Sunday, October 22, 2017

‘বিদআতে হাসনাহ’ নামক কোন বিদআত আছে কি, যা করলে সওয়াব হয়? যেহেতু হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি ইসলামে ভাল রীতি চালু করবে, সে তাঁর নিজের এবং সমস্ত লোকের সওয়াব পাবে, যারা তাঁর (মৃত্যুর) পর তাঁর উপর আমল করবে। তাঁদের সওয়াবের কিছু পরিমাণও কম করা হবে না। ৮৪ (মুসলিম)


‘বিদআতে হাসানাহ’ (ভাল বিদআত) বলে কোন বিদআত নেই। বরং প্রত্যেক বিদআতই ‘সাইয়্যিআহ’ (মন্দ)। মহানদি (সঃ) বলেছেন,
“প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” ৮৫ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)
আর হাদীসে যে ভাল রীতি চালু করার কথা বলা হয়েছে, তা নতুন কোন রীতি নয়। বরং যে রীতি শরীয়ত সম্মত কিন্তু কোন জায়গায় তা চালু ছিল না। কোন ব্যক্তি তা চালু করলে তাঁর ঐ সওয়াব হয়। পূর্ণ হাদিসটি পড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, কোন শ্রেণীর রীতির কথা বলা হয়েছে।

জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রঃ) বলেন,

‘বিদআত’ কাকে বলে? ‘বিদআতে হাসনাহ’ বলে কি কোন বিদআত আছে?

বিদআত বলা হয় দ্বীন বিষয়ক কোন নতুন কর্মকে, যার কোন দলীল শরীয়তে নেই। মহানবী (সঃ) বলেছেন, “ অবশ্যই তোমাদের মধ্যে যারা আমার বিদায়ের পর জীবিত থাকবে তাঁরা অনেক রকমের মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার ও আমার সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের  সুন্নাহ অবলম্বন করো, তা দাঁত দ্বারা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করো। (তাতে যা পাও মান্য কর এবং অন্য কোনও মতের দিকে আকৃষ্ট হয়ো না।) আর (দ্বীনে) নবরচিত কর্মসমূহ হতে সাবধান! কারণ, নিশ্চয় প্রত্যেক বিদআত (নতুন আমল) হল ভ্রষ্টতা।”(আবু দাঊদ ৪৪৪৩, তিরমিযী ২৮১৫, ইবনে নাজাহ ৪২ নং)
আর নাসাঈর এক বর্ণনায় আছে, “ আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে(নিয়ে যায়)।” উক্ত হাদিস থেকে এ কথাও প্রমাণ হয় যে, বিদআতে হাসানাহ (ভাল বিদআত) বলে কোন বিদআত নেই। কারণ মহানবী (সঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআত হল ভ্রষ্টতা।”

প্রশ্ন: ইসলামে ‘অপয়া’ বলতে কিছু আছে কি? কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরক!


প্রশ্ন: ইসলামে ‘অপয়া’ বলতে কিছু আছে কি? উত্তর: অপয়া শব্দের অর্থ: কুলক্ষণযুক্ত, অলক্ষণা, অলক্ষুণে। 
ইসলামে কুলক্ষণে বিশ্বাস করা একটি কুসংস্কার-যা সম্পূর্ণ হারাম। তাহলে এবার কুলক্ষণ সম্পর্কে ইসলামে দৃষ্টিভঙ্গি জানা যাক নিম্নের লেখাটি থেকে:
*কুলক্ষণে বিশ্বাস করা হারাম* কুলক্ষণ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

আপনি দ্বীন কায়েম করতে চান?

আপনি দ্বীন কায়েম করতে চান?
=========================
আপনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলামকে বিজয়ী দেখতে চান?
তাহলে কোরআনের এই আয়াতটি অনুধাবনের চেষ্টা করুন।
-আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দীনকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যাকে আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন৷ তারা শুধু

বিবাহের প্রয়োজনীয়তা কি? পুরুষদের জন্য কারা মাহরাম আর কারা মাহরাম নয়?


বিবাহের প্রয়োজনীয়তা কি? পুরুষদের জন্য কারা মাহরাম আর কারা মাহরাম নয়?
✨✨✨✨✨✨✨
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বংশ পরম্পরায় মানব প্রজন্মকে দুনিয়ায় টিকিয়ে রেখে দুনিয়াকে আবাদ রাখার জন্য বিবাহ বন্ধনকে বৈধ করেছেন। এটাকে আল্লাহ তায়ালার একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিস্টেম। এ ছাড়া বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন গঠন করা নবীদেরও সুন্নাত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
'নিশ্চয় আপনার পুর্বে অনেক রাসুলকে প্রেরণ করেছি। আমি তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছি।'(সুরা রা’দ ৩৮)
মানবতার মুক্তির দিশারী রাসুল (সাঃ) বলেছেন 

বিদআত’ কাকে বলে? কখন কোন কাজকে ‘বিদআত’ বলে আখ্যায়ন করা হবে?

বিদআত’ কাকে বলে? কখন কোন কাজকে ‘বিদআত’ বলে আখ্যায়ন করা হবে?

