Saturday, March 24, 2018

রজব মাসে করণীয়-বর্জনীয় আমল ও বিদআত সমুহ

রজব মাসে করণীয়-বর্জনীয় আমল ও বিদআত সমুহ


রজব মাস সম্পর্কে জ্ঞাতব্য
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ (القصص:68)
আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। (সূরা কাসাস : ৬৮)
অর্থাৎ স্বীয় সৃষ্ট বস্তু হতে কিছু মনোনীত করেন, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার ঘোষণা দেন। যেমন তিনি মনোনীত করেছেন কয়েকটি দিন, কয়েকটি মাস ; সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা প্রদান করেছেন, অন্য সব দিন ও মাসের উপর। এরশাদ হচ্ছে –
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ . (التوبة:36)
আসমান-জমিনের সৃষ্টি ও সূচনা লগ্ন হতেই আল্লাহর বিধান মতে মাসের নিশ্চিত সংখ্যা বারটি। তার মাঝে চারটি সম্মানিত। এ অমোঘ ও শাশ্বত বিধান ; সুতরাং এর মাঝে তোমরা (অত্যাচার-পাপাচারে লিপ্ত হয়ে) নিজেদের ক্ষতি সাধন করো না। (তওবা-৩৬)
হাদিস শরীফে মাস চারটির নাম উদ্ধৃত হয়েছে –

রজব মাস: এ সব বিদ’আত দূর হওয়া আবশ্যক

রজব মাস: এ সব বিদ’আত দূর হওয়া আবশ্যক


রজব মাস: এ সব বিদ’আত দূর হওয়া আবশ্যক


আলোচ্য সূচী:
১) ভূমিকা
২) রজব মাসকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন ইবাদত করার কথা কি হাদীসে বর্ণিত হয়েছ?
৩) রজব মাস সম্পর্কে কয়েকটি দুর্বল হাদীস।
৪) রজব মাস সম্পর্কে কয়েকটি জাল হাদীস।
৫) রজব মাসকে কেন্দ্র করে নামায, রোযা, ইতিকাফ ইত্যাদি ইবাদত করা।
৬) সালাতুর রাগায়েব এর বিদআত।
৭) শবে মেরাজ পালন করার বিদআত।
তাহলে আসুন, আমরা ধারাবাহিকভাবে উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনায় প্রবৃত্ত হই।
——————————————————————-
১) ভূমিকা

রজব মাসের বিদআত : শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

রজব মাসের বিদআত : শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি



রজব মাস পালন, তার ফজিলত, তাতে রোজা রাখা-ইত্যাদি বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই, এই সময়ের একটি বহুল উচ্চারিত প্রশ্ন। বিষয়টি খুবই তাৎক্ষণিক, তাই আমি এ মাসের সাথে সম্পর্কিত কিছু আহকাম বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব, আল্লাহ আমাকে সাহায্য করুন।
রজব : হারাম মাসের একটি
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরানে এরশাদ করেন-6)
আসমান-জমিনের সৃষ্টি ও সূচনা লগ্ন হতেই আল্লাহর বিধান মতে মাসের নিশ্চিত সংখ্যা বারটি। তার মাঝে চারটি সম্মানিত। এ অমোঘ ও শাশ্বত বিধান ; সুতরাং

পহেলা এপ্রিল : মুসলিম উম্মাহর শোকের দিন

পহেলা এপ্রিল : মুসলিম উম্মাহর শোকের দিন

আর নয় এপ্রিল ফুল; সময় এসেছে সচেতন হওয়ার

ইউরোপে মুসলমানরা প্রবেশ করেছিলেন স্পেনের দরজা দিয়ে। ঐতিহাসিক রবার্ট ব্রিফল্ট দি ম্যাকিং অব হিউম্যানিটি গ্রন্থে মুসলমানদের এ প্রবেশকে অন্ধকার কক্ষের দরজা দিয়ে সূর্যের আলোর প্রবেশ বলে অভিহিত করেছেন। কেন এই তুলনা? রবার্ট ব্রিফল্টের জবাব হলো—‘যেহেতু স্পেনে মুসলমানদের আগমনের ফলে শুধু স্পেন নয়, বরং গোটা ইউরোপ মুক্তির পথ পেয়েছিল এজ অব ডার্কনেস তথা হাজার বছরের অন্ধকার থেকে। এজ অব ডার্কনেস সম্পর্কে রবার্ট ব্রিফল্টের মন্তব্য হলো—‘সেই সময় জীবন্ত অবস্থায় মানুষ অমানুষিকতার অধীন ছিল, মৃত্যুর পর অনন্ত নরকবাসের জন্য নির্ধারিত ছিল।’

পহেলা এপ্রিল

পহেলা এপ্রিল

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম। আম্মা বাদ,
এপ্রিল মাসে আমাদের দেশে দুটি দিবস পালন করা হয়ে থাকে। পহেলা এপ্রিল এবং পহেলা বৈশাখ বা ১৪ই এপ্রিল। পহেলা এপ্রিল বাংলায় ‘‘এপ্রিল ফুল’’ নামে পরিচিত। এখানে ফুল অর্থ ইংরেজী ফুল অর্থাৎ বোকা, হাবা বা নির্বোধ। ইংরেজিতে বলা হয়: April Fools’ Day or All Fools’ Day. এদিনে ‘‘প্র্যাকটিক্যাল জোক’’ বা বাস্তব বা ব্যবহারিক তামাশার নামে একে অপরকে মিথ্যা বলে ঠকানো হয়ে থাকে। এ উপলক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে নানা রকম উৎসবের ব্যবস্থা করা হয়।

