Tuesday, November 14, 2017

কবীরা গুনাহঃ ১৯২. কোন মুহ্রিমের জন্য ইহ্রামরত থাকাবস্থায় কোন পশু শিকার করা

১৯২. কোন মুহ্রিমের জন্য ইহ্রামরত থাকাবস্থায় কোন পশু শিকার করা


কোন মুহ্রিমের (যে ব্যক্তি হজ্জ বা ’উমরাহ্ করার জন্য মিক্বাত থেকে দু’টি সাদা কাপড় পরেছে) জন্য ইহ্রামরত থাকাবস্থায় কোন পশু শিকার করা হারাম।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৯১. সোনাকে রুপার পরিবর্তে অথবা রুপাকে সোনার পরিবর্তে বাকি বিক্রি করা

১৯১. সোনাকে রুপার পরিবর্তে অথবা রুপাকে সোনার পরিবর্তে বাকি বিক্রি করা


সোনাকে রুপার পরিবর্তে অথবা রুপাকে সোনার পরিবর্তে বাকি বিক্রি করা হারাম।
আবুল-মিন্হাল (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমার এক অংশীদার কিছু রুপা হজ্জ মৌসুম পর্যন্ত বাকিতে বিক্রি করে আমাকে তা জানালে আমি তাকে বললাম: কাজটি তো ঠিক করোনি। তখন সে বললো: আমি তো কাজটি বাজারেই করেছি। আমাকে তো কেউ উক্ত কাজে বাধাই দিলো না। অতঃপর আমি ব্যাপারটি বারা’ বিন্ ‘আযিব (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসলেন তখনো আমরা এ জাতীয় বেচাবিক্রি করতাম। অতঃপর তিনি একদা বললেন:
مَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ فَلَا بَأْسَ بِهِ، وَمَا كَانَ نِسِيْئَةً فَهُوَ رِبًا.
‘‘তা নগদ বা হাতে হাতে হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। তবে বাকিতে হলে তাতে সুদ হবে’’। (মুসলিম ১৫৮৯)
এরপরও বারা’ (রাঃ) আমাকে বললেন: তুমি যায়েদ বিন্ আরক্বামের নিকট যাও। কারণ, তিনি হচ্ছেন আমার চাইতেও বড়ো ব্যবসায়ী। তাই তিনি এ ব্যাপারে অবশ্যই সঠিক জানবেন। অতঃপর আমি তাঁর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও একই কথা বললেন।
বারা’ বিন্ ‘আযিব ও যায়েদ বিন্ আরক্বাম (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللهِ عَنْ بَيْعِ الذَّهَبِ بِالْوَرِقِ أَوِ الْوَرِقِ بِالذَّهَبِ دَيْنًا.
‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুপার পরিবর্তে সোনা এবং সোনার পরিবর্তে রুপা বাকিতে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন’’। (বুখারী ২১৮০, ২১৮১; মুসলিম ১৫৮৯)
 
 

কবীরা গুনাহঃ ১৯০. একটু কমবেশি করে সোনার পরিবর্তে সোনা অথবা রুপার পরিবর্তে রুপা বিক্রি করা

১৯০. একটু কমবেশি করে সোনার পরিবর্তে সোনা অথবা রুপার পরিবর্তে রুপা বিক্রি করা


একটু কমবেশি করে সোনার পরিবর্তে সোনা অথবা রুপার পরিবর্তে রুপা বিক্রি করা হারাম।
আবূ বাকরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَا تَبِيْعُوْا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلاَّ سَوَاءً بِسَوَاءٍ، وَالْفِضَّـةَ بِالْفِضَّـةِ سَوَاءً بِسَوَاءٍ، وَبِيْعُوْا الذَّهَبَ بِالْفِضَّـةِ وَالْفِضَّـةَ بِالذَّهَبِ كَيْفَ شِئْتُمْ.
‘‘তোমরা সোনাকে সোনার পরিবর্তে কোন রকম কমবেশি করা ছাড়া সমান পরিমাণে বিক্রি করবে এবং রুপাকে রুপার পরিবর্তে কোন রকম কমবেশি করা ছাড়া সমান পরিমাণে বিক্রি করবে। তবে সোনাকে রুপার পরিবর্তে এবং রুপাকে সোনার পরিবর্তে যাচ্ছে তাই বিক্রি করতে পারো’’। (বুখারী ২১৭৫, ২১৮২; মুসলিম ১৫৯০)
আবূ সা’ঈদ্ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮৯. বাম হাতে খাওয়া, সহজে হাত বের করা যায় না অথবা অসতর্কতাবস্থায় লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এমনভাবে কাপড় পরিধান করা

