Sunday, November 26, 2017

প্রশ্ন: কাঁকড়া খাওয়ার বিধান কি? এটি কি হালাল, হারাম নাকি মাকরুহ? কাঁকড়া চাষ করে বিদেশে রফতানি করাও কি হারাম হবে? ব্যাখ্যা সহ জানালে খুব উপকৃত হব।

প্রশ্ন: কাঁকড়া খাওয়ার বিধান কি? এটি কি হালাল, হারাম নাকি মাকরুহ? কাঁকড়া চাষ করে বিদেশে রফতানি করাও কি হারাম হবে? ব্যাখ্যা সহ জানালে খুব উপকৃত হব।
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর ও হিংস্র প্রাণী ব্যতীত সমস্ত সামুদ্রিক প্রাণী-ই খাওয়া হালাল। সুতরাং এ দৃষ্টিতে কাঁকড়াও হালাল প্রাণীর অন্তর্ভূক্ত।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:------
..أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ
“তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও সুমুদ্রের খাদ্য হালাল করা হয়েছে তোমাদের উপকারার্থে”। (সূরা মায়িদাহ: ৯৬)
🔷 আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:

Saturday, November 25, 2017

আপনার রব কে?

আপনার রব কে?
============
আমাদের গ্রামে খোদা শব্দটি খুব বেশী প্রচলিত। ‘খোদায় জানে’, ‘খোদার কসম’, ‘খোদা হাফেজ’ এই কথাগুলো বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন শুনছি খোদা বলা উচিৎ নয়। একটু বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তরঃ
====
কুরআন রব শব্দটি ৯৮০ বার উল্লেখিত হয়েছে। কবরে প্রত্যেক মানুষ প্রথম যে প্রশ্নের সম্মুখিত হবে তা হলো -‘তোমার রব কে?’ সুতরাং আসুন প্রথমেই এই শব্দ সমূহের অর্থ জেনে নেই !

☞রবঃ
রব শব্দটির অর্থ অনেক। যেমন-

মৃতব্যক্তি কি জীবিত ব্যক্তির যিয়ারত ও সালাম বুঝতে পারে? না-কি বুঝে না?

প্রথম মাসআলা: মৃতব্যক্তি কি জীবিত ব্যক্তির যিয়ারত ও সালাম বুঝতে পারে? না-কি বুঝে না?


জবাব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«ما من مسلم يمر بقبر أخيه كان يعرفه في الدنيا فَيُسَلم عليه، إلا رد الله عليه روحه، حتى يرد عليه السلام».

“যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়াতে পরিচিত তার কোনো মৃত্যু ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গমন করে এবং তাকে সালাম দিলে তখন তার সালামের উত্তর দেওয়ার জন্য আল্লাহ তার রূহকে ফেরত দেন।”[1] হাদীসের এ কথা দ্বারা প্রমাণিত যে, মৃত ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন এবং তার সালামের উত্তর দেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, কবরবাসীকে যখন তারা সালাম দিবেন তখন তাদেরকে মুখাতিব তথা উপস্থিত ব্যক্তিকে সম্বোধন করার শব্দ দ্বারা সালাম দিবেন। ফলে মুসলিম কবরবাসীকে সালামের সময় বলবে,

মৃত ব্যক্তিদের রূহ কি পরম্পর মিলিত হয়, পরম্পর সাক্ষাৎ করে ও কথাবার্তা বলে?

দ্বিতীয় মাসআলা: মৃত ব্যক্তিদের রূহ কি পরম্পর মিলিত হয়, পরম্পর সাক্ষাৎ করে ও কথাবার্তা বলে?


জবাব: রূহ দু’প্রকার:
১- ‘আযাবপ্রাপ্ত রূহ – আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি- এ ধরণের রূহ শাস্তি ভোগের কারণে ব্যস্ত থাকবে বলে পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ ও মিলিত হওয়া থেকে বিরত থাকবে।
২- নি‘আমতপ্রাপ্ত রূহ। এসব রূহ বিচরণকারী হবে, এরা আবদ্ধ থাকবে না। তারা পরস্পর মিলিত হয়ে দুনিয়া ও দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ব্যাপারে কথাবার্তা বলবেন এবং নিজেরা নিজেদের পরিচিতদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবেন। প্রত্যেক রূহ তার আমল অনুযায়ী তার পরিচিত বন্ধুর সাথে থাকবেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে থাকবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

রূহ কি জীবিত ও মৃত উভয় ধরণের মানুষের রূহের সাথে মিলিত হয়?