এপ্রিল ফুলের রহস্য বুঝতে আমাদের মানব ইতিহাসের কয়েকটি তথ্য জানতে হবে।
আদম আলাইহিস সালাম-এর মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে মানব জাতির পথ চলা শুরু। তাঁর সন্তানেরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরবর্তী প্রথম রাসূল ছিলেন নূহ আলাইহিস সালাম। নূহ আলাইহিস সালাম-এর প্লাবনের পর তাঁর সন্তানেরা ক্রমান্বয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাঁর তিন ছেলের নাম ‘‘হাম’’, ‘‘সাম’’ ও ‘‘ইয়াফিস’’। হামের বংশধরগণ ক্রমান্বয়ে আফ্রিকায় চলে যান। সামের বংশধরগণ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন এবং কেউ কেউ পার্শবতী দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েন। ভারতের দ্রাবিড়গণও তাদেরই বংশধর বলে বুঝা যায়। ইয়াফেসের বংশধরগণ অনেকে ইরানে বসবাস করেন। আরেক দল ‘আর্য’’ নামে ভারতে আসেন এবং আরেক দল ইউরোপে চলে যান। এজন্য ইউরোপ, ভারতের আর্য ও প্রাচীন ইরানের ভাষা, কৃষ্টি ও ধর্মের মধ্যে অনেক অনেক মিল পাওয়া যায়। তার একটি দিক হলো পহেলা এপ্রিল।

Friday, March 23, 2018

বান্দার হক নষ্ট করার পর সঠিকভাবে মনে না থাকলে করণীয় , কুরআন-হাদিস নিয়ে তামাশা করার বিধান কি, মেয়েদের চুল কাটা ও ছাটার বিধান কি?