১৮৯. বাম হাতে খাওয়া, সহজে হাত বের করা যায় না অথবা অসতর্কতাবস্থায় লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এমনভাবে কাপড় পরিধান করা


বাম হাতে খাওয়া, সহজে হাত বের করা যায় না অথবা অসতর্কতাবস্থায় লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এমনভাবে কাপড় পরিধান করা হারাম।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮৮. কোন মুহরিমের জন্য বিবাহ্ করা ও বিবাহ্’র প্রস্তাব দেয়া


১৮৮. কোন মুহ্রিমের জন্য বিবাহ্ করা ও বিবাহ্’র প্রস্তাব দেয়া


কোন মুহ্রিমের জন্য বিবাহ্ করা ও বিবাহ্’র প্রস্তাব দেয়া হারাম। মুহ্রিম বলতে যে ব্যক্তি হজ্জ বা ’উমরাহ্ করার জন্য মিক্বাত থেকে দু’টি সাদা কাপড় পরে ইহ্রাম বেঁধেছে তাকেই বুঝানো হয়।
’উস্মান বিন্ ‘আফ্ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮৭. কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা

১৮৭. কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা


কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর দেখা এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা হারাম। আর কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা তো অবশ্যই হারাম তা তো আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। সতর বলতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মানব শরীরের যে অঙ্গ দেখা অন্যের জন্য হারাম উহাকেই বুঝানো হয়।
বিশুদ্ধ মতে কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর তার নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর হাত, পা, ঘাড় ও মাথা ছাড়া তার বাকি অংশটুকু তথা গলা বা ঘাড় থেকে হাঁটু পর্যন্ত। অনুরূপভাবে কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন বেগানা মহিলার পুরো শরীরটিই সতর। তবে কোন পুরুষের জন্য তার কোন মাহ্রাম (যাকে চিরতরে বিবাহ্ করা তার জন্য হারাম) মহিলার সতর ততটুকুই যতটুকু কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর।
আবূ সা’ঈদ্ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮৬. কোন গুনাহ্’র কাজে মানত করে তা পুরা করা

১৮৬. কোন গুনাহ্’র কাজে মানত করে তা পুরা করা


কোন গুনাহ্’র কাজে মানত করে তা পুরা করা হারাম। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে কসমের কাফ্ফারা দিতে হবে।
‘আয়েশা(রাঃ)(রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
مَنْ نَذَرَ أَنْ يُّطِيْعَ اللهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللهَ فَلَا يَعْصِهِ.
‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার আনুগত্য (ইবাদাত) করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে তথা মানত পুরা করে নেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার অবাধ্যতা তথা গুনাহ্’র কাজ করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয় তথা মানত পুরা না কওে’’।
(আবূ দাউদ ৩২৮৯; তিরমিযী ১৫২৬; ইব্নু মাজাহ্ ২১৫৬)
‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) আরো বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮৫. কোন নির্দোষকে অন্যের দোষে দন্ডিত করা

