সাথে ১০ রাকাত তারাবী নামায পড়ে বিতিরের নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকেন, ইমামের সাথে অবশিষ্ট তারাবী নামায পড়েন না, তখন তিনি বলেন:

বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করতে আমার খুব কষ্ট হয়; যেমন বিতিরের নামাযের দোয়ায়ে কুনুত। এ কারণে আমি এ দোয়ার জায়গায় একটি সূরা পড়তাম। যখন আমি জানতে পারলাম যে, এ দোয়া পড়া ফরজ; তখন দোয়াটি মুখস্থ করার চেষ্টা করতে থাকি। আমি নামাযের মধ্যে একটি বই থেকে দেখে দেখে দোয়াটি পড়ি। বইটিকে আমার পাশে একটি টেবিলের উপরে রাখি। আমি কিবলামুখী থেকেই বই থেকে দোয়াটি পড়ি। আমার এ আমলটি কি জায়েয?

বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করতে আমার খুব কষ্ট হয়; যেমন বিতিরের নামাযের দোয়ায়ে কুনুত। এ কারণে আমি এ দোয়ার জায়গায় একটি সূরা পড়তাম। যখন আমি জানতে পারলাম যে, এ দোয়া পড়া ফরজ; তখন দোয়াটি মুখস্থ করার চেষ্টা করতে থাকি। আমি নামাযের মধ্যে একটি বই থেকে দেখে দেখে দোয়াটি পড়ি। বইটিকে আমার পাশে একটি টেবিলের উপরে রাখি। আমি কিবলামুখী থেকেই বই থেকে দোয়াটি পড়ি। আমার এ আমলটি কি জায়েয?


আলহামদুলিল্লাহ।
১. বিতিরের নামাযে কোন একটি কাগজ কিংবা পুস্তিকা থেকে দেখে দেখে দোয়ায়ে কুনুত পড়তে কোন অসুবিধা নেই; যাতে করে আপনি দোয়াটি মুখস্ত করে নিতে পারেন। মুখস্থ হয়ে গেলে আর বই দেখা লাগবে না; আপনি মুখস্থ থেকে দোয়া করতে পারবেন; যেমন যে ব্যক্তির কুরআনের বেশি কিছু মুখস্থ নেই নফল নামাযে তার জন্য কুরআন শরিফ দেখে পড়া জায়েয আছে।
শাইখ বিন বায (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: তারাবীর নামাযে কুরআন শরীফ দেখে পড়ার হুকুম কি? এবং এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর দলিল কি?

পর সমাচার আমি জিজ্ঞেস করতে চাই যে, তারাবির নামাযের শেষে আমরা জোড় সংখ্যক ও বিতির (বেজোড় সংখ্যক) নামায আদায় করি। আমি শুনেছি যে, আমাদের সর্বশেষ নামায বিতির বা বেজোড় সংখ্যা হওয়া আবশ্যক। এর মানে এটা যে, আমরা যদি রাতে আরও নামায পড়ি তখন জোড়ের সাথে বিতির (বেজোড়) নামায আবার পড়ব? নাকি বিতির নামায প্রথমে আদায় না করে পরে একবার মাত্র পড়তে হবে?

পর সমাচার আমি জিজ্ঞেস করতে চাই যে, তারাবির নামাযের শেষে আমরা জোড় সংখ্যক ও বিতির (বেজোড় সংখ্যক) নামায আদায় করি। আমি শুনেছি যে, আমাদের সর্বশেষ নামায বিতির বা বেজোড় সংখ্যা হওয়া আবশ্যক। এর মানে এটা যে, আমরা যদি রাতে আরও নামায পড়ি তখন জোড়ের সাথে বিতির (বেজোড়) নামায আবার পড়ব? নাকি বিতির নামায প্রথমে আদায় না করে পরে একবার মাত্র পড়তে হবে?


উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
কোন মুসলিম যদি বিতির নামায পড়ে ফেলার পর রাতের বেলায় আরও নামায পড়তে চায় তাহলে তিনি দুই রাকাত দুই রাকাত করে নামায আদায় করবেন। বিতির নামাযের পুনরাবৃত্তি করবেন না। রাতের সর্বশেষ নামায যেন হয় বিতির বা বেজোড় এ সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশটি মুস্তাহাব বা উত্তমতা সাব্যস্তকারী নির্দেশ; ফরযিয়ত বা আবশ্যকতা সাব্যস্তকারী নির্দেশ নয়। দেখুন 37729 নং প্রশ্নোত্তর।
শাইখ বিন বায (রহঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল:
আমি যদি রাতের প্রথমভাগে বিতির নামায পড়ে ফেলি; এরপর রাতের শেষভাগে কিয়ামুল লাইল পড়ি সেক্ষেত্রে আমি কি পদ্ধতিতে নামায পড়ব? উত্তরে তিনি বলেন: যদি আপনি বিতির নামায পড়ে ফেলেন এরপর রাতের শেষভাগে আল্লাহ আপনাকে কিয়ামুল লাইল পড়ার তাওফিক দেন তাহলে আপনি জোড় সংখ্যক অর্থাৎ দুই রাকাত দুই রাকাত করে নামায আদায় করবেন; বিতির বা বেজোড় সংখ্যক নয়। দলিল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী “এক রাতে দুইবার বিতির নেই”।
আয়েশা (রাঃ) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতির নামায পড়ে ফেলার পর বসে বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। এ দুই রাকাত নামায আদায় করার হেকমত হলো – আল্লাহই ভাল জানেন- উম্মতকে এ বিষয়ে অবহিত করা যে, বিতির নামাযের পর নামায পড়া জায়েয আছে। সমাপ্ত
বিন বাযের ফতোয়াসমগ্র (১১/৩১১)
আল্লাহই ভাল জানেন।
ফুটনোটঃhttps://islamqa.info/bn/38400

যে নারীর মাসিক শুরু হয়েছে তিনি লাইলাতুল কদরে কী করবেন? তিনি কি ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল হয়ে তার সওয়াব বাড়াতে পারবেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে এই রাতে তিনি কী কী ইবাদত করতে পারবেন?

যে নারীর মাসিক শুরু হয়েছে তিনি লাইলাতুল কদরে কী করবেন? তিনি কি ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল হয়ে তার সওয়াব বাড়াতে পারবেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে এই রাতে তিনি কী কী ইবাদত করতে পারবেন?


উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
যে নারীর মাসিক শুরু হয়েছে তিনি শুধু নামায, রোজা, বায়তুল্লাহ তওয়াফ ও মসজিদে ইতিকাফ ব্যতীত বাকী সমস্ত ইবাদত করতে পারেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি রমজানের শেষ দশকে রাত জাগতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত:

আমি কিয়ামুল লাইল ও তারাবীর নামাযের মধ্যে পার্থক্য জানতে চাই।

আমি কিয়ামুল লাইল ও তারাবীর নামাযের মধ্যে পার্থক্য জানতে চাই।


উত্তর : 
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
তারাবীর নামায কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত। এ দুইটি পৃথক কোন সালাত নয়, যেমনটি অনেক সাধারণ মানুষ ধারণা করে থাকেন। বরং রমজান মাসে যে ‘কিয়ামুল লাইল’ করা হয় সেটাকে ‘সালাতুত তারাবী’ বা বিরতিপূর্ণ নামায বলা হয়। কারণ

যারা পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে তাদের শেষ পরিণতি কী হবে? জান্নাত; না জাহান্নাম? যেমন যারা বনে জঙ্গলে বা দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাস করে, তারা কোন নবীর দেখা পায়নি, কেউ তাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে অথবা ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করেনি।

যারা পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে তাদের শেষ পরিণতি কী হবে? জান্নাত; না জাহান্নাম? যেমন যারা বনে জঙ্গলে বা দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাস করে, তারা কোন নবীর দেখা পায়নি, কেউ তাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে অথবা ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করেনি।


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
 এই শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর অভিমত হচ্ছে- কেয়ামতের দিন তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে। যে ব্যক্তি নির্দেশ মান্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি অমান্য করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। দলিল হচ্ছে-

কোন বিষয় দিয়ে দাওয়াতি কাজ শুরু করা অপরিহার্য তা নিয়ে এখানের ইসলামী দলগুলো পরস্পর মতভেদ করছে। সেটা কি রাজনৈতিক দিক, নাকি আকিদা, নাকি আখলাক...? আপনারা কোন বিষয় দিয়ে দাওয়াতী কাজ শুরু করাকে উচিত মনে করেন।

কোন বিষয় দিয়ে দাওয়াতি কাজ শুরু করা অপরিহার্য তা নিয়ে এখানের ইসলামী দলগুলো পরস্পর মতভেদ করছে। সেটা কি রাজনৈতিক দিক, নাকি আকিদা, নাকি আখলাক...? আপনারা কোন বিষয় দিয়ে দাওয়াতী কাজ শুরু করাকে উচিত মনে করেন।