 বান্দার হক নষ্ট করার পর সঠিকভাবে মনে না থাকলে-
প্রশ্ন : এক লোক আগে অনেক মানুষের কাছে টাকা ধার করত কিন্তু ঠিক মত পরিশোধ করত না। অনেক বছর পর তার ঈমানী চোখ খুলল, সে তওবা করল এবং এটাও বুঝতে শিখল যে, আল্লাহ বান্দার হক ক্ষমা করেন না। তাই এখন সে টাকা পরিশোধ করতে রাজি। ।কিন্তু তার সঠিক মনে নেই যে, কে কত পাবে? এমন অবস্থায় তার কী করা উচিত?
উত্তর:
বান্দার হক নষ্ট করা হলে তওবার জন্য শর্ত হল, তা তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে, তাকে না পেলে তার ওয়ারিশ (উত্তরাধীকারী)দেরকে ফেরত দিতে হবে। তাদের কাউকে না পেলে তা আল্লাহর পথে বা জনকল্যাণ মূলক কাজে ব্যয় করে আল্লাহর নিকট দুআ করতে হবে যেন, তিনি এর যাবতীয় সওয়াব এর মালিককে প্রদান করেন।
যদি পরিমাণ স্বরণ করতে না পারে যে, তাহলে আনুমানিক ধারণা করবে যে, এই পরিমাণ হতে পারে। তারপর তা নিজের সম্পদ থেকে আলাদা করে দান করে দিবে। এমনভাবে করবে যেন মনে হয় যে, সে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পেরেছে। আল্লাহু আলাম।
~~~~~

Thursday, March 22, 2018

#ছবি_ও_মূর্তি_ঘরে_রাখার_বিধান_কি?

#ছবি_ও_মূর্তি_ঘরে_রাখার_বিধান_কি?
▂▂▂▂▂▂▂▂﷽▂▂▂▂▂▂▂▂
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় ও অসীম সত্তার অধিকারী। আর মানুষ হ’ল তাঁর সর্বাধিক প্রিয় সৃষ্টি। তিনি মানুষকে শয়তান হ’তে সাবধান থাকার পুনঃ পুনঃ নির্দেশ প্রদান করেছেন। কুরআন আল্লাহর গ্রন্থ। এ গ্রন্থে আল্লাহ ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক-সাবধান করেছেন।
পবিত্র কুরআনের বাণী সমূহের প্রতি আস্থাশীল ও অকৃত্রিম বিশ্বাসী থাকারআহ্বান জানান হয়েছে। এতদসত্ত্বেও কেউ কল্পনাপ্রসূতভাবে নিত্যনতুন কর্মকান্ডে প্রবৃত্ত হ’লে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। এখানে এই ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবাণীর অবতারণা করা হ’ল। মহান আল্লাহ রাসূল ﴾ﷺ﴿-কে সতর্ককারীরূপে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই মানুষকে হুঁশিয়ার করেছেন। আল্লাহ বলেন,
‘আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী। আমি আপনাকে সত্য ধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।’
📖 (ফাতির ২৩-২৪)।

Monday, March 19, 2018

প্রশ্ন:-' প্রথমে কন্যা সন্তান হওয়া বরকতের কারণ' ;কথাটি কি সঠিক??

প্রশ্ন:-' প্রথমে কন্যা সন্তান হওয়া বরকতের কারণ' ;কথাটি কি সঠিক??
==================================
উত্তর : কন্যা সন্তান অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ কিন্তু প্রথমে কন্যা সন্তান হওয়া বরকতের কারণ কথাটি ঠিক নয়।
প্রথমে কন্যা সন্তান হওয়া বরকতের কারণ - এ মর্মে কিছু হাদীস পাওয়া যায় কিন্তু সেগুলো একটিও বিশুদ্ধ নয়। বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ সেগুলোর কোন কোনটিকে যঈফ আর কোন কোনটিকে মউজু বা বানোয়াট হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
ইমাম সাখাবী তার মাকাসেদে হাসানাহ গ্রন্থে, সুয়ুতী কাশফুল খাফা গ্রন্থে এবং আলবানী সিলসিলা যঈফা গ্রন্থে এ সব জাল-যঈফ হাদীসগুলো সম্পর্কে ব্স্তিারিত আলোচনা করেছেন। সুতরাং আমাদের কতর্ব্য, হাদীস জাচায়-বাছায় করা ছাড়া সেগুলো প্রচার না করা। সাবধান!
কন্যা সন্তানের ফযীলত সম্পর্কে পড়ুন নিচের লেখাটি:

সরাসরি কিংবা টেলিভিশনে খেলা দেখা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ

সরাসরি কিংবা টেলিভিশনে খেলা দেখা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ
----------------------------------------------------
খেলাধুলা ইসলামে বৈধ বিষয়সমূহের একটি । রাসূলুল্লাহ (স:) নিজেও তার স্ত্রী আয়িশা (রা:)এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ্রহণ করেছেন।রাসূল( স:) প্রিয় স্ত্রী আয়িশা (রা:) কে নিজের পেছনে দাঁড় করিয়ে ঈদের দিনে কৃষ্ণকায় সৈনিকদের রণকৌশল প্রদর্শনী দেখিয়েছিলেন । রাসূলের কাঁধে মাথা রেখে মা আয়িশা (রাঃ) সৈনিকদের প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন ।
ইসলাম প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যকে পূজি করে আঞ্জাম দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। সেই উদ্দ্যেশ্যের ভিত্তিতেই কর্মের ফলাফল নির্ধারণ হবে। প্রিয় সাহাবী মুয়ায ইবনু জাবাল বলতেন,

বিবাহের মোহর নির্ধারণের শরী‘আতের নির্দেশনা কি? সমাজে ‘মোহরে ফাতেমী’ নামে একটি পরিভাষা চালু আছে। এটা কি সুন্নাত?

প্রশ্ন (১৮/৪৫৮) : বিবাহের মোহর নির্ধারণের শরী‘আতের নির্দেশনা কি? সমাজে ‘মোহরে ফাতেমী’ নামে একটি পরিভাষা চালু আছে। এটা কি সুন্নাত?
-সুলতান আহমাদ, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।