১৮৫. কোন নির্দোষকে অন্যের দোষে দন্ডিত করা


কোন নির্দোষকে অন্যের দোষে দন্ডিত করা হারাম।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلاَّ عَلَيْهَا، وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ أُخْرَى».
‘‘প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কৃতকর্মের জন্য নিজেই দায়ী। কোন পাপীই অন্যের পাপের বোঝা নিজে বহন করবে না’’। (আন্‘আম : ১৬৪)
আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন:
«وَمَنْ يَّكْسِبْ خَطِيْئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيْئًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَّإِثْمًا مُّبِيْنًا».
‘‘যে ব্যক্তি নিজেই কোন অপরাধ বা পাপ করে তা নিরপরাধ কোন ব্যক্তির উপর আরোপ করে তা হলে সে নিজেই উক্ত অপবাদ ও প্রকাশ্য গুনাহ্ বহন করবে’’। (নিসা’ : ১১২)
‘আমর বিন্ আ’হ্ওয়াস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিদায় হজ্জের দিবসে নিম্নোক্ত কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন:

উলঙ্গ হয়ে গোসল করা যাবে কি? উলঙ্গ হয়ে গোসল করার সময় ওযু করলে , সেই ওযু দিয়ে নামাজ হবে কি ?

উলঙ্গ হয়ে গোসল করা যাবে কি? উলঙ্গ হয়ে গোসল করার সময় ওযু করলে , সেই ওযু দিয়ে নামাজ হবে কি ?

কবীরা গুনাহঃ ১৮৪. হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা

১৮৪. হারাম বস্ত্ত দিয়ে চিকিৎসা করা


হারাম বস্ত্ত দিয়ে চিকিৎসা করাও হারাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللهَ تَعَالَى خَلَقَ الدَّاءَ وَالدَّوَاءَ، فَتَدَاوَوْا، وَلَا تَتَدَاوَوْا بِحَرَامٍ.
‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা রোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তার সাথে তার চিকিৎসাও। সুতরাং রোগ হলে তোমরা তার চিকিৎসা করো। তবে হারাম বস্ত্ত দিয়ে চিকিৎসা করো না’’। (স্বা’হী’হুল-জা’মি’, হাদীস ১৬৩৩)
আল্লাহ্ তা‘আলা হারাম বস্ত্তর মধ্যে এ উম্মতের জন্য কোন চিকিৎসাই রাখেননি।
উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮৩. কোন মুহরিমের জন্য জামা, পায়জামা, পাগড়ি, টুপি বা মোজা পরিধান করা

১৮৩. কোন মুহ্রিমের জন্য জামা, পায়জামা, পাগড়ি, টুপি বা মোজা পরিধান করা


কোন মুহ্রিমের (যে ব্যক্তি হজ্জ বা ’উমরাহ্ করার জন্য মিক্বাত থেকে দু’টি সাদা কাপড় পরে ইহ্রামের নিয়্যাত করেছে) জন্য জামা, পায়জামা, পাগড়ি, টুপি ও মোজা পরিধান করা হারাম।
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮২. হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া

১৮২. হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া


হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া হারাম।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَا تَحَاسَدُوْا، وَلَا تَنَاجَشُوْا، وَلَا تَبَاغَضُوْا، وَلَا تَدَابَرُوْا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا، الْـمُسْلِمُ أَخُـوْ الـْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ، التَّقْوَى هَاهُنَا، وَيُشِيْرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، بِحَسْبِ امْرِئٍ مِّنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْـمُسْلِمَ، كُلُّ الْـمُسْلِمِ عَلَى الْـمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ.
‘‘তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ করো না। ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করো না। একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। কেউ অন্যের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করবে না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা‘আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। সত্যিই এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। তাই

কবীরা গুনাহঃ ১৮১. ইদ্দত চলাকালীন সময় বিধবা মহিলার শরীয়ত নিষিদ্ধ যে কোন কাজ করা

১৮১. ইদ্দত চলাকালীন সময় বিধবা মহিলার শরীয়ত নিষিদ্ধ যে কোন কাজ করা


ইদ্দত চলা কালীন সময় বিধবা মহিলার শরীয়ত নিষিদ্ধ যে কোন কাজ করা হারাম।
উম্মে ‘আত্বিয়্যাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৮০. সাম্প্রদায়িকতা অথবা জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করে এমন কথা বলা