তৃতীয় মাসআলা: রূহ কি জীবিত ও মৃত উভয় ধরণের মানুষের রূহের সাথে মিলিত হয়?


উত্তর: হ্যাঁ, রূহ জীবিত ও মৃত মানুষের রূহের সাথে সাক্ষাৎ করে ও মিলিত হয়, যেভাবে রূহ মৃত ব্যক্তির রূহের সাথে মিলিত হয় ও সাক্ষাৎ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلۡأَنفُسَ حِينَ مَوۡتِهَا وَٱلَّتِي لَمۡ تَمُتۡ فِي مَنَامِهَاۖ فَيُمۡسِكُ ٱلَّتِي قَضَىٰ عَلَيۡهَا ٱلۡمَوۡتَ وَيُرۡسِلُ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَتَفَكَّرُونَ٤٢﴾ [الزمر: ٤١] 

“আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরে নি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল জাতির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪১] এ আয়াতের তাফসীরে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেছেন,

রূহ কি মারা যায়, নাকি শুধু শরীর মারা যায়?

চতুর্থ মাসআলা: রূহ কি মারা যায়, নাকি শুধু শরীর মারা যায়?


উত্তর: এ মাসআলার উত্তরে বলা যায়, আত্মার মৃত্যু হলো শরীর থেকে আলাদা হওয়া ও বের হয়ে যাওয়া। এ হিসেবে মৃত্যু ধরা হলে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আত্মা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী। আর যদি বলা হয় যে, আত্মা মরে যায় বলতে তা বিলীন হয়ে যায়, একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়, নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে বলা হবে,

শরীর থেকে আত্মা আলাদা হওয়ার পরে তা আবার কিভাবে উক্ত শরীরকে চিনে?

পঞ্চম মাসআলা: শরীর থেকে আত্মা আলাদা হওয়ার পরে তা আবার কিভাবে উক্ত শরীরকে চিনে?


উত্তর: রূহ শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পরে তা শরীর থেকে এমন এক আকৃতি (প্রতিচ্ছবি) নিয়ে যায় যা উক্ত শরীররে সাথেই নির্দিষ্ট হয়ে যায়, অন্য শরীরের সাথে মিলিত হবে না। কেননা সে তার শরীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যায় এবং শরীরে ফিরে আসে, যেভাবে শরীর তার রূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এবং

কবরে প্রশ্ন-উত্তরের সময় কি মৃত ব্যক্তির রূহ ফেরত দেওয়া হয়?

ষষ্ঠ মাসআলা: কবরে প্রশ্ন-উত্তরের সময় কি মৃত ব্যক্তির রূহ ফেরত দেওয়া হয়?


উত্তর: বারা ইবন ‘আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে,
“আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একজন আনসারী সাহাবীর জানাযায় শরীক হই, এমনকি তার কবরের কাছে যাই, যা তখনও খোড়া হয় নি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে তাঁর চারদিকে (শান্তভাবে) বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসা। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে একখণ্ড কাঠ ছিল,

কবরের ‘আযাব কি নফসের উপর হবে নাকি শরীরের উপর? নাকি শুধু নফসের উপর, শরীরের উপর নয়? অথবা শুধু শরীরের উপর, নফসের উপর নয়? নি‘আমত ও ‘আযাব ভোগে শরীর ও আত্মা কি অংশীদার থাকবে?

সপ্তম মাসআলা: কবরের ‘আযাব কি নফসের উপর হবে নাকি শরীরের উপর? নাকি শুধু নফসের উপর, শরীরের উপর নয়? অথবা শুধু শরীরের উপর, নফসের উপর নয়? নি‘আমত ও ‘আযাব ভোগে শরীর ও আত্মা কি অংশীদার থাকবে?