বিদআত বলা হয় দ্বীন ও ইবাদতে নব আবিষ্কৃত কাজকে। অর্থাৎ দ্বীন বা ইবাদত মনে করে করা এমন কাজকে বিদআত বলা হবে, যে কাজের কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর কোন দলীল নেই। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,
“তোমরা (দ্বীন) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” ৮১ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)
“যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল--- যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” ৮২ (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যাক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।”
বলা বাহুল্য, নব আবিষ্কৃত পার্থিব কোন বিষয়কে বিদআত বলা যাবে না। যেমন শরীয়াতে নিষিদ্ধ কোন কাজকে বিদআত বলা হয় না। বরং তাকে অবৈধ, হারাম বা মাকরূহ বলা হয়।

যে ব্যক্তি মনে করে, নারী-পুরুষের সমান অধিকার না দিয়ে ইসলাম নারীর প্রতি যুলুম করেছে, সে ব্যক্তির বিধান কি?

ইসলাম নারীকে পুরুষের সমান অধিকার না দিলেও, তাকে তাঁর যথাযথ অধিকার দান করেছে। ইসলাম তাঁর প্রতি কোন অন্যায় করেনি। ইসলামের এ অধিকার বণ্টনকে যদি কেও অস্বীকার করে এবং অন্যায় ও অবিচার মনে করে, তাহলে সে কাফের। ৮০ (ইবনে বায)

যে ব্যক্তি শরীয়তের কোন বিধানকে ‘অচল’ বা ‘বস্তাপচা’ মনে করে, সে ব্যক্তির বিধান কি?

যে ব্যক্তি শরীয়তের কোন বিধানকে ‘অচল’ বা ‘বস্তাপচা’ মনে করে, সে ব্যক্তির বিধান কি?

সে ব্যক্তি কাফের। যেহেতু শরীয়তের কোন বিধান অচল ও বস্তাপচা নয়। শরীয়তের বিধান বুঝার জন্য অথবা তা বহাল করার জন্য মানুষের বিবেক বুদ্ধি অচল হতে পারে। কিন্তু সে বিধান শাশ্বত, চিরন্তন ও কালজয়ী। ৭৯ (ইবনে বায)

মহান আল্লাহ যে জিনিসকে হালাল করেছেন, তা হারাম এবং যে জিনিসকে হারাম করেছেন, তা হালাল করার ব্যপারে কোন ইমাম, আলেম বা সরকারের অনুগত্য করা কী?

এই শ্রেণীর অনুগত্য তিন ভাবে হতে পারেঃ-
(ক) আল্লাহ্‌র বিধানে অসন্তোষ প্রকাশ করে অথবা তা অপছন্দ করে গায়রুল্লাহর বিধানকে পছন্দ করে তাঁর অনুগত্য করা। এর ফলে মুসলিম ‘কাফের’ হয়ে যায়। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
“এটা এ জন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তাঁরা তা অপছন্দ করে। সুতরাং আল্লাহ তাঁদের কর্মসমূহ নিষ্ফল করে দেবেন। (মুহাম্মাদঃ ৯) আর এ কথা বিদিত যে, একমাত্র কাফেরদেরই যাবতীয় আমল নিষ্ফল করা হয়।
(খ) গায়রুল্লাহর বিধানের অনুগত্য করা। তবে এ কথা মনে প্রানে বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ্‌র বিধানই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং মানুষের জন্য অধিক কল্যাণকর। কিন্তু কোন কুপ্রবৃত্তিবশে, কোন লোভ বা লাভের খাতিরে গায়রুল্লাহর বিধানের অনুগত্য করা। এ অনুগত্যে মুসলিম কাফের হবে না। যেহেতু শে আল্লাহ্‌র বিধানকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে না। বরং স্বার্থবশে তা পালন করে না। সুতরাং তাকে ফাসেক বলা যাবে।
(গ) না জেনে গায়রুল্লাহর বিধানের অনুগত্য করা। অথবা সে মনে করে যে, সেটাই আল্লাহ্‌র বিধান। এ ক্ষেত্রে দুই অবস্থা হতে পারেঃ-
একঃ তাঁর পক্ষে আল্লাহ্‌র বিধান জানা সম্ভব। কিন্তু সে জানার চেষ্টা করে না। অথচ মহান আল্লাহ অজানা বিধান উলামার নিকট জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
“তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদের জ্ঞিজ্ঞাসা কর;” (নাহলঃ ৪৩, আম্বিয়ামঃ ৭) এ অবস্থায় সে গোনাহগার হবে।
দুইঃ তাঁর পক্ষে আল্লাহ্‌র বিধান জানা সম্ভব নয়। সুতরাং সে কোন আলেম, নেতা বা সরকারের অন্ধানুকরন করে। এমতবস্থায় তাঁর কোন অপরাধ হবে না। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন,
“যে ব্যক্তিকে বিনা ইলমে (ভুল) ফতোয়া দেওয়া হয়, তাঁর পাপ বর্তে মুফতীর উপর।” ৭৭ ( আবু দাঊদ ৩৬৫৭, ইবনে মাজাহ ৫৭, দারেমী ১৫৯ নং)
এ অবস্থায় যদি অন্ধঅনুকরণকারীর অপরাধ গণ্য করা হয়, তাহলে তাতে বড় সমস্যা দেখা দেবে এবং ভুলের আশংকায় কেউ কেউ আলেমের কথায় ভরসাই রাখবে না। ৭৮ (ইবনে ঊষাইমীন)

দ্বীনে মধ্যমপন্থা কী?

