Friday, November 24, 2017

দাওয়াতে যা করা বৈধ নয়

দাওয়াতে যা করা বৈধ নয়


কারো দাওয়াত পেলে খাওয়ার খুব আগেভাগে যাওয়া এবং খাওয়ার শেষে গল্প করতে থাকা বৈধ নয়। কারণ তাতে মেজবানের অসুবিধা হতে পারে। এই সুন্দর আদব বর্ণনা করে কুরআন বলে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ!

মেহমানের খাতিরে অতিরঞ্জন

মেহমানের খাতিরে অতিরঞ্জন


মেহমানের খাতিরে বাড়াবাড়ি করা মেযবানের জন্য বৈধ নয়। স্বাভাবিকভাবে যতটা খাওয়াবার তার সাধ্য আছে তার থেকে বেশী খাওয়াবার চেষ্টা করা এবং তার জন্য নতুন নতুন দামী দামী ও নানা রকমের চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় এবং টক-মিষ্টি-ঝাল-লবণ জাতীয় নানা খাদ্য প্রস্ত্তত অথবা ক্রয় করা মেযবানীতে অতিরঞ্জন করার পর্যায়ভুক্ত।
রাসুল (সাঃ) বলেন,

মেহমানের সাথে যদি কোন অনাহূত লোক অযাচিতভাবে আসে

মেহমানের সাথে যদি কোন অনাহূত লোক অযাচিতভাবে আসে


মেহমানের সাথে যদি কোন অনাহূত লোক অযাচিতভাবে এসে যোগ দেয়, তাহলে তার ব্যাপারে মেযবানের কাছে অনুমতি নেওয়া জরুরী। এ ক্ষেত্রে ঐ বিনা দাওয়াতের অযাচিত লোকটির খাতির-তোয়ায করা মেযবানের জন্য ওয়াজেব নয়। বরং সে চাইলে ঐ ফাউ লোকটিকে অনুমতি নাও দিতে পারে।
একদা এক আনসারী আল্লাহর রাসুল (সাঃ)

মেহমানকে স্বাগত জানানো

মেহমানকে স্বাগত জানানো


মেহমান এলে, তাকে দেখে খোলা মনে মেযবানের খুশী প্রকাশ করা এবং তাকে এমন কথা বলে স্বাগত জানানো উচিত, যাতে সেও খোশ হয় এবং সকল প্রকার দ্বিধা ও সংকোচ তার মন থেকে দূর হয়ে যায়। আসন ছেড়ে উঠে যাওয়া সুমহান চরিত্রের পরিচায়ক।
রাসুল (সাঃ)-এর কন্যা ফাতেমা তাঁর নিকট এলে তিনি তাঁর প্রতি

দাওয়াতের দিনে রোযা থাকলে

দাওয়াতের দিনে রোযা থাকলে


দাওয়াতের দিনে রোযা অবস্থায় থাকলেও দাওয়াতে উপস্থিত হওয়া জরুরী। রোযা ফরয হলে খাওয়া যাবে না। নফল হলে তার এখতিয়ার আছে। অবশ্য দাওয়াতদাতার মন ভাঙ্গার ভয় থাকলে নফল রোযা ভেঙ্গে খাওয়াই উত্তম। এ ব্যাপারে রাসুল (সাঃ)-এর নির্দেশ নিম্নরূপ

মৌখিক বা সরাসরি দাওয়াত না হলেও দূত, এলচি, চিঠি, কার্ড বা টেলিফোনের মাধ্যমে দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজেব

মৌখিক বা সরাসরি দাওয়াত না হলেও দূত, এলচি, চিঠি, কার্ড বা টেলিফোনের মাধ্যমে দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজেব


অবশ্য দাওয়াত কেবল দায় সারার নিয়তে দেওয়া উচিত নয়। দাওয়াত দেওয়াতে আন্তরিকতা থাকা আবশ্যিক। উপর উপর কেবল ‘দাওয়াত নেবেন নাকি? আমার বাড়িতে খানা খাবেন নাকি? আমার বাড়িতে একদিন খান না কেন?

