হিদায়াত ব্যাপারটা অন্তরের স্থায়ী কোন অবস্থা না। জাহেলিয়াত থেকে দ্বীনের বুঝ পেয়ে ইসলামে ফিরে আসা মানেই একটা মানুষ ইসলামে টিকে থাকবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। অনেক মানুষ ইসলামকে পাবার জন্য কঠিন ত্যাগ, পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আসে তো কেউ বা আবার অনেকটা কম চেষ্টায়ই হিদায়াত পেয়ে যায়।
.
আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করেন, অন্তর্চক্ষু খুলে দিয়ে এই জীবনটাকে কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত তা হাতে কলমে অদৃশ্য উপায়ে শিখিয়ে দেন। কিন্তু এই হিদায়াত মানেই, ঈমান নিয়ে মরতে পারার আগাম সার্টিফিকেট নয়।
.
একটা ভাব সম্প্রসারণ ছোটবেলায় আমরা পড়েছিলাম, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। হিদায়াতের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই ই। হিদায়াত পাওয়া কঠিন তা সত্য, তবে সেই হিদায়াত নিয়ে প্রতি মুহূর্ত টিকে থাকা এবং তা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে এমন অজস্র নজির পাওয়া যাবে, যেই লোকটাকে মানুষ আল্লাহর অনেক নিকট বান্দা ভাবতো সেও দ্বীন থেকে ফিরে গেছে, শয়তানের কোন ধোঁকায় পড়ে, বা নফসের ক্রমাগত অনুসরণ করতে করতে!
.
আত্মার পরিচর্যা এক চলমান প্রক্রিয়া,
Tuesday, May 1, 2018
হারাম দৃশ্য,অশ্লীল ভিডিও,আইটেম সং দেখছেন আর ভাবছেন আল্লাহ তো আমাকে কোন শাস্তি দিচ্ছেন না! কিন্তু
হারাম দৃশ্য,অশ্লীল ভিডিও,আইটেম সং দেখছেন আর ভাবছেন আল্লাহ তো আমাকে কোন শাস্তি দিচ্ছেন না! কিন্তু আপনি ভাবতেও পারবেন না ভিতরে ভিতরে আপনার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা,পেরেশানি আর অপারাধবোধ কাজ করবে যা আপনাকে প্রতি মূহুর্তে তাড়িয়ে বেড়াবে! অন্তর থেকে সুকুন চলে যাবে। কখন যে মনের প্রশান্তি হারাবেন টের ও পাবেন না।
হারাম ইনকাম করছেন আর দিব্যি পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে সংসার করে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন!
ভাবছেন আল্লাহর নিয়ামত,তিনি হয়তো করুণা করছেন আমার প্রতি! দেরিতে হলেও এক সময় এটা উপলদ্ধি করবেন কেমন জানি ইবাদতে আগের মত আর মনোযোগ আসছেনা।সালাতে খুশু-খুযু আসছেন না আগের মত। যে আপনি কখনো তাহাজ্জুদ মিস দিতেন না সেই আপনারই এখন ফজরে উঠতেও কষ্ট হয়!
অন্যের নামে অবাধে গীবত করে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছেন! কিন্তু আপনি টের ও পাবেন না নিজের অজান্তেই কখন যে অন্তরটা পাথর কঠিন হয়ে গেছে! যে আপনি আগে আল্লাহর কাছে হাত তুললেই চোখ বেয়ে অশ্রুর বন্যা বইতো সে আপনি এখন জোর করে ও আল্লাহর ভয়ে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি ফেলতে পারছেন না। এর চাইতে বড় শাস্তি বান্দার জন্য আর কি হতে পারে, বান্দা তার মালিকের ভয়ে চোখ থেকে দুফোটা অশ্রু ফেলতে পারছেনা?
হয়েছে হয়েছে! নিজে আগে কি ছিলে মনে আছে?" -- হুহ !
হয়েছে হয়েছে! নিজে আগে কি ছিলে মনে আছে?" -- হুহ ! পর্দা শিখাতে আসছে কদিন আগে নিজেই বের্পদা চলাফেরা করতো ! -- "হাহাহা ! গার্লফ্রেন্ড নিয়া এখানে সেখানে কতো ঘুরছিস এখন নতুন ফতোয়া দিচ্ছিস →প্রেম হারাম!" -- "কত পাপ কাজ করলি জীবনে এখন এটা হারাম ওটা হালাল করিস কেন ?তুই কি একাই মুসলিম !" নতুন করে দ্বীনের পথে আসা ,হেদায়েত পাওয়া মানুষের কাছে এসব খোঁচা কথা , অতীতের গুনাহের কথা বলে পেইন দেয়ার মত পেইনফুল জিনিস দ্বিতীয়টি নেই ! নিজে হয়তো ইসলাম ঠিকমতো মানতে পারছেন না তাই বলে দ্বীনের পথে আসা একজনকে খোঁচা দেয়া , অতীতের দোষ মনে করিয়ে দিয়ে আসলেই কি ভাল কাজ করছি আমরা ? পরিবার থেকে শুরু করে আত্মীয়, বন্ধু বান্ধবসহ এই কাজটা অনেকেই করে থাকে! একটা মেয়ে /ছেলে আল্লাহর কাছে আসতে কতো স্ট্রাগল করতে হয়, কত বাধা পেরোতে হয় , কত পছন্দের জিনিসগুলো ত্যাগ করতে হয় সেটা আল্লাহই ভাল জানেন ! হুট করে একটা মেয়ে দুনিয়াবী ফ্যাশন-স্টাইলের ভীড়ে নিজেকে কালো বোরখায় আপাদমস্তক জড়িয়ে নেয়,!!! বন্ধুমহলের মর্ডান হ্যান্ডসাম হিসেবে পরিচিত ছেলেটি হঠাৎ করেই সুন্নাতী দাঁড়ি আর লেবাসকে ভালবাসতে শুরু করে। হঠাৎ করেই ৪/৫ বছরের পুরনো প্রেমের সম্পর্ক মেয়েটি শেষ করে দেয়! গানের মধ্যে ডুবে থাকা ছেলেটি গান-বাজনা ছেড়ে কোরআনের মধ্যে শান্তি খুঁজে বেড়ায়........................... এতকিছু,
ফেসবুকের দ্বীনদারেরা এমন ফেসবুক ব্যবহার না করে ফেসবুক থেকে দূরে থাকাই ভাল
ফেসবুকের দ্বীনদারেরা এমন ফেসবুক ব্যবহার না
করে ফেসবুক থেকে দূরে থাকাই ভাল
ফেসবুকে ইসলামিক হওয়া কত সহজ তাই না
একটা আইডি,,,!
