Tuesday, October 17, 2017

নিজের লোক উপদেশ গ্রহণ না করে যদি পাপে অবিচল থাকে, তাহলে কি তার সাথে পথ চলা যাবে?

নিজের লোক উপদেশ গ্রহণ না করে যদি পাপে অবিচল থাকে, তাহলে কি তার সাথে পথ চলা যাবে?

মন্দ কাজে বাধা দানের তিনটি ধাপ পার হলে তাঁর সাথে পথ চলা বর্জন করতে হবে, যদি মনে হয় যে, তাকে বর্জন করলে সে শিক্ষা ও উপদেশ নেবে। পক্ষান্তরে যদি মনে হয় যে, তাকে বর্জন করলে সে আরও খারাপ হয়ে যাবে, তাহলে বর্জন না করে যথাসাধ্য সংশোধনের চেষ্টা করে যেতে হবে এবং তাকে উপদেশ দেয়ার জন্য এমন দাঈ নির্বাচন করতে হবে, যিনি সম্ভবতঃ কৌশলে তার মনে পরিবর্তন আনতে পারবেন। আর হিদায়াত তো আল্লাহর হাতে। অবশ্য সে সময় তার সাথে বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তা বজায় রাখা চলবে না। (ইবনে বাজ রহঃ)

দ্বীনের বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ইমাম বা আলেমের ‘তাকালিদ' অন্ধানুকরন করা বৈধ কি?

দ্বীনের বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ইমাম বা আলেমের ‘তাকালিদ' অন্ধানুকরন করা বৈধ কি?

দ্বীনের বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ইমাম বা আলেমের 'তাকালিদ' অন্ধানুকরন করা বৈধ নয়। যারা বলেন, চার মাজহাবের মধ্যে কোন এক মাজহাবের তাকালিদ করা ফরয, তাঁদের নিকট ‘ইজম’ ছাড়া কোন দলীল নেই। অথচ এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ‘ইজম’ (ঐকমত্য) হয়নি। পড়ন্ত আয়েম্মায়ে আরবাআহ তাঁদের তাকালিদ করতে নিষেধ করে গেছেন এবং প্রত্যকেই বলেছেন, “সহিহ হাদিস হলে, সেটাই আমার মাজহাব। তাঁরা নিজেরও কারও তাকালিদ করেননি। ইমাম শাফেয়ী ইমাম মালেকের ছাত্র, তিনি নিজ ওস্তাদের তাকালিদ করেননি।  ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ইমাম শাফেয়ীর ছাত্র, তিনিও নিজ ওস্তাদের তাকালিদ করেননি। যেহেতু সঠিকার্থে তাকালিদ করতে হলে একমাত্র মহানবী (সঃ) এরই করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“যে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রাসুল ও তোমাদের নেতৃবর্গ (ও উলামা) দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর । (নিসাঃ ৫৯)

তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন --- ওর মীগোশতা তো আল্লাহরই নিকট। (শূরাঃ ১০ )

তবে তাকালিদ বৈধ নয় বলেই যে সকলেই মুজতাহিদ হয়ে যাবে, তা নয়। যে মুজতাহিদ হতে পারবে না, সে মুজতাহিদ উলামাগনের ইত্তিবা করবে। যার মত কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর কাছাকাছি হবে, তার মতকে মেনে নেব। কোন নির্দিষ্ট আলেম বা ইমামের ইত্তিবা করবে না। প্রত্যেক ইমামের ফিকাহ থেকে উপকৃত হবে তালেব ইলম। যারা ফিকাহ সহিহ হাদিসের অনুসারী তারই ফিকাহকে গ্রহণ করে নেবে। যাদের ফিকাহ সহিহ হাদিস বিরোধী হবে, তাঁদের কোন অজুহাত অবশ্যই আছে। সুতরাং তাঁদের এবং সকল আহলে সুন্নাহর ইমামের নাম উল্লেখের সময় ‘রাহিমাহুল্লাহ’ বলবে। তাঁদের প্রতি কোন কুমন্তব্য করবে না। এরাই তো তাঁরা, যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,

“যারা তাগুতের পূজা  হতে দুরে থাক  এবং আল্লাহর অনুরাগী হয়, তাঁদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার দাসদেরকে --- যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং উত্তম তার অনুসরণ করে। ওরাই তাঁরা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান।”  (জুমারঃ ১৭-১৮)

http://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=2305

কোন মুফতি ফতোয়া দেওয়ার পর সেটা ‘ভুল ফতোয়া’ বলে জানতে পারলে তার কি করা উচিত?

কোন মুফতি ফতোয়া দেওয়ার পর সেটা ‘ভুল ফতোয়া’ বলে জানতে পারলে তার কি করা উচিত?

