Friday, December 1, 2017

প্রশ্ন (১/৮১) : আমি ইরাক প্রবাসী। আশূরা উপলক্ষে শী‘আরা বিশেষ খাবার রান্না করে এবং বলে যে, এই খাবার আল্লাহর জন্য, কিন্তু এর ছওয়াব হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য। আমি যদি তা না খাই তবে অনেক সমস্যায় পতিত হ’তে হবে। এক্ষণে সেটা খাওয়া কি জায়েয হবে?

প্রশ্ন (১/৮১) : আমি ইরাক প্রবাসী। আশূরা উপলক্ষে শী‘আরা বিশেষ খাবার রান্না করে এবং বলে যে, এই খাবার আল্লাহর জন্য, কিন্তু এর ছওয়াব হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য। আমি যদি তা না খাই তবে অনেক সমস্যায় পতিত হ’তে হবে। এক্ষণে সেটা খাওয়া কি জায়েয হবে?

-আযীয, বছরা, ইরাক।

উত্তর : আশূরা উপলক্ষে ফেরাঊনের কবল থেকে নাজাতে মূসার শুকরিয়ার নিয়তে দু’দিন নফল ছিয়াম রাখা ব্যতীত আর সকল কর্মই বিদ‘আত। অতএব

প্রশ্ন (২/৮২) : বাংলাদেশের বর্তমান আদালতগুলি বৃটিশ আইনে পরিচালিত হয়। এক্ষণে এখানে আইন পেশায় অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

প্রশ্ন (২/৮২) : বাংলাদেশের বর্তমান আদালতগুলি বৃটিশ আইনে পরিচালিত হয়। এক্ষণে এখানে আইন পেশায় অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

-মিছবাহুল ইসলাম, পাবনা।
উত্তর : সাধারণভাবে আইনী সহায়তা কোন নাজায়েয পেশা নয়। তবে সেখানে সর্বদা সত্যকে বিজয়ী করা, যুলুমের প্রতিরোধ করা এবং মানুষকে তার হক ফেরত দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। যাতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হয় এবং অপরাধী ছাড়া না পায়। আল্লাহ বলেন,

প্রশ্ন (৩/৮৩) : শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) সূরা ক্বাছাছ ৮৮ আয়াতের তা’বীলের কারণে ইমাম বুখারীকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন কি?

প্রশ্ন (৩/৮৩) : শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) সূরা ক্বাছাছ ৮৮ আয়াতের তা’বীলের কারণে ইমাম বুখারীকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন কি?

-গোলাম কাদের, চট্টগ্রাম।
উত্তর : নাঊযুবিল্লাহ! ইমাম বুখারী (রহঃ)-কে কাফের আখ্যায়িত করার প্রশ্নই  আসে না।  আলবানীসহ সকল যুগের  বিদ্বানগণের নিকট ইমাম বুখারী (রহঃ) পরম শ্রদ্ধার পাত্র। মূলতঃ বিষয়টি যে প্রসঙ্গে উত্থাপিত হয়েছে তা হ’ল, আল্লাহর বাণী  ‘সব কিছুই ধ্বংস হবে তাঁর চেহারা ব্যতীত’ (ক্বাছাছ ৮৮) আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘ইল্লা ওয়াজহাহু’ (তাঁর চেহারা ব্যতীত)-এর অর্থ ইমাম বুখারী (রহঃ) ‘তাঁর রাজত্ব’ করেছেন (বুখারী ৬/১১২, সূরা ক্বাছাছের আলোচনা)। যা বাহ্যদৃষ্টিতে তা’বীল মনে হয়। এর উত্তর হ’ল, প্রথমতঃ ছহীহ বুখারীর নাসাফী বর্ণিত নুসখা মোতাবেক তাফসীরটি ইমাম বুখারীর নয়, বরং মা‘মারের (ফাৎহুল বারী ৮/৫০৫)। দ্বিতীয়তঃ

প্রশ্ন (৫/৮৫) : কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে বেশী ছওয়াব পাওয়ার জন্য কষ্টকর অবস্থাকে বেছে নেয়া কি ব্যক্তির জন্য শরীআ‘তসম্মত? যেমন- গরম পানি থাকা সত্ত্বেও ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযূ করা কিংবা নিকটে মসজিদ থাকা সত্ত্বেও দূরের মসজিদে যাওয়া। কারণ আমি শুনেছি, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্টকর বিষয় খুঁজে বেড়ায় সে ছওয়াব পাবে না। সঠিক উত্তর জানতে চাই।

প্রশ্ন (৫/৮৫) : কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে বেশী ছওয়াব পাওয়ার জন্য কষ্টকর অবস্থাকে বেছে নেয়া কি ব্যক্তির জন্য শরীআ‘তসম্মত? যেমন- গরম পানি থাকা সত্ত্বেও ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযূ করা কিংবা নিকটে মসজিদ থাকা সত্ত্বেও দূরের মসজিদে যাওয়া। কারণ আমি শুনেছি, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্টকর বিষয় খুঁজে বেড়ায় সে ছওয়াব পাবে না। সঠিক উত্তর জানতে চাই।

-পারভেয আলম সরদার, বিনোদপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ইবাদত করার জন্য অধিকতর কষ্টকর অবস্থাকে ছওয়াব হাছিলের লক্ষ্য বানানো শরী‘আতসম্মত নয়। এতে কোন ছওয়াব নেই। কেননা কৃচ্ছ্রতা সাধন ইসলামী ইবাদতের ঈপ্সিত লক্ষ্য নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (৬/৮৬) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয হয় না। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রেও কি এটি প্রযোজ্য হবে? যেমন কোন ব্যক্তির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ঋণ নেয়া আছে। যে ঋণ পরিশোধ করতে তার আজীবন লেগে যাবে। এই ব্যক্তির উপর কি হজ্জ ফরয?