১৮০. সাম্প্রদায়িকতা অথবা জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করে এমন কথা বলা


সাম্প্রদায়িকতা অথবা জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করে এমন কথা বলা হারাম। মূলতঃ মুনাফিকরাই এ জাতীয় কর্মকান্ডে উসকানি দিয়ে থাকে।
জাবির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তখন জনৈক মুহাজির ছেলে জনৈক আন্সারী ছেলের সাথে দ্বন্দ্ব করে তার পাছায় আঘাত করে। তখন আন্সারী ছেলেটি এ বলে ডাক দিলো: হে আন্সারীরা! তোমরা কোথায়? তোমরা আমার সহযোগিতা করো। এ আমাকে মেরে ফেলছে। মুহাজির ছেলেটি বললো: হে মুহাজিররা! তোমরা কোথায়? তোমরা আমার সহযোগিতা করো। এ আমাকে মেরে ফেলছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এ কি? জাহিলী যুগের ডাক শুনা যাচ্ছে কেন ? সাহাবাগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উক্ত ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭৯. ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় কোন মহিলার সাথে সহবাস করা

১৭৯. ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় কোন মহিলার সাথে সহবাস করা


ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় কোন মহিলার সাথে সহবাস করা হারাম। ইদ্দত বলতে এখানে কাফিরদের সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে কোন বিবাহিতা বান্দিকে ধরে আনার পর তার একটি ঋতুস্রাব অতিক্রম করা অথবা তার পেটে বাচ্চা থাকলে তার বাচ্চাটি প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাকে বুঝানো হয়।
রুওয়াইফি’ বিন্ সাবিত আন্সারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ’হুনাইন যুদ্ধের সময় বলতে শুনেছি তিনি বলেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭৮. মদীনার হারাম এলাকার কোন গাছ কাটা, শিকার তাড়ানো এবং তাতে কোন বিদ্‘আত করা

১৭৮. মদীনার হারাম এলাকার কোন গাছ কাটা, শিকার তাড়ানো এবং তাতে কোন বিদ্‘আত করা


মদীনার হারাম এলাকার কোন গাছ কাটা, শিকার তাড়ানো এবং তাতে কোন বিদ্‘আত করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
الـْمَدِيْنَةُ حَرَامٌ مَا بَيْنَ عَائِرَ إِلَى ثَوْرٍ، لَا يُخْتَلَى خَلَاهَا، وَلَا يُنَفَّرُ صَيْدُهَا، وَلَا تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهَا إِلاَّ لِمَنْ أَشَادَ بِهَا، وَلَا يَصْلُحُ لِرَجُلٍ أَنْ يَحْمِلَ فِيْهَا السِّلَاحَ لِقِتَالٍ، وَلَا يَصْلُحُ أَنْ يُقْطَعَ مِنْهَا شَجَرَةٌ إِلاَّ أَنْ يَعْلِفَ رَجُلٌ بَعِيْرَهُ.
‘‘মদীনার ‘আয়ির পাহাড় থেকে সাউর পাহাড় পর্যন্ত হারাম এলাকা। সেখানকার

কবীরা গুনাহঃ ১৭৭. কারোর বিক্রির উপর অন্যের বিক্রি অথবা কারোর বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যের প্রস্তাব

১৭৭. কারোর বিক্রির উপর অন্যের বিক্রি অথবা কারোর বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যের প্রস্তাব