তার রুজূ করা উচিৎ এবং তাতে তার প্রেস্টিজ যাওয়ার ভয় করা অনুচিত। যেহেতু হক প্রকাশ পেলে হকের দিকে রুজূ করা মহান মানুষদের কাজ। সাধারণের কাছে ওজন হাল্কা হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভুলের উপর অটল থাকা উদার মানুষের কাজ নয়। মহানবী (সঃ) হক বুঝতে পেরে হকের দিকে রুজূ করেছেন। একদা তিনি সাহাবাদেরকে দেখলেন, তারা খেজুর মোচার পরাগ-মিলন সাধন করেছেন, অর্থাৎ মাদা গাছের মোচা নিয়ে মাদী গাছের মোছার সাথে বেঁধে দিচ্ছেন। তিনি বললেন, “আমার মনে হয় ঐরূপ করাতে কোন লাভ নেই। ঐরূপ না করলেও খেজুর ফলবে।” তার মন্তব্য শুনে সাহাবাগন তা ত্যাগ করলেন। কিন্তু খেজুর ফলার সময় দেখা গেল, খেজুর পরিপুষ্ট হয়নি। ফলে তার ফলনও ভালো হয়নি। তিনি তা দেখে বললেন, “কি ব্যাপারে, তোমাদের খেজুরের ফলন নেই কেন?” তারা বললেন, যেহেতু আপনি পরাগ মিলন ঘটাতে নিষেধ করেছিলেন, সেহেতু তা না করার ফলে ফলন কম হয়েছে। তিনি বললেন, “আমি ওটা ধারনা করে বলেছিলাম। তোমরা তোমাদের পার্থব বিষয় সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখ। অতএব তা ভালো হলে, তোমরা তা করতে পার।” (মুসলিম ২৩৬১-২৩৬৩ নং)

সাহাবা, তাবেঈন ও ইমামগণ হকের দিকে রুজূ করেছেন। দলীল বলিষ্ঠ দেখে নিজের রায় বদলে দিয়েছেন। তাতে তাদের কোন মানহানি হয়নি। কোন আলেমের হওয়ারও কথা নয়। (ইবনে বাজ)

দাওয়াতের কাজে আলেম ও বক্তার অর্থ গ্রহণ করা কি বৈধ?

দাওয়াতের কাজে আলেম ও বক্তার অর্থ গ্রহণ করা কি বৈধ?

দ্বীনী ইলম ও আমলের কোন কাজ দুনিয়া লাভের জন্য করা বৈধ নয়। যেহেতু আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোন ইলম অনুসন্ধান করে যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, ওই ইলম যদি কোন পার্থিব বিষয় লাভের উদ্দেশ্যেই শিক্ষা করে থাকে, তবে সে কিয়ামতের দিন বেহেশতর সুগন্ধ টুকুও পাবে না।” (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, সহিহ তারগিব ৯৯ নং)

তবুও পেটের জন্য অর্থের প্রয়োজন আছে। সুতরাং আসল নিয়ত দাওয়াতের রেখে প্রয়োজন মতো অর্থ নেওয়া দূষণীয় নয়। সত্য কথা এই যে, আল্লাহর তওফিকের পর যদি অর্থ  না হত, তাহলে দাওয়াতের কাজে অগ্রগতি সহজ ছিল না। সুতরাং দ্বীনের দাঈ অর্থের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারলে দাওয়াতের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবে। দাওয়াতের পথে অর্থ ব্যয় করতে পারলে দাওয়াত বড় ফলপ্রসূ হবে। তবে নিজ থেকে রেট বাঁধা ঠিক নয়।

উমার (রঃ) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সঃ) আমাকে দান দিতেন। কিন্তু আমি বলতাম, ‘আমার থেকে বেশী অভাবী মানুষকে দিন।’ তিনি বলতে, “তুমি তা নিয়ে নাও। যখন তোমার কাছে এই মাল আসে, আর তোমার মনে লোভ না থাকে এবং তুমি তা  যাচ্ঞা না করে থাক, তাহলে তা গ্রহণ কর এবং তা নিজের মালের সাথে মিলিয়ে নাও। অতঃপর তোমরা ইচ্ছা হলে তা খাও, নতুবা দান করে দাও। এ ছাড়া তোমার মনকে তাতে ফেলে রেখো না।”

সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমার বলেন, ‘এ কারণেই (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ কারো কাছে কিছু চাইতেন না এবং তাঁকে কেউ কিছু দিতে চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করতেন না। (বরং গ্রহণ করে নিতেন) (বুখারি, মুসলিম, নাসাই, সহিহ তারগিব ৫১০ পৃঃ

কিছু অল্প শিক্ষিত আলেম অথবা বাংলা পড়ুয়া আধুনিক শিক্ষিত ফতোয়াবাজি করেন। তাদের এ কাজ কি যথাযথ?