একটা ইসলামিক প্রোফাইল পিকচার,,!
একটা ইসলামিক কভার ফটো,,,!
জাকির নায়েকের ছবি প্রোফাইলে
এবাউটে কিছু ইসলামিক চেতনা,,!
কিছু ইসলামিক পোস্ট!!
কিছুইসলামিক পেইজে লাইক!!
কিছুইসলামিক নসীহাহ/রিমাইন্ডার
মূলকপোস্ট!!
কিছু রুচিশীল ইসলামিক কমেন্ট!!
ব্যস! হয়ে গেলাম ইসলামিক!!!!!
:
:
আর বাস্তব জীবনে ফজরের
স্বলাতে
উঠতে পারিনা,
একদিন এক লোক রাস্তায় ৫০০ টাকা পেল সে সারাদিন ভাবতে লাগলো এই টাকায় কি কেনা যায়, এই টাকার চিন্তায় সারাদিন তার সময় নস্ট হল ৷
একদিন এক লোক রাস্তায় ৫০০ টাকা পেল
সে সারাদিন ভাবতে লাগলো এই টাকায়
কি কেনা যায়, এই টাকার
চিন্তায় সারাদিন তার সময় নস্ট হল ৷
ফলে সে সেটি ফেলে দিল ৷ সে বললো
হে আল্লাহ এই ৫০০ টাকার জন্য
সকাল থেকে একবার ও আপনাকে স্মরণ
করি নি।
আর সেসব লোক আপনাকে কী ভাবে স্মরণ
করে যাদের লক্ষ লক্ষ টাকা আছে?
আল্লাহ সুদ হারাম করে দিয়েছেন
আমরা ব্যংক বানিয়েছি ৷ আল্লাহ
জীবন কে সীমীত
করেছে আমরা ঘড়ি বানিয়েছি ৷
আল্লাহ পরদার হুকুম
দিয়েছেন,আমরা টিভি ডিস
দিয়ে বেহায়া পনা সরবসাধারনের
জন্য করে দিয়েছি ৷ আল্লাহ বলেন
কোরআনে তোমাদের
সফলতা, আমরা oxford এর বই
কে সফলতা বানিয়েছি ৷ আল্লাহ
মিথ্যা বলা নিষেধ
কারো ভাল লাগুক বা না লাগুক, মেয়েরা ছেলেদের জন্য পা থেকে মাথা পর্যন্ত ফিতনা, অফলাইন থেকে অনলাইন সবখানে ফিতনা।
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
কারো ভাল লাগুক বা না লাগুক, মেয়েরা ছেলেদের জন্য পা থেকে মাথা পর্যন্ত ফিতনা, অফলাইন থেকে অনলাইন সবখানে ফিতনা। তবু এতে মেয়েদের কষ্ট পাবার কিছু নেই। ফিতনা মানে হল পরিক্ষা। এটা ছেলেদের জন্য সবচেয়ে বড় ঈমানী পরীক্ষাগুলোর একটি।
হুজুর ছেলেদের কাছে কিন্তু আবার বেপর্দা মেয়েদের চেয়ে হিজাবি মেয়েরা বড় ফিতনা।
অফলাইনের ফিতনা নিয়ে ত সবাই অনেক সতর্কই আছে মনে হয়। তাই অনলাইনে এই ফিতনার কিছু রূপ তুলে ধরছি। মূলত দ্বীনী সমাজের ফিতনাটাই আলোচনা করছি।
ফেসবুকে এই ফিতনা চিহ্নিত করার মূল উপায় হল লাইক, কমেন্ট, মেসেজ।
মেয়েরা কিভাবে বুঝবে যে কোন ভাইয়ের জন্য আমি বিশাল ফিতনা হয়ে গেছি?
যখনই আপনি আল্লাহকে ভয় করে জীবন থেকে জাহিলিয়াত কে চিরবিদায় জানাতে চাইবেন, ধীরে ধীরে দ্বীনে আসতে চেষ্টা করবেন। আপনি ঠিক সেই মূহুর্তে উপলদ্ধি করবেন আপনার জন্য দুনিয়ার মধ্যে হালালের পথ গুলো সংকীর্ণ আর হারাম পথ গুলো প্রশস্ত হয়ে যাচ্ছে!
যখনই আপনি আল্লাহকে ভয় করে জীবন থেকে জাহিলিয়াত কে চিরবিদায় জানাতে চাইবেন, ধীরে ধীরে দ্বীনে আসতে চেষ্টা করবেন। আপনি ঠিক সেই মূহুর্তে উপলদ্ধি করবেন আপনার জন্য দুনিয়ার মধ্যে হালালের পথ গুলো সংকীর্ণ আর হারাম পথ গুলো প্রশস্ত হয়ে যাচ্ছে!
আল্লাহর জন্য যখন আপনি কোন কিছু কুরবানি দিতে প্রস্তুত হবেন সেই মুহূর্ত থেকে চারপাশে থেকে কঠিন সবসব পরীক্ষার সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে। আপনি যখন শুধুমাত্র হালাল উপার্জন খেয়ে জীবনধারণ করতে চাইবেন, হালাল পথে জীবিকা নির্বাহর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন দেখবেন যে টাকা উপার্জনের সহজ কিন্তু "সন্দেহজনক" সব রাস্তাগুলো আপনার সামনে একে একে খুলে যাচ্ছে! এবার বিয়ের ক্ষেত্রে আসুন- আপনি যদি দুনিয়াবি অন্য সব জিনিসকে এক পাশে রেখে শুধুমাত্র দ্বীনকে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করতে চান, দেখবেন যে লোভনীয় এমন সব বিয়ের প্রস্তাব আপনার কাছে স্রোতের বেগে আসছে যেগুলো আপনি আগে কল্পনা ও করতে পারেন নি! এমন সব প্রস্তাব আসবে যাদের কাছে দ্বীন পরের বিষয়, শুধু নামে মাত্র! যাঁদের কাছে ইসলাম পালন অনেক পরের একটা বিষয়!!