উত্তর: উম্মতের সালাফে সালেহীন তথা সৎপূর্বসূরী ও আলিমগণের মতামত হচ্ছে, কেউ মারা গেলে সে নি‘আমত বা শাস্তি ভোগ করে। আর এ নি‘আমত ও শাস্তি তার রূহ ও শরীর উভয়ই ভোগ করে। রূহ শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পরে নি‘আমত বা ‘আযাবের স্থানে অবস্থান করে। কখনও আবার তা শরীরের সাথে মিলিত হয়, তখন শরীরের সাথে রূহেরও নি‘আমত বা ‘আযাব ভোগ হয়। অতঃপর

কবরের ভয়াবহ ‘আযাব সম্পর্কে জানা এবং এর প্রতি ঈমান আনা; যাতে মানুষ এ ‘আযাব থেকে পরিত্রাণ পায়, এতো গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আল-কুরআনে এব বর্ণনা উল্লেখ না থাকার হিকমত কী?

অষ্টম মাসআলা: কবরের ভয়াবহ ‘আযাব সম্পর্কে জানা এবং এর প্রতি ঈমান আনা; যাতে মানুষ এ ‘আযাব থেকে পরিত্রাণ পায়, এতো গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আল-কুরআনে এব বর্ণনা উল্লেখ না থাকার হিকমত কী?


উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে ও বিস্তারিত দুভাবেই দেওয়া যায়:
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি দু’ধরণের অহী নাযিল করেছেন এবং তিনি তাঁর বান্দার ওপর এসব অহীর প্রতি ঈমান আনা ও সে অনুযায়ী আমল করা ফরয করে দিয়েছেন। এ দু’ধরণের অহী হলো, আল-কুরআন ও হিকমাহ তথা সুন্নাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

কী কী কারণে কবরবাসীরা ‘আযাব ভোগ করবে?

নবম মাসআলা: কী কী কারণে কবরবাসীরা ‘আযাব ভোগ করবে?


উত্তর: এ মাসআলার উত্তর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত দু’ভাবে দেওয়া যায়:
সংক্ষেপে বললে, আল্লাহকে না চেনা, তাঁর আদেশ অমান্য করা এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া কবরের ‘আযাবের অন্যতম কারণ।
বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বলা যায়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত লোকদের সম্পর্কে  কবরের ‘আযাব ভোগের কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো:

কবরের ‘আযাব থেকে নাজাত পাওয়ার উপায় কী?

দশম মাসআলা: কবরের ‘আযাব থেকে নাজাত পাওয়ার উপায় কী?


উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তরও সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত দু’ভাবে দেওয়া যায়:
সংক্ষেপে বললে বলা যায়, কবরের ‘আযাবের কারণগুলো থেকে বিরত থাকাই কবরের ‘আযাব থেকে নিরাপদ থাকা ও নাজাত পাওয়ার উপায়। কবরের ‘আযাব থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে একনিষ্ঠভাবে তাওবা করা এবং আত্ম-সমালোচনা করা।
বিস্তারিতভাবে বললে, অসংখ্য সহীহ হাদীসে কবরের ‘আযাব থেকে নাজাত পাওয়ার উপায় উল্লেখ করা হয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে:

কবরের প্রশ্ন কি মুসলিম, মুনাফিক ও কাফির সকলের জন্য সমান? নাকি মুসলিম ও মুনাফিকের জন্য আলাদা?

একাদশতম মাসআলা: কবরের প্রশ্ন কি মুসলিম, মুনাফিক ও কাফির সকলের জন্য সমান? নাকি মুসলিম ও মুনাফিকের জন্য আলাদা?


উত্তর: কবরে সকলের জন্যই একই প্রশ্ন করা হবে। বারা ইবন ‘আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,

«فإذا كان كافراً جاءه ملك الموت فجلس عند رأسه».

“অতঃপর কাফির ব্যক্তির মৃত্যুর সময় মালাকুল মাউত এসে তার মাথার কাছে বসবে।” এ হাদীসে এরপরে এসেছে,

মুনকার ও নাকীরের প্রশ্ন কি এ উম্মতের জন্যই খাস নাকি অন্যান্য উম্মতেও জিজ্ঞাসা করে হয়েছিল?

দ্বাদশতম মাসআলা: মুনকার ও নাকীরের প্রশ্ন কি এ উম্মতের জন্যই খাস নাকি অন্যান্য উম্মতেও জিজ্ঞাসা করে হয়েছিল?


উত্তর: আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। প্রত্যেক জাতিই তাদের নবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তাদেরকে প্রশ্ন করে ও তাদের বিরুদ্ধে দলীল প্রমাণিত হওয়ার পরেই কবরে শাস্তি দেওয়া হবে, যেভাবে

শিশুরা কি কবরে জিজ্ঞাসিত হবে?