কিছু অল্প শিক্ষিত আলেম অথবা বাংলা পড়ুয়া আধুনিক শিক্ষিত ফতোয়াবাজি করেন। তাদের এ কাজ কি যথাযথ?

অবশ্যই না। ফতোয়া দেওয়ার কাজ সকলের নয়। একমাত্র সঠিকার্থের মুফতী ছাড়া অন্য কেউ ফতোয়া দিতে পারেন না। অবশ্য ফতোয়া নকল করতে পারেন। এছাড়া যে বিষয়ে পূর্বেকার কোন ইমাম বা মুফতীর ফতোয়া নেই, সে বিষয়ে নিজের বুঝ অনুযায়ী হালাল হারাম বলার জন্য মুখ না খোলাই কর্তব্য। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবার জন্য তোমরা বলো  না, ‘এটা হালাল এবং এটা হারাম।’ যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না। (নাহলঃ ১১৬)

 মহানবী (সঃ) বলেছেন, “যাকে বিনা ইলমে ফতোয়া দেওয়া হয়, তার গোনাহ বর্তায় মুফতির উপর।” (আবু দাউদ ৩৬৫৭, হাকেম, সঃ জামে ৬০৬৮ নং

অনেকে সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান না করে বলে, ‘এ সব আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহই দ্বীনের হেফাজত করবেন। আর আল্লাহই তো বলেছেন, “হে মু’মিন গন! তোমাদের আত্নরক্ষা করাই কর্তব্য। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” (মায়িদাহঃ ১০৫) সুতরাং তাদের কথা কি ঠিক?

না। তাদের এ কথা ঠিক না। কারণ আল্লাহর শরয়ী ইচ্ছা, দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে। তিনি দ্বীনের দাওয়াতের মাধ্যমেই দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। আর আয়াতের অর্থ এই নয় যে, ‘আপন বাঁচলে বাপের নাম।’ অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দানের কাজ করতে হবে না। আবু বকর সিদ্দীকি (রঃ) বলেন,

কিসের দাওয়াত আগে দিতে হবে?

কিসের দাওয়াত আগে দিতে হবে?


যাকে দাওয়াত দেওয়া হবে, তার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বিষয়ের দাওয়াত দিতে হবে। যেমন কাফের বা মুশরিক মুসলিমকে সর্বপ্রথম তাওহীদের দাওয়াত দিতে হবে। দাওয়াতের এ মূলনীতি বর্ণনা করে গেছেন মহানবী (সঃ)। মুয়াজ (রঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাকে (ইয়ামানের শাসক রূপে) পাঠাবার সময় বলেছিলেন,

দাওয়াতের কাজ কখন শুরু করা যাবে?


মুসলিম যখন প্রয়োজনীয় ইলম সঞ্চয় করে নেবে, যে বিষয়ের দাওয়াত দেবে, সে বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করে নেবে, তখন সে মানুষকে দাওয়াত দিতে পারবে। তার জন্য সর্ব বিষয়ে আলেম হওয়া জরুরী নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন,
“একটি আয়াত হলেও তা আমার নিকট থেকে (মানুষের কাছে) পৌঁছে দাও।” (বুখারি ৩৪৬১ নং)
বলা বাহুল্য, দাঈ হওয়ার জন্য আলেম হওয়া জরুরী নয়। বরং

মহিলা কি দাওয়াতের কাজ করতে পারে?

মহিলা কি দাওয়াতের কাজ করতে পারে?


অবশ্যই। বরং অনেক ক্ষেত্রে দাওয়াতের কাজ ওয়াজেব। সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ যথাস্থানে জরুরী। ক্ষমতায় না পারলে মুখে উপদেশ দেওয়া নারী পুরুষ সকলের কর্তব্য। তবে

দাওয়াতি ময়দানে ঘোড়া সওয়ারদের ভুল সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি কি ?

ভুল সংশোধনে ইখলাস থাকা উচিৎ। উচিৎ গঠনমূলক সমালোচনা করা।  সমালোচনায় কোন ব্যক্তি বা জামায়াতের নাম না নেওয়া। এর ফলে শয়তান মুসলিমদের মাঝে বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করার সুযোগ পাবে না এবং সমালোচিত ব্যক্তি ভুল শুধরে নেওয়ার প্রয়াস পাবে।
ভ্রম সংশোধনে মহানবী (সঃ)  এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন,

দাওয়াতের কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার বৈধ কি ?

যে কোন বৈধ অসিলার মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াত পৌঁছানো সম্ভব হয়, সেই  অসিলায় ব্যবহার করা বৈধ। রেডিও, টিভি, ইন্টারনেটে শরিয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ড থাকলেও তা সম্পূর্ণ বিধর্মী ও পাপাচারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয়। যে অস্ত্র দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হচ্ছে, সেই অস্ত্র দিয়েই মোকাবেলা করা আমাদের উচিৎ। (ইবনে জিবরিন)

কোন আপত্তিকর কাজ যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপত্তি কিভাবে সম্ভব?