আপনি যে মূহুর্তে হিজাব করার সিদ্ধান্ত নিবেন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবেন পর্দার সাথে আপোষ না করার! চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন- যাই ঘটুক পর্দার সাথে আপোষ করবেন না! সেই মূহুর্তে দেখবেন যে এমন সব জায়গায় পড়াশুনা বা চাকরির কিংবা বিয়ের প্রস্তাব আপনি পাচ্ছেন, যার একমাত্র শর্ত হবে হিজাব ছেড়ে দেওয়া,পরিপূর্ণ পর্দা না করা বা পর্দার সাথে আফোস করা!
'সত্যি বলতে কী,
প্রচন্ড দুঃখে আছেন? চারদিকে শুধু বিপদ আর বিপদ? আপনি খুশি হোন। দুনিয়ার এসব বিপদ-আপদ,দুঃখ-কষ্ট দিয়ে আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করে দিচ্ছেন আর না হয় আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিচ্ছেন।
প্রচন্ড দুঃখে আছেন? চারদিকে শুধু বিপদ আর বিপদ? আপনি খুশি হোন। দুনিয়ার এসব বিপদ-আপদ,দুঃখ-কষ্ট দিয়ে আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করে দিচ্ছেন আর না হয় আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিচ্ছেন।
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে কোনো মুসলিমের গায়ে একটি কাঁটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চেয়ে অধিক ছোট্ট কোনো আঘাত লাগে, তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।"- (মুসলিম ৬৪৫৫)
আরেক হাদিসে এসেছে, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো বান্দার কল্যাণকরতে ইচ্ছা করেন, তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি কোনো বান্দার অকল্যাণ করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে (দুনিয়াতে) তার পাপের শাস্তি প্রদান করা হতে বিরত থাকেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাকে পুরোপুরি শাস্তি দিবেন’’ - {তিরমিযি ২৩৯৬; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৫৬৫}
একবার চিন্তা করে দেখুন,
যে কথা গুলো দ্বারা দুঃচরিত্রের ছেলেরা মেয়েদের সর্বনাশ ডেকে আনে!
সাবধান হবেন প্লিজ!!
১. ভাবী , আপনি দুই বাচ্চার মা! আপনাকে দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না। দেখে মনে হয়, মাত্র মাধ্যমিক পাশ করছেন! সিরিয়াসলি!
২. ম্যাডাম, একটা কথা বলবো অনেকদিন থেকে ভাবছি! কিন্তু বলবো বলবো করে বলা হচ্ছে না। আপনি এমনিতেই সুন্দর। কিন্তু নাকের পাশের তিলটা আপনাকে একদম পরী বানিয়ে দিয়েছে। এত্ত সুন্দর। জাস্ট অসাধারণ লাগে!
৩. মন খারাপ কেন ভাবী, ভাই/দাদা ঝগড়া টগড়া করলো নাকি?
আল্লাহ্ তাআলা কুরআনে বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।" এখানে জোড়া জোড়া বলতে কি স্বামী-স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে নাকি অন্য কিছু?
আল্লাহ্ তাআলা কুরআনে বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।" এখানে জোড়া জোড়া বলতে কি স্বামী-স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে নাকি অন্য কিছু?
উত্তর:
আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করার কথা বলেছেন। কোথাও বলেছেন, তিনি সৃষ্টি জগতের প্রতিটি বস্তুকেই জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। যেমন নিম্নোক্ত আয়াগুলো:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
উত্তর:
আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করার কথা বলেছেন। কোথাও বলেছেন, তিনি সৃষ্টি জগতের প্রতিটি বস্তুকেই জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। যেমন নিম্নোক্ত আয়াগুলো:
আল্লাহ তাআলা বলেন: খেজুর গাছের কান্নাঃ
খেজুর গাছের কান্নাঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার
মসজিদে যখন জুমার খুতবা দিতেন, তখন একটি খেজুর
গাছের উপর ভর করে দাঁড়াতেন। গাছটি রাসুলের স্পর্শ
পেয়ে যেন ধন্য। কিছুদিন পর এক আনসারী মহিলা তার
কাঠমিস্ত্রি ছেলেকে দিয়ে রাসুলের জন্যে একটি
মিম্বরের ব্যবস্থা করে দিলেন। যেনো খেজুর গাছের
পরিবর্তে রাসুল এটি ব্যবহার করেন। সুতরাং, তখন খেজুর
গাছটি সরিয়ে নতুন কাঠের মিম্বর রাখা হলো। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন খুতবার জন্য ওই
নতুন মিম্বরে দাঁড়ালেন, সবাইকে অবাক করে দিয়ে খেজুর
গাছটি ছোট্ট বাচ্চার মতো কেঁদে ওঠলো। আসলে
আমি যেদিন জানতে পারলাম আমি প্রেগন্যান্ট, আনন্দে কেঁদে দিয়েছিলাম। যখন আনন্দের উচ্ছাসটা কমে গেলো তখন মাথার মধ্যে একটা ভয় ঢুকে গেলো। আল্লাহ আমাকে সন্তান দিয়েছেন, আমি কি পারবো তাকে আল্লাহর পথে বড় করতে! চারিদিকে এতো ফিতনা, এতো নোংরামি, পারবো এর মাঝে ছেলেকে ঈমানের সাথে বড় করতে? আমি কি পারবো আদর্শ মা হতে?
মানুষের বিবেক কোথায় যে গেল????????
#আমি যেদিন জানতে পারলাম আমি প্রেগন্যান্ট, আনন্দে কেঁদে দিয়েছিলাম। যখন আনন্দের উচ্ছাসটা কমে গেলো তখন মাথার মধ্যে একটা ভয় ঢুকে গেলো। আল্লাহ আমাকে সন্তান দিয়েছেন, আমি কি পারবো তাকে আল্লাহর পথে বড় করতে! চারিদিকে এতো ফিতনা, এতো নোংরামি, পারবো এর মাঝে ছেলেকে ঈমানের সাথে বড় করতে? আমি কি পারবো আদর্শ মা হতে?