উত্তর : বিবাহ মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রদত্ত অন্যতম প্রধান নে‘মত। আল্লাহ বলেন, তাঁর নে‘মতসমূহের অন্যতম হ’ল তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার’ (রূম ২১)। সেকারণ বিবাহ সহজে সম্পন্ন হওয়া যরূরী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সর্বোত্তম বিবাহ হ’ল যা সহজভাবে সম্পন্ন হয় (ইবনু হিববান, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৩০০)। আর বিবাহের প্রধান শর্ত হ‘ল মোহর আদায় করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩)। এর পরিমাণ শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত নয়। তবে পরিমাণে তা যত কম হয়, ততই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শ্রেষ্ঠ মোহর যা সহজে পরিশোধযোগ্য (বায়হাক্বী, ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৭৯)। ওমর (রাঃ) বলেন, ‘মেয়েদের মোহর সীমাহীন করো না। কেননা সীমাহীন মোহর নির্ধারণ যদি দুনিয়ায় সম্মান অথবা আখেরাতে তাক্বওয়া অর্জনের কারণ হ’ত, তবে এরূপ মোহর প্রদানে আল্লাহর নবী আগ্রহী হ’তেন। কিন্তু তিনি তার কোন স্ত্রী বা কন্যার মোহর বারো উক্বিয়া বা ৪৮০ দিরহামের অধিক নির্ধারণ করেননি’ (আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ প্রভৃতি মিশকাত ‘মোহর’ অধ্যায় হা/৩২০৪)। রাসূল (ছাঃ) কুরআন শিক্ষা প্রদান, লোহার আংটি (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩২০২), এমনকি ইসলাম গ্রহণের শর্তেও বিবাহ প্রদান করেছেন (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২০৯)।
তবে

Friday, March 16, 2018

বাংলাদেশে সহি আকিদার মাদরাসা ৭২টি দেখুন

বাংলাদেশে সহি আকিদার মাদরাসা ৭২টি দেখুন 
🌷 🌷 🌷 🌷 🌷 🌷 🌷 🌷 🌷 🌷 🌷

সাতক্ষীরা :: ১::দারুল হাদিস আহমাদিয়া সালাফিয়্যাহ দাখিল মাদ্রাসা, বাঁকাল (পুরুষ)
২::দারুল হাদিস আহমাদিয়া সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসা, বাঁকাল ( মহিলা)

☞ময়মনসিংহ জেলাঃ 
১. মাদ্রাসাতুত তাওহীদ আস-সালাফিয়্যাহ্ ময়মনসিংহ।যোগাযোগ ০১৭৩৪৬৭০৬৬১

☞সিলেট জেলাঃ
১. কিউসেট ইন্সটিটিউট, মিরের ময়দান, সিলেট।

Thursday, March 15, 2018

বেনামাজি কাফের না মুসলিম ? একটু ভিন্ন চিন্তা...

বেনামাজি কাফের না মুসলিম ? একটু ভিন্ন চিন্তা...
..........................................................
একজন ছাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছে | কোন সময় স্কুলের বারান্দায় তাকে দেখা যায়নি | পড়াশুনা তো দূরে থাক বই পুস্তকও সে কিনেনি | টিচারদের কেউই এই ছাত্রকে চিনেইনা যে সে তাদেরই ছাত্র | বৎসর শেষে এই ছাত্র এসেছে পরীক্ষায় অংশগ্ৰহণ করতে | শিক্ষকগণ দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেলেন তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে | কেউ বললেন, যেহেতু সে রেজিস্টার্ড ছাত্র তাই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হোক | অপর পক্ষ বললেন , তাকে আমরা কোনদিন প্রতিষ্টানে দেখিনি, চিনিওনা | আমাদের অন্যান্য নিয়মিত ছত্রদের মতই তাকে পরীক্ষার সুযোগ দেয়া উচিত হবে না |
তবে স্বাভাবিকতায় তারা দুই পক্ষই এই ব্যাপারে একমত যে, পরীক্ষায় অংশগ্ৰহণ করলেও সেই ছাত্র পাশ করতে পারবে না | অকৃতকার্য হবে |
অনুরুপভাবে,
একজন মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি যিনি কোনদিন মসজিদে সলাত আদায়ের জন্য যাননি | ইচ্ছাকৃতভাবে সলাতবিহীন জীবন বেঁচে নিয়েছেন | তার ব্যাপারেও বিজ্ঞ ওলামাগণ দুই রকমের মত পেশ করেছেন | কেউ বলেছেন, সে আর ইসলামের গন্ডিতে নাই বরং কাফের হয়ে গেছে | তাকে তাওবা করে ফিরে আসতে হবে | অন্যপক্ষের ওলামাগণ বলেছেন , না সে কাফের হয়ে যায়নি এখনো মুসলিম |
তবে দুই পক্ষের ওলামাগণ এই ব্যাপারে একমত যে , স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যক্তি আখিরাতে হিসেবের সময়ে অকৃতকার্য হবে | জান্নাতীদের সাথে তার হাশর হবে না | তার হাশর হবে ফিরাউন, নমরুদ আর উবাই ইবনু খালাফের মত কাফেরদের সাথে |
এখন বলুনতো , সেই ছাত্রের ছাত্রত্বের পরিচয় ধারণে কী সম্মান আছে যেখানে সে শতভাগ অকৃতকার্য ? আর সেই মুসলিমের মুসলমানিত্বে কী সম্মান থাকতে পারে যে হবে জাহান্নামী ?
Salahuddin Ahmad
Makkah, KSA

প্রশ্ন: বিবাহ পূর্ববর্তী কোন রিলেশনের কথা স্বামী /স্ত্রী কে জানানোর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

প্রশ্ন: বিবাহ পূর্ববর্তী কোন রিলেশনের কথা স্বামী /স্ত্রী কে জানানোর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
উত্তর: বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন: স্বামী বা স্ত্রীর জন্য তার সঙ্গীর অতীত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা নাজায়েয। অনুরূপভাবে অতীত জীবনের যে পাপাচার থেকে তওবা করে নিয়েছে সেটা স্বামী/স্ত্রীর নিকট প্রকাশ করাও বৈধ নয়।