যে কাজে বিতর্ক ও উলামাদের মতভেদ আছে, সে কাজে বাধা দেওয়া বা আপত্তি করার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, তা ইজতিহাদি কি না? অর্থাৎ তাতে মতভেদ স্বাভাবিক কি না? উভয় পক্ষের দলীল সমপর্যায়ের কি না? তা হলে আপত্তি করা যাবে না। যেমনঃ যদি কেউ ডবল শব্দে ইকামত দেয়, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে বুকে হাত না বাঁধে, সিজদায় হাঁটু আগে বাড়ায়, রুকু পেলে রাকআত গণ্য না করে, তাহলে তাতে আপত্তি করা ঠিক নয়। অবশ্য

হাত দ্বারা আপত্তি করার অধিকার ও কর্তব্য কার আছে?

যার ক্ষমতা আছে তাঁর। যেমন শাসন কর্তৃপক্ষ, বাড়ির মুরব্বী, স্বামী, বাপ প্রভৃতি।
সুতরাং যার ক্ষমতা নেই অথবা ক্ষমতা আছে, কিন্তু তা প্রয়োগ করলে ফিতনা বা মারামারি হওয়ার আশঙ্কা আছে অথবা অপেক্ষাকৃত বড় নোংরা সংঘটিত হওয়ার ভয় আছে, তাহলে তা প্রয়োগ করা যাবে না। (ইবনে বাজ)

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন খারাপ কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা ।” অন্তর দ্বারা আপত্তি ও পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব?

সে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা সেই কাজকে ঘৃণা করবে এবং সেই সাথে তাঁর কাজীর সংস্রব বর্জন করবে। যেহেতু আপত্তি  না জানিয়ে তাঁর সাথে স্বাভাবিক ভাবে উঠা বসা করা বনী ইসরাইল দের কর্মের শামিল হয়ে যাবে। যাদের মহান আল্লাহ বলেছেন,
“ বনী ইসরাইলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল, তারা দাউদ ও মারয়্যাম তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা যেসব খারাপ কাজ করত, তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত, নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।” (মায়িদাহঃ ৭৮-৭৯)

আমি যে কাজ নিজে করতে পরি না, তা অপরকে করতে কি আদেশ করতে পারি? যে কাজ নিজে বর্জন করতে পারি না, তা অপরকে বর্জন করতে আদেশ করতে কি পারি?

মহান আল্লাহ বলেন,
“কি আশ্চর্য! তোমরা নিজেদের বিস্মৃত হয়ে মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, অথচ তোমরা কিতাব (গ্রন্থ) অধ্যায়ন কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?” (বাকারাহঃ ৪৪)
রাসুল (সঃ) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হওয়ে যাবে এবং সে তাঁর চারপাশে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন

আমি একজন ধার্মিক মহিলা। আমার বাড়ি বা প্রতিবেশীতে যে সকল আপত্তিকর কর্ম ঘটে, তাতে বাধা দিলে লোকে আমাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করে। গান বাজনা শুনতে, গীবত চর্চা করতে নিষেধ করলে আমাকে অনেকে ‘সেকেলে’ মেয়ে বলে। এ ক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?

আপনার জন্য ওয়াজেব এই যে, আপনি উত্তম কথা ও ভঙ্গিমার মাধ্যমে নম্রতা ও ভদ্রতার সাথে গোনাহর কাজে আপত্তি জানাবেন। পারলে দলীল উল্লেখ করে উপদেশ দেবেন। তাঁরা গ্রহণ করুক চাই না করুক, আপনি তাঁদের গোনাহে শরিক হবেন না। তাঁদের গীবত ও গান বাজনার মজলিসে বসবেন না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“তুমি যখন দেখ, তাঁরা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি

বড়দেরকে গীবত ইত্যাদি আপত্তিকর কর্মে লিপ্ত দেখে বাধা দিলে তাঁরা রেগে ওঠেন। বিশেষ করে পিতামাতা হলে তাঁদের রাগ কি আমার জন্য ক্ষতিকর হবে?