প্রথমেই মনে হলো নিজে না জানলে সন্তানকে কি শেখাবো? তাই ইসলাম সম্পর্কে পড়তে লাগলাম। এই পড়তে গিয়ে একটা ব্যাপার উপলব্ধি করলাম, আল্লাহ আমাদের সন্তান দেন ভবিষ্যতে সন্তান টাকা কামাবে আর আমরা আরামে থাকবো এজন্যে না। বরং সন্তান আমাদের জন্য বড় একটা পরীক্ষা। আমরা যদি ভুল শিক্ষা দেই এবং সন্তান যতোবার ভুলটা করবে তার জন্য আমাদেরও শাস্তি পেতে হবে। সুবহানআল্লাহ! আল্লাহ আমাদের দ্বায়িত্ব দিয়েছেন একটা মানুষকে বড় করার, তাকে সঠিক শিক্ষা দেয়ার, তাকে আল্লাহর পথে চলার জন্য তৈরি করে দেয়ার।
মেয়ে অনার্স শেষ করে ফেলেছে! অথচ মা মেয়ে কে দূরে রেখে থাকতে পারবেন না বলে বিয়ে দিচ্ছেন না! ভালবাসাই বটে! তবে এমন ভালবাসা কোন সুফল বয়ে আনেনা!
মেয়ে অনার্স শেষ করে ফেলেছে! অথচ মা
মেয়ে কে দূরে রেখে থাকতে পারবেন না
বলে বিয়ে দিচ্ছেন না!
ভালবাসাই বটে! তবে এমন ভালবাসা কোন সুফল
বয়ে আনেনা!
------
বাচ্চার জন্য সাবজেক্ট প্রতি টিচার! গানের এবং
নাচের ও আলাদা টিচার! সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য
কত্ত সুব্যবস্থা!
কিন্তু একজন আরবী শিক্ষক দিতে পারেন না বাচ্চার
উপর চাপ হয়ে যাবে বলে!
এমন ভালবাসা কোন সুফল বয়ে আনেনা!
-------
মেয়ে পর্দা করে বাইরে যাচ্ছে তো মায়ের
সে কি চিন্তা! মেয়েটা গরমে শেষ হয়ে যাবে!
বলছেন ও এই বয়সে এসবের কি দরকার!
মেয়ের জন্য ভালবাসাই বটে! তবে এমন ভালবাসা
ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়
প্রতিটি পুরুষের স্ত্রীকে তাদের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।নাকি শুধু হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল?
প্রতিটি পুরুষের স্ত্রীকে তাদের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।নাকি শুধু হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল?
=========================
হযরত হাওয়া আ: কে হযরত আদম
আ: এর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা
হয়েছে এটা চিরসত্য কথা। পাঁজরের
হাড় মানে বক্ষপিঞ্জরের হাড় মানে কাঠি (rib) ।
এটা প্রতিটি মানুষের ই দুপাশে মোট ১২+১২ =২৪ টি
আছে।নারীর এবং পুরুষের উভয়ের। কারো কম বা
অর্ধেক নেই বরং সমান।
:
সূরা আন নিসা'র ১নং আয়াতে আল্লাহপাক উল্লেখ
করেছেন:
আল্লাহর জন্য হারাম ত্যাগ- বনাম ভালবাসার মানুষের জন্য হারাম ত্যাগঃ”
আল্লাহর জন্য হারাম ত্যাগ-
বনাম ভালবাসার মানুষের জন্য হারাম ত্যাগঃ”
:
মানুষ এর প্রতিটি কাজ তার নিয়ত এর উপর নির্ভরশীল।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, "অবশ্যই মানুষের কাজ তার নিয়ত এর উপর নির্ভর করে।
মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়ত করে।"
(বুখারী, মুসলিম)
.
এই দুনিয়াবি জীবনে মানুষ আপনার নিয়ত বা চেষ্টা দেখে না, শুধু দেখে রেজাল্ট; আপনি কতটুকু সফল বা বিফল।
কিন্তু আল্লাহ তা'আলা অনেক মহান, যিনি আমাদের মনের নিয়ত দেখবেন, নিয়ত অনুসারে পুরষ্কার দিবেন।
তাই আমাদের যেকোনো ভাল কাজের নিয়ত, যেকোনো হারাম ত্যাগ করার নিয়ত শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য হওয়া উচিত, কোনো প্রিয় বা ভালবাসার মানুষকে খুশি করার জন্য বা তার মন পাওয়ার জন্য নয়।
.
যে কাজ মানুষ আল্লাহকে খুশি করার নিয়ত ব্যতীত অন্য
কেউ কেউ মনে করেন, আমার মন খুবই পরিস্কার। তাকে আমি মা, খালা, অথবা বোনের মতোই মনে করি ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে তাঁর সাথে মেলা-মেশা করতে অসুবিধা কোথায়?