দাওয়াত কবুল করা ওয়াজেব

দাওয়াত কবুল করা ওয়াজেব


বাহির থেকে যে লোক আপনার সাক্ষাৎ বা সাহায্য কামনা করে আপনার কাছে আসে, সে বহিরাগত অতিথি আপনার মেহমান। যাকে যিয়াফত অথবা দাওয়াত দিয়ে আপনি আপ্যায়ন করতে চান সেও আপনার মেহমান। আর আপনি হবেন মেযবান;
   উল্লেখ্য যে, আপনার জন্য মেহমান-নেওয়াযী অর্থাৎ মেহমানের খাতির করার গুরুত্ব রয়েছে ইসলামে। রাসুল (সাঃ) বলেন,

রোগীর মৃত্যু উপস্থিত হলে নিম্নের কাজগুলি করা উচিতঃ

রোগীর মৃত্যু উপস্থিত হলে


রোগীর মৃত্যু উপস্থিত হলে নিম্নের কাজগুলি করা উচিত
   (ক) কলেমা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দেওয়া। পিয়ারা রসূল (সাঃ) বলেন, তোমরা তোমাদের মরণাপন্ন ব্যক্তিকে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।’’[1]
   (খ) মুমূর্ষুর জন্য দু‘আ করা; আল্লাহ! ওকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ! ওর মরণকষ্ট আসান করে দাও ---’ ইত্যাদি।
   (গ) কোন প্রকারের মন্দ কথা বা অন্যায় মন্তব্য না করা। কারণ, রসূল (সাঃ) বলেন, যখন তোমরা কোন রোগী বা মরণাপন্ন ব্যক্তির নিকট উপস্থিত থাকবে, তখন ভালো কথাই বলো। কেননা, তোমরা যা বলবে তার উপর ফিরিশ্তাবর্গ ‘আমীন-আমীন’ বলবেন।

রোগীকে কোন খাবার খেতে বাধ্য না করা

রোগীকে কোন খাবার খেতে বাধ্য না করা


রোগী দেখতে গিয়ে সঙ্গে খাবার নিয়ে গিয়ে কোন খাবার খেতে রোগীকে বাধ্য করবেন না। বরং পথ্য-অপথ্য বুঝে রোগীকে তার পছন্দমত খাবার দিন। যে খাবারে তার ক্ষতির আশঙ্কা আছে সে খাবার তাকে খেতে দেবেন না। রোগী খেতে না চাইলেও চিন্তার কোন কারণ নেই। খাওয়ার জন্য তার সাথে কোন প্রকার জোর করাও উচিত নয়। তার হায়াত থাকলে রোগদাতা তাকে গায়বীভাবে খাইয়ে থাকেন।
রাসুল (সাঃ) বলেন,

কাউকে কুশলবাদ জিজ্ঞাসা করলে

কাউকে কুশলবাদ জিজ্ঞাসা করলে


কাউকে কুশলবাদ জিজ্ঞাসা করলে, রোগী হলেও তাকে সর্বাবস্থায় (আল-হামদু লিল্লাহ বলে) আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
একদা শাদ্দাদ বিন আউস ও সুনাবিহী এক রোগীকে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আজ সকালে তুমি কেমন আছ?’ লোকটি বলল,

রোগীর নিকট রোগীর জন্য বিশেষ দু‘আ করুন

রোগীর নিকট রোগীর জন্য বিশেষ দু‘আ করুন


রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘মৃত্যু উপস্থিত হয়নি এমন রোগীকে সাক্ষাৎ করে ৭ বার নিম্নের দু‘আ বললে, আল্লাহ ঐ রোগ থেকে ঐ রোগীকে নিরাপত্তা দান করেন;

أَسْأَلُ اَللهَ العَظِيْمَ، رَبَّ العَرْشِ العَظِيْمِ، أَنْ يَشْفِيَكَ

উচ্চারণঃ আসআলুল্লা-হাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আঁই য়্যাশফিয়াক্।’’
অর্থাৎ, আমি  মহান আল্লাহ, মহা আরশের অধিপতির নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি তোমাকে (এই রোগ হতে) নিরাময় করুন।[1]

রোগী দেখতে গিয়ে কি বলবেন?