ত্রয়োদশতম মাসআলা: শিশুরা কি কবরে জিজ্ঞাসিত হবে?


উত্তর: না, শিশুরা কবরে জিজ্ঞাসিত হবে না। কেননা যাদের রাসূল ও রাসূলের আনিত জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান আছে তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। ফলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তারা কি রাসূলের অনুসরণ করেছে, নাকি তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে? পক্ষান্তরে শিশু ভালো-মন্দ কিছুই পার্থক্য করতে পারে না, তাহলে তাদেরকে কীভাবে জিজ্ঞেস করা হবে?
অন্য দিকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুর জানাযার সালাত আদায় করলেন, তাকে এ দো‘আ পড়তে শোনা গেছে,

কবরের ‘আযাব কি সর্বদা চলতে থাকবে নাকি তা মাঝে মাঝে হবে?

চতুর্দশতম মাসআলা: কবরের ‘আযাব কি সর্বদা চলতে থাকবে নাকি তা মাঝে মাঝে হবে?


উত্তর: কবরের ‘আযাব দু’ধরণের।
১- সার্বক্ষণিক ‘আযাব। এর প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী,

  ﴿ٱلنَّارُ يُعۡرَضُونَ عَلَيۡهَا غُدُوّٗا وَعَشِيّٗا٤٦﴾ [غافر: ٤٦] 

“আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়।” [সূরা গাফের, আয়াত: ৪৬]
সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে ‘আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন,

মৃত্যুর পরে কিয়ামত পর্যন্ত রূহসমূহ কোথায় অবস্থান করে?

পঞ্চদশতম মাসআলা: মৃত্যুর পরে কিয়ামত পর্যন্ত রূহসমূহ কোথায় অবস্থান করে?


উত্তর: আলিমগণ এ ব্যাপারে অনেক মতানৈক্য করেছেন। তাদের প্রত্যেকেরই দলীল রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, মৃত্যুর পরে রূহ জান্নাতে থাকে। আবার কেউ বলেছেন, রূহ জান্নাতের দরজায় থাকে। আবার অন্য একদল বলেছেন, রূহ কবরে থাকে। আবার আরেকদল বলেছেন, রূহসমূহকে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেগুলো যেভাবে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়। কেউ কেউ বলেছেন, এগুলো আল্লাহর কাছে থাকে। আরেকদলের মত হলো, মুমিনের রূহ আদম ‘আলাইহিস সালামের ডান হাতে এবং কাফিরের রূহ আদম ‘আলাইহিস সালামের বাম হাতে থাকে।
মূলকথা হলো,

জীবিত মানুষের আমলের দ্বারা কি মৃত ব্যক্তির রূহ উপকৃত হয়?

ষষ্ঠদশতম মাসআলা: জীবিত মানুষের আমলের দ্বারা কি মৃত ব্যক্তির রূহ উপকৃত হয়?


উত্তর: হ্যাঁ, জীবিত মানুষের দুটি আমলের দ্বারা মৃত ব্যক্তির রূহ উপকৃত হয়, এ দুটি আমলের ব্যাপাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত একমত। সেগুলো হচ্ছে:
প্রথমত: ব্যক্তি জীবিত থাকাকালীন যেসব আমল তার মৃত্যুর পরে তার আমলনামায় সাওয়াব পাওয়ার কারণ, সেসব আমল করলে মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে।
দ্বিতীয়ত: মুসলিমগণ তার জন্য যেসব দো‘আ, ইসতিগফার, সাদকা ও হজ আদায় করে তা তার উপকারে আসে। 
তাছাড়া অন্যান্য শারীরিক আমল যেমন,

রূহ কি কাদীম (সর্বদা ছিল, আছে, থাকবে এমন) নাকি হাদীস তথা সৃষ্ট?

সপ্তদশতম মাসআলা: রূহ কি কাদীম (সর্বদা ছিল, আছে, থাকবে এমন) নাকি হাদীস তথা সৃষ্ট?