প্রশ্ন (৬/৮৬) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয হয় না। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রেও কি এটি প্রযোজ্য হবে? যেমন কোন ব্যক্তির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ঋণ নেয়া আছে। যে ঋণ পরিশোধ করতে তার আজীবন লেগে যাবে। এই ব্যক্তির উপর কি হজ্জ ফরয?

-মীর কাসেম আলী, বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর: যদি কোন ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা আবশ্যিক হয়, তাহ’লে হজ্জের উপর ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। কেননা হজ্জ ফরয হওয়ার আগেই ঋণ হয়েছে। কিন্তু যদি তা দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হয়, সেক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি মনে করে যে,

প্রশ্ন (৭/৮৭) : জনৈক ব্যক্তি মসজিদের পার্শ্ববর্তী বাড়ী থেকে শয়তান তাড়ানোর জন্য আযান দিয়ে থাকে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন (৭/৮৭) : জনৈক ব্যক্তি মসজিদের পার্শ্ববর্তী বাড়ী থেকে শয়তান তাড়ানোর জন্য আযান দিয়ে থাকে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?

-আনোয়ার হোসাইন, শাখারীপাড়া, নাটোর।

উত্তর : মুওয়াযযিন আযান ও ইক্বামত দিলে শয়তান বায়ু নিঃসরণ করতে করতে পালিয়ে যায়’ (বুখারী হা/৬০৮; মুসলিম হা/৩৮৯; মিশকাত হা/৬৫৫)। কিন্তু শয়তান তাড়ানোর জন্য পৃথকভাবে আযান দেওয়ার কোন বিধান নেই। তবে এজন্য ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্ব-নির রজীম’ পাঠ করা যায়

প্রশ্ন (৮/৮৮) : মায়ের গোসলের পানি দ্বারা বরকত হাছিল করা যাবে কি?

প্রশ্ন (৮/৮৮) : মায়ের গোসলের পানি দ্বারা বরকত হাছিল করা যাবে কি?

-মুবারক হোসাইন, আটঘরিয়া, পাবনা।
উত্তর : এটি বিদ‘আতী কাজ। রাসূল (ছাঃ) ব্যতীত অন্য কারো পানি বা অন্য কিছু দ্বারা বরকত হাছিলের কামনা করা বিদ‘আত (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৭/৬৭; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৭/৬৫)। ইমাম শাত্বেবী বলেন,

প্রশ্ন (৯/৮৯) : ফেরাঊন যখন নীল নদে পানিতে ডুবে যাচ্ছিল তখন জিব্রীল (আঃ) তার মুখে মাটি প্রবেশ করিয়েছিলেন যাতে সে কালেমা পড়ে আল্লাহর রহমত লাভ করতে না পারে। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?

প্রশ্ন (৯/৮৯) : ফেরাঊন যখন নীল নদে পানিতে ডুবে যাচ্ছিল তখন জিব্রীল (আঃ) তার মুখে মাটি প্রবেশ করিয়েছিলেন যাতে সে কালেমা পড়ে আল্লাহর রহমত লাভ করতে না পারে। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?

-আব্দুল আহাদ, মধ্য নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : হাদীছটি বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ফেরাঊনকে যখন পানিতে ডুবিয়ে দিলেন তখন সে বলল, ‘আমি ঈমান আনলাম তার প্রতি, যার উপর বনু ইসরাঈল ঈমান এনেছে। নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই’ (ইউনুস ১০/৯০)। জিব্রীল বললেন,

প্রশ্ন (১০/৯০) : নারীদের ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বের হ’লে তা কি হায়েয হিসাবে গণ্য হবে এবং এ অবস্থায় ছিয়াম পালন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১০/৯০) : নারীদের ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বের হ’লে তা কি হায়েয হিসাবে গণ্য হবে এবং এ অবস্থায় ছিয়াম পালন করা যাবে কি?

-হেলেনা আখতার, ভদ্রা, রাজশাহী।
উত্তর : এটি হায়েয হিসাবে গণ্য হবে না। বরং প্রদর রোগ। অতএব ছিয়াম পালনে কোন বাধা নেই। ‘হায়েয’ বলা হয় প্রবহমান রক্তকে, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবিরতভাবে নির্গত হয়। কিন্তু প্রশ্নে বর্ণিত বিষয়টি তা নয়। উছায়মীন বলেন,

প্রশ্ন (১১/৯১) : জুম‘আর ছালাতে খত্বীব ছাহেবের জন্য ছালাতের ইমামতি করা সুন্নাত কি?