রোগী দেখতে গিয়ে কি বলবেন?


রোগী দেখতে গিয়ে তার সামনে এমন কথা বলবেন না, যা শুনে সে আতঙ্কিত হয়, ঘাবড়ে যায়, তার রোগ বৃদ্ধি পায় অথবা তার মৃত্যু অনিবার্য মনে করে এবং মরণ আসার পূর্বেই সে জীবনের হাল ছেড়ে বসে। বরং এমন কথা বলবেন, যাতে সে পীড়িত মনে সান্ত্বনা পায়। শেষ অবস্থায় হলে মনের ভিতর যেন কোন প্রকার নিরাশা না আসে।
তাকে বলুন, ‘আপনি ভালো হয়ে যাবেন ইন শাআল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। এ

রোগী দেখতে গিয়ে তার মাথার নিকট বসা সুন্নাত

রোগী দেখতে গিয়ে তার মাথার নিকট বসা সুন্নাত


মহানবী (সাঃ) এক ইয়াহুদী কিশোরকে দেখতে গিয়ে তার মাথার নিকট বসেছিলেন। (বুখারী) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,

রোগীকে বিরক্ত না করা

রোগীকে বিরক্ত না করা


রোগী দেখতে গিয়ে তার কাছে লম্বা সময় ধরে বসে থেকে তাকে বিরক্ত করেন না। সে যদি নিজের রোগণ্ডযন্ত্রণা নিয়ে ছট্ফট্ করে তাহলে জিজ্ঞাসাবাদ করেই চট্ করে ফিরে আসেন। অবশ্য রোগী যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পাশে পেয়ে সান্ত্বনা পায় তাহলে সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় থাকাতে দোষ নেই। যেমন

সঠিক সময়ে রোগী দেখতে যাওয়া

সঠিক সময়ে রোগী দেখতে যাওয়া


রোগীকে এমন সময় দেখতে যান, যে সময় দেখতে গেলে তার এবং তার পরিবারের যেন কোন প্রকার অসুবিধা না হয়। যেহেতু রোগী দেখতে যাওয়ার মানে তার ও তার পরিজনের মনকে সান্তবনিত করতে যাওয়া। সুতরাং

রোগী অমুসলিম হলেও তাকে দেখতে যান

রোগী অমুসলিম হলেও তাকে দেখতে যান


রোগী অমুসলিম হলেও তাকে দেখতে যান। আল্লাহর নবী (সাঃ) অমুসলিম রোগীর সাথে দেখা করে তার বাঁচার পথ বলেছেন।[1]

রোগী বেহুশ ও অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে

রোগী বেহুশ ও অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে


রোগী বেহুশ ও অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে এবং আপনাকে চিনতে না পারলেও তাকে দেখা করতে যান। সান্ত্বনা দিতে না পারলেও আপনি তার জন্য দু‘আ করবেন। তাতেও

নারী-পুরুষ পরস্পরকে রোগে সান্ত্বনা দিতে পারে

নারী-পুরুষ পরস্পরকে রোগে সান্ত্বনা দিতে পারে


নারী-পুরুষ পরস্পরকে রোগে সান্ত্বনা দিতে পারে। অবশ্য বেগানা হলে পর্দা ও ফিতনা দূর হওয়ার শর্ত অবশ্যই পালন করতে হবে। আল্লাহর রাসুল (সাঃ)