অবশ্যই না। তবে বড়দের সঙ্গে আদব বজায় রেখে হিকমতের সাথে অসৎ কর্মে বাধা দিতে হবে। আর কেউ রাগলে তাঁর রাগের উপর ধৈর্য ধারণ করতে হবে। লুকমান হাকিম তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, ‘হে বৎস ! যথারীতি নামায পড়, সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজে বাধা দান কর এবং আপদে বিপদে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এটিই দৃঢ় সংকল্প কাজ। (লুকমানঃ ১৭)

রোজাদার ব্যক্তি ভুল করে পানাহার করলে আল্লাহই তাকে খাওয়ান এবং তাঁর রোজাও শুদ্ধ। কিন্তু যে ব্যক্তি তাকে পানাহার করতে দেখবে, সে কি তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে পানাহারে বাধা দেবে? নাকি আল্লাহ খাওয়াচ্ছেন বলে তাকে খাওয়ার সুযোগ দেবে?

যে ব্যক্তি রোজাদার ব্যক্তিকে পানাহার করতে দেখবে, তাঁর জন্য ওয়াজেব তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। যেহেতু সে ভুলে পানাহার করেছে। আর রোজা অবস্থায় পানাহার হারাম। অনুরূপ রোজাদারের উচিৎ, স্মরণ হওয়া মাত্র সাথে সাথে মুখ থেকে খাবার ফেলে দেওয়া। (ইবনে উসাইমিন)

বহু মানুষ আছে, যারা চোখের সামনে খারাপ কাজ হতে দেখেও বাধা দেয় না। পরন্ত যারা সে কাজ করে, তাদের সাথে ভাল সম্পর্কও রাখে, উঠা বসা করে, সহবস্থান করে। মন চটে যাওয়ার ভয়ে তাদের কাজে কোন প্রকার আপত্তি জানায় না। জানি না, তাদের মনে ঘৃণা আছে কি না। আর ঘৃণা থাকলেও কি কোন কাজে দেবে? এর শ্রেণীর লোকেদের ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কি?

এই শ্রেণীর লোকেরা আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ) এর অবাধ্য। এদের ইমান সবচেয়ে দুর্বল। তাদের হৃদয়ে আছে বিপদজনক ব্যাধি। তারা বিলম্বে অথবা অবিলম্বে আল্লাহর শাস্তি বা আজাবের উপযুক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (নিসাঃ ১৪০)

তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যাঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দুরে সরে পড়,

হাত দ্বারা মন্দকাজে বাধা বা তার পরিবর্তন কিভাবে হবে?

হাত দ্বারা মন্দকাজে বাধা বা তার পরিবর্তন কিভাবে হবে?


যার ক্ষমতা আছে, সে তার হাত বা ক্ষমতা দ্বারা মন্দকাজে বাধা দেবে। যেমন সরকার ও প্রশাসন এ কাজ করবে। জামাআতের আমীর এ কাজ পারবে। ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে বাপ মা এ  কাজ পারবে। স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী এ কাজ পারবে। অবশ্য শর্ত হল, ক্ষমতা প্রয়োগ করে নোংরা কাজ বন্ধ করতে গিয়ে তার থেকে বড় নোংরা বা খারাপ কাজ না হয়ে বসে। তাহলে সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগ করা বৈধ নয়। (ইবনে বাজ)

হাদিসে এসেছে, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন খারাপ কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা।” কিন্তু মুসলিম অন্তর দ্বারা খারাপ কাজ কিভাবে পরিবর্তন করবে?

অন্তর দ্বারা খারাপ কাজকে জানবে এবং তার কাজীদের সাথে বসবে না। যেহেতু বিনা আপত্তিতে তাদের সাথে বসা সেই অভিশপ্ত বানী ইসরাইলের মতো কাজ হবে, যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
“বনী ইসরাইলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল,  তারা দাউদ ও মার‍য়্যাম তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা যে সব খারাপ কাজ করত, তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত, নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট। (মায়িদাহঃ ৭৮-৭৯)

ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেওয়া বৈধ কি?

ঘুষ দিয়ে চাকুরী দেওয়া নেওয়া বৈধ নয়। চাকুরী দিতে হবে পরীক্ষা বিবেচনার মাধ্যমে যোগ্যতম ব্যক্তিকে। যোগ্যতায় সমান হলে লটারির মাধ্যমে নিতে হবে। ঘুষ খেয়ে কাউকে চাকুরী দেওয়া বা নেওয়া এবং যোগ্য লোকের অধিকার নষ্ট করা বৈধ নয়। ‘আল্লাহর রাসুল (সঃ) ঘুষখোর, ঘুষ দাতা (উভয়কেই) অভিশাপ করেছেন।’ (আবু দাউদ ৩৫৮০, তিরমিজি ১৩৩৩৭, ইবনে মাজাহ ২৩১৩, ইবনে হিব্বান, হাকেম ৪/১০২-১০৩, সহিহ আবু দাউদ ৩০৫৫ নং)


“তুমি ও তোমার মাল তোমার পিতার জন্য”--- এর মানে কি পিতা নিজ ইচ্ছামতো ছেলের মাল খরচ করতে পারে?