কেউ কেউ মনে করেন, আমার মন খুবই পরিস্কার। তাকে আমি মা, খালা, অথবা বোনের মতোই মনে করি ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে তাঁর সাথে মেলা-মেশা করতে অসুবিধা কোথায়। অথচ আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি
আমাদের রসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) এর অন্তর ছিলো আমাদের চাইতেও পরিস্কার। এরপরও তিনি যে কোন বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করতে পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানান।কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভাই-বোনদের মুখে এমন কথা বেশি শোনা যায়।নিঃসংকোচে ছেলে-মেয়ে একত্রে চলাফেরা করছে... বিন্দু পরিমাণ অপরাধ বোধও তাদের মধ্যে কাজ করছে না। বরং এ ধরনের অবৈধ সম্পর্ককে বৈধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন হাস্যকর যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে।অথচ কোন পুরুষের বেগানা কোন মহিলার সাথে অথবা কোন মহিলার বেগানা কোন পুরুষের সাথে নির্জনে অবস্থান করা হারাম। চাই তা কোন ঘরেই হোক অথবা কোন রুমে কিংবা কোন গাড়িতে অথবা লিফটে।► রসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃকোন পুরুষ যেন বেগানা কোন মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে। এমন করলে তখন শয়তানই হবে তাদের তৃতীয় জন।সুনান আত-তিরমিযী, হাদীস ১১৭১► রসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
Friday, April 27, 2018
আকীদা বিষয়ক ৫০টি প্রশ্নোত্তর
আকীদা বিষয়ক ৫০টি প্রশ্নোত্তর
بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لانبي بعده
সুপ্রিয় দ্বীনী ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
অত:পর ‘আকীদা বিষয়ক ৫০টি প্রশ্নোত্তর’ শীর্ষক ছোট্ট এই পুস্তিকাটিতে ইসলামের অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ৫০টি প্রশ্নোত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে-যেগুলো সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।
এখানে যে সব বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:
• মহান আল্লাহর পরিচয়
• ইসলাম এবং তার রোকন সমূহ
• ঈমান ও তার রোকন সমূহ
• তাওহীদ ও তার প্রকারভেদ
• শিরক ও তার প্রকারভেদ।
• কুফরী ও তার প্রকারভেদ
• মুনাফেকি এবং তার প্রকারভেদ
• কালিমার অর্থ এবং শর্তাবলী
• ইবাদতের পরিচয় এবং তা কবুলের শর্তাবলী
• তাগুতের পরিচয় ও তার প্রকারভেদ
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে জ্ঞানের আলোকিত পথ ধরে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
-বিনীত, আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
❖ ১ম প্রশ্ন: আমার, আপনার এবং পৃথিবীর সব কিছুর স্রষ্টা ও পালনকর্তা কে?
بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لانبي بعده
সুপ্রিয় দ্বীনী ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
অত:পর ‘আকীদা বিষয়ক ৫০টি প্রশ্নোত্তর’ শীর্ষক ছোট্ট এই পুস্তিকাটিতে ইসলামের অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ৫০টি প্রশ্নোত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে-যেগুলো সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।
এখানে যে সব বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:
• মহান আল্লাহর পরিচয়
• ইসলাম এবং তার রোকন সমূহ
• ঈমান ও তার রোকন সমূহ
• তাওহীদ ও তার প্রকারভেদ
• শিরক ও তার প্রকারভেদ।
• কুফরী ও তার প্রকারভেদ
• মুনাফেকি এবং তার প্রকারভেদ
• কালিমার অর্থ এবং শর্তাবলী
• ইবাদতের পরিচয় এবং তা কবুলের শর্তাবলী
• তাগুতের পরিচয় ও তার প্রকারভেদ
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে জ্ঞানের আলোকিত পথ ধরে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
-বিনীত, আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
❖ ১ম প্রশ্ন: আমার, আপনার এবং পৃথিবীর সব কিছুর স্রষ্টা ও পালনকর্তা কে?
Tuesday, April 24, 2018
শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ
শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ
শবে বরাতের মত একটি বিষয় নিয়ে কিছু লেখার কি প্রয়োজন ছিল? আমি এর কৈফিয়ত স্বরূপ কিছু কথা না বলে পারছিনা।
(এক) গত ৪/১২/১৯৯৮ ইংরেজী তারিখে আমি গাজীপুরের একটি মাসজিদে
জুমু‘আর খুতবাহ ও আলোচনায় শবে বরাত সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম। আলোচনা
শেষে উপসি’ত মুসল্লীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকে
বলেছেন ঃ “শবে বরাত সম্পর্কে এমন স্পষ্ট কথা আগে কোথাও শুনিনি।” আবার অনেকে
“যতসব নুতন নুতন মাসালা” আখ্যায়িত করে আমার আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করলেন।
সেখানে উপসি’ত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, লেখক ও গবেষক আবুল বাশার
মুহাম্মাদ ইকবাল (রহঃ)। তিনি আমাকে বললেন ঃ মাহে শাবান ও শবে বরাতঃ করণীয় ও বর্জনীয়
মাহে শাবান ও শবে বরাতঃ করণীয় ও বর্জনীয়
হিজরী সনের ৮ম মাস হচ্ছে শাবান মাস। তার পরই আসে বছরের শ্রেষ্ঠ
রামাযান মাস। সে হিসেবে মুসলিমের জীবনে এ মাসের যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে।
দীর্ঘ টানা একমাস তাকে সিয়াম সাধনা করতে করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন
মানসিক, শারিরিক ও আর্থিক প্রস্তুতি। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে প্রস্তুতি স্বরূপ অন্য মাসের তুলনায় শাবান
মাসে বেশী বেশী নফল রোযা রাখতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ
فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ
صِيَامَ شَهْرٍ إِلاَّ رَمَضَانَ ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا
مِنْهُ فِى شَعْبَانَ
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রামাযন ব্যতীত অন্য কোন
পূর্ণ মাসে রোযা রাখতে দেখে নি। আর তাঁকে আমি শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোযা
অন্য কোন মাসে রাখতে দেখি নি। (বুখারী) সুতরাং শাবান মাসে আমরাও রাসূলের
সুন্নাত অনুযায়ী বেশী বেশী করে রাখবো এবং আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে দুআ
করবো, তিনি যেন আমাদেরকে রামাযান পর্যন্ত হায়াত দান করেন এবং রামাযানের
ফজীলত ও বরকত হাসিল করার তাওফীক দেন।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে,
শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপন, শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপন, শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
حكم الاحتفال بليلة النصف من شعبان للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله
‘মধ্য শাবানের রাত উদযাপনের বিধান’ এর সার-সংক্ষেপ তুলে ধরব। তার এ প্রবন্ধে অনেক উলামায়ে কিরামের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।তিনি বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا. (المائدة : ৩)
অর্থঃ আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ করলাম ও
তোমাদের জন্য আমার নেআমাত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসাবে
মনোনীত করলাম। (সূরা আল – মায়িদা: ৩)আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেনঃ
শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদ’আতের উদাহরণ
শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদ’আতের উদাহরণ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় ভাই, আর ক’দিন পরই আমাদের সমাজে মহাসমারোহে পালিত হবে শবে বরাত। সে দিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হবে। হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মজলিস। সেই সাথে মুর্হুমূহু আতশবাজিতে কেঁপে কেঁপে উঠবে শবে বরাতের রাতের আকাশ। আরও দেখা যাবে মসজিদের আঙ্গিনাতে যাদের পদ যুগল পড়ত না সে রাতে তারাই আতর-সুগন্ধি মেখে টুপি-পাঞ্জাবী পরে মসজিদের প্রথম কাতারে মুসল্লী সেজে অবস্থান করছে আর বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করে মনে করবে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। তারপর দিন সকাল থেকে লিপ্ত হবে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম, দুর্নীতি আর আল্লাহর নাফরমানীতে। হয়ত সে দিনকার ফজরের নামায পড়ারও সময় হবে না। আর অপেক্ষায় থাকবে আগামী বছর শবে বরাতের। এভাবে আরও কত কি? আমাদের সমাজের এ অবস্থায় আমরা জানার চেষ্টা করি একাজগুলো কতটুকু ইসলাম সমর্থিত?