রোগীর সাক্ষাৎ বিষয়ক। রোগী শিশু হলে।


রোগীর সাক্ষাৎ বিষয়ক


ইসলাম দয়া-দাক্ষিণ্য ও রহমতের ধর্ম। সমাজের মানুষের সাথে সম্পর্ক, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রাখতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে ইসলাম। মানুষের বিপদে সহযোগিতা করতে এবং আপদে সান্ত্বনা দিতে অনুপ্রাণিত করেন আমাদের রহমতের নবী (সাঃ) রোগীকে দেখা করে সান্ত্বনা দেওয়া সেই ইসলামী আদবের অন্যতম। বরং একজন রোগগ্রস্ত মুসলিম ভায়ের এটি একটি প্রাপ্য অধিকার।
 আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন,

সাক্ষাতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা

সাক্ষাতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা


কোন ওস্তায, বন্ধু বা দ্বীনী ভাইকে সাক্ষাৎ করতে মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করুন। অবহেলা ও অতিরঞ্জন বর্জন করে মাঝে মাঝে তার যিয়ারত করুন। যাতে আপনাদের মাঝে মহববত বৃদ্ধি পায় এবং কারো মনে বিরক্তি সঞ্চার না হয়।
রাসুল (সাঃ) বলেন,

সাক্ষাতে গেলে ইমামতি না করা

সাক্ষাতে গেলে ইমামতি না করা


আপনি যাকে দেখা করতে যাচ্ছেন, সে যদি আপনার থেকে জ্ঞানে-মানে ছোটও হয়, তবুও আপনি নিজ থেকে তার ইমামতির জায়গায় ইমামতি করবেন না এবং তার আসনে বা বিছানায় বসবেন না। অবশ্য সে অনুমতি দিলে বা অনুরোধ করলে আলাদা কথা।
রাসুল (সাঃ) বলেন,

সাক্ষাতের যে নিষিদ্ধ সময় রয়েছে, সেই সময় ছাড়া অন্য সময়ে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হন

সাক্ষাতের যে নিষিদ্ধ সময় রয়েছে, সেই সময় ছাড়া অন্য সময়ে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হন


কুরআন কারীমে তিন সময়ে নিজেদের খাদেম ও নাবালক শিশু-সন্তানদেরকেও খাস কক্ষে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং তারা ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরের সময় এবং এশার নামাযের পরে কাছে আসতে চাইলে আগেই অনুমতি চেয়ে নিতে হবে। যেহেতু এই তিন সময় সাধারণতঃ বাহ্যিক লেবাস খুলে রাখার সময়, ঘুম ও আরামের সময়, স্বামী-স্ত্রীর প্রেমালাপ ও মিলনের সময়।
ঘরের লোকের জন্য যদি এই নিয়ম হয়,

সাক্ষাৎ বিষয়ক

সাক্ষাৎ বিষয়ক


বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে কোন দ্বীনী ভাইকে দেখা করতে যাওয়ার বড় গুরুত্ব রয়েছে ইসলামে। এমন যিয়ারতের সওয়াবও রয়েছে বড়। অবশ্য সে যিয়ারত কিন্তু কোন স্বার্থের খাতিরে হলে হবে না; বরং তা একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হতে হবে।
এমনিতেই এক মু’মিন অপর মুমিনের ভাই। একজন অপর জনের জন্য আয়না স্বরূপ। মুসলিম সমাজ একটি দেহের মত। যার একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে সারা দেহ সেই ব্যথা অনুভব করে। অতএব

সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে (গালে) চুম্বন দেওয়া

সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে (গালে) চুম্বন দেওয়া


সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে (গালে) চুম্বন দেওয়া বিধেয় নয়। বরং তা নিষিদ্ধ; যেমন পূর্বের এক হাদীসে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
পক্ষান্তরে স্ত্রী ও শিশু-সন্তানকে চুম্বন দেওয়ার কথা স্বতন্ত্র। কারণ তাদেরকে প্রেম ও স্নেহভরে যে কোন সময় দেওয়া বৈধ।
দুই চোখের মাঝে কপাল চুম্বন দেওয়া বৈধ। জাফর হাবশা থেকে ফিরে এলে মহানবী (সাঃ) তাঁর সাথে মুআনাকা করে তাঁর দুই চোখের মাঝে (কপালে) চুম্বন দিয়েছিলেন।[1]
যেমন কিছু শর্তের সাথে আলেম (পিতা-মাতা বা গুরুজন)দের হাতে বুসা (চুম্বন) দেওয়া বৈধ।
   (ক) শ্রদ্ধাস্পদ যেন

মুআনাকা

মুআনাকা


মুআনাকা হল, অপরের উনুক (গর্দানের) সাথে উনুক (গর্দান) লাগিয়ে জড়িয়ে ধরা।[1] বুকে বুক লাগাবার কথা নেই। অবশ্য কোন কোন অভিধানে গর্দানের সাথে গর্দান লাগিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরার কথাও রয়েছে। [2]কোন কোন অভিধানে রয়েছে, অপরের গর্দানে দুই হাত রেখে নিজের দিকে টেনে নেওয়া।[3]
সুতরাং বুঝা যায় যে,

সফর থেকে ফিরে সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে মুআনাকা করা বিধেয়

সফর থেকে ফিরে সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে মুআনাকা করা বিধেয়


আনাস (রাঃ) বলেন, ‘রাসুল (সাঃ)-এর সাহাবাগণ যখন আপোসে সাক্ষাৎ করতেন, তখন মুসাফাহাহ করতেন এবং যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন মুআনাকা করতেন।’[1]
ইমাম শা’বী বলেন, ‘রাসুল (সাঃ)-এর সাহাবাগণ যখন আপোসে সাক্ষাৎ করতেন, তখন মুসাফাহাহ করতেন এবং যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন একে অপরের সাথে মুআনাকা করতেন।’[2]
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন,

আগন্তুকের জন্য উঠে দাঁড়ানো

আগন্তুকের জন্য উঠে দাঁড়ানো


আগন্তুকের তা’যীমে উঠে খাড়া হওয়া বিধেয় নয়।
আবূ উমামাহ বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সাঃ) একটি লাঠির উপর ভর দিয়ে আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। তাঁকে দেখে আমরা উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, ‘‘তোমরা দাঁড়ায়ো না; যেমন অনারব (পারস্যের) লোক তাদের বড়দের তা’যীমে উঠে দাঁড়ায়।’’[1]
আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, ‘‘ওঁদের (সাহাবাদের) নিকট রাসুল (সাঃ) অপেক্ষা অন্য কেউ অধিক প্রিয় (ও শ্রদ্ধেয়) ছিল না। কিন্তু ওঁরা যখন তাঁকে দেখতেন তখন তাঁর জন্য উঠে দাঁড়াতেন না। কারণ এতে তাঁর অপছন্দনীয়তার কথা তাঁরা জানতেন।’’[2]
প্রিয় রাসুল (সাঃ) বলেন,

মুসাফাহাহ এক হাতে এবং কেবল ডান হাতে

মুসাফাহাহ এক হাতে এবং কেবল ডান হাতে


আরবী অভিধানে বলা হয়েছে, মুসাফাহাহ হল অপরের হাত ধরা।[1] একটি লোকের সাথে অপর লোকের মুসাফাহাহ করার অর্থ হল, একজনের করতলকে অপরের করতলে রাখা। সাক্ষাতের সময় মুসাফাহাহ হল, দুইজনের মুখোমুখী হয়ে নিজ নিজ হাতের (করতলের) সাথে হাত (করতল) মিলিয়ে ধারণ করা।[2]
রাসুল (সাঃ) বলেন,