দ্বীনে মধ্যমপন্থা কী?

দ্বীন মানতে কিছু লোক চরমপন্থি আছে, কিছু আছে নরম ও ঢিলেপন্থী এবং কিছু আছে মধ্যমপন্থী। কেও দ্বীন ও ইবাদত এর ক্ষত্রে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন করে, সহজটাকে কঠিন করে এবং কেও একেবারে ঢিলেমি করে, অবজ্ঞা ও অবহেলা করে এবং কঠিনটাকে সহজ মনে করে। অথচ প্রত্যেক জিনিসের মাঝামাঝিটাই ঠিক।
আমাদের দ্বীনই হল মধ্যমপন্থী। তাতে অতিরঞ্জন নেই। মহানবী (সঃ) ও তাঁর সাহাবাবর্গের পথই হল মধ্যমপন্থা। মহানবী (সঃ)-এর তরীকাই হল মাঝামাঝি আচরণ।
আনাস (রঃ) বলেন যে, তিন ব্যাক্তি নবী (সঃ)-এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী (সঃ)-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর যখন তাঁদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হল তখন তাঁরা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন, “তোমাদের সঙ্গে নবী (সঃ)-এর তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু তোমাদের তাঁর চেয়ে বেশি ইবাদত করা প্রয়োজন)”। সুতরাং তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, “ আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়ব।” দ্বিতীয়জন বললেন, “আমি সারা জীবন রোযা রাখব, কখনো রোযা ছাড়ব না।” তৃতীয়জন বললেন, “আমি নারী থেকে দূরে থাকব, জীবনভর বিয়েই করব না।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা এই এই কথা বলেছ? শোনো! আল্লাহ্‌র কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করি, তাঁর ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশি রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখি এবং রোযা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” ৭০ (বুখারী-মুসলিম)

সুতরাং তাঁর তরীকাতেই আছে মধ্যমপন্থী আচরণ। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যাক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তাঁর উপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দেবে।) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাক এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও।” ৭৫ (বুখারী)
বুখারির অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তোমরা সরল পথে থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, সকাল-সন্ধায় চল (ইবাদত কর) এবং রাতের কিছু অংশে। আর তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, তাহলেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাবে।”

যারা ঢিলাপন্থী, তাঁরা সুন্নতের উপর আমল করে না, নফল আদায় করতে সচেষ্ট হয় না, বরং অনেক সময় ফরয আদায়েও শৈথিল্য করে।

উদাহারন স্বরূপঃ-
(ক) একটি লোক ফাসেক (পাপাচার), সে কবীরা গোনাহ করে, কিন্তু নামায পড়ে এবং শিরক করে না। চরমপন্থি বলে, “আমি তাঁকে সালাম করব না, তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব। তাঁর সাথে কথা বলব না।”
নরমপন্থী বলে, “পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। আমি তাঁকে সালাম করব, তাঁর সাথে সুসম্পর্ক রাখব, তাঁর সাথে হেসে-খেলে উঠাবসা করব।”
আর মধ্যমপন্থী বলে, “আমি তাঁর পাপের জন্য তাঁকে ঘৃণা করব এবং ঈমানের জন্য ভালোবাসব। তাঁকে বর্জন করায় যদি কোন উপকার থাকে, তাহলে তাঁকে বর্জন করব।”
(খ) চরমপন্থী লোক স্ত্রীকে চরণের দাসী মনে করে। নরমপন্থী তাঁকে নিজের প্রভু মনে করে, বানরের মত তাঁর কোথায় উঠ-বস করে। আর মধ্যমপন্থী তাঁকে বন্ধু মনে করে। সে জানে, “ নারীদের তেমন ন্যায়-সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাঁদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (বাকারাহঃ ২২৮)
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “কোন ইমানদার পুরুষ যেন কোন ইমানদার নারী (স্ত্রীকে) ঘৃনা না করে। যদি সে তাঁর একটি আচরণে অসন্তষ্ট হয়, তবে অন্য আচরণে সন্তষ্ট হবে।” ৭৬ (মুসলিম)

উম্মতের ইখতিলাফ কি রকম?

উম্মতের ইখতিলাফ কি রকম?

উম্মতের ইখতিলাফ রহমত নয়। বরং ইবনে মাসঊদ (রঃ) বলেছেন, “ইখতিলাফ খারাপ জিনিস।” (আবু দাঊদ ১৯৬০ নং) ইখতিলাফ হলে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজেব। আর সাহাবাদের ইখতিলাফ ইজতিহাদী। আর ইজতিহাদে ভুল করলেও একটি সওয়াব। কিন্তু ভুল তো ভুলই। সঠিকটা জানার পর আর ইজতিহাদী ভুল বা ইখতিলাফে পড়ে থাকা বৈধ নয়। পরন্ত ‘ইখতিলাফু উম্মাতী রাহমাহ’ হাদীস সহীহ নয়। ৭৩ (আলবানী)

অনেক শিক্ষিত মুসলিম পরিবার আছে, যারা কুরআন শেখে না, শিখে থাকলেও নিয়মিত তিলাওয়াত করে না, তিলাওয়াত করলেও মানে বুঝে (পড়ে) না, বুঝলেও যথাযথভাবে আমল করে না।এদের আলমারি অথবা দেয়াল এর তাকে বড় যত্নের সাথে কুরআন রাখা থাকে। এদের ব্যাপারে উপদেশ কি?