পিতা তার ছেলের মাল প্রয়োজনমত খরচ করতে পারে, ইচ্ছামত নয়। (বানি, সিসঃ ২৫৬৪ নং)

আমি এক সরকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। আমার নেতৃত্বে বহু লোক কাজ করে। আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তাঁদের কাউকে কি কোন কাজে লাগাতে পারি?

ডিউটির সময় অবশ্যই না। ছুটির সময় নিজের পয়সা খরচ করে কাজে লাগাতে পারেন। (সাফা)

আমি গরিব মানুষ। নাপিতের কাজ করে পেত চালাই। কিন্তু কেউ কেউ বলছে, ‘দাড়ি চেঁছে পয়সা কামানো হালাল নয়।’ এ কথা কি ঠিক ?

জী হ্যাঁ, এ কথা ঠিক। কারণ, দাড়ি চাঁছা হারাম। আর তা চেঁছে দিয়ে পয়সা নেওয়াও হারাম। মহান আল্লাহ বলেছেন, “সৎ কাজ ও আত্ন সংযমে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে অতি কঠোর।” (মাহিদাহঃ ২)

আমি টেলিফোন সেন্ট্রালে কাজ করি। অনেক সময় আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সেই ফোন ব্যাবহার করি। কখনো কখনো আত্মীয় বন্ধুকে কল ট্রান্সফার করি। কোম্পানি আদৌ টের পায় না। এটা কি খেয়ানত হবে?

কোম্পানির অনুমতি না থাকলে অবশ্যই খেয়ানত হবে। (ইবনে বাজ)

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, আপনি যে অফিসেই চাকরি করুন, সেই অফিসের জিনিস ব্যবহারের আম অনুমতি মালিক বা ম্যানেজারের নিকট থেকে নিয়ে রাখুন। নচেৎ অফিসের কাগজ, কলম, ফ্যাক্স, জেরক্স মেশিন, নেট, কম্পিউটার, গাড়ি ইত্যাদি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা খেয়ানত হবে।

আমি বাসের কন্ডাক্টরের চাকুরী করি। সেই বাসে বাড়ির কোন লোক বা বন্ধু চড়লে তাঁদের নিকট থেকে ভারা চাইতে লজ্জাবোধ করি। তারা ভাড়া দিতে চাইলেও সৌজন্যের খাতিরে না নিয়ে বিনা ভাড়াতে তাঁদের গন্তব্য স্থলে পৌঁছে দিই। এটা কি আমার মালিকের কাজে খেয়ানত গণ্য হবে?

অবশ্যই আপনার খেয়ানত হবে। তবে আপনি দুটির একটি করতে পারেন। নিজের পকেট থেকে সেই ভাড়া দিয়ে পুজিয়ে দিতে পারেন অথবা বাস মালিকের নিকট অনুমতি নিতে পারেন।

আমার এক ডাক্তার বন্ধু আছেন, তিনি হাসপাতালে চাকরি করেন। অনেক সময় প্রয়োজনীয় ঔষধ পথ্য বিনামূল্যে আমাকে দিয়ে থাকে। এক বন্ধু আছে যিনি মুদিখানায় বেতন নিয়ে চাকুরী করেন। আমি সেখানে গেলে বিস্কুট ইত্যাদি খেতে দেন। কখনো কখনো বাড়িতেও দোকানের অনেক জিনিস উপহার নিয়ে আসেন। মাল নিলে সস্তায় দেন। এক বন্ধু বাগানে চাকুরী করে। সেখানে গেলে বাগানের ফল খেতে দেন। কখনো কখনো বাড়িতেও পাঠিয়ে দেন। এক বন্ধু কসাইখানায় চাকুরী করেন। তিনি ও মাঝে মাঝে গোশত উপহার দেন। এখন এই সব বন্ধুদের নিকট থেকে তাদের উপহার গ্রহণ করা কি বৈধ?

আপনি বেছে বেছে প্রয়োজনীয় বন্ধু জোগাড় করেছেন বেশ। সে যাই হোক, যদি আপনি মনে করেন, তারা কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে চুরি করে দিচ্ছেন, তাহলে সে সব উপহার গ্রহণ করা হারাম। আর মালিকের মাল নিয়ে বন্ধুত্ব বহাল রাখা তাঁদের জন্য খেয়ানত। তাঁদের উচিৎ, মালিকের অনুমতি নিয়ে কোন জিনিস বাড়িতে নিয়ে যাওয়া অথবা বন্ধুকে দেওয়া। নচেৎ সকলের হারাম খাওয়া হবে।

আমি এক হোটেলে চাকরি করি। সেখানে মদও দিতে হয়। হোটেলে কাজ করা কি আমার জন্য বৈধ?