কারোর বিক্রির উপর অন্যের বিক্রি অথবা কারোর বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যের প্রস্তাব হারাম।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَا يَبِعِ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيْهِ، وَلَا يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيْهِ إِلاَّ أَنْ يَأْذَنَ لَهُ.
‘‘কোন ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করবে না এবং কোন ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর দ্বিতীয় প্রস্তাব দিবে না যতক্ষণ না তাকে পূর্ব ব্যক্তি উক্ত কাজের অনুমতি দেয়’’। (মুসলিম ১৪১২)
’উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
الْـمُؤْمِنُ أَخُوْ الـْمُؤْمِنِ، فَلَا يَحِلُّ لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَبْتَاعَ عَلَى بَيْعِ أَخِيْهِ، وَلَا يَخْطُبَ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيْهِ حَتَّى يَذَرَ.
‘‘মু’মিন তো মু’মিনেরই ভাই। সুতরাং কোন মু’মিনের জন্য হালাল হবে না তার অন্য কোন মু’মিন ভাইয়ের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করা এবং তার অন্য কোন মু’মিন ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর দ্বিতীয় প্রস্তাব দেয়া যতক্ষণ না সে উক্ত বিক্রি বা বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়’’। (মুসলিম ১৪১৪)

কবীরা গুনাহঃ ১৭৬. মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য যে কোন উন্নত মানের পোশাক পরিধান করা

১৭৬. মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য যে কোন উন্নত মানের পোশাক পরিধান করা


মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য যে কোন উন্নত মানের পোশাক পরিধান করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭৫. কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া

১৭৫. কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া


কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭৪. কোন অন্ধকে পথভ্রষ্ট করা

১৭৪. কোন অন্ধকে পথভ্রষ্ট করা


কোন অন্ধকে পথভ্রষ্ট করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭৩. কাফিরদের সাথে যে কোনভাবে মিল ও সাদৃশ্য বজায় রাখা

১৭৩. কাফিরদের সাথে যে কোনভাবে মিল ও সাদৃশ্য বজায় রাখা


কাফিরদের সাথে যে কোনভাবে মিল ও সাদৃশ্য বজায় রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوْبُهُمْ لِذِكْرِ اللهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ، وَلَا يَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ أُوْتُوْا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوْبُهُمْ، وَكَثِيْرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُوْنَ».
‘‘মু’মিনদের কি এখনো আল্লাহ্ তা‘আলার স্মরণ ও অবতীর্ণ অহীর সত্য বাণী শুনে অন্তর বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি ?! উপরন্তু তারা যেন পূর্বেকার আহ্লে কিতাবদের মতো না হয় বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর যাদের অন্ত:করণ কঠিন হয়ে পড়েছিলো। মূলতঃ তাদের অধিকাংশই তো ফাসিক’’। (’হাদীদ : ১৬)
উক্ত আয়াতে যদিও তাদের ন্যায় অন্তরকে কঠিন বানাতে নিষেধ করা হয়েছে যা একমাত্র গুনাহ্’রই কুফল তবুও যে কোনভাবে তাদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখাও শরীয়তে নিষিদ্ধ। যা বিপুল সংখ্যক হাদীস ভান্ডার কর্তৃক প্রমাণিত। যার কিয়দংশ বিষয় ভিত্তিক নিম্নে প্রদত্ত হলো:
নামায সংক্রান্ত:
শাদ্দাদ্ বিন্ আউস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭২. সতিনের তালাক অথবা কারোর কাছে বিবাহ্ বসার জন্য তার পূর্বের স্ত্রীর তালাক চাওয়া

১৭২. সতিনের তালাক অথবা কারোর কাছে বিবাহ্ বসার জন্য তার পূর্বের স্ত্রীর তালাক চাওয়া


সতিনের তালাক অথবা কারোর কাছে বিবাহ্ বসার জন্য তার পূর্বের স্ত্রীর তালাক চাওয়া হারাম।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تَسْأَلُ طَلَاقَ أُخْتِهَا لِتَسْتَفْرِغَ صَحْفَتَهَا، فَإِنَّمَا لَهَا مَا قُدِّرَ لَهَا، وَفِيْ رِوَايَةٍ: لَا تَسْأَلِ الـْمَرْأَةُ طَلَاقَ الْأُخْرَى لِتَكْتَفِئَ مَا فِيْ إِنَائِهَا.
‘‘কোন মহিলার জন্য হালাল হবে না তার কোন মুসলিম বোনের তালাক চাওয়া যাতে করে তার স্বামীর ভাগটুকু পুরোপুরি নিজের আয়ত্বে এসে যায়। কারণ, সে তো তাই পাবে যা তার ভাগ্যে লেখা আছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, কোন মহিলা যেন অন্য মহিলার তালাক না চায় যাতে করে তার স্বামীর ভাগটুকু পুরোপুরি নিজের আয়ত্বে এসে যায়’’। (বুখারী ৫১৫২; মুসলিম ১৪১৩)