প্রশ্ন (১১/৯১) : জুম‘আর ছালাতে খত্বীব ছাহেবের জন্য ছালাতের ইমামতি করা সুন্নাত কি?

-আব্দুল আলীম, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
উত্তর : হ্যাঁ সুন্নাত। কারণ রাসূল (ছাঃ) নিজে খুৎবা দিতেন এবং তিনিই ইমামতি করতেন। ইবনু কুদামা বলেন, সুন্নাত হ’ল যিনি খুৎবা দিবেন তিনিই ইমামতি করবেন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) উভয়টি নিজেই করতেন। অনুরূপভাবে

প্রশ্ন (১২/৯২) : আত-তাহরীক একাধিকবার ফৎওয়া প্রদান করেছে যে, ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন সূদের পর্যায়ভুক্ত। অথচ এর বিকল্প কোন সমাধান দেওয়া হয় না। তাহ’লে কি ইসলাম অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ? না-কি ফৎওয়া বোর্ডের ব্যর্থতা?

প্রশ্ন (১২/৯২) : আত-তাহরীক একাধিকবার ফৎওয়া প্রদান করেছে যে, ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন সূদের পর্যায়ভুক্ত। অথচ এর বিকল্প কোন সমাধান দেওয়া হয় না। তাহ’লে কি ইসলাম অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ? না-কি ফৎওয়া বোর্ডের ব্যর্থতা?

-মকবূল হোসাইন, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। রাজনীতি, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই এটি পূর্ণাঙ্গ (বাক্বারাহ ২০৮; মায়েদাহ ৩)। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের হাতেই এর রাজনীতি ও অর্থনীতি উপেক্ষিত। অথচ দু’টি পরস্পরে সম্পর্কিত।
ইসলামী অর্থনীতি এবং প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভিন্ন বিষয়। কেবল মাসিক আত-তাহরীক-এর ফৎওয়া বোর্ড নয় বরং ইসলামী ব্যাংকের জনক বলে পরিচিত শেখ ছালেহ কামেল সহ সংশ্লিষ্টগণই এ ব্যাপারে স্বীকৃতি দিয়েছেন যে,

প্রশ্ন (১৩/৯৩) : হজের সময় আরাফাহ ময়দানে মু‘আল্লিমগণ তাদের হাজীদের নিয়ে দলবদ্ধ মুনাজাত করেন। এটি শরী‘আত সম্মত হবে কি?

প্রশ্ন (১৩/৯৩) : হজের সময় আরাফাহ ময়দানে মু‘আল্লিমগণ তাদের হাজীদের নিয়ে দলবদ্ধ মুনাজাত করেন। এটি শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-আসাদুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ, ভারত।
উত্তর : এটি শরী‘আত সম্মত নয়। কেননা হজ্জের সময় আরাফাহ ময়দানে রাসূল (ছাঃ) বা সালাফে ছালেহীন দলবদ্ধভাবে মুনাজাত করেছিলেন মর্মে কোন দলীল নেই। বরং আরাফাহ ময়দানে প্রত্যেকে একাকী আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে ক্ষমাপ্রাপ্তির আশায় প্রার্থনা করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (১৪/৯৪) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, এই দুনিয়ায় ওলীগণ আমাদের সাহায্যকারী। তারা আমাদের বিপদে সাহায্য করে থাকেন যেমন আব্দুল ক্বাদের জীলানী (রহঃ)। তারা দলীল হিসাবে সূরা মায়েদাহ ৫৫ আয়াতটি পেশ করে থাকে। এই বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?

প্রশ্ন (১৪/৯৪) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, এই দুনিয়ায় ওলীগণ আমাদের সাহায্যকারী। তারা আমাদের বিপদে সাহায্য করে থাকেন যেমন আব্দুল ক্বাদের জীলানী (রহঃ)। তারা দলীল হিসাবে সূরা মায়েদাহ ৫৫ আয়াতটি পেশ করে থাকে। এই বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?

-নূর জাহান বেগম, কালিয়াকৈর, গাযীপুর।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। সূরা মায়েদাহ ৫৫ আয়াতের অনুবাদ হ’ল- ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ। যারা ছালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং তারা হয় বিনয়ী’। অত্র আয়াতে ওলী বলে আল্লাহ,

প্রশ্ন (১৫/৯৫) : আমি নানীর দুধ পান করে বড় হয়েছি। বড় হয়ে বড় মামার মেয়েকে বিয়ে করেছি এবং একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। এক্ষণে আমাদের বিবাহ কি শুদ্ধ ছিল? শুদ্ধ না হ’লে আমাদের সন্তানের কি হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রশ্ন (১৫/৯৫) : আমি নানীর দুধ পান করে বড় হয়েছি। বড় হয়ে বড় মামার মেয়েকে বিয়ে করেছি এবং একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। এক্ষণে আমাদের বিবাহ কি শুদ্ধ ছিল? শুদ্ধ না হ’লে আমাদের সন্তানের কি হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