সে হোটেল ছেড়ে অন্য কাজ দেখে নেওয়া জরুরি। নচেৎ নিরুপায় হয়ে সেখানে চাকরি করতে হলে মদ পরিবেশনার কাজ করবেন না। অন্য কোন কাজ করুন, পরিষ্কার পরিছন্ন করার কাজ অথবা (হালাল) খাবার পাকাবার কাজ ইত্যাদি। (ইবনে জিবরিন) নচেৎ মদ্য পরিবেশকও অভিশপ্ত। আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন, “মদ পানকারী, মদ পরিবেশনকারী, তার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে, তার প্রস্তুত কারকে, যার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে, তার বাহককে ও যার জন্য বহন করা হয়, তাকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন।” (আবু দাউদ ৩৬৭৪, ইবনে মাজাহ ৩৩৮০ নং)

আমরা তিনজন একই প্রতিষ্ঠানে একই চাকুরী করি। প্রত্যহ যা কাজ থাকে, তা দুজনের জন্যও কম। সে ক্ষেত্রে যদি আমাদের মধ্যে একজন করে পালা বদলে অনুপস্থিত হয়, তাহলে তা বৈধ হবে কি?

কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে নিজের ইচ্ছা মত অনুপস্থিত থাকা বৈধ নয়। কাজ না থাকলে চাকুরিস্থলে উপস্থিত থাকা জরুরি। (ইবনে উসাইমিন)

Monday, October 16, 2017

আমরা পাঁচজন চাকুরীজীবী প্রত্যেক মাসে বেতন থেকে পাঁচ হাজার টাকা জমা করে পঁচিশ হাজার টাকা লটারির মাধ্যমে একজনকে দিই। পরের মাসেও একই নিয়ম করে পরপর পাঁচ মাসে পালা ফিরে। এতে এক সাথে পঁচিশ হাজার টাকা কোন কাজে লাগানো সহজ হয়। এতে শরয়ী বিধান কোন সমস্যা আছে কি?

আমরা পাঁচজন চাকুরীজীবী প্রত্যেক মাসে বেতন থেকে পাঁচ হাজার টাকা জমা করে পঁচিশ হাজার টাকা লটারির মাধ্যমে একজনকে দিই। পরের মাসেও একই নিয়ম করে পরপর পাঁচ মাসে পালা ফিরে। এতে এক সাথে পঁচিশ হাজার টাকা কোন কাজে লাগানো সহজ হয়। এতে শরয়ী বিধান কোন সমস্যা আছে কি?
এতে  শরয়ী বিধানে কোন সমস্যা নেই। যেহেতু তাতে কম বেশি কেউ পায় না। দেরিতে হলেও ভাগ সমান পায়। সুতরাং পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ এমন সমিতি করা বৈধ। (ইবনে বাজ)


আমরা তিনজন একই প্রতিষ্ঠানে একই চাকুরী করি। প্রত্যহ যা কাজ থাকে, তা দুজনের জন্যও কম। সে ক্ষেত্রে যদি আমাদের মধ্যে একজন করে পালা বদলে অনুপস্থিত হয়, তাহলে তা বৈধ হবে কি?


কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে নিজের ইচ্ছা মত অনুপস্থিত থাকা বৈধ নয়। কাজ না থাকলে চাকুরিস্থলে উপস্থিত থাকা জরুরি। (ইবনে উসাইমিন)

আমি এখনো উপার্জনশীল হয়ে উঠিনি। মা সহ আমরা সবাই আব্বার কামাই নির্ভর। কিন্তু আমরা জানি, আব্বার কামাই হালাল নয়। এখন আমরা কি করব?

আমি এখনো উপার্জনশীল হয়ে উঠিনি। মা সহ আমরা সবাই আব্বার কামাই নির্ভর। কিন্তু আমরা জানি, আব্বার কামাই হালাল নয়। এখন আমরা কি করব?

প্রথমত তোমাদের উচিৎ, আব্বাকে নসিহত করা এবং হারাম উপার্জন বর্জন করতে চাপ দেওয়া। তোমাদের কথা গ্রাহ্য না করলে এমন কাউকে লাগাও, যার কথা কাজে লাগবে। ততদিন পর্যন্ত তোমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভরণ পোষণ নিয়ে যাওয়ায় গোনাহ হবে না। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু নেওয়া বৈধ হবে না। (ইবনে উসাইমিন)

দোকানের মালিক দোকানে কারবেরে রেখে দোকান চালায়। তাকে বলা হয় অমুক মাল এত টাকায় বিক্রি করবে। কিন্তু সে তার থেকে দশ বিশ টাকা বেশি বলে বেশি টাকাটা নিজের কাছে রাখে। আর মালিকের বলা দাম মালিক পেয়ে যায়। কারবারের ওই টাকা হালাল কি?