প্রিয় ভাই, আর ক’দিন পরই আমাদের সমাজে মহাসমারোহে পালিত হবে শবে বরাত। সে দিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হবে। হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মজলিস। সেই সাথে মুর্হুমূহু আতশবাজিতে কেঁপে কেঁপে উঠবে শবে বরাতের রাতের আকাশ। আরও দেখা যাবে মসজিদের আঙ্গিনাতে যাদের পদ যুগল পড়ত না সে রাতে তারাই আতর-সুগন্ধি মেখে টুপি-পাঞ্জাবী পরে মসজিদের প্রথম কাতারে মুসল্লী সেজে অবস্থান করছে আর বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করে মনে করবে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। তারপর দিন সকাল থেকে লিপ্ত হবে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম, দুর্নীতি আর আল্লাহর নাফরমানীতে। হয়ত সে দিনকার ফজরের নামায পড়ারও সময় হবে না। আর অপেক্ষায় থাকবে আগামী বছর শবে বরাতের। এভাবে আরও কত কি? আমাদের সমাজের এ অবস্থায় আমরা জানার চেষ্টা করি একাজগুলো কতটুকু ইসলাম সমর্থিত?
যে সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলাম সমর্থন দেয় নি সেটা ইসলামের নামে করাই তো বিদআত। বিদআতের পরিণাম অতি ভয়ানক। এ ব্যাপারে কুরআনও হাদীসে অসংখ্য সতর্কতা উচ্চারিত হয়েছে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা বিদআত থেকে বাঁচি সেই সাথে বাঁচানোর চেষ্টা করি আমাদের সমাজকে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।
আমাদের সমাজে শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদআতের উদাহরণ:
আমাদের সমাজে শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদআতের উদাহরণ:
শাবান মাস: সুন্নত উপেক্ষিত বিদ’আত সমাদৃত
প্রাণ প্রিয় ভাই, রামাযানুল মোবারকের প্রস্তুতির মাস শাবান আমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে আমাদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। রয়েছে কিছু বর্জনীয়। এ বিষয়টি নিয়েই আজকের এই পোস্টের অবতারণা। এতে মোট ৭টি বিষয় আলোচিত হয়েছে। যথা:
১) শাবান মাসে নফল রোযা রাখা সম্পর্কে বর্ণিত সহীহ হাদীস সমূহ।
২) শাবান মাসের পনের তারিখের ব্যাপারে একটি হাদীস পর্যালোচনা ও তার শিক্ষা।
৩) শাবান মাস সম্পর্কে কতিপয় প্রচলিত জাল ও যঈফ হাদীস|
৪) কুরআন কোন রাতে অবর্তীণ হয়? শাবান মাসের শবে বরাতে নাকি রামাযান মাসের শবে কদরে?
৫) শবে বরাত উদ্যাপন করা বিদআত।
৬) শাবান মাসে প্রচলিত কতিপয় বিদআত।
৭) সারাংশ।
১) শাবান মাসে নফল রোযা রাখা সম্পর্কে বণির্ত সহীহ হাদীস সমূহ:
শবে বরাত নামে পরিচিত(লাইলাতুন নিসফি মিন শাবানে) আমরা কি করতে পারি?
শবে বরাত নামে পরিচিত(লাইলাতুন নিসফি মিন শাবানে) আমরা কি করতে পারি?