শরিয়তের বিধান হচ্ছে- আকিদা দিয়ে দাওয়াতি কাজ শুরু করা। যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকিদা দিয়ে দাওয়াতি কাজ শুরু করেছিলেন এবং অন্যান্য রাসূলগণ আকিদা দিয়ে দাওয়াতি কাজ শুরু করেছেন। এর দলীল হচ্ছে- মুআয (রাঃ) এর হাদিস। (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসৎ কিছু দেখে সে যেন হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে” এ হাদিস কি এ কথা বুঝাচ্ছে যে, আমরা অসৎ কাজের প্রতিরোধ সরাসরি হাত দিয়ে শুরু করব; যদিও সে অসৎ কাজটি মুখ দিয়েই প্রতিহত করা সম্ভব।

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসৎ কিছু দেখে সে যেন হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে” এ হাদিস কি এ কথা বুঝাচ্ছে যে, আমরা অসৎ কাজের প্রতিরোধ সরাসরি হাত দিয়ে শুরু করব; যদিও সে অসৎ কাজটি মুখ দিয়েই প্রতিহত করা সম্ভব।


আলহামদুলিল্লাহ।
 অসৎ কাজে বাধা দেয়ার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্রমধারা অবলম্বন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাবধান করা, (হুকুম) স্মরণ করিয়ে দেয়া। এরপর জান্নাতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও জাহান্নাম থেকে সাবধান করা। তারপর ধমকি দেয়া ও তিরস্কার করা। এরপর হাত দিয়ে প্রতিরোধ করা। অতঃপর

আমি ও আমার দুই বান্ধবী ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য মসজিদে যেতে চাই; কিন্তু তারা দুজন পর্দা করে না। তাদের জন্য কি নিজেদের অভ্যস্ত পোশাকের সঙ্গে কেবল ওড়না পেঁচিয়ে মসজিদে যাওয়া জায়েয হবে?

আমি ও আমার দুই বান্ধবী ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য মসজিদে যেতে চাই; কিন্তু তারা দুজন পর্দা করে না। তাদের জন্য কি নিজেদের অভ্যস্ত পোশাকের সঙ্গে কেবল ওড়না পেঁচিয়ে মসজিদে যাওয়া জায়েয হবে?


আলহামদু লিল্লাহ।
এক:
পর্দাহীনতা ফেতনার সদর দরজা। পর্দাহীনতা কেবল বেপর্দা মেয়ের জন্য অনিষ্টকর নয়, তাকে যারা দেখবে তাদের জন্যেও অনিষ্টের কারণ। হতে পারে পর্দাহীনতা ও সৌন্দর্যপ্রদর্শনের ফলে কোনো দূরাচারী লোক কথা বা কাজের মাধ্যমে বেপর্দা নারীকে আক্রমন করে বসবে। পর্দাহীন নারী নিজেকে যতই ভালো দাবি করেন না কেন তাকে কেন্দ্র করে সমাজে গুনাহ ছড়ানো স্বাভাবিক। কারণ,

ইলমে দ্বীন অর্জন করার হুকুম কী?

ইলমে দ্বীন অর্জন করার হুকুম কী?


আলহামদুলিল্লাহ।
ইলমে দ্বীন অর্জন করা ফরজে কিফায়া। যদি কিছু ব্যক্তি ইলমে দ্বীন অর্জনে মনোনিবেশ করে যাদের দ্বারা প্রয়োজন পূরণ হওয়া সম্ভব তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে ইলমে দ্বীন অর্জন করা সুন্নত। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষের উপরে ইলমে দ্বীন অর্জন করা ফরজে আইন। এক্ষেত্রে নীতি হচ্ছে- ব্যক্তি যে ইবাদত বা যে লেনদেন করতে চাচ্ছে সে ইবাদত পালন ও সে লেনদেন বাস্তবায়ন করার জন্য যতটুকু ইলম প্রয়োজন ততটুকু ইলম অর্জন করা তার উপর ফরজে আইন। এর বাইরে যে ইলম সে ইলম অর্জন করা ফরজে কিফায়া। তালিবুল ইলমের উচিৎ আপন মনে এ অনুভূতি জাগ্রত রাখা যে,

ইসলামের কিছু কিছু শত্রুরা দাবী করছে যে, ইসলাম তরবারির মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে? এ ব্যাপারে আপনাদের প্রত্যুত্তর কী?