- মাহবূব আলম, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত বিবাহ শরী‘আতসম্মত হয়নি। কারণ আপনার মামা আপনার দুধভাই। যেমন হামযা (রাঃ) চাচা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন রাসূল (ছাঃ)-এর দুধভাই। আর দুধ ভাইয়ের মেয়েকে বিবাহ করা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (১৬/৯৬) : জনৈক আলেম বলেন, সাত প্রকারের ঘুম আছে। যেমন ১. নাওমুল গাফেলীন, ওয়ায মাহফিলে ঘুমানো। ২. নাওমুল আশক্বিয়া, ছালাতের সময় ঘুমানো। ৩. নাওমুল মালঊনীন, ফজরের ছালাতের সময় ঘুমানো। ৪. নাওমুল মু‘আয্যিবীন, ফজরের আযান থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো। ৫. নাওমুর রাহাহ অর্থ প্রশান্তির ঘুম। এসময়ের স্বপ্ন সত্য হয়। ৬. নাওমুল মারখূছ, মাগরিব ও এশার ছালাতদ্বয়ের পরে ঘুমানো। এসময় ঘুমানোয় কোন দোষ নেই। ৭. নাওমুল হাসরাহ অর্থ ক্ষতির ঘুম। এটি হ’ল জুম‘আর রাতের ঘুম। এমন ভাগাভাগির কোন শারঈ ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন (১৬/৯৬) : জনৈক আলেম বলেন, সাত প্রকারের ঘুম আছে। যেমন ১. নাওমুল গাফেলীন, ওয়ায মাহফিলে ঘুমানো। ২. নাওমুল আশক্বিয়া, ছালাতের সময় ঘুমানো। ৩. নাওমুল মালঊনীন, ফজরের ছালাতের সময় ঘুমানো। ৪. নাওমুল মু‘আয্যিবীন, ফজরের আযান থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো। ৫. নাওমুর রাহাহ অর্থ প্রশান্তির ঘুম। এসময়ের স্বপ্ন সত্য হয়। ৬. নাওমুল মারখূছ, মাগরিব ও এশার ছালাতদ্বয়ের পরে ঘুমানো। এসময় ঘুমানোয় কোন দোষ নেই। ৭. নাওমুল হাসরাহ অর্থ ক্ষতির ঘুম। এটি হ’ল জুম‘আর রাতের ঘুম। এমন ভাগাভাগির কোন শারঈ ভিত্তি আছে কি?

-আনছারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও।
উত্তর : এভাবে শ্রেণী বিন্যাসের কোন শারঈ ভিত্তি নেই। তাছাড়া এতে কিছু বাড়াবাড়ি রয়েছে। কারণ ঘুমের মৌলিক বিষয় হ’ল সেটি জায়েয এবং যেকোন সময় যেকোন কারণে তা হ’তে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হ’ল রাত্রি ও দিবাভাগে তোমাদের নিদ্রা ও তার মধ্যে আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান। নিশ্চয়ই

প্রশ্ন (১৭/৯৭) : আমার মা পাঁচ বছর পূর্বে মারা গেছেন। আমি তার মুছল্লায় (জায়নামাযে) ছালাত আদায় করি এবং নিয়ত করি যে, এতে আমার যে ছাওয়াব হবে তার সমপরিমাণ আমার মায়ের জন্যও যেন হয়। এরূপ নিয়ত করা কি শরী‘আত সম্মত?

প্রশ্ন (১৭/৯৭) : আমার মা পাঁচ বছর পূর্বে মারা গেছেন। আমি তার মুছল্লায় (জায়নামাযে) ছালাত আদায় করি এবং নিয়ত করি যে, এতে আমার যে ছাওয়াব হবে তার সমপরিমাণ আমার মায়ের জন্যও যেন হয়। এরূপ নিয়ত করা কি শরী‘আত সম্মত?

-মায়মূনা ফারযানা, ঘোড়ামারা, রাজশাহী।
উত্তর : এরূপ নিয়ত শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ দৈহিক ইবাদত অন্যের উপকারে আসে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মানুষের জন্য ততটুকুই প্রাপ্য, যতটুকুর জন্য সে চেষ্টা করে’ (নাজম ৫/৩৯)। তবে নির্দিষ্ট কিছু নেকীর কাজ রয়েছে যা একজন পালন করে অন্যজনকে পৌঁছাতে পারে।

প্রশ্ন (১৮/৯৮) : হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, অচিরেই ফোরাত নদী তার মধ্যস্থিত স্বর্ণভান্ডার উন্মুক্ত করে দিবে। কিন্তু তা গ্রহণ করা যাবে না। হাদীছটির ব্যাখ্যা কি

প্রশ্ন (১৮/৯৮) : হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, অচিরেই ফোরাত নদী তার মধ্যস্থিত স্বর্ণভান্ডার উন্মুক্ত করে দিবে। কিন্তু তা গ্রহণ করা যাবে না। হাদীছটির ব্যাখ্যা কি?

-আব্দুল ওয়াজেদ, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।
উত্তর : এটি ক্বিয়ামতের আলামতসমূহের অন্যতম, যা এখনও প্রকাশিত হয়নি। আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ ইবনু নাওফাল (রহঃ) বলেন, আমি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেন, মানুষ বিভিন্নভাবে দুনিয়াবী সম্পদ উপার্জনে ব্যস্ত থাকবে। আমি বললাম, হ্যাঁ, ঠিকই। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,

প্রশ্ন (১৯/৯৯) : রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী ‘তুমি (কুরবানীর দিনে) তোমার চুল ও নখ কাটবে, তোমার গোঁফ খাট করবে এবং নাভীর নীচের লোম ছাফ করবে। এটাই তোমার জন্য আল্লাহর নিকট পূর্ণ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে’। অত্র হাদীছটির ব্যাপারে শু‘আইব আরনাউত্ব সনদ হাসান এবং আলবানী সনদ যঈফ বলেছেন। উপরোক্ত মতামতগুলির মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হবে?