মুসাফাহ

মুসাফাহ


মুসাফাহাহ মানে হল, দুইজনের মুখোমুখী হয়ে নিজ নিজ ডান হাতের (করতলের) সাথে হাত (করতল) মিলিয়ে ধারণ করা।
মুসাফাহাহ মানে করমর্দন নয়। করমর্দন হল,

মুসাফাহাহ করার সময় সাথীর হাত ছাড়িয়ে না নেওয়া

মুসাফাহাহ করার সময় সাথীর হাত ছাড়িয়ে না নেওয়া


মুসাফাহাহ করার সময় সাথীর হাত থেকে আপনি আগে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কুশলাদি জিজ্ঞাসা করার সাথে লম্বা সময় ধরে হাতে হাত দিয়ে রাখুন। যখন সাথী হাত ছেড়ে দেবে, তখন আপনিও ছেড়ে দিন। রাসুল (সাঃ) এরূপই

কিশোরী বা মহিলার সাথে মুসাফাহাহ

কিশোরী বা মহিলার সাথে মুসাফাহাহ


কোন এমন (বেগানা) কিশোরী বা মহিলার সাথে মুসাফাহাহ বৈধ নয়, যার সাথে কোনও কালে আপনার বিবাহ বৈধ। ছোট থেকে যাদেরকে হয়তো আপনি কোলে-পিঠে মানুষও করেছেন এবং খালি গায়েও দেখেছেন তারা বড় হওয়ার পর ইসলামী বিধানে আপনার নিকট থেকে দূর হয়ে যাবে। যেমন চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো বোন, শালী ইত্যাদির সাথেও মুসাফাহাহ হারাম। আপনার শ্রদ্ধেয়া, আপনার চেয়ে অনেক বড় হলেও, আপনি তাকে মায়ের তুল্য মনে করলেও নিয়ত ভালো রেখেও ইসলামী বিধানে তার সাথেও দেখা-সাক্ষাৎ ও মুসাফাহাহ বৈধ নয়। আসলে কেবল মনে করে নেওয়ার ফলে কেউ কারো বোন বা মা হয়ে যায় না। যেমন কেবল মনে করার ফলে কেউ কারো স্ত্রী হতে পারে না। অর্থাৎ,

শিশুর সাথেও মুসাফাহাহ করুন

শিশুর সাথেও মুসাফাহাহ করুন


শিশুর সাথেও মুসাফাহাহ করুন এবং সেই সাথে তার মাথায় হাত বুলান। বিশেষ করে এতীমের মাথায় হাত বুলালে হৃদয়ের কঠোরতা দূর হয়ে যায়।

মুসাফাহাহ হল সাক্ষাৎ ও বিদায়ের সময় বিধেয়

মুসাফাহাহ হল সাক্ষাৎ ও বিদায়ের সময় বিধেয়


মুসাফাহাহ হল সাক্ষাৎ ও বিদায়ের সময় বিধেয়। অবশ্য মুসাফাহা সাক্ষাতের সময় সুন্নাত এবং বিদায়ের সময় মুস্তাহাব।[1]
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ নিজ বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তার জন্য কি প্রণত হবে?’ আল্লাহর রসূল (সাঃ) বললেন, ‘‘না।’’ লোকটি বলল, ‘তাহলে কি তাকে জড়িয়ে (ধরে মুআনাকা) করবে এবং চুম্বন করবে?’ তিনি বললেন,