কবীরা গুনাহঃ ১৭১. স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন মহিলার নফল রোযা রাখা অথবা তার ঘরে কাউকে ঢুকতে দেয়া

১৭১. স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন মহিলার নফল রোযা রাখা অথবা তার ঘরে কাউকে ঢুকতে দেয়া


স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন মহিলার নফল রোযা রাখা অথবা তার ঘরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হারাম।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৭০. কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া

১৭০. কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া


কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া হারাম।
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর ও ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُّعْطِيَ عَطِيَّةً أَوْ يَهَبَ هِبَةً فَيَرْجِعَ فِيْهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيْمَا يُعْطِـيْ وَلَدَهُ، وَمَثَلُ الَّذِيْ يُعْطِيْ الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيْهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَأْكُلُ فَإِذَا شَبِعَ قَاءَ، ثُمَّ عَادَ فِيْ قَيْئِهِ.
‘‘কারোর জন্য হালাল হবে না যে, সে কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নিবে। তবে পিতা কোন কিছু নিজ সন্তানকে দিয়ে তা আবার ফেরত নিতে পারে। যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সে কুকুরের ন্যায় যে পেট ভরে খেয়ে বমি করে দেয়। অতঃপর সে বমিগুলো আবার নিজে খায়’’।
(আবূ দাউদ ৩৫৩৯; নাসায়ী ৩৬৯২; ইব্নু মাজাহ্ ২৪০৬, ২৪০৭, ২৪১৩, ২৪১৪, ২৪১৫)
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৬৯. ঋণ ও বিক্রি, এক চুক্তিতে দু’ বিক্রি, মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা

১৬৯. ঋণ ও বিক্রি, এক চুক্তিতে দু’ বিক্রি, মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা


ঋণ ও বিক্রি, এক চুক্তিতে দু’ বিক্রি, মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা হারাম।
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আত্তাব বিন্ আসীদ্ (রাঃ) কে মক্কায় পাঠানোর সময় বলেন:

সুন্নাতে খাৎনা দেওয়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বয়স কত?

প্রশ্ন (৫/৪৫) : সুন্নাতে খাৎনা দেওয়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বয়স কত?
-যাকির, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
উত্তর : সুন্নাতে খাৎনা করার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে সাবালক হওয়ার পূর্বে করাই উত্তম (নববী, আল-মাজমূ‘ ১/৩০৩)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, খাৎনা যখন ইচ্ছা করা যায়। তবে সাবালক হওয়ার পূর্বেই করা উচিৎ যেমনটি আরবরা করে থাকে... (আল-ফাতাওয়াল কুবরা ১/২৭৫)। ইবনুল মুনযির বলেন,

সকাল ও সন্ধ্যার দুয়া ও যিকির

সকাল ও সন্ধ্যার দুয়া ও যিকির
বিসমিল্লাহ। ওয়ালহা'মদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ'লা রাসূলিল্লাহ। আম্মা বা'দ।
আল্লাহ বলেছেনঃ
“তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে নিচুস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হইয়ো না”। (সূরা আ’রাফঃ ২০৫)
* এ (সন্ধ্যা) হল আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়।
তিনি আরও বলেছেনঃ
“সূর্যের উদয় ও অস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা কর”। (সূরা ত্বাহাঃ ১৩০)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

প্রশ্ন: আল্লাহর হুকুম ছাড়া কি বিয়ে হয় না? আল্লাহর হুকুমেই কি সব কিছু হয়?