প্রশ্ন (১৯/৯৯) : রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী ‘তুমি (কুরবানীর দিনে) তোমার চুল ও নখ কাটবে, তোমার গোঁফ খাট করবে এবং নাভীর নীচের লোম ছাফ করবে। এটাই তোমার জন্য আল্লাহর নিকট পূর্ণ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে’। অত্র হাদীছটির ব্যাপারে শু‘আইব আরনাউত্ব সনদ হাসান এবং আলবানী সনদ যঈফ বলেছেন। উপরোক্ত মতামতগুলির মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হবে?

-রফীকুল ইসলাম, পাঁচরুখী, নারায়ণগঞ্জ।
উত্তর :  হাদীছটি মুসনাদে আহমাদ (হা/৬৫৭৫), আবুদাঊদ (হা/২৭৮৯), নাসাঈ (হা/৪৪৩৯), ছহীহ ইবনে হিববান (হা/৫৯১৪), ত্বাবারাণী মু‘জামুল কাবীর (হা/১৫৭, ১৫৮), সুনান দারাকুৎনী (হা/৪৭৪৯), হাকেম মুস্তাদরাক (হা/৭৫২৯), বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা (হা/১৯০২৮-২৯) প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। শায়খ আলবানী দু’টি কারণে হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। (১) তিনি ঈসা বিন হেলাল আছ-ছাদাফীকে অজ্ঞাত ও অপ্রসিদ্ধ বলেছেন এবং

প্রশ্ন (২০/১০০) : সূরা বাক্বারাহ ৩০ আয়াতে মানুষকে আল্লাহর খলীফা বলা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?

প্রশ্ন (২০/১০০) : সূরা বাক্বারাহ ৩০ আয়াতে মানুষকে আল্লাহর খলীফা বলা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?

-তানভীর আহমাদ, আড়াইহাযার, নারায়ণগঞ্জ।
উত্তর : ‘খলীফা’ অর্থ প্রতিনিধি বা স্থলাভিষিক্ত। মানুষকে যেহেতু জিন জাতির পর পৃথিবীকে আবাদ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সেহেতু তাদেরকে খলীফা বা জিন জাতির স্থলাভিষিক্ত বলা হয়েছে (তাফসীর ত্বাবারী হা/৬০১, ১/৪৫০)। ইবনু কাছীর বলেন, এর দ্বারা এমন জাতিকে বুঝানো হয়েছে যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী এবং বংশ পরম্পরায় আগমন করতে থাকবে (ইবনু কাছীর, তাফসীর বাক্বারাহ ৩০ আয়াত)। এই আয়াতের ভিত্তিতে মুসলিম সমাজে নেতা বা খলীফা নির্বাচন আবশ্যিক বলে ইমাম কুরতুবী মন্তব্য করেছেন,

প্রশ্ন (২১/১০১) : আমি গ্রীসে পুলিশের হেফাযতে শরণার্থী ক্যাম্পে আছি। এখানে মুরগীর গোশত, কাবাব ও অন্যান্য খাবার দেয়, যা খৃষ্টানদের যবেহকৃত। এগুলি খাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (২১/১০১) : আমি গ্রীসে পুলিশের হেফাযতে শরণার্থী ক্যাম্পে আছি। এখানে মুরগীর গোশত, কাবাব ও অন্যান্য খাবার দেয়, যা খৃষ্টানদের যবেহকৃত। এগুলি খাওয়া যাবে কি?

-শফীউল ইসলাম, গ্রীস।
উত্তর : আহলে কিতাব তথা ইহূদী এবং খৃষ্টানদের যবেহ করা হালাল পশু খাওয়া জায়েয, যদি তারা যবহের সময় আল্লাহর নাম নেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আহলে কিতাবদের যবেহকৃত পশু তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের যবেহকৃত পশু তাদের জন্য হালাল’ (মায়েদাহ ৫/৫)। যবেহের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলেছে কি-না সে ব্যাপারে যদি সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে

প্রশ্ন (২২/১০২) : আমি প্রিন্টিং-এর ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক স্বার্থে আমাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিরক-বিদ‘আত, হারাম-হালাল ইত্যাদি কার্যাবলীর পোস্টার, দাওয়াতকার্ড ইত্যাদি ছাপাতে হয়। এগুলি করা বাদ দিলে ক্ষতির সম্মুখীন হ’তে হয়। আবার অর্ডার নিলে হারাম কাজের সাথে হালাল কাজও পাওয়া যায়। এক্ষণে হারাম কার্যাবলী করে দিয়ে সেগুলির লভ্যাংশ নেকীর আশা ব্যতীত দান করে দিলে উক্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (২২/১০২) : আমি প্রিন্টিং-এর ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক স্বার্থে আমাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিরক-বিদ‘আত, হারাম-হালাল ইত্যাদি কার্যাবলীর পোস্টার, দাওয়াতকার্ড ইত্যাদি ছাপাতে হয়। এগুলি করা বাদ দিলে ক্ষতির সম্মুখীন হ’তে হয়। আবার অর্ডার নিলে হারাম কাজের সাথে হালাল কাজও পাওয়া যায়। এক্ষণে হারাম কার্যাবলী করে দিয়ে সেগুলির লভ্যাংশ নেকীর আশা ব্যতীত দান করে দিলে উক্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কি?