উত্তর: সমস্ত নবী-রাসূল একমত যে, রূহ আল্লাহর সৃষ্টি, তৈরি, তাঁর প্রতিপালিত ও তাঁরই হুকুমে পরিচালিত। এটি দীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাতব্য বিষয়, যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। সাহাবী, তাবে‘ঈ ও তাবে-তাবে‘ঈদের যুগে এ ব্যাপারে কোন মতানৈক্য ছিলো না, আর এ তিনটি যুগ ছিলো সর্বোত্তম যুগ। এরপরে

রূহ কি শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে নাকি শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে?

অষ্টাদশতম মাসআলা: রূহ কি শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে নাকি শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে?


উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তরে আলিমগণ কয়েকটি মত পেশ করেছেন। সেগুলো হলো:
১- একদল বলেছেন, রূহ শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২- আরেকদল বলেছেন, শরীর রূহ সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
সঠিক মত হলো, দ্বিতীয় মতটিই অধিকতর সঠিক। অর্থাৎ শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর রূহ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কথার দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর

নসফের (আত্মার) হাকীকত কী?

উনবিংশতম মাসআলা: নসফের (আত্মার) হাকীকত কী?


উত্তর: এ মাসআলার ব্যাপারে আলিমগণ নানা দিক থেকে কথা বলেছেন, তাদের এক একজনের কথা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুল-ত্রুটিও বেশি হয়েছে। আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদেরকে হিদায়াত দান করেছেন তারা হকের যে বিষয়ে মতানৈক্য করেছিল তাঁর অনুমতিক্রমে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সরল সঠিক পথের হিদায়াত দান করেন।
সঠিক মত হলো,

নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দু’টি দু’জিনিস?

বিংশতম মাসআলা: নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দু’টি দু’জিনিস?


উত্তর: আল-কুরআনে নফস তথা আত্মাকে মানুষের পুরো সত্তাকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ﴾ [النور : ٦١] 

“(তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে) তখন তোমরা নিজদের ওপর সালাম করবে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬১]
আল্লাহ তা‘আলা নফস সম্পর্কে আরও বলেছেন,

নফস কি একটি নাকি তিনটি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفۡسُ ٱلۡمُطۡمَئِنَّةُ٢٧﴾ [الفجر: ٢٧] “হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭] ﴿وَلَآ أُقۡسِمُ بِٱلنَّفۡسِ ٱللَّوَّامَةِ٢﴾ [القيامة: ٢] “আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!” [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২] ﴿إِنَّ ٱلنَّفۡسَ لَأَمَّارَةُۢ بِٱلسُّوٓءِ﴾ [يوسف: ٥٢] “নিশ্চয় নাফস মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] তাহলে নফস কি মুতমাইন্না, লাওয়ামাহ ও আম্মারাহ তিন রকমের?

একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفۡسُ ٱلۡمُطۡمَئِنَّةُ٢٧﴾ [الفجر: ٢٧] “হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭] ﴿وَلَآ أُقۡسِمُ بِٱلنَّفۡسِ ٱللَّوَّامَةِ٢﴾ [القيامة: ٢] “আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!” [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২] ﴿إِنَّ ٱلنَّفۡسَ لَأَمَّارَةُۢ بِٱلسُّوٓءِ﴾ [يوسف: ٥٢] “নিশ্চয় নাফস মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] তাহলে নফস কি মুতমাইন্না, লাওয়ামাহ ও আম্মারাহ তিন রকমের?


উত্তর: নফস মূলত একটি, তবে এর অনেক সিফাত তথা গুণ রয়েছে। ফলে নফসের গুণের হিসেবে এক একটি নাম দেওয়া হয়েছে। একে মুতমাইন্না  (مطمئنة)  বলা হয়েছে,

দু'আ কত প্রকার?

দু'আ কত প্রকার?


দুআ দুই প্রকার
এক. দুআউল ইবাদাহ বা উপাসণামূলক দু'আ। সকল প্রকার ইবাদতকে এ অর্থে দু'আ বলা হয়।
দুই. দুআউল মাছআলা অর্থাৎ প্রার্থনাকারী নিজের জন্য যা কল্যাণকর তা চাবে এবং যা ক্ষতিকর তা থেকে মুক্তি প্রার্থনা করবে। (বাদায়ে আল-ফাওয়ায়েদ : ইবনুল কায়্যিম)
যেমন কেউ সালাত আদায় করল। এ সালাতের মধ্যে অনেক প্রার্থনামূলক বাক্য ছিল। এগুলোই

দুআ ও প্রার্থনার ফযীলত কি কি?