প্রশ্ন: আল্লাহর হুকুম ছাড়া কি বিয়ে হয় না? আল্লাহর হুকুমেই কি সব কিছু হয়?
---------------------------------------
উত্তর:
আল্লাহর সৃষ্টি জগতে তার লিখিত তকদীর এর বাইরে কোন কিছুই ঘটে না । যা তিনি তার বিশাল ভবিষ্যত জ্ঞানের আলোকে সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার পূর্বেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। যেমন:
▪ আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ
“আমি প্রত্যেক বস্তুকে সুপরমিতভাবে সৃষ্টি করেছি।” (সূরা ক্বামার: ৫০)
▪ আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

প্রত্যেক ওজু শেষে লজ্জাস্থান বরাবর কাপরের উপর পানি ছিটানো নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জরুরী কি?

প্রত্যেক ওজু শেষে লজ্জাস্থান বরাবর কাপরের উপর পানি ছিটানো নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জরুরী কি?
=============================
লজ্জাস্থান বরাবর কাপড়ের উপর পানি ছিটানো নারী-পুরুষের জন্য মুস্তাহাব।
ওজু শেসে হাতে পানি নিয়ে কাপড়ের উপর থেকে লজ্জাস্থান বরাবর ছিটিয়ে দেবে। বিশেষ করে পেশাব করার পর ওযু করলে এই আমল অধিকরুপে ব্যবহার্য। যেহেতু পেশাব করে তাহারতের পর দু-এক কাতরা পেশাব বের হওয়ার অসঅসা থাকে। সুতরাং পানি ছিটিয়ে দিলে ঐ অসঅসা দূর হয়ে যায়। (আবূদাঊদ, সুনান ১৫২-১৫৪, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ৩৭৪-৩৭৬নং) এই আমল খোদ জিবরাঈল (আঃ) মহানবী (সাঃ) কে শিক্ষা

Monday, November 13, 2017

১৬৮. তিনটি বিশেষ সময়ে নফল নামায পড়া ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা তিনটি বিশেষ সময়ে নফল নামায পড়া ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হারাম। ’উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ  يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيْهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُـرَ فِيْهِنَّ مَوْتَانَا، حِيْنَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَحِيْنَ يَقُوْمُ قَائِمُ الظَّهِيْرَةِ حَتَّى تَمِيْلَ الشَّمْسُ، وَحِيْنَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوْبِ حَتَّى تَغْرُبَ. ‘‘তিনটি সময় এমন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সে সময়গুলোতে নামায পড়তে অথবা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। সূর্য উঠার সময় যতক্ষণ না তা পূর্ণভাবে উঠে যায়। ঠিক দুপুর বেলায় যতক্ষণ না তা মধ্যাকাশ থেকে সরে যায়। সূর্য ডুবার সময় যতক্ষণ না তা সম্পূর্ণরূপে ডুবে যায়’’। (মুসলিম ৮৩১) ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: إِذَا طَلَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوْا الصَّلَاةَ حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوْا الصَّلَاةَ حَتَّى تَغِيْبَ. ‘‘যখন সূর্যের কিয়দংশ উদিত হয় তখন নামায পড়তে একটু দেরি করো যতক্ষণ না সূর্য সম্পূর্ণরূপে উঠে যায় এবং যখন সূর্যের কিয়দংশ ডুবে যায় তখন নামায পড়তে একটু দেরি করো যতক্ষণ না সূর্য সম্পূর্ণরূপে ডুবে যায়’’। (বুখারী ৫৮৩)

১৬৮. তিনটি বিশেষ সময়ে নফল নামায পড়া ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা


তিনটি বিশেষ সময়ে নফল নামায পড়া ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হারাম।
’উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيْهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُـرَ فِيْهِنَّ مَوْتَانَا، حِيْنَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَحِيْنَ يَقُوْمُ قَائِمُ الظَّهِيْرَةِ حَتَّى تَمِيْلَ الشَّمْسُ، وَحِيْنَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوْبِ حَتَّى تَغْرُبَ.
‘‘তিনটি সময় এমন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সে সময়গুলোতে নামায পড়তে অথবা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। সূর্য উঠার সময় যতক্ষণ না তা পূর্ণভাবে উঠে যায়। ঠিক দুপুর বেলায় যতক্ষণ না তা মধ্যাকাশ থেকে সরে যায়। সূর্য ডুবার সময় যতক্ষণ না তা সম্পূর্ণরূপে ডুবে যায়’’। (মুসলিম ৮৩১)
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৬৭. কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা অথবা গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করা

১৬৭. কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা অথবা গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করা


কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা অথবা গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করা হারাম।
আবূ মাস্’ঊদ্ আন্সারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللهِ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ.
 ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা এবং গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করতে’’। (মুসলিম ১৫৬৭)
রা’ফি’ বিন্ খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৬৬. শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-শস্য বিক্রি করা

১৬৬. শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-শস্য বিক্রি করা


শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-শস্য বিক্রি করা হারাম।
জাবির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللهِ عَنْ بَيْعِ الثَّمَـرِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُـهُ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: حَتَّى يَطِيْبَ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: عَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ حَتَّى تُطْعِمَ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: حَتَّى تُشْقِهَ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: حَتَّى تُشْقِحَ وَفِيْ رِوَايَةٍ: وَتَأْمَنَ الْعَاهَةَ.
‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কোন ফল বা শস্য বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা খাওয়ার উপযুক্ত হয়, পাকে তথা লাল বা হলদে রং ধারণ করে কিংবা তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হয়’’।
(মুসলিম ১৫৩৬ স্বা’হীহুল-জা’মি’, হাদীস ৬৯২৪)
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

১৬৫. কবর বা মাজারের দিকে ফিরে নামায পড়া

১৬৫. কবর বা মাজারের দিকে ফিরে নামায পড়া


কবর বা মাজারের দিকে ফিরে নামায পড়া হারাম।
আবূ মার্সাদ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَا تَجْلِسُوْا عَلَى الْقُبُوْرِ وَلَا تُصَلُّوْا إِلَيْهَا.
‘‘তোমরা কবরের উপর বসোনা এবং উহার দিকে ফিরে নামাযও পড়ো না’’। (মুসলিম ৯৭২; আবূ দাউদ ৩২২৯ ইব্নু খুযাইমাহ্, হাদীস ৭৯৩)
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৬৪. বংশ নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা

১৬৪. বংশ নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা


বংশ নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আবূ মালিক আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ فِيْ أُمَّتِيْ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، لَا يَتْرُكُوْنَهُنَّ: الْفَخْـرُ فِيْ الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِيْ الْأَنْسَابِ، وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُوْمِ، وَالنِّيَاحَةُ.
‘‘আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি কাজ চালু থাকবে। তারা তা কখনোই ছাড়বে না। বংশ নিয়ে গৌরব, অন্যের বংশে আঘাত, কোন কোন নক্ষত্রের উদয়াস্তের কারণে বৃষ্টি হয় বলে বিশ্বাস এবং বিলাপ’’। (মুসলিম ৯৩৪ ’হা-কিম : ১/৩৮৩ ত্বাবারানি/কাবীর, হাদীস ৩৪২৫, ৩৪২৬ বায়হাক্বী: ৪/৬৩; বাগাওয়ী ১৫৩৩ ইব্নু আবী শাইবাহ্ : ৩/৩৯০; আহমাদ : ৫/৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৪ ‘আব্দুর রায্যাক : ৩/৬৬৮৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

কবীরা গুনাহঃ ১৬৩. নামাযের ভেতর দো‘আ অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো

১৬৩. নামাযের ভেতর দো‘আ অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো


নামাযের ভেতর দো‘আ অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো হারাম।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