-যাকারিয়া হোসাইন, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : পাপমুক্তির জন্য এরূপ চেষ্টা ও পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। তবে এতে সত্যিকার পাপমুক্তি ঘটবে না। কেননা এক্ষেত্রে শিরক-বিদ‘আত ও হারামযুক্ত কার্যাবলী বন্ধ করে কেবল বৈধ ও শিরক-বিদ‘আত মুক্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং যদি ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হ’তে হয়, তবুও তা-ই করতে হবে। কারো অন্যায়ের সহযোগী হওয়া যাবে না। প্রয়োজনে এ ব্যবসা ত্যাগ করে অন্য হালাল ব্যবসা করতে হবে। আল্লাহর প্রতি ভরসা করে কাজ করলে তিনি রিযিকের হাযারও দুয়ার খুলে দিবেন। আল্লাহ বলেন,

প্রশ্ন (২৩/১০৩) : পিতা-মাতার সেবা, সাংসারিক দায়িত্ব পালন ও সন্তান প্রতিপালনে অবহেলা করে দাওয়াতী কাজে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে সময় কাটানো জায়েয হবে কি?

প্রশ্ন (২৩/১০৩) : পিতা-মাতার সেবা, সাংসারিক দায়িত্ব পালন ও সন্তান প্রতিপালনে অবহেলা করে দাওয়াতী কাজে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে সময় কাটানো জায়েয হবে কি?

-ইদ্রীস আলী, দৌলতপুর বাজার, কুষ্টিয়া।
উত্তর : ভারসাম্য বজায় রেখে উভয়টিই করতে হবে। নিঃসন্দেহে পরিবারের হক আদায় করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইবাদতের পরেই পিতা-মাতার সেবা করার আদেশ দিয়েছেন (ইসরা ১৭/২৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (২৪/১০৪) : কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে যার শেষটি নবী সম্পর্কে। এক্ষণে নবীকে শেষ প্রশ্নটি কিভাবে করা হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রশ্ন (২৪/১০৪) : কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে যার শেষটি নবী সম্পর্কে। এক্ষণে নবীকে শেষ প্রশ্নটি কিভাবে করা হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-নাঈমা খাতুন, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : এ ব্যাপারে কুরআনে বা হাদীছে কোন বর্ণনা নেই। তবে একদল বিদ্বান মনে করেন, যেমনভাবে শহীদগণ কবরে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন না’

প্রশ্ন (২৫/১০৫) : হাদীছে বর্ণিত আছে যে, আলী (রাঃ) ছালাতের রুকূ অবস্থায় তার হাতের আংটিটি ছাদাক্বা করলে সূরা মায়েদার একটি আয়াত নাযিল হয়। বর্ণনাটির সত্যতা জানতে চাই।

প্রশ্ন (২৫/১০৫) : হাদীছে বর্ণিত আছে যে, আলী (রাঃ) ছালাতের রুকূ অবস্থায় তার হাতের আংটিটি ছাদাক্বা করলে সূরা মায়েদার একটি আয়াত নাযিল হয়। বর্ণনাটির সত্যতা জানতে চাই।

-মুকতাদির হোসেন, বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত মর্মের বর্ণনাটি জাল। যা শী‘আ রাফেযীরা আলী (রাঃ)-এর প্রতি অতিভক্তির আতিশয্যে তৈরী করেছে (সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৯২১)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কতিপয় মহামিথ্যুক বর্ণনা করেছে যে, আলী (রাঃ) ছালাতরত অবস্থায় হাতের আংটি দান করলে সূরা মায়েদাহ ৫৫ আয়াতটি নাযিল হয় (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/৩৫৯)। এক্ষণে উক্ত আয়াতের অর্থ দাঁড়াবে

প্রশ্ন (২৬/১০৬) : ঈদগাহে আদায়কৃত অর্থ ব্যয়ের খাত কি কি?

প্রশ্ন (২৬/১০৬) : ঈদগাহে আদায়কৃত অর্থ ব্যয়ের খাত কি কি?

-হাজী আব্দুর রহমান, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : ঈদগাহে আদায়কৃত অর্থ মূলতঃ ঈদগাহের উন্নয়নে ব্যয় করবে। উদ্বৃত্ত অর্থ সমাজ কল্যাণমূলক যে কোন খাতে ব্যয় করা যাবে (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৬/৩১; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘

প্রশ্ন (২৭/১০৭) : জোববা ও পায়জামা পরিহিত অবস্থায় তা টাখনুর নীচে নেমে গেলে গোনাহগার হ’তে হবে কি?