কারণ এতে দাম্পত্য জীবনে ফাটল সৃষ্টি হতে পারে। অথচ সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষয় ক্ষতি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে অপরিসীম তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বরং উভয়ের দেখা উচিৎ তার সঙ্গীর বর্তমান অবস্থা। যদি বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক হয় তাহলে পারস্পারিক ভালবাসা ও সদাচরণের সাথে ঘর-সংসার করবে; অন্যথায় তালাকের মাধ্যমে পৃথক হয়ে যাবে।

Tuesday, March 13, 2018

প্রশ্ন: সূরা মুলকের ফযীলত কি? এটি পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি কি সহীহ?


প্রশ্ন: সূরা মুলকের ফযীলত কি? এটি পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি কি সহীহ?
💫💫💫💫💫💫

উত্তর: এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সূরা। তাই আসুন, এ ব্যাপারে হাদীসে কী বলা হয়েছে তা জেনে নেই -
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

إِنَّ سُورَةً مِنْ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ 
الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ -وحسنه الألباني في صحيح الترمذي 

‘কুরআনের তিরিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (অর্থাৎ সূরা মূলক)।” 
(তিরমিযী, শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. উক্ত হাদীসটিকে তার সহীহ তিরমিযীতে ’হাসান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. মাজমু ফতোয়াতে এটিকে সহীহ বলেছেন।)

Monday, March 12, 2018

সুরা ফাতিহার (১-৪) নং আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীরঃ

সুরা ফাতিহার (১-৪) নং আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীরঃ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
(১) অনন্ত করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি)।
‘বিসমিল্লাহ’র পূর্বে ‘আক্বরাউ’ ‘আবদাউ’ অথবা ‘আতলু’ ফে’ল (ক্রিয়া) উহ্য আছে। অর্থাৎ, আল্লাহর নাম নিয়ে পড়ছি অথবা শুরু করছি কিংবা তেলাঅত আরম্ভ করছি। প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরম্ভ করার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ার প্রতি তাকীদ করা হয়েছে। সুতরাং নির্দেশ করা হয়েছে যে, খাওয়া, যবেহ করা, ওযু করা এবং সহবাস করার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়। অবশ্য ক্বুরআনে করীম তেলাঅত করার সময় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ পড়ার পূর্বে ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ্শায়ত্বানির রাজীম’ পড়াও অত্যাবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘অতএব যখন তুমি ক্বুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর।’’ (সূরা নাহল ৯৮ আয়াত)।

Sunday, March 11, 2018

রাসুল (সাঃ) ঘুমানোর পূর্বে যে আমলগুলো করতেন-

রাসুল (সাঃ) ঘুমানোর পূর্বে যে আমলগুলো করতেন-
====================================
১- ঘুমানোর পূর্বে ওযু করে নেওয়া- আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ওযু অবস্থায় রাত্রি যাপন করে তার অন্তর্বাসে এক ফিরিশ্তাও রাত্রিযাপন করেন। সুতরাং যখনই সে জাগ্রত হয় তখনই ঐ ফিরিশ্তা বলেন, ‘হে আল্লাহ! তোমার বান্দা অমুককে ক্ষমা করে দাও, কারণ সে ওযু অবস্থায় রাত্রি যাপন করেছে।’’(ইবনে হিববান, সহীহ তারগীব ৫৯৪)
তিনি আরো বলেন, যে কোনও মুসলিম যখনই ওযু অবস্থায় রাত্রিযাপন করে, অতঃপর রাত্রিতে (সবাক্) জেগে উঠে ইহকাল ও পরকাল বিষয়ক কোন মঙ্গল প্রার্থনা করে, তখনই আল্লাহ তাকে তা প্রদান করে থাকেন।’’(আবু দাঊদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সহীহ তারগীব ৫৯৫)
২- শয়ন অবস্থায় দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে তাতে ফুঁ দিবে : তারপর দুই হাতের তালু দ্বারা দেহের যতোটা অংশ সম্ভব মাসেহ করবে। মাসেহ আরম্ভ করবে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও দেহের সামনের দিক থেকে। (এভাবে ৩ বার করবে অর্থাৎ সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে মাসাহ করবে তাহলে ১ বার হল তারপর আবার সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে মাসাহ করবে তাহলে ২ বার হল এরপর আরও ১ বার করবে সর্বমোট ৩বার) (বুখারি-৫০১৭)
৩- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :

Monday, March 5, 2018

সুদে প্রাপ্ত টাকা কী করা উচিৎ?প্রশ্ন: সুদের টাকা নিজে ব্যবহার না করে কোন আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে দেয়া দেয়া যাবে কি?

সুদে প্রাপ্ত টাকা কী করা উচিৎ?
=============================
প্রশ্ন: সুদের টাকা নিজে ব্যবহার না করে কোন আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে দেয়া দেয়া যাবে কি? আসলে সুদের টাকাগুলো কী করতে হবে দয়া করে জানাবেন।
উত্তর:
সুদী ব্যাংকে টাকা জমা রাখা বা তাদের সাথে লেনদেন করা বৈধ নয়। কারণ এতে হারাম কাজে সহায়তা করা হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে হারাম ও সীমালঙ্ঘণের কাজে পরস্পপরকে সহয়তা করতে নিষেধ করেছেন। (সূরা মায়িদাহ: ২)
তবে কোন ব্যক্তি যদি দ্বীন না বুঝার কারণে সুদী ব্যাংকে টাকা জমা রাখে তাহলে দ্বীনের জ্ঞান আসার সাথে সাথে সেখান থেকে গচ্ছিত অর্থ সুদ সহ উঠিয়ে নিবে। সুদের অর্থটা ব্যাংকের কাছেই রেখে দিবে না। কেননা, সম্ভাবনা আছে, তারা এই অর্থ দ্বারা তাদের সুদী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করবে।

Sunday, March 4, 2018

প্রশ্ন: দেশের মানুষের কথা হল, পাঁচ কালিমা মুখস্থ রাখতেই হবে এবং প্রতিদিন পরতে হবে। অন্যথায় ঈমানের জোর কমে যাবে বা মুসলমান থাকা যাবে না! আমরা কমবেশি সবাই এই পাঁচ কালিমা মুখস্থ করেছি। কিন্তু আসলে কি কালিমা ৫টি? এ বিষয় টি জানালে উপকৃত হবো ইনশাল্লাহ।

প্রশ্ন: দেশের মানুষের কথা হল, পাঁচ কালিমা মুখস্থ রাখতেই হবে এবং প্রতিদিন পরতে হবে। অন্যথায় ঈমানের জোর কমে যাবে বা মুসলমান থাকা যাবে না! আমরা কমবেশি সবাই এই পাঁচ কালিমা মুখস্থ করেছি। কিন্তু আসলে কি কালিমা ৫টি? এ বিষয় টি জানালে উপকৃত হবো ইনশাল্লাহ। 

উত্তর:
মানুষের মুক্তি ও সাফল্যের জন্য কালিমায়ে তাইয়েবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই) এই একটি কালিমার স্বীকৃতি প্রদান এবং তদনুযায়ী আমল করাই যথেষ্ট। 
▲ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

#কবর_জিয়ারত_এর_বিধান_কবর_জিয়ারত_করার_সঠিক_শুদ্ধ_সুন্নাতি_পদ্ধতি_কী?

কবর যিয়ারতের আদব ( آداب الزيارة ) :
এই সময় নিজের মৃত্যু ও আখেরাতকে স্মরণ করবে এবং কবরবাসীদের মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে খালেছ মনে নিম্নোক্ত দো‘আ সমূহ পাঠ করবে। দো‘আর সময় একাকী দু’হাত উঠানো যাবে। বাক্বী‘ গারক্বাদ গোরস্থানে দীর্ঘক্ষণ ধরে দো‘আ করার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একাকী তিন বার হাত উঠিয়েছিলেন। এই সময় স্রেফ দো‘আ ব্যতীত ছালাত, তেলাওয়াত, যিকর-আযকার, দান-ছাদাক্বা কিছুই করা জায়েয নয়।
১ম দো‘আ : এটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে শিক্ষা দিয়েছিলেন।

Saturday, March 3, 2018

বীর্য, মযী ও অদী নিয়ে বিভ্রান্তির অবসানঃ

বীর্য, মযী ও অদী নিয়ে বিভ্রান্তির অবসানঃ
নিজেকে পবিত্র রাখতে ও পবিত্র করতে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের যে বিষয়টি জানা জরুরী - যাহা অধিকাংশ পুরুষদের মধ্যেই হয়ে থাকে এবং যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সন্দেহে থাকি সেই গুলো সহীহ হাদিসের আলোকে নীচে দেওয়া হলঃ
প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব ছাড়াও আরও তিন রকম তরল পদার্থ বের হয়। যে গুলোকে আরবীতেঃ-
১) মনী বা বীর্য। 
২) মযী বা কামরস এবং
৩) অদী - বলা হয়ে থাকে।
উপরের তিনটির মধ্যে মযী ও অদী জাতীয় তরল পদার্থ বের হলে গোসল ফরয হয় না।

Thursday, March 1, 2018

(৩৪৪) দুর্ঘটনা কবলিত, আগুনে পুড়া প্রভৃতি কারণে শুধুমাত্র দু’একটি অঙ্গ পাওয়া গেলে তার জানাযা ও গোসলের নিয়ম কি?

(৩৪৪) দুর্ঘটনা কবলিত, আগুনে পুড়া প্রভৃতি কারণে শুধুমাত্র দু’একটি অঙ্গ পাওয়া গেলে তার জানাযা ও গোসলের নিয়ম কি?


মৃতের উপর জানাযা পাঠ করার পর যদি তার সামান্য কোন অঙ্গ পাওয়া যায়, তবে তার জানাযা আর পড়তে হবে না। যেমন, জনৈক মৃত ব্যক্তিকে জানাযা দিয়ে আমরা তাকে দাফন করলাম। কিন্তু একটি পা বা হাত কাটা ছিল। দাফন করার পর উহা পাওয়া গেল। এখন এই কর্তিত অংশের জানাযা পড়তে হবে না। কেননা মৃতের উপর তো জানাযা হয়েই গেছে।

(৩৪৫) জনৈক মহিলার গর্ভস্ত সন্তানের বয়স ছয় মাস হলে তা পড়ে যায়। সে কিন্তু বিভিন্ন ধরণের কষ্টকর ও ক্লান্তিকর কাজ করতো এবং সেই সাথে রামাযান মাসে ছিয়ামও পালন করতো। তার আশংকা হচ্ছে এই গর্ভপাতের কারণ সে নিজেই। কারণ গর্ভ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতো। তাছাড়া জানাযা না পড়েই উক্ত মৃত সন্তানকে দাফন করে দেয়া হয়েছে। তার জানাযা না পড়া কি ঠিক হয়েছে? আর এই মহিলাই বা কি করবে, যে কঠিন পরিশ্রম করার কারণে বাচ্চা মারা গেছে এই অনুশোচনায় ভুগছে।

(৩৪৫) জনৈক মহিলার গর্ভস্ত সন্তানের বয়স ছয় মাস হলে তা পড়ে যায়। সে কিন্তু বিভিন্ন ধরণের কষ্টকর ও ক্লান্তিকর কাজ করতো এবং সেই সাথে রামাযান মাসে ছিয়ামও পালন করতো। তার আশংকা হচ্ছে এই গর্ভপাতের কারণ সে নিজেই। কারণ গর্ভ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতো। তাছাড়া জানাযা না পড়েই উক্ত মৃত সন্তানকে দাফন করে দেয়া হয়েছে। তার জানাযা না পড়া কি ঠিক হয়েছে? আর এই মহিলাই বা কি করবে, যে কঠিন পরিশ্রম করার কারণে বাচ্চা মারা গেছে এই অনুশোচনায় ভুগছে।


চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর যদি গর্ভস্ত সন্তান পড়ে যায়, তবে তাকে গোসল দেয়া, কাফন পরানো ও দাফন করা ওয়াজিব। কেননা চার মাস পূর্ণ হলে প্রত্যেক ভ্রুণে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়। যেমন আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন,

(৩৪৬) জানাযা নামায আদায় করার পদ্ধতি কি?

(৩৪৬) জানাযা নামায আদায় করার পদ্ধতি কি?


জানাযা পড়ার পদ্ধতি হচ্ছে, ইমাম পুরুষের লাশের মাথা বরাবর, আর মহিলার মধ্যবর্তী স্থান বরাবর দাঁড়াবে। চার তাকবীরের সাথে জানাযা আদায় করতে হয়। অন্তরে নিয়ত করে দাঁড়াবে। (আরবীতে বা বাংলায় মুখে নিয়ত বলা বা শিখিয়ে দেয়া বিদআত।) প্রথম তাকবীর দিয়ে আঊযুবিল্লাহ্‌... বিসমিল্লাহ্‌... পাঠ করে সূরা ফাতিহা তারপর ছোট কোন সূরা পাঠ করবে। বিদ্বানদের অনেকে ছোট একটি সূরা পাঠ করা সুন্নাত বলেছেন। (তবে ছানা পাঠ করার কোন ছহীহ্‌ হাদীছ নেই) দ্বিতীয় তাকবীর দিয়ে দরূদে ইবরাহীম (যা ছালাতে পাঠ করতে হয়) পাঠ করবে।

(৩৪৭) মৃত ব্যক্তি যদি বেনামাযী হয় বা বেনামাযী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে বা সে মূলতঃ নামাযী বা বেনামাযী তার বিষয়টি অজানা থাকে, তবে তার জানাযা পড়ার বিধান কি?

(৩৪৭) মৃত ব্যক্তি যদি বেনামাযী হয় বা বেনামাযী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে বা সে মূলতঃ নামাযী বা বেনামাযী তার বিষয়টি অজানা থাকে, তবে তার জানাযা পড়ার বিধান কি?


যদি জানা যায় যে মৃত ব্যক্তি বেনামাযী ছিল, তবে তার জানাযা আদায় করা নাজায়েয। বেনামাযী মৃতের অভিভাবকদের জন্য বৈধ নয়; তার লাশকে মুসলমানদের সামনে জানাযার জন্য উপস্থিত করা। কেননা সে কাফের মুরতাদ। আবশ্যক হচ্ছে, তার জানাযা না পড়া এবং মুসলমানদের গোরস্থান ছাড়া অন্য যে কোন স্থানে গর্ত খনন করে তার লাশ সেখানে নিক্ষেপ করা। তার কোনই মর্যাদা নেই। কেননা ক্বিয়ামত দিবসে তার হাশর হবে ফিরাউন, হামান, ক্বারূন ও উবাই বিন খালাফের সাথে।
কিন্তু

Wednesday, February 28, 2018

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ‘সালাত ও সালাম’ এর অর্থ কি এবং সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরুদ কোনটি?


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ‘সালাত ও সালাম’ এর অর্থ কি এবং সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরুদ কোনটি?
▬▬▬▬▬▬▬▬
প্রশ্ন: ক. সূরা আহযাব এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করো।” এ কথাটার অর্থ কি?
খ. সব চেয়ে ছোটো দরুদ কোনটি যা সব সময় পড়া আমাদের জন্য সহজ হবে?
উত্তর :
 সালাত ও সালামের অর্থ:
আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّـهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ ও ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি সলাত পেশ করে। হে ঈমানদারগণ, তোমরা তার প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করো।” (সূরা আহযাব: ৫৬)
শাব্দিক দৃষ্টিকোন থেকে সালাত অর্থ রহমত আর সালাম অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা।
 নবীর প্রতি সালাম এর অর্থ তাঁর জীবদ্বশায় তার শারীরিকভাবে সুস্থতা, দ্বীনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কবরে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করা।
 আর তার প্রতি সালাতের অর্থের ব্যাপারে দুটি মত পাওয়া যায়। যথা:

Sunday, February 25, 2018

(৩৪৮) জানাযা নামাযের জন্য কোন সময় নির্ধারিত আছে কি? রাতে কি দাফন করা জায়েয। জানাযার উপস্থিতিতে লোক সংখ্যার কি কোন সীমারেখা আছে?

(৩৪৮) জানাযা নামাযের জন্য কোন সময় নির্ধারিত আছে কি? রাতে কি দাফন করা জায়েয। জানাযার উপস্থিতিতে লোক সংখ্যার কি কোন সীমারেখা আছে?


জানাযা নামায আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। এই কারণে যে, মৃত্যুর কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যখনই মানুষ মৃত্যু বরণ করবে তাকে গোসল দিয়ে, কাফন পরিয়ে তার জানাযা আদায় করবে। তা রাতে হোক বা দিনে। দাফন করবে রাতে হোক বা দিনে। তবে তিনটি সময়ে দাফন করা জায়েয নয়:
১) সূর্য উদয় থেকে নিয়ে এক তীর পরিমাণ সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত।
২) মধ্য দুপুরে, সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলা পর্যন্ত। অর্থাৎ পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলার পূর্বে প্রায় দশ মিনিট।
৩) সূর্যাস্ত যাওয়ার পূর্বে। অর্থাৎ এক তীর পরিমাণ সূর্য থাকার পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।

(৩৪৯) গায়েবানা জানাযার বিধান কি?

(৩৪৯) গায়েবানা জানাযার বিধান কি?