====================
প্রথম কথা হলো শবে বরাত ফারসি শব্দ, শবে বরাত নামে যে ভাগ্য রজনী মনে করা হয়, এই নামে কুরআন হাদিসে কোন কিছু নেই। লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা শাবানের মধ্যরাত্রির ব্যাপারে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, বেশীরভাগ মুহাদ্দিস হাদিসগুলোকে বানোয়াট ও দুর্বল বলেছেন। সৌদিআরবের সন্মানিয় বিগত গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ বিন বাজ (রঃ) বলেন, এ ব্যাপারে বর্ণিত কোন হাদিসই বিশুদ্ধ নয়। বিপরীতে কিছু মুহাদ্দিস নিম্নে বর্ণিত হাদিসটিকে কেউ হাসান আবার কেউ সহিহও বলেছেন-
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ-হাদীস নং ১৩৯০, তাবরানী মু’জামুল কাবীর)
প্রথম কথা হলো শবে বরাত ফারসি শব্দ, শবে বরাত নামে যে ভাগ্য রজনী মনে করা হয়, এই নামে কুরআন হাদিসে কোন কিছু নেই। লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা শাবানের মধ্যরাত্রির ব্যাপারে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, বেশীরভাগ মুহাদ্দিস হাদিসগুলোকে বানোয়াট ও দুর্বল বলেছেন। সৌদিআরবের সন্মানিয় বিগত গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ বিন বাজ (রঃ) বলেন, এ ব্যাপারে বর্ণিত কোন হাদিসই বিশুদ্ধ নয়। বিপরীতে কিছু মুহাদ্দিস নিম্নে বর্ণিত হাদিসটিকে কেউ হাসান আবার কেউ সহিহও বলেছেন-
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ-হাদীস নং ১৩৯০, তাবরানী মু’জামুল কাবীর)
Friday, April 20, 2018
কুরআন সম্পর্কে কতিপয় ভুল বিশ্বাস ও আচরণ:
কুরআন সম্পর্কে কতিপয় ভুল বিশ্বাস ও আচরণ:
➖
➖
➖
➖
➖
➖
🔘 ১) অর্ধ শাবানের রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে বলে বিশ্বাস করা। অথচ তা অবতীর্ণ হয়েছে রামাযান মাসের কদরের রাতে। (সূরা বাকারা: ১৮৫ ও সূরা কদর)
🔘 ২) কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কুরআন (সূরা ফাতিহা, নাস, ফালাক, ইখলাস ইত্যাদি সূরা) পাঠ করা। এটি দলীল বহির্ভূত কাজ হওয়ার কারণে বিদয়াত।
🔘 ৩) মৃত শয্যায় শায়িত ব্যক্তির পাশে কুরআন পাঠ করা। এটি বিদআত। অথচ সুন্নত হচ্ছে, মৃত্যু পথযাত্রীকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ র তালকীন দেয়া বা তাকে শুনিয়ে কালিমা পাঠ করা।
🔘 ৪) কুরআন খতম (শবিনা খতম) করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বখশীয়ে দেয়া। এটিও দলীল বহির্ভূত হওয়ার কারণে বিদআত।
🔘 ৫) অসর্তকতা বশত: হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে তার ওজন বরাবর চাল সদকা করা। এটি শরীয়তের কোন বিধান নয়। বরং এজন্য জন্য আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করা প্রয়োজন।
Tuesday, April 17, 2018
প্রশ্ন: তাসবীহদানা এবং কাউন্টার মেশিন দিয়ে তাসবিহ পাঠ করা সুন্নাত না বিদায়াত? আশা করি, দলিল ভিত্তিক উত্তর প্রদান করে সাহায্য করবেন৷
তাসবীহদানা এবং কাউন্টার মেশিন দিয়ে তাসবিহ পাঠ করার বিধান
•••••••••••••••••••••
প্রশ্ন: তাসবীহদানা এবং কাউন্টার মেশিন দিয়ে তাসবিহ পাঠ করা সুন্নাত না বিদায়াত? আশা করি, দলিল ভিত্তিক উত্তর প্রদান করে সাহায্য করবেন৷
➖
➖
➖
➖
➖
➖
উত্তর:
হাতের আঙ্গুল দিয়ে তাসবীহ গণনা করা উত্তম। কেননা, এই আঙ্গুলগুলো কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবে। তবে কারও আঙ্গুলে সমস্যা থাকলে কিংবা অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সংখ্যা মনে রাখতে না পারলে তখন তাসবীহ দানা বা ডিজিটাল কাউন্টার মেশিন ব্যবহার করতে দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।
*শাইখ ইবনে উছাইমীন রহ.*
প্রশ্ন: আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করা উত্তম না তাসবীহদানা দ্বারা?
•••••••••••••••••••••
প্রশ্ন: তাসবীহদানা এবং কাউন্টার মেশিন দিয়ে তাসবিহ পাঠ করা সুন্নাত না বিদায়াত? আশা করি, দলিল ভিত্তিক উত্তর প্রদান করে সাহায্য করবেন৷
উত্তর:
হাতের আঙ্গুল দিয়ে তাসবীহ গণনা করা উত্তম। কেননা, এই আঙ্গুলগুলো কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবে। তবে কারও আঙ্গুলে সমস্যা থাকলে কিংবা অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সংখ্যা মনে রাখতে না পারলে তখন তাসবীহ দানা বা ডিজিটাল কাউন্টার মেশিন ব্যবহার করতে দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।
*শাইখ ইবনে উছাইমীন রহ.*
প্রশ্ন: আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করা উত্তম না তাসবীহদানা দ্বারা?
Wednesday, April 11, 2018
সুতরার বিধান কি? এবং এর সীমা কতটুকু?
(২৬৭) সুতরার বিধান কি? এবং এর সীমা কতটুকু?
সুতরা গ্রহণ করা সুন্নাতে মুআক্কাদা। তবে জামাতের সাথে নামায পড়লে মুক্তাদীর জন্য সুতরার দরকার নেই। ইমামের সুতরা মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট। এর সীমা সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ
مِثْلَ مُؤْخِرَةِ الرَّحْلِ
“উটের উপর হেলান দিয়ে বসার জন্য তার পিঠে যে কাঠ রাখা হয় তার উচ্চতার বরাবর।”
মসজিদে হারামে মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার বিধান কি? নামায ফরয হোক বা নফল। মুছল্লী মুক্তাদী হোক বা একাকী হোক।
(২৬৮) মসজিদে হারামে মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার বিধান কি? নামায ফরয হোক বা নফল। মুছল্লী মুক্তাদী হোক বা একাকী হোক।
মসজিদুল হারাম বা অন্য কোন স্থানে মুক্তাদী মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা ইবনু আব্বাস (রাঃ) মিনায় আগমণ করলেন। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে একটি দেয়াল সামনে রেখে নামায আদায় করছিলেন। ইবনু আব্বাস কাতারের সম্মুখ দিয়ে একটি গাধার পিঠে চড়ে অতিক্রম করলেন। কেউ তার প্রতিবাদ করেনি।
মুছল্লী যদি ইমাম বা একক হয়, তবে তার সম্মুখ দিয়ে যাওয়া জয়েয নেই। চাই তা
নামাযের সময় মুছল্লীদের সম্মুখে বৈদ্যুতিক হিটার (শীতকালে ঠান্ডা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হিটার) রাখার বিধান কি? এক্ষেত্রে কি কোন শরঈ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?
(২৬৯) নামাযের সময় মুছল্লীদের সম্মুখে বৈদ্যুতিক হিটার (শীতকালে ঠান্ডা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হিটার) রাখার বিধান কি? এক্ষেত্রে কি কোন শরঈ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?