প্রশ্ন (২৭/১০৭) : জোববা ও পায়জামা পরিহিত অবস্থায় তা টাখনুর নীচে নেমে গেলে গোনাহগার হ’তে হবে কি?

-যয়নাল আবেদীন, চারঘাট, রাজশাহী।
উত্তর : ইচ্ছাকৃতভাবে টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরলে গোনাহগার হ’তে হবে। হাদীছে পোশাক ঝুলিয়ে টাখনু বা গোড়ালীর নীচে পরতে নিষেধ করা হয়েছে। তা জুববা, পায়জামা বা লুঙ্গী হ’লেও বিধান একই থাকবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (২৮/১০৮) : জানা সত্ত্বেও মাযহাবী কারণে ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক ছালাত আদায় না করলে তা কবুলযোগ্য হবে কি?

প্রশ্ন (২৮/১০৮) : জানা সত্ত্বেও মাযহাবী কারণে ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক ছালাত আদায় না করলে তা কবুলযোগ্য হবে কি?

-সাদমান, কলাবাগান, ঢাকা।
উত্তর : এভাবে ছালাত কবূলযোগ্য হবে না। কারণ আল্লাহ অজান্তে কৃত অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ জানা সত্ত্বেও কেবল মাযহাবী গোঁড়ামীর কারণে তা ছেড়ে দিলে অবশ্যই সে ব্যক্তি গোনাহগার হবে। কেননা ইবাদত কবূলের শর্ত ২টি।

প্রশ্ন (২৯/১০৯) : রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত না হ’লেও সম্মানিত ইমামগণ থেকে বর্ণিত অনেক দো‘আ পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহু আকবার কাবীরা.... আছীলা। এক্ষণে এসব দো‘আ পাঠ উত্তম বা সুন্নাত বলা যাবে কি?

প্রশ্ন (২৯/১০৯) : রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত না হ’লেও সম্মানিত ইমামগণ থেকে বর্ণিত অনেক দো‘আ পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহু আকবার কাবীরা.... আছীলা। এক্ষণে এসব দো‘আ পাঠ উত্তম বা সুন্নাত বলা যাবে কি?

-আব্দুর রহমান, পীরগঞ্জ, নাটোর।
উত্তর : প্রশ্নে বর্ণিত দো‘আটি জনৈক ছাহাবী পাঠ করলে রাসূল (ছাঃ) তার ফযীলত বর্ণনা করে বলেন, আমি বিস্মিত হ’লাম যে, তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হ’ল (মুসলিম হা/৬০১; মিশকাত হা/৮১৭)। এটি প্রমাণ করে যে, দো‘আটি রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক অনুমোদিত। তবে দো‘আটি ইমাম শাফেঈ ঈদায়েনের তাকবীর হিসাবে পড়তেন, যা রাসূল (ছাঃ) থেকে সরাসরি প্রমাণিত নয়। এতদসত্ত্বেও যেহেতু রাসূল (ছাঃ)

প্রশ্ন (৩০/১১০) : চুরি, মদ্যপান, জুয়া খেলা ও মিথ্যা কথা বলায় অভ্যস্ত জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে এসে তওবা করতে চাইলে তিনি তাকে কেবল মিথ্যা বলা থেকে নিষেধ করেন। লোকটি তা মেনে নিয়ে বাকী তিনটি কাজ করতে চায়। কিন্তু সত্য কথা বলতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে সে বাকী কাজগুলি থেকে তওবা করতে বাধ্য হয়। এ কাহিনীটির কোন সত্যতা আছে কি?

প্রশ্ন (৩০/১১০) : চুরি, মদ্যপান, জুয়া খেলা ও মিথ্যা কথা বলায় অভ্যস্ত জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে এসে তওবা করতে চাইলে তিনি তাকে কেবল মিথ্যা বলা থেকে নিষেধ করেন। লোকটি তা মেনে নিয়ে বাকী তিনটি কাজ করতে চায়। কিন্তু সত্য কথা বলতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে সে বাকী কাজগুলি থেকে তওবা করতে বাধ্য হয়। এ কাহিনীটির কোন সত্যতা আছে কি?

-মামূন, মালিটোলা, ঢাকা।
উত্তর : কাহিনীটি ভিত্তিহীন। তবে এটি বিভিন্ন গল্প ও সাহিত্যের বইপুস্তকে পাওয়া যায় (জাহিয, আল-মাহাসিন ওয়াল আযদাদ ১/৬০; যামাখশারী, রবী‘ঊল আবরার ৪/৩৪০; মুবাররাদ, আল-কামিল ফিল আদাব ২/১৫৬)। তাই রাসূল (ছাঃ)-এর নামে উক্ত কাহিনী বর্ণনা করার কোন সুযোগ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (৩১/১১১) : শিরক-বিদ‘আত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও যেসব সমাজ প্রধানগণ উক্ত কাজে বাধা না দিয়ে বরং প্ররোচিত করে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি কি হবে?

প্রশ্ন (৩১/১১১) : শিরক-বিদ‘আত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও যেসব সমাজ প্রধানগণ উক্ত কাজে বাধা না দিয়ে বরং প্ররোচিত করে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি কি হবে?