দোকানের মালিক দোকানে কারবেরে রেখে দোকান চালায়। তাকে বলা হয় অমুক মাল এত টাকায় বিক্রি করবে। কিন্তু সে তার থেকে দশ বিশ টাকা বেশি বলে বেশি টাকাটা নিজের কাছে রাখে। আর মালিকের বলা দাম মালিক পেয়ে যায়। কারবারের ওই টাকা হালাল কি?

বেতনভোগী কর্মচারী বা কারবারের ওই বেশি টাকা নেওয়ার অধিকার নেই। যেহেতু সে মাল তার নয়, তার মালিকের। তার ডিউটির জন্য সে বেতন পায়। সে আমানতদার প্রতিনিধি। বেশি লাভ হলে তার মালিকের হবে, তার নয়। অবশ্য যদি মালিকের সে ব্যাপারে অনুমতি থাকে, তাহলে সে কথা ভিন্ন। (ইবনে জিবরিন) 

শুনেছি স্বামী স্ত্রীকে ছেড়ে ছয় মাসের বেশি বাইরে থাকলে স্ত্রী তালাক হয়ে যায়। তাহলে যারা স্ত্রী ছেড়ে দুই তিন বছর করে বিদেশে থাকছে, তাদের কি হবে?

শুনেছি স্বামী স্ত্রীকে ছেড়ে ছয় মাসের বেশি বাইরে থাকলে স্ত্রী তালাক হয়ে যায়। তাহলে যারা স্ত্রী ছেড়ে দুই তিন বছর করে বিদেশে থাকছে, তাদের কি হবে?


উক্ত শোনা কথা ঠিক নয়। স্ত্রী রাজি থাকলে উপার্জনের উদ্দেশ্যে দুই তিন বছর থাকা কোন দোষের নয়। যে যতদিন থাকে, সে তো বাধ্য হয়েই থাকে। বিশেষ কারণে দ্বিতীয় খলীফা উমার (রাঃ) স্বামী স্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তার বেশি পৃথক থাকলে স্বামী স্ত্রীর বন্ধন আপনা আপনিই ছিন্ন হয়ে যাবে। (ইবনে জিবরিন)

কাজের জন্য মুসলিম লেবার লাগানো উচিত, নাকি অমুসলিম? বিশেষ করে অমুসলিম লেবার বেশি দক্ষ হলে কি করা যাবে? অমুসলিম মালিকের কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল কি?

কাজের জন্য মুসলিম লেবার লাগানো উচিত, নাকি অমুসলিম? বিশেষ করে অমুসলিম লেবার বেশি দক্ষ হলে কি করা যাবে?


মুসলিম লেবার লাগানোই উত্তম, যদিও দক্ষতায় তারা কম। যেহেতু মুসলিম বলে তাদের আমানতদারী ও ইখলাসের ফলে কাজে বরকত হবে। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, “ অংশীবাদী পুরুষ তোমাদেরকে চমৎকৃত করলেও (ইসলাম ধর্মে) বিশ্বাসী ক্রীতদাস তার থেকেও উত্তম।” (বাকারাহঃ ২২১)
অবশ্য মুসলিমরাই যদি নামসর্বস্ব হয়, তাহলে সে কথা ভিন্ন। (ইবনে জিবরিন)

অমুসলিম মালিকের কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল কি?


কাজ যদি হালাল হয়, তাহলে তাঁর বিনিময়ে পাওয়া অর্থও হালাল। মালিক অমুসলিম হলে কোন ক্ষতি হবে না।

বহু মালিক আছে, যারা তাদের কর্মচারীদের (চাকর, ড্রাইভারদের) বেতন দিতে গড়িমসি ও দেরি করে। এতে কি তারা গোনাহগার হবে না ?

বহু মালিক আছে, যারা তাদের কর্মচারীদের (চাকর, ড্রাইভারদের) বেতন দিতে গড়িমসি ও দেরি করে। এতে কি তারা গোনাহগার হবে না ?


অবশ্যই তারা গোনাহগার ও জালেম। প্রথমতঃ সে মহানবী (সঃ) এর আদেশের খেলাপ করে। তিনি বলেছেন, “মজুরকে তাঁর ঘাম শুকাবার পূর্বে তোমরা তাঁর মজুরি দিয়ে দাও।” (সহিহুল জামে ১০৫৫ নং )
দ্বিতীয়তঃ সে  সেই ব্যক্তির খাদ্য আটকে রাখে, যার খাবারের দায়িত্ব তাঁর ঘাড়ে আছে এবং সেই বেতনে আরো অনেক মানুষকে খোরপোশ আছে। আর আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেছেন, “মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যার আহারের দায়িত্বশীল, তাকে তা ( না দিয়ে) আটক রাখে।” (মুসলিম ৯৯৬ নং)
তৃতীয়তঃ

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