দুআ ও প্রার্থনার ফযীলত কি কি?


১- দুআ এক মহান ইবাদত
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত হতে বিমুখ তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে। (আল-মুমিন : ৬০)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

দুআ ও মুনাজাতের আদব

দুআ ও মুনাজাতের আদব


আপনি দেখবেন কোনো মানুষ যখন কারো কাছে কিছু চায় তখন আদব-কায়দা বা শিষ্টাচারের সঙ্গেই তা চায়। সে নিজের কথা সুন্দর করে, উপস্থপনা পদ্ধতি আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করে। এমনিভাবে দরখাস্ত যত গুরুত্বপূর্ণ হবে তার আদব ও উপস্থাপনা ততই সুন্দর ও মার্জিত করা হয়। এ সকল প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য একটাই থাকে, তাহল, সে যা আবেদন করেছে তা যেন পায়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের চেয়ে এমন বড় সত্তা কে আছে যার কাছে আদব-কায়দা ও পূর্ণ শিষ্টাচারসহ প্রার্থনা করা যেতে পারে?

দুআ কবুলের অন্তরায়সমূহ

দুআ কবুলের অন্তরায়সমূহ


১- হারাম খাদ্য হারাম বস্ত্র ও হারাম পানীয়
মানুষের খাদ্য-পানীয় যেমন শরীর গঠনে ভুমিকা রাখে তেমনি প্রাণ ও আধ্যাতিক ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা আছে। খারাপ-পঁচা খাবার যেমন শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তেমনি অবৈধ পথে উপার্জিত সম্পদ ও খাবারও আত্মা ও প্রাণের ক্ষতি সাধন করে। সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি, অন্যের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখল, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাত প্রভৃতি  অবৈধ পদ্ধতিতে অর্জিত খাবার খেয়ে বা পোশাক পড়ে দুআ করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না।
হাদীসে এসেছে :

দু'আ 'র আদবের বিবরন

দু'আ 'র আদবের বিবরন


১- দুআ করার সময় তা কবুল হওয়ার ব্যাপারে এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দুআ করা :
যদি আল্লাহ সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান থাকে তাঁর কুদরত, মহত্ত্ব, ওয়াদা পালনের প্রতি ঈমান থাকে তাহলে এ বিষয়টা আয়ত্ব করা সহজ হবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
لا يقل أحدكم : اللهم اغفر لي إن شئت، وارحمني إن شئت، وارزقني إن شئت، وليعزم مسألته إنه يفعل ما يشاء ، لا مكره له . (رواه البخاري 7477)
তোমাদের কেউ এ রকম বলবে না : হে আল্লাহ আপনি যদি চান তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিন। যদি আপনি চান তাহলে আমাকে অনুগ্রহ করুন। যদি আপনি চান তাহলে আমাকে জীবিকা দান করুন। বরং দৃঢ়তার সঙ্গে প্রার্থনা করবে এবং

প্রার্থনাকারী যা থেকে দূরে থাকবেন

প্রার্থনাকারী যা থেকে দূরে থাকবেন


এক. আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দুআ করা
যখন স্পষ্ট হল দুআ হল সর্বোত্তম ইবাদত ও সর্বশ্রেষ্ঠ আনুগত্য এবং যা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই নিবেদন করা মানুষের জন্য কর্তব্য। হোক তা প্রার্থনা অথবা আশ্রয় চাওয়া কিংবা বিপদ-মুক্তি, তা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো কাছে পেশ করা বৈধ নয়। যে এটা আল্লাহ ব্যতিত অন্যের কাছে পেশ করবে সে কাফের হয়ে যাবে, বের হয়ে যাবে মুসলিম মিল্লাত থেকে। যে সকল বিষয় মানুষ সাহায্য করতে সামর্থ রাখে শুধু সে সকল বিষয় মানুষের কাছে চাওয়া বৈধ। আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা যাবে না হোক নবী বা অলী বা পীর বা গাউস-কুতুব অথবা ফিরিশ্‌তা বা জিন এক কথায় কোনো সৃষ্টিজীবের কাছে দুআ করা যাবে না। আল্লাহ বলেন :