সালাম দেওয়ার পর তার সাথে মুসাফাহাহ করুন

সালাম দেওয়ার পর তার সাথে মুসাফাহাহ করুন


কোন মুসলিম ভায়ের সাথে আপনার সাক্ষাৎ হলে তাকে হাসি মুখে দেখা করুন। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘‘প্রত্যেক কল্যাণমূলক কর্মই হল সদকাহ (করার সমতুল্য)। আর তোমার ভায়ের সাথে  তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং তোমার বালতির সাহায্যে (কুয়ো থেকে পানি তুলে) তোমার ভায়ের পাত্র (কলসী ইত্যাদি) ভরে দেওয়াও কল্যাণমূলক (সৎ)কর্মের পর্যায়ভুক্ত।’’[1]
তিনি আরো বলেন, ‘‘কল্যাণমূলক কোন কর্মকেই অবজ্ঞা করো না, যদিও তা তোমার ভায়ের সাথে  হাসিমুখে সাক্ষাৎ করেও হয়।’’[2]
সালাম দেওয়ার পর তার সাথে মুসাফাহাহ করুন। যেহেতু এই মুসাফাহার বড় মাহাত্ম্য রয়েছে ইসলামে। মুসাফাহার ফলে গোনাহ ঝরে যায় মুসলিমের। আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন,

مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، فَيَتَصَافَحَانِ إِلَّا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقَا

‘‘যখনই কোন দুই মু’মিন ব্যক্তি সাক্ষাৎ করে আপোসে মুসাফাহাহ করে, (কেবল আল্লাহর ওয়াস্তে একে অন্যের হাত ধরে) তখনই তাদের পৃথক হয়ে প্রস্থান করার পূর্বেই উভয়কেই ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’’[3]
প্রকাশ থাকে যে, মুসাফাহাহর সাথে সাথে আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনার দু‘আ করার হাদীস সহীহ নয়।[4] সহীহ নয় অন্য কোন দু‘আ ও দরূদও। অবশ্য কোন কোন সহীহ বর্ণনায় কেবল আল্লাহর প্রশংসা করার কথা পাওয়া যায়।[5] অল্লাহু আ’লাম।
বারা বিন আযেব (রাঃ) বলেন, ‘পরিপূর্ণ অভিবাদন হল তোমার ভায়ের সাথে তোমার মুসাফাহাহ করা।’[6]
আনাস (রাঃ) বলেন, ‘মুসাফাহাহ সর্বপ্রথম ইয়ামানের লোকেরা চালু করে।’[7] আসলে মুখে সালাম (শান্তির দু‘আ) দেওয়ার পর মুসাফাহাহ তারই সত্যায়ন করে। মুসলিমের হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের, মুখের সাথে মুখের এবং কাজের সাথে কাজের মিল একত্রিত হয়। সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধনের এটিই হল রশির প্রথম খি (আল)।
ফুটনোটঃ[1]. আহমাদ, তিরমিযী, হাকেম

[2]. মুসলিম আল-মাকতাবাতুশ-শামেলা হা/২৬২৬

[3]. তিরমিযী আল মাদানী প্রকাশনী হা/২৭২৭, সহীহ আবু দাঊদ হা/৫২১২, সহীহ।

[4]. যয়ীফ আবূ দাঊদ হা/১১১৩, সিলসিলাহ যয়ীফাহ হা/২৩৪৪

[5]. সহীহুল জা’মে হা/২৭৪১

[6]. আল-আদাবুল মুফরাদ ৯৬৭

[7]. আহমাদ ৩/১৫৫, ২২৩, আবূ দাঊদ হা/৫২১৩, সিলসিলাহ সহীহাহ আল-মাকতাবাতুশ-শামেলা. হা/৫২৭

Thursday, November 23, 2017

সালাম দেওয়ার সময় কোন প্রকার ঝুঁকা বৈধ নয়

সালাম দেওয়ার সময় কোন প্রকার ঝুঁকা বৈধ নয়


সালামের পরিবর্তে ‘হেলো’, ‘আহলান’, ‘গুডমর্নিং’ ইত্যাদি বলাও বিজাতীয় প্রথা। সালামের সময় জুতা খুলে,  প্রণত হয়ে, ঝুঁকে পা স্পর্শ করে সালাম (প্রণাম) করা, কদমবুসী করা এবং সিজদা করা শির্কের পর্যায়ভুক্ত।

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