এই শ্রেণীর মুসলিমরা সেই লোকেদের মতো, যাঁদের বিরুদ্ধে কুরআন বর্জন করার অভিযোগ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
রাসুল বলে, “হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।” (ফুরকানঃ৩০)
তাঁদের মধ্যে এমন লোকও থাকতে পারে, যাঁদের ব্যপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
“যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, অবশ্যই তাঁর হবে সংকীর্ণতাময় জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দ্বীন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।” (ত্বা-হাঃ১২৪)
“সেদিন আমি জাহান্নামকে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত করব সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের নিকট। যাঁদের চক্ষু ছিল আমার স্মরণ (কুরআন) এর ব্যপারে অন্ধ এবং যারা শুনতে ও ছিল অপারগ।” (কাহফঃ ১০০-১০১)

এদের মধ্যে অনেকে দুনিয়াদার, এরা পত্র-পত্রিকা পড়ে, গল্প-উপন্যাস পড়ে, কিন্তু কুরআন পড়ার সময় পায় না। এই শ্রেণীর লোকেদের থেকে বিমুখ হতে নির্দেশ রয়েছে,
“অতঃএব তাকে উপেক্ষা করে চল, যে আমার স্মরনে বিমুখ এবং যে শুধুই পার্থিব জীবনই কামনা করে। তাঁদের জ্ঞ্যানের দৌড় এই পর্যন্ত। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত এবং তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।” (নাজমঃ২৯-৩০)

অনেকে কুরআনকে কেবল তাবীয ও মৃতের আত্মার কল্যাণে ব্যবহার করে। অথচ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে জীবিত মানুষের আমল এর জন্য। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“ আমি এ কল্যাণময়য় গ্রন্থ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিগন গ্রহণ করে উপদেশ।” (স্বাদঃ ২৯)

“নিশ্চয় যারা আল্লাহ্‌র গ্রন্থ পাঠ করে, যথাযথভাবে নামায পড়ে, আমি তাঁদেরকে যে রুযী দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার যাতে কখনোই লোকসান হবে না। এ জন্য যে, আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাঁদেরকে আরেও বেশি দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।” (ফাত্বিরঃ ২৯-৩০)

আর মহানবী (সঃ) বলেছেন, “তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা তা কিয়ামত দিন তাঁর পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে।” ৭১(মুসলিমঃ ৮০৪ নং)
“ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র কিতাব (কুরআন মজিদ)এর একটি বর্ণ পাঠ করবে, তাঁর একটি নেকী হবে। আর একটি নেকী, দশটি নেকীর সমান হবে। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মিম’ একটি বর্ণ; বরং আলিফ একটি বর্ণ, লাম একটি বর্ণ এবং মিম একটি বর্ণ।” (অর্থাৎ তিনটি বর্ণ দ্বারা গঠিত ‘আলিফ-লাম-মিম’, যার নেকীর সংখ্যা হবে ত্রিশ।) ৭২ (তিরমিযী)

বিতর্কিত সমস্যায় কার সমাধান গ্রহণ করব?

বিতর্কিত সমস্যায় কার সমাধান গ্রহণ করব?

কোন বিষয়ে মতভেদ থাকলে অথবা একই সময়ে দুই আলেমের ভিন্নমুখী ফতোয়া হলে তাঁর ফতোয়া গ্রহণ করতে হবে যার ফতোয়া কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বেশি নিকটবর্তী মনে করেন। যাকে ইলম ও তাকওয়া বেশি বড় মনে হয়। যেমন একই রোগের দুই ডাক্তারের দুই রকম চিকিৎসা পদ্ধতি ও রায় শোনেন, তাহলে যাকে আপনি বড় ও অভিজ্ঞ ডাক্তার মনে করেন, তাঁর চিকিৎসা ও পথ্য গ্রহণ করবেন।
যদি তুলনা করার উপায় না থাকে, তাহলে যার ফতোয়া মানার দিক থেকে সহজ, তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী আমল করবেন। যেহেতু দ্বীন সহজ। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তিনি তোমাদের কষ্ট চান না। (বাকারাহঃ১৮৫)
“আল্লাহ তোমাদেরকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে চান না।” ( মায়িদাহঃ ৬)
“তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিনটা আরোপ করেননি।” (হাজ্জঃ ৭৮)

আর মহানবী (সঃ) বলেছেন, “সহজ কর, কঠিন করো না।”
আবারও বলি যে, এ হল সাধারণ মানুষের জন্য, যারা নিজে দলীল যাচাই-বাছাই করতে পারে না এবং দুই আলেমের মধ্যে পাথক্য নির্ণয়ও করতে পারে না। পক্ষান্তরে যাদের সে ক্ষমতা আছে [দলিল যাচায় বাছায় করা, পার্থক্য নির্ণয় করার], তাঁদের জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে সঠিক সমাধান জেনে নেওয়া জরুরী।  (ইবনে উষাইমীন)

অনেকের রেডিও, টিভি, টেপ বা মোবাইলে কুরআন তিলাওয়াত চলতে থাকে এবং তাঁরা আপোসে গল্পতে মগ্ন থাকে। এ আচরণ কি ঠিক?