বিদ্বানদের মতামতের মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য মত হচ্ছে গায়েবানা জানাযা শরীয়ত সম্মত নয়। তবে যে ব্যক্তির জানাযা হয়নি তার গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে। যেমন জনৈক মুসলমান কোন কাফের ভুখন্ডে মৃত্যু বরণ করল অথবা সমুদ্র বা নদীর পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণ করল কিন্তু তার লাশ পাওয়া গেল না। তখন তার গায়েবানা জানাযা আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু যার জানাযা পড়া হয়েছে তার গায়েবানা জানাযা আদায় করা শরীয়ত সম্মত নয়। কেননা এব্যাপারে নাজাশীর জন্য গায়েবানা জানাযা ছাড়া হাদীছে আর কোন দীলল নেই। কিন্তু নাজাশীর জানাযা তার নিজ দেশে পড়া হয়নি। এজন্য নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ্বীনায় তার গায়েবানা জানাযা আদায় করেন।

(৩৫০) কোন কোন দেশে মৃত ব্যক্তিকে পিঠের উপর শুইয়ে হাত দু‘টো পেটের উপর রেখে দাফন করা হয়। দাফনের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পদ্ধতি কি?

(৩৫০) কোন কোন দেশে মৃত ব্যক্তিকে পিঠের উপর শুইয়ে হাত দু‘টো পেটের উপর রেখে দাফন করা হয়। দাফনের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পদ্ধতি কি?


সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে, মৃতকে ডান কাতে শুইয়ে কিবলামুখি রেখে দাফন করা। কেননা কা’বা শরীফ হচ্ছে সকল মুসলমানের জীবিত ও মৃত সর্বাবস্থার কিবলা। যেমন করে ঘুমন্ত ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হচ্ছে ডান কাতে শোয়া। তেমনি মৃত ব্যক্তিকে ডান কাতে রেখে দাফন করতে হবে। কেননা নিদ্রা ও মৃত্যুকে আল্লাহ্‌ তা’আলা ওফাতরূপে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,

(৩৫১) গোরস্থানে কুরআন তেলাওয়াত করা এবং দু’আ করার বিধান কি?

(৩৫১) গোরস্থানে কুরআন তেলাওয়াত করা এবং দু’আ করার বিধান কি?


কবরে বা গোরস্থানে কুরআন তেলাওয়া করা বিদআত। এ সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন প্রমাণ নেই। আর যে ব্যাপারে শরীয়তে কোন প্রমাণ নেই তা আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করা জায়েয নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ
“প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত কাজই বিদআত। প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।” অতএব মুসলমানদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে, পূর্ববর্তী নেক সম্প্রদায় ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের পদাঙ্ক অনুসরণ করা। যাতে করে তারা কল্যাণ ও হেদায়াত লাভ করতে পারে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

(৩৫২) কবর যিয়ারত করার নিয়ম কি? নারীদের কবর যিয়ারত করার বিধান কি?

(৩৫২) কবর যিয়ারত করার নিয়ম কি? নারীদের কবর যিয়ারত করার বিধান কি?


কবর যিয়ারত করা সুন্নাত। কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করার পর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,
كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمُ الْآخِرَةَ
“পূর্বে আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা উহা যিয়ারত করতে পার। কেননা কবর যিয়ারত তোমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করাবে।” অতএব মরণের কথা স্মরণ ও উপদেশ গ্রহণের জন্য কবর যিয়ারত করতে হবে। কেননা মানুষ যখন মৃত লোকদের কবর যিয়ারত করবে, যারা কিনা তাদের সাথে তাদের মতই পৃথিবীতে বিচরণ করত, খানা-পিনা করত, দুনিয়াদারী করত। আজ তারাই নিজেদের কর্মের হাতে বন্দী। কর্ম ভাল থাকলে তাদের পরিণাম ভাল। কর্ম মন্দ থাকলে পরিণাম মন্দ- তখন নিঃসন্দেহে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করবে তার অন্তর নরম হবে, সে আল্লাহর দিকে ধাবিত হবে। তখন আল্লাহ্‌র নাফরমানী থেকে ফিরে আসবে তাঁর আনুগত্যের দিকে। কবর যিয়ারতের সময় সুন্নাত হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পঠিত দু‘আ পাঠ করা। কবরবাসীকে সালাম দিবেঃ

Friday, February 23, 2018

(৩৫৩) মৃতের বাড়ীতে কুরআন খানী অনুষ্ঠান করার বিধান কি?

(৩৫৩) মৃতের বাড়ীতে কুরআন খানী অনুষ্ঠান করার বিধান কি?


নিঃসন্দেহে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে কোরানখানী মাহফিল করা একটি বিদআত। কেননা ইহা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের যুগে প্রচলিত ছিল না। কুরআন দ্বারা দুঃখণ্ডচিন্তা হালকা হয়- যদি কোন ব্যক্তি উহা নীচু স্বরে তেলাওয়াত করে থাকে। জোরে চিৎকার করে বা মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পাঠ করলে এরূপ হয় না। কেননা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করলে সমস্ত মানুষ তা শুনে থাকে এমনকি খেলা-ধুলায় লিপ্ত লোকদের কানেও তা পৌঁছে কিন্তু তারা তার প্রতি গুরুত্বারোপ করে না। এমনকি আপনি দেখবেন যারা গান্তবাদ্য শুনে তাদের কাছেও ঐ কুরআনের আওয়াজ পৌঁছে। তারা গানও শুনছে কুরআনও শুনছে। ফলে তারা যেন এই কুরআনকে ঠাট্টা ও তাচ্ছিল্যের বিষয়ে পরিণত করেছে। কুরআনের অবমাননা করছে।
আর

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