-নাজমুল হোসাইন, চারঘাট, রাজশাহী।
উত্তর : রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। নইলে সত্বর আল্লাহ তার পক্ষ হ’তে তোমাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করবেন। অতঃপর তোমরা দো‘আ করবে, কিন্তু তা আর কবুল করা হবে না’ (তিরমিযী হা/২১৬৯; মিশকাত হা/৫১৪০)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কোন জাতির মধ্যে পাপ হ’তে থাকলে এবং

প্রশ্ন (৩২/১১২) : যাকাত ফরয হয়, এরূপ সম্পদ থাকলে কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায় কি?

প্রশ্ন (৩২/১১২) : যাকাত ফরয হয়, এরূপ সম্পদ থাকলে কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায় কি?

-সুজন মোল্লা*, আমীনপুর, পাবনা।
*[আরবীতে সুন্দর নাম রাখুন (স.স.)]
উত্তর : কুরবানী সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। এটি যাকাত ফরয হওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না করলে রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে ঈদগাহে যেতে নিষেধ করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/৩১২৩; হাকেম হা/৩৪৬৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০৮৭)। এটা ওয়াজিব নয় যে, যেকোন মূল্যে করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে,

প্রশ্ন (৩৩/১১৩) : আমার কবরপূজারী জনৈক আত্মীয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এক পীরের মুরীদ হিসাবে কবরপূজায় লিপ্ত ছিলেন। এক্ষণে তার জানাযা পড়া বা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয হবে কি?

প্রশ্ন (৩৩/১১৩) : আমার কবরপূজারী জনৈক আত্মীয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এক পীরের মুরীদ হিসাবে কবরপূজায় লিপ্ত ছিলেন। এক্ষণে তার জানাযা পড়া বা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয হবে কি?

-জালালুদ্দীন, ধুনট, বগুড়া।
উত্তর : এরূপ ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয নয়। আল্লাহ বলেন, ‘নবী ও মুমিনের উচিত নয়, মুশরিকদের মাগফিরাত কামনা করা, যদিও তারা আত্মীয় হয়। এ কথা স্পষ্ট হওয়ার পর যে, তারা জাহান্নামী’ (তওবা ৯/১১৩)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,

প্রশ্ন (৩৪/১১৪) : স্যান্ডো গেঞ্জীর সাথে পাতলা জামা পরিধান করলে কাঁধ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে কি?

প্রশ্ন (৩৪/১১৪) : স্যান্ডো গেঞ্জীর সাথে পাতলা জামা পরিধান করলে কাঁধ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে কি?

-আব্দুল ওয়াদূদ, বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাতের ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ। তবে এ থেকে বেঁচে থাকা উত্তম। কেননা এর দ্বারা সত্যিকার অর্থে কাঁধ ঢাকা হয় না। আর উভয় কাঁধ পূর্ণরূপে ঢেকে রাখাই সুন্নাত (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৪)। অতএব সতর ঢাকার স্বার্থে পাতলা কাপড় নারী-পুরুষ সবারই পরিহার করা কর্তব্য। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও তাক্বওয়াপূর্ণ সুন্দর পোষাক পরে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়া যরূরী। আল্লাহ বলেন,

প্রশ্ন (৩৫/১১৫) : কাফেরদের সাদৃশ্যের প্রকৃত ব্যাখ্যা ও হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই। কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে কি?

প্রশ্ন (৩৫/১১৫) : কাফেরদের সাদৃশ্যের প্রকৃত ব্যাখ্যা ও হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই। কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে কি?

-সুরাইয়া, সাভার, ঢাকা।
উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে’ (আবুদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭)। এর ব্যাখ্যায় ত্বীবী বলেন, এর দ্বারা চেহারায়, চরিত্রে ও পোষাকে সাদৃশ্য বুঝানো হয়েছে। তবে পোষাকে সাদৃশ্যই প্রধান’। মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, পোশাক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কাফিরদের সাথে কিংবা ফাসিক, পাপাচারী কিংবা ছূফী ও নেককার ব্যক্তিদের সাথে সাদৃশ্য রাখা, অর্থাৎ ভালো কিংবা খারাপ যে সকল মানুষের সাথে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে (মিরক্বাত হা/৪৩৪৭-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য, ৭/২৭৮২)। মানাভী বলেন,

প্রশ্ন (৩৬/১১৬) : পবিত্র কুরআনে দাওয়াতী ক্ষেত্রে হিকমত অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে সত্য গোপন করা বা নিফাকের আশ্রয় নেওয়া কি জায়েয হবে? হিকমতের প্রকৃত ব্যাখ্যা কি?

প্রশ্ন (৩৬/১১৬) : পবিত্র কুরআনে দাওয়াতী ক্ষেত্রে হিকমত অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে সত্য গোপন করা বা নিফাকের আশ্রয় নেওয়া কি জায়েয হবে? হিকমতের প্রকৃত ব্যাখ্যা কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান, তানোর, রাজশাহী।
উত্তর : কোন অবস্থাতেই সত্য গোপন বা নিফাকের আশ্রয় গ্রহণ করা যাবে না। হিকমত বলতে প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে’ (নাহল ১৬/১২৫)। ‘হিকমত’ বলতে দলীল-প্রমাণ ও সঠিক জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ অন্যত্র বলেন,

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