মোটেই ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত হলে নিশ্চুপ শুনতে হবে। গল্প করলে কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করে দিতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন, “যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং নিশ্চুপ হয়ে থাক; যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়। (আরাফঃ ২০৪)

রেডিও বা টিভিতে কুরআন শুনতে শুনতে খবরের সময় হলে তা শোনা বাদ দিয়ে খবর শোনা হয়। এ কাজ কি কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে পড়ে?

কুরআন যে কোন সময়ে শোনা যায় এবং কোন ব্যক্তি যদি যথাসময়ে কুরআন শোনে অতঃপর খবরের সময় কুরআনের সেন্টার বা চ্যানেল বন্ধ করে খবর শোনে---যেহেতু খবর নির্দিষ্ট সময়ে হয়, তাহলে তা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর্যায় পড়বে না। ৬৯ (লাজনাহ দায়েমাহ)

জীন জাতি আগুন থেকে সৃষ্টি। তাদের জান্নাত-জাহান্নাম হলে জাহান্নামের আগুনে আগুন বা শাস্তি পাবে কীভাবে?


আল্লাহ্‌র দেওয়া শাস্তিতে অসম্ভব কিছু নেই। মহান আল্লাহ জীনদের কথা উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘অপরপক্ষে সিমালঙ্ঘনকারীরা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।’(জীনঃ ১৫) আর বিদিত যে, দুনিয়ার আগুনের চাইতে জাহান্নামের আগুনের তেজ সত্তর গুণ বেশি। অবশ্য এমনও হতে পারে যে, তাদেরকে আযাব দেওয়ার জন্য পৃথক আগুন প্রস্তুত আছে। যেহেতু পরকালের বিষয়াবলী ইহকালের বিষয়াবলী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৬৮  মানুষ মাটি থেকে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও যদি মাটির (ঢেলা ইত্যাদির) আঘাতে কষ্ট পায়, তাহলে জীন আগুন থেকে তৈরি হওয়া সত্বেও তাদের আগুন দ্বারা কষ্ট পাওয়া কোন বিচিত্র কথা নয়।

৬৮ (ইবনে জিবরীন)

যে ব্যক্তি জীন অস্বীকার করে, ইসলামে তাঁর বিধান কি?

যে ব্যক্তি জীন অস্বীকার করে, ইসলামে তাঁর বিধান কি?

 যে ব্যক্তি জিনের অস্তিত্বই অস্বীকার করে, সে ব্যক্তি কাফের। কারণ কিতাব ও সুন্নাহতে তাদের অস্তিত্ব ও জীবনের কথা আলোচিত হয়েছে। অদৃশ্য জগৎ ফিরিশতার প্রতি ঈমান যেমন জরুরী, তেমনি জীন জাতির অস্তিত্বের বিশ্বাসও জরুরী।
মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয় সে নিজে এবং তাঁর দলবল তোমাদেরকে এমন স্থান হতে দেখে থাকে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না।’ (আ’রাফঃ ২৭)

অনেক সময় রোগী বড় ওঝার কাছে ভাল হয় না। জীন পাওয়ার প্রায় সমস্ত আলামত থাকতেও পরিশেষে ডাক্তারের কাছে ভাল হয়। তাহলে জীন পাওয়ার ব্যাপারটা কি মানসিক রোগ নয়?

হতে পারে। তবে এই শ্রেণীর মানসিক অনেক রোগ কোন ডাক্তারের কাছেও ভাল হয় না। বলা বাহুল্য এই শ্রেণীর রোগ হিস্টিরিয়া হতে পারে, যাদু-ঘটিত হতে পারে, জীন পাওয়া হতে পারে, পরিকল্পিত অভিনয়ও হতে পারে। যার যেমন রোগ, তাঁর তেমন ঔষধ না পড়লে সারবে কেন?

জীন কতৃক খুন-হত্যা, অপহরণ ইত্যাদি সত্য হলে, যাঁদের জীন বশ আছে, তাঁরা তাঁর দ্বারা বড় বড় অপরাধিদেরকে ধ্বংস করায় না কেন?

তা করতে গেলে হয়তো বিরোধী জীন তাঁকে বাঁধা দেবে। মানুষের যেমন বন্ধু ও শত্রু আছে, তেমন তাঁদেরও আছে। আর মানুষের উপকার করতে গিয়ে জীনদের আপোশের গৃহযুদ্ধ বাধবে, যেমন উমার (রঃ) –এর খিলাফত কালে ঘটেছিল

কোন মৃতের ‘রূহ’ কি হাযির করা যায়? জীন কি মানুষকে অপহরণ ও হত্যা করতে পারে?

কোন মৃতের ‘রূহ’ কি হাযির করা যায়?

 না। কোন মৃতের ‘রূহ’ হাযির করা যায় না। তবে তুষ্ট করে শয়তান জীন হাযির করা যায়। ৬৪

৬৪ (ইবনে জিবরীন)

জীন কি মানুষকে অপহরণ ও হত্যা করতে পারে?