ইসলামের কিছু কিছু শত্রুরা দাবী করছে যে, ইসলাম তরবারির মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে? এ ব্যাপারে আপনাদের প্রত্যুত্তর কী?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য।
যে ব্যক্তি ইসলামের দাওয়াত শুনেছে এবং সাড়া দিয়েছে তার ক্ষেত্রে ইসলাম দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে। আর যে ব্যক্তি দাম্ভিকতা ও আত্ম-অহংকার করেছে, এক পর্যায়ে তাকে পরাজিত করা হয়েছে এবং

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ কোনটি? আমার জানা মতে এ বিষয়ে অনেকগুলো অভিমত। এর মধ্যে বিশুদ্ধ অভিমত কোনটি- কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে দলিলসহ জানতে চাই


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ কোনটি? আমার জানা মতে এ বিষয়ে অনেকগুলো অভিমত। এর মধ্যে বিশুদ্ধ অভিমত কোনটি- কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে দলিলসহ জানতে চাই


আল-হামদুলিল্লাহ।
এক:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের দিন ও মাস নির্দিষ্ট করা নিয়ে সিরাতপ্রণেতা ও ঐতিহাসিকগণ মতানৈক্য করেছেন। এ মতানৈক্যের যৌক্তিক কারণও রয়েছে। যেহেতু কারো জানা ছিল না যে, এ নবজাতক ভবিষ্যতে বড় কিছু হবে? অন্য নবজাতকের জন্মকে যেভাবে নেয়া হত তার জন্মকেও সেভাবে নেয়া হয়েছে। এ জন্য কারো পক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম তারিখ নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেননি।
ড. মুহাম্মদ তাইয়েব আন-নাজ্জার -রাহিমাহুল্লাহ- বলেন:

যে শাসক আল্লাহর আইন অনুযায়ী শাসন করে না তাকে কি নির্বাচিত করা যাবে?

যে শাসক আল্লাহর আইন অনুযায়ী শাসন করে না তাকে কি নির্বাচিত করা যাবে?


প্রশ্ন: মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য এমন কোন শাসককে নির্বাচিত করা কি জায়েয হবে যে আল্লাহর আইন অনুযায়ী শাসন করে না? উল্লেখ্য, তাকে যদি নির্বাচিত করা না হয় তাহলে সে নানাভাবে কোণঠাসা করে রাখবে; এমন কি গ্রেফতারও করতে পারে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ঈমানদারেরা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধান জাহেলী বিধান। আল্লাহ তাআলা বলেন: তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?[সূরা মায়েদা, ০৫:৫০] আল্লাহর উপর ঈমান ও রাসূলদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার পর আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন গ্রহণ করার প্রবণতাকে আল্লাহ তাআলা ‘বিস্ময়কর’ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

আমি শুনেছি ‘গণতন্ত্র’ ইসলাম থেকে নেয়া হয়েছে। এ কথাটা কি ঠিক? গণতন্ত্রের পক্ষে প্রচারণা করার হুকুম কি?


আমি শুনেছি ‘গণতন্ত্র’ ইসলাম থেকে নেয়া হয়েছে। এ কথাটা কি ঠিক? গণতন্ত্রের পক্ষে প্রচারণা করার হুকুম কি?


আলহামদুলিল্লাহ।
 এক: ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) আরবী শব্দ নয়। এটি গ্রিক ভাষার শব্দ। দুটি শব্দের সমন্বয়ে শব্দটি গঠিত: Demos অর্থ- সাধারণ মানুষ বা জনগণ। আর দ্বিতীয় শব্দটি হচ্ছে-KRATIA অর্থ- শাসন। অতএব, ডেমোক্রেসি শব্দের অর্থ হচ্ছে- সাধারণ মানুষের শাসন অথবা জনগণের শাসন।
 দুই: গণতন্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক একটি তন্ত্র। এই তন্ত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগণের হাতে অথবা তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধি (পার্লামেন্ট সদস্য) এর হাতে অর্পণ করা হয়। তাই এ তন্ত্রের মাধ্যমে গায়রুল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়; বরং

সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইআত করেছেন, খুলাফায়ে রাশেদীন এর হাতে বাইআত করেছেন সেভাবে প্রত্যেক মুসলমানকে কী অন্য কোন ব্যক্তির হাতে বাইআত করতে হবে?

সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইআত করেছেন, খুলাফায়ে রাশেদীন এর হাতে বাইআত করেছেন সেভাবে প্রত্যেক মুসলমানকে কী অন্য কোন ব্যক্তির হাতে বাইআত করতে হবে?


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
 বাইআত করতে হয় শুধুমাত্র মুসলিম শাসকের হাতে। আহলে হিল্ল ও আকদ তাঁর হাতে বাইআত করবেন। আহলে হিল্ল ও আকদ হচ্ছে- আলেম সমাজ, সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ। এ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করার মাধ্যমে তাঁর কর্তৃত্ব সাব্যস্ত হবে। সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করতে হবে না। বরং তারা তার আনুগত্য করবে যতক্ষণ না সেটা গুনাহর আওতায় না পড়ে।
আল-মাজেরি বলেন: “যারা আহলে হিল্ল ওয়াল আকদ শুধু তারা ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করলে যথেষ্ট; সর্বসাধারণের বাইআত করা ওয়াজিব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তিকে সশরীরে তার কাছে হাযির হয়ে হাতে হাত রাখতে হবে এটা জরুরী নয়। বরং প্রত্যেকে তার আনুগত্য করবে, তার কথা মেনে চলবে, তার বিরোধিতা করবে না, তার বিপক্ষে যাবে না।”[ফাতহুল বারী থেকে সংকলিত]
ইমাম নববী ‘শরহে সহিহ মুসলিম’ গ্রন্থে বলেন: বাইআতের ব্যাপারে সকল আলেম একমত যে, বাইআত শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাইআত করতে হবে এমন কোন শর্ত নেই। আহলে হিল্ল ওয়াল আকদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাইআত করতে হবে সেটাও শর্ত নয়। বরং শর্ত হচ্ছে- আলেমসমাজ, নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রভাবশালী লোকদের মধ্যে যাদেরকে একত্রিত করা সম্ভব হয় তাদের বাইআত করা...। প্রত্যেক ব্যক্তিকে ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে এসে হাতে হাত রেখে বাইআত করতে হবে এমনটি ওয়াজিব নয়। বরং সকলের উপর ওয়াজিব হচ্ছে- রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশ মেনে চলা, তার বিরোধিতা না করা, বিদ্রোহী না হওয়া।” সমাপ্ত
যেসব হাদিসে বাইআতের কথা এসেছে সেখানে বাইআত দ্বারা রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করা উদ্দেশ্য। যেমন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল কিন্তু তার গর্দানে বাইআত নেই সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল।” [সহিহ মুসলিম (১৮৫১)]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি কোন রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করেছে, হাত দিয়ে ও অন্তর থেকে তার সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছে সে যেন যথাসম্ভব সে রাষ্ট্রপ্রধানের আনুগত্য করে। যদি কোন লোক এ রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে টানাটানি করতে আসে তখন তোমরা সে লোকের গর্দান ফেলে দাও।” [সহিহ মুসলিম (১৮৪৪)] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যদি দুইজন খলিফার হাতে বাইআত করা হয় তখন শেষের জনকে হত্যা কর” [সহিহ মুসলিম (১৮৫৩)] এ হাদিসগুলো প্রত্যেকটি রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করা সংক্রান্ত; এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
বিভিন্ন দলের হাতে বাইআত করা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে শাইখ সালেহ আল-ফাওযান বলেন: বাইআত শুধুমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে করতে হবে। এ ছাড়া যত বাইআত আছে এগুলো বিদআত। এ বাইআতগুলো অনৈক্যের কারণ। একই দেশের একই রাজ্যের মুসলমানদের উপর আবশ্যকীয় হলো একজন রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করা। একাধিক বাইআত করা নাজায়েয।[আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়াস শাইখ সালেহ আল-ফাওযান ১/৩৬৭]
রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বাইআত করার পদ্ধতি: পুরুষের বাইআত করার পদ্ধতি হবে মৌখিকভাবে ও কর্মের মাধ্যমে অর্থাৎ মুসাফাহা করে। আর নারীদের ক্ষেত্রে শুধু মৌখিকভাবে। এ পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে সাহাবায়ে কেরামের বাইআতের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আয়েশা (রাঃ) এর উক্তি হচ্ছে- “না, আল্লাহর শপথ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাত কখনো কোন নারীর হাতকে স্পর্শ করেনি। তিনি তাদেরকে মৌখিকভাবে বাইআত করাতেন।”[সহিহ বুখারী (৫২৮৮) সহিহ মুসলিম (১৮৬৬)]
ইমমা নববী (রহঃ) হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেন: এ হাদিসে মহিলাদের হাত না ধরে মৌখিকভাবে বাইআত করানোর দলিল রয়েছে এবং পুরুষের হাত ধরে ও মৌখিকভাবে বাইআত করানোর দলিল রয়েছে।” সমাপ্ত
আল্লাহই ভাল জানেন।
ফুটনোটঃhttp://islamqa.info/bn/23320