দুআ কবুলের অনুকূল অবস্থা ও সময়

দুআ কবুলের অনুকূল অবস্থা ও সময়


কিছু সময় রয়েছে যাতে দুআ কবুল করা হয়। এমনি মানুষের কিছু অবস্থা আছে যা দুআ কবুলের উপযোগী বলে হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনি কিছু সময়ের কথা নীচে আলোচনা করা হল।
১-আযানের সময় এবং যুদ্ধের ময়দানে যখন মুজাহিদগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানহাদীসে এসেছে :
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ثنتان لا تردان- أو قلما تردان- الدعاء عند النداء وعند البأس حين يلحم بعضهم بعضا. ( رواه أبو داود(
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : দুটো সময় এমন যাতে দুআ ফেরত দেয়া হয় না অথবা খুব কম ফেরত দেয়া হয়। আযানের সময়ের দুআ এবং যখন যুদ্ধের জন্য মুজাহিদগণ শক্রের মুখোমুখি হন। (আবু দাউদ)
২- আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর মুনাজাত

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর মুনাজাত


আমাদের দেশে বলতে গেলে ভারতীয় উপমহাদেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর দুআ-মুনাজাতের প্রচলন দেখা যায়। এ বিষয় এখন কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা করছি।
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত শেষে দুআ কবুল হওয়ার কথা বহু সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত। তাহলে এ নিয়ে বিতর্ক কেন? আসলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর দুআ নিয়ে বিতর্ক নয়, বিতর্ক হল এর পদ্ধতি নিয়ে। যে পদ্ধতিতে দুআ করা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এভাবে দুআ করেছিলেন কি-না? তাই আমি এখানে আলোচনা করব সে দুআ-মুনাজাত নিয়ে যার মধ্যে নিম্নোক্ত সবকটি শর্ত বিদ্যমান :

সালাত শেষে যে সকল দুআ ও জিকির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত

সালাত শেষে যে সকল দুআ ও জিকির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত


আমি এখানে সালাত শেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসকল দুআ ও যিকির আদায় করেছেন ও করতে বলেছেন তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করতে চাই। যাতে পাঠক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই সুন্নাতকে আমল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং এ সম্পর্কিত বিদআত পরিহার করেন।

তাকবীরে তাহরীমার পর ইস্তিফতা বা প্রারম্বিক দো‘আগুলি কি কি?

তাকবীরে তাহরীমার পর ইস্তিফতা বা প্রারম্বিক দো‘আগুলি কি কি?


«اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من خطاياي كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس، اللهم أغسلني من خطاياي بالماء والثلج والبرد» (رواه البخاري ومسلم)
১. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বা‘ইদ বাইনী ও বাইনা খাতায়াইয়া কামা বাআদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতায়াইয়া কামা ইউনাক্কাস সাওবুল আবয়াদু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিলনী মিন খাতায়াইয়া বিল মা-য়ি ওয়াস সালজি ওয়াল বারাদি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহ্ খাতার মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি কর যেরূপ পশ্চিম ও পূর্বের দূরত্ব সৃষ্টি করেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ!

রুকুর দো‘আ ও যিক্‌র কি কি?

রুকুর দো‘আ ও যিক্‌র কি কি?


«سبحان ربي العظيم» (رواه مسلم)
উচ্চারণ: ‘‘সুবহানা রব্বীয়াল আযীম’’
অর্থ: আমার মহান রব্বের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (মুসলিম)
তিনবার বা তার চেয়ে বেশি বলবে।
«سبحان ربي العظيم وبحمده»
(رواه أحمد وأبو داود والدار قطني والطبراني والبيهقي)
উচ্চারণ: ‘‘সুবহানা রব্বীয়াল আযীম ওয়া বিহামদিহি’’
অর্থ: আমার মহান রব্বের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। (আহমাদ, আবু দাউদ, দারাকুতুনী, ত্ববারানী এবং বায়হাকী)
কেউ যদি বেশি বলতে চায় তো বলবেঃ

রুকু হতে উঠার দো‘আ কি কি?

রুকু হতে উঠার দো‘আ কি কি?


(সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায়)
«ربنا ولك الحمد»
উচ্চারণ: রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ
«ربنا لك الحمد»
অথবাঃ রব্বানা লাকাল হামদু
«اللهم ربنا لك الحمد»
অথবাঃ রব্বানা লাকাল হামদু
উল্লেখিত সবগুলিই বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
তবে একেকবার একেকটি পড়বে, যদিও উত্তম হলো নিম্নরূপে বলাঃ

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