হাদীসে বর্ণিত আছে, খাযরাজের সর্দার সা’দ বিন উবাদাহ (রঃ) জীন কতৃক খুন হয়েছিলেন। ৬৫  মাদ্বীনায় এক সাহাবীকে এক জীন সাপের আকৃতি নিয়ে হত্যা করেছিলেন। ৬৬ অনুরূপ উমার (রঃ)-এর খেলাফতকালে একজন মুসলিম মুশারিক জীন কতৃক অপহৃত হয়। পরিশেষে মুসলিম জিনেরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে তাঁকে মুক্ত করে আনে। ৬৭

৬৫ (ত্বাবাক্বাতে ইবনে সা’দ ৩/৬১৭, মুস্তাদরাক ৩/২৮৩, মুস্বান্নাফ আঃ রাযযাক্ব ১১/৪৩৪) ৬৬ ( মুসলিম, মিশকাত ৪১১৮ নং) ৬৭ (ইবনে জিবরীন)

জীন কি বশ করা যায়? জীন কি কোন মানুষের সাথে যৌন-মিলনে লিপ্ত হতে পারে?

জীন কি বশ করা যায়?

শয়তান প্রকৃতির জীনকে তুষ্ট করে বশ করা যায়। ৬২

৬২ (ইবনে জিবরীন)

জীন কি কোন মানুষের সাথে যৌন-মিলনে লিপ্ত হতে পারে?

 জিন-ইনসানের মিলন অসম্ভব নয়। ৬৩ (ইবনে জিবরীন)

৬৩ (ইবনে জিবরীন)

জীন যাতে কাছে বা বাড়ীতে না আসে, সে উদ্দেশ্যে বাঘের ছাল বা মাথা ঘরে রাখা বৈধ কি?

জীন যাতে কাছে বা বাড়ীতে না আসে, সে উদ্দেশ্যে বাঘের ছাল বা মাথা ঘরে রাখা বৈধ কি?

 না। এ উদ্দেশ্যে বাঘের ছাল বা মাথা (মাথা বা তামার কোন জিনিস, মাদুলি বা অন্য কিছু) ব্যবহার করা বৈধ নয়। ৬০  বরং শরয়ী দু'আ  যীকর পড়া উচিৎ। শিশুকে দু'আ-তাবীয নয়, বরং নির্দিষ্ট দু'আ পড়ে দু’আর তাবীয দেওয়া উচিৎ। আর তা হল এই,
‘আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বানীসমূহের আসীলায় প্র্যত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক জন্তু হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকারক (বদ) নজর হতে আল্লাহ্‌র পানাহ চাচ্ছি। ৬১

৬০ (ইবনে জিবরীন) ৬১ (বুখারী)

মনের ভিতরে আল্লাহ ও গায়েবী বিষয়সমূহে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হলে কি করা উচিত?

মনের ভিতরে আল্লাহ ও গায়েবী বিষয়সমূহে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হলে কি করা উচিত?

(ক) আল্লাহ্‌র কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিৎ।
(খ) সেই কুমন্ত্রণাকে মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিৎ এবং
(গ) ‘আমানতু বিল্লাহ’ অথবা ‘আমানতু বিল্লাহি আরুসুলিহ’ বলা উচিৎ। ৫৯

৫৯ (ইবনে জিবরীন)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রতি ঈমানের সাথে তাগুতের প্রতি কুফরী (অর্থাৎ তাগুতকে অস্বীকার) করতে বলেছেন। কিন্তু তাগুত কাকে বলে?

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রতি ঈমানের সাথে তাগুতের প্রতি কুফরী (অর্থাৎ তাগুতকে অস্বীকার) করতে বলেছেন। কিন্তু তাগুত কাকে বলে?
প্রত্যেক সেই পুজ্যমান উপাস্য যে আল্লাহ্‌র পরিবর্তে পুজিত হয় এবং সে তাঁর এই পূজায় সম্মত থাকে অথবা আল্লাহ ও তদীয় রসুলের অবাধ্যতায় প্রত্যেক অনুসৃত বা মানিত ব্যাক্তিকেই তাগুত বলা হয়।
এ দুনিয়ায় তাগূত বহু আছে। অবশ্য তাঁদের প্রধান হল পাঁচটিঃ

ভাল নিয়তে কোন খারাপ কাজ করলে কি তাঁর সওয়াব পাওয়া যাবে?

ভাল নিয়তে কোন খারাপ কাজ করলে কি তাঁর সওয়াব পাওয়া যাবে?
খারাপ কাজ ভাল নিয়তে করলে তা ভাল হয়ে যায় না, তথা তাঁর সওয়াব পাওয়া যায় না। কবরকে সামনে করে ভাল নিয়াতে আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে নামাজ পড়লে কি সেটা ভাল কাজ বলে মনে করা যাবে? অবশ্যই না।৩৫ বরং ভাল কাজ ভাল নিয়তে করলেও অনেক সময় তা ভাল কাজ হয় না। যখন তা তরীকায় মুহাম্মাদী অনুযায়ী না করে নিজের অথবা অন্য কারো তারীকা অনুযায়ী করা হয়।
ফুটনোটঃ৩৫ (আলবানী)
লেখক/সংকলকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী

‘জন্মে-জন্মে’ বা জন্মে জন্মান্তরে তোমাকে ভালবাসব —এ বিশ্বাস কি সঠিক?