ছোটো বাচ্চাদের কপালে “নজর ফোঁটা” দেওয়া ও হাতে “সুতা/তাগা” বাঁধা শিরকঃ

ছোটো বাচ্চাদের কপালে “নজর ফোঁটা” দেওয়া ও হাতে “সুতা/তাগা” বাঁধা শিরকঃ
লোকমান (আঃ) তাঁর ছোট ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন-
“নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে সবচাইতে বড় যুলুম।”
সুরা লোকমান, আয়াতঃ
শিরক সবচাইতে বড় পাপ, শিরক করে তোওবা না করে মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে প্রতিটা মুসলিম মাত্রই জানে। কিন্তু সঠিক জ্ঞানের অভাবে কোন কথা বা কাজগুলো শিরক তা অনেক মুসলিমই জানেনা। আমাদের অনেকেই না জেনে এমন কিছু কাজ করে আসলে যেগুলো শিরক। সেইজন্য নারী ও পুরুষ সকলের জন্য দ্বীন শিক্ষা করা ইসলামে ফরয করা হয়েছে যাতে করে সে বেঁচে থাকতে পারে। অথচ আজকাল মুসলিম সমাজের অবস্থা এমন হয়েছে যে মানুষ ধর্ম কি তাই জানেনা, মানবেতো দূরের কথা। পরিবারের যিনি কর্তা সেই জানেনা বুঝেনা শরীয়ত কি জিনিস, সে কি শিক্ষা দিবে তার বউ ছেলে মেয়েকে, অথচ তার উপর ফরয দায়িত্ব এগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন, আমীন।
যে প্রসংগে বলছিলাম, অনেক মা-বোন তাদের সন্তানদেরকে বাইরে নিয়ে বের হওয়ার সময় মাথায় বা কপালে “নজর ফোঁটা” দেন অথবা অসুস্থতার জন্য হাতে বা পায়ে সুতা বেঁধে রাখেন আর তারা মনে করেন এগুলো তাদের “চোখের নজর” বা অন্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। এই ধরণের ভ্রান্ত বিশ্বাস শিরক, যার উৎস হলো হিন্দুয়ানি কুসংস্কার।
চোখের নজর সত্যি। মানুষের হিংসাপূর্ণ কথা বা মনোভাব কারো ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু চোখের নজর থেকে বাঁচার জন্য এগুলো ব্যবহার করা শিরক। ছোট বাচ্চাদের চোখের নজর থেকে বাঁচার জন্য যা করতে হবে –
১. সকাল বিকাল আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
২. দুয়া করে আল্লাহর কাছে এগুলো থেকে নিরাপত্তা চাইতে হবে।
৩. চোখের নজর ও সৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ) এর জন্য এই দুয়া করতেন –
“আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ মিন কুল্লি শায়াতিনিউ ওয়া হাম্মাহ, ওয়ামিন কুল্লি আ’ইনিল লাম্মাহ।
বুখারী ৩৩৭১।
আর রোগ-ব্যধি থেকে বেঁচে থাকার জন্য হাতে সুতা/বালা বা তাগা ইত্যাদি বেঁধে রাখা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সঃ) এক ব্যক্তির হাতে একটি পিতলের বালা দেখলেন। অতঃপর বললেন, এটা কি? সে বলল, এটা দুর্বলতা রোগ থেকে মুক্তির জন্য রেখেছি। অতঃপর নবী (সঃ) বললেন, এটা খুলে ফেল। কেননা ওটা তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর যদি তুমি ওটা রাখাবস্থায় মৃত্যুবরণ কর তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জ করতে পারবে না। অর্থাৎ জান্নাতে যেতে পারবে না।
(মুসনাদে আহমাদ)
আবশ্যই পোষ্টটা সবার উয়ালে শেয়ার করুন ।
তাহলে সবাই জানতে পারবে আপনি যদি সেই সুযোগ করে দিন ।

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