‘জন্মে-জন্মে’ বা জন্মে জন্মান্তরে তোমাকে ভালবাসব —এ বিশ্বাস কি সঠিক?
যে জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস রাখে, সে মুসলিম থাকতে পারে না। এ জন্মের পর কেবল একটাই জীবন আছে। আর তা হল হিসাব নিকাশের জন্য পরকালের পুনরুত্থান। অতঃপর জান্নাত নতুবা জাহান্নাম। মানুষ মারা গেলে পুনরায় মানুষ হয়ে অথবা নিজ কর্ম অনুযায়ী অন্য কোন জীব-জন্ত হয়ে জন্ম গ্রহণ করে, এমন আকিদা কুফরী।
লেখক/সংকলকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী

বদ-নজর থেকে বাচার উদ্দেশ্য গাড়ীর সামনে ছেড়া জুতো ঝুলিয়ে দেওয়া, ফলদার গাছে ভাঙ্গা হাড়ি টাঙ্গিয়ে দেওয়া, গরু বা ঘোড়ার গলায় কিছু বেঁধে দেওয়া বৈধ কি?

বদ-নজর থেকে বাচার উদ্দেশ্য গাড়ীর সামনে ছেড়া জুতো ঝুলিয়ে দেওয়া, ফলদার গাছে ভাঙ্গা হাড়ি টাঙ্গিয়ে দেওয়া, গরু বা ঘোড়ার গলায় কিছু বেঁধে দেওয়া বৈধ কি?
বদ-নজর থেকে বাচার জন্য এ সব ব্যবহার করা বৈধ নয়। যেহেতু এতে শিরকও হতে পারে।

নবীর জন্য সারা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। —এ ধারনা কি সঠিক?

নবীর জন্য সারা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। —এ ধারনা কি সঠিক?
মোটেই না। ‘লাওলাক’-এর হাদীস মনগড়া। ভক্তির আতিশয্যে মানুষ এমন অত্যুক্তি রচনা ক’রে প্রচার করেছে। মহান আল্লাহ এ বিশ্ব রচনা করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। তিনি বলেন, আমি সৃষ্টি করেছি জীন ও মানুষকে কেবল এ জন্য যে, তাঁরা আমারই ইবাদত করবে। (যারিয়াতঃ ৫৬) আর নবী পাঠিয়েছেন সেই ইবাদতের পদ্ধতি বাতলে দেওয়ার জন্য।
লেখক/সংকলকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী

নবী (সঃ)-এর নবুয়ত-প্রাপ্তির আগে যারা মুশারিক অবস্থায় মারা গেছে, তাঁরা জাহান্নামে যাবে কেন? অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন, “আমি রসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না। (বনী ইস্রাইলঃ ১৫)


তাঁরা তাদের শিরক ও কুফরীর কারণে জাহান্নামে যাবে। তাদের কাছে পূর্বে রসুল এসেছিলেন ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর পরবর্তীতে আরও নবী তাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা পৌত্তলিকতা অবলম্বন করে। আর তাঁর ফলে তাদের শাস্তি হবে। ৩৩
ফুটনোটঃ৩৩ (আলবানী)
লেখক/সংকলকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী

নবি-ওলীর আসীলায় দুআ করা যায় কি?

নবি-ওলীর আসীলায় দুআ করা যায় কি?
না। নবি-আলীর আসীলায় দু’আ করা যায় না। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সরাসরি দু’আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিই। অতএব তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক, যাতে তাঁরা ঠিক পথে চলতে পারে। (বাকারাহঃ ১৮৬)
আর মুহাম্মাদ (সঃ)-এর অসীলায় আদম (আঃ)-এর দুআ করার কথা প্রমাণিত নয়।
পরন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তিন প্রকার আসীলায় দুআ করা যায়ঃ-

মুমিন কারা? মুমিনদের বৈশিষ্ট্য কি? জান্নাতুল ফেরদাউসে কারা যাবে?


 

মুমিন কারা? মুমিনদের বৈশিষ্ট্য কি? জান্নাতুল ফেরদাউসে কারা যাবে?
----------------------
সুরা মুমিনুনের প্রথম ১১টি আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর।
আ’উযুবিল্লা-হিমিনাশ শায়তানীর রাজীম। বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহীম।
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১) ক্বাদ আফলাহা’ল মু’মিনুন।
অর্থঃ নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে।
আয়াতের তাফসীরঃ আরবীতে ‘ফালাহ’ (সফলতা) শব্দের আভিধানিক অর্থ হল চিরা, বিদীর্ণ করা, কাটা। চাষীকে ফাল্লাহ বলা হয়, যেহেতু সেও মাটি চিরে ওর মধ্যে বীজ বপন করে থাকে। মুফলিহ (সফলকাম) সে হয়, যে অনেক কষ্ট ও সংকটের বুক চিরে নিজ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। অথবা

শিরক কাকে বলে? কত প্রকার? কি কি?


*শিরক কাকে বলে? কত প্রকার? কি কি?*
==================================
শিরক শব্দের অর্থ-অংশীদারিত্ব,অংশিবাদ,মিলানো, সমকক্ষ করা, সমান করা, শরিক করা, ভাগাভাগি করা। ইংরেজীতে Polytheism (একাধিক উপাস্যে বিশ্বাস), Associate,partner.
বিশ্বাসগতভাবে,আমলগতভাবে আল্লাহর সাথে ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে আল্লাহর অংশিদার/সমতুল্য বা সমান বানানোকে/করাকে শিরক বলে।
রব ও ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সহিত আর কাউকে শরীক (অংশিদার) সাব্যস্ত করার নামই শিরক৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুহিয়াত তথা ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়৷ যেমন আল্লাহর সাথে অন্য কারো নিকট দোয়া করা কিংবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদত যেমন যবেহ, মান্নাত, ভয়, কুরবানী, আশা, মহব্বত,আনুগত্য,ভরসা ইত্যাদি কোন কিছু গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা৷ আল্লাহকে ডাকার মত অন্যকে ডাকা, আল্লাহকে ভয় করার মত অন্যকে ভয় করা, তাঁর কাছে যা কামনা করা হয়, অন্যের কাছে তা কামনা করা। তাঁকে ভালোবাসার মত অন্যকেও ভালোবাসা।
শিরক কত প্রকার?

সালাতের মধ্যে অধিক সাওয়াব লাভের আমলগুলি কি?


সালাতের মধ্যে অধিক সাওয়াব লাভের আমলগুলি কি?
--------------------
#১-  হারামাইন শরিফাইন( মসজিদে হারাম এবং নববী) বেশি বেশি সালাত আদায় করা
নবী (সাঃ) বলেন, “মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্যান্য মসজিদের তুলনায় আমার এই মসজিদে (নববীতে) একটি নামায হাজার নামায অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৬৯২নং)
“আর অন্যান্য মসজিদের তুলনায় মসজিদুল হারামের একটি নামায এক লক্ষ নামায অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (আহমাদ, মুসনাদ, বায়হাকী, জামে ৩৮৩৮, ৩৮৪১ নং)
কুবার মসজিদ সম্বন্ধে মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি স্বগৃহে ওযু বানিয়ে কুবার মসজিদে এসে কোন নামায পড়ে, তার একটি উমরাহ্‌ করার সমান সওয়াব লাভ হয়।” (আহমাদ, মুসনাদ, নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, বায়হাকী, জামে ৬১৫৪ নং)
#২-মসজিদে জামাতের সাথে সালাত আদায় করা
আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন,

প্রশ্ন : প্রেগন্যান্ট অবস্থায় বেশি বেশি কোরআন খতম করলে কি নেক সন্তান পাওয়ার আশা করা যায়?




প্রশ্ন : প্রেগন্যান্ট অবস্থায় বেশি বেশি কোরআন খতম করলে কি নেক সন্তান পাওয়ার আশা করা যায়?
উত্তর : গর্ভবস্থায় কুরআন খতম দিলে বা অধিক পরিমান কুরআন পাঠ করলেই নেক সন্তান লাভ হবে হাদীস-কুরআনে এমন কোন কথা নেই। বরং এতে সুসন্তান পাওয়ার আশা করা যায়। কুরআনের বরকতে মনের মধ্যে এই আশা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা অপরিহার্য নয়।
কেননা, সন্তান নেককার হবে না কি বদকার হবে তা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তবে পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানকে নেককার বানানোর চেষ্টা থাকা জরুরি। আল্লাহ সে চেষ্টা কবুল করলে সে হেদায়েতের পথে থাকবে; অন্যথায় নয়।
তাই বলব, একজন গর্ভবতী নারী সাধ্যানুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করবেন, যিকির-আযকার, দুয়া ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যত্নশীল হবেন, গুনাহ থেকে বাঁচবেন এবং মহান আল্লাহর নিকট দুয়া করবেন যেন, আল্লাহ তাকে চক্ষুশীতলকারী সুসন্তান দান করেন।
এমন কি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরও ঈমান ও আমলের উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করবেন। সেই সাথে সন্তানকে কল্যাণের পথে রাখার জন্য যথাযথ উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।
তাহলে আল্লাহ তাআলা যদি কবুল করেন তাহলে তার সন্তান নেককার ও পিতা-মাতার চক্ষুশীতল কারী হবে।
নিশ্চয় একমাত্র আল্লাহই হেদায়েতের মালিক ও তাওফিক দানকারী।
উত্তর দিয়েছেন শাইখ Abdullahil Hadi

প্রশ্ন : আমরা যে বেতেরের নামাজ পড়ি, সেটা যদি আমি তিন রাকাত পড়ি তাহলে মাগরিবের মতো পড়া যাবে কি না?

প্রশ্ন : আমরা যে বেতেরের নামাজ পড়ি, সেটা যদি আমি তিন রাকাত পড়ি তাহলে মাগরিবের মতো পড়া যাবে কি না?

উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

না। সহিহ হাদিসের মধ্যে নিষেধ করা হয়েছে। ‘তোমরা বেতেরকে মাগরিবের মতো করো না’; মানে মাঝখানে বসো না। যদি মাঝখানে না বসে একবারে তিন রাকাত পড়েন, তাহলে এটিই হবে তিন রাকাত পড়ার নিয়ম। এভাবে আরো সহজ হয়ে গেল।

আমরা মাগরিবে দুই রাকাতের পর বৈঠক করি,

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