মুছল্লীদের সম্মুখভাগে ক্বিবলার দিকে হিটার রাখতে কোন অসুবিধা নেই। শরীয়তে এর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আমার কোন কিছু জানা
নামাযের ক্বিরাতে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা আসলে জান্নাতের প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় কামনা করা জায়েয কি?
(২৭০) নামাযের ক্বিরাতে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা আসলে জান্নাতের প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় কামনা করা জায়েয কি?
হ্যাঁ, এটা জায়েয। এক্ষেত্রে ইমাম, মুক্তাদী বা একক ব্যক্তির মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তবে মুক্তাদীর যেন ইমামের ক্বিরআত নীরব থেকে শোনার ব্যাপারে কোন ব্যাঘাত না
সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?
(২৭১) সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?
সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।
তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ
১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।
২) হরাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।
৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে সংশয় হওয়া।
প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:
ইমাম ভুলক্রমে এক রাকাআত নামায বৃদ্ধি করেছেন। আমি মাসবূক হিসেবে ইমামের অতিরিক্ত নামায আমার নামাযের সাথে মিলিয়ে নিয়েছি। আমার নামায কি বিশুদ্ধ হয়েছে? আর যদি ঐ রাকাতের হিসাব না ধরি তবে তার বিধান কি?
(২৭২) ইমাম ভুলক্রমে এক রাকাআত নামায বৃদ্ধি করেছেন। আমি মাসবূক হিসেবে ইমামের অতিরিক্ত নামায আমার নামাযের সাথে মিলিয়ে নিয়েছি। আমার নামায কি বিশুদ্ধ হয়েছে? আর যদি ঐ রাকাতের হিসাব না ধরি তবে তার বিধান কি?
সঠিক মত হচ্ছে আপনার নামায বিশুদ্ধ হয়েছে। কেননা আপনি নামায পূর্ণভাবে আদায় করেছেন। ইমাম যে ভুল করেছেন সে তার উপর বর্তাবে। ভুল হওয়ার কারণে তিনি মা‘যুর (অপারগ ও অক্ষম)। কিন্তু আপনি যদি ঐ রাকাআতের হিসাব না ধরেন এবং অতিরিক্ত রাকাআত আদায় করেন,
তাহাজ্জুদ নামাযে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি?
(২৭৩) তাহাজ্জুদ নামাযে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি?
স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে বসে পড়বে। অন্যথায় তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ইচ্ছাকৃতভাবে তার নামায বৃদ্ধি হয়ে গেল। ইমাম আহমাদ বলেছেন, কোন লোক যদি রাতের নফল নামাযে তৃতীয় রাকাআতের জন্য দন্ডায়মান হয়, তবে সে যেন ফজর নামাযে তৃতীয় রাকাতের জন্য দন্ডায়মান হওয়া বৈধ করে নিল। এ অবস্থায় সে যদি না বসে যায় তবে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। তবে বিতর নামায এর বিপরীত। যদি নিয়ত করে (দু’সালামে) তিন রাকাত বিতর পড়বে। (অর্থাৎ- দু’রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে এক রাকাআত পড়বে) কিন্তু দু’রাকাত পড়ে না বসে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম তাশাহুদ না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি? এক্ষেত্রে কখন সাহু সিজদা করতে হবে?
(২৭৪) প্রথম তাশাহুদ না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি? এক্ষেত্রে কখন সাহু সিজদা করতে হবে?
এ অবস্থায় ফিরে আসবেন না তথা বসে পড়বেন না; বরং নামায চালিয়েই যাবেন। কেননা আপনি তাশাহুদ থেকে পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তী রুকনে চলে গিয়েছেন। এ অবস্থায় ফিরে আসা মাকরূহ, তবে যদি ফিরে এসে বসে পড়েন, তবে নামায বাতিল হবে না। কেননা আপনি হারাম কিছু করেননি। তবে এ অবস্থায় সাহু সিজদা করতে হবে। আর তা সালামের পূর্বে।
Tuesday, April 10, 2018
কুরআন ও সহীহ হাদীছের আলোকে জেনে নেই মিরাজের ঘটনা
মিরাজের ঘটনা কুরআন ও সহীহ হাদীছের
মাধ্যমে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
) ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺳْﺮَﻯ ﺑِﻌَﺒْﺪِﻩِ ﻟَﻴْﻠًﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺄَﻗْﺼَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑَﺎﺭَﻛْﻨَﺎ ﺣَﻮْﻟَﻪُ ﻟِﻨُﺮِﻳَﻪُ ﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻪ
ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ (
“পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীর
কিয়দাংশে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম হতে
মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশকে আমি
করেছিলাম বরকতময়। তাঁকে আমার নিদর্শন দেখাবার
জন্যে। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোত, সর্বদ্রষ্টা। (সূরা
বাণী ইস্রাঈলঃ ১)
মেরাজ কখন সংঘটিত হয়েছিল?
মেরাজ কখন হয়েছিল সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট
কোন দলীল পাওয়া যায় না। সুতরাং
২৭ রজব মেরাজ
হওয়ার অনুমান ঠিক নয়। তবে বিশুদ্ধ কথা হল: তায়েফ
থেকে ফেরত আসার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামএর মিরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
(দেখুন: রাহীকুল মাখতুম)
মিরাজ হয়েছিল স্বশরীরেঃ
মাধ্যমে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
) ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺳْﺮَﻯ ﺑِﻌَﺒْﺪِﻩِ ﻟَﻴْﻠًﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺄَﻗْﺼَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑَﺎﺭَﻛْﻨَﺎ ﺣَﻮْﻟَﻪُ ﻟِﻨُﺮِﻳَﻪُ ﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻪ
ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ (
“পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীর
কিয়দাংশে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম হতে
মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশকে আমি
করেছিলাম বরকতময়। তাঁকে আমার নিদর্শন দেখাবার
জন্যে। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোত, সর্বদ্রষ্টা। (সূরা
বাণী ইস্রাঈলঃ ১)
মেরাজ কখন সংঘটিত হয়েছিল?
মেরাজ কখন হয়েছিল সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট
কোন দলীল পাওয়া যায় না। সুতরাং
২৭ রজব মেরাজ
হওয়ার অনুমান ঠিক নয়। তবে বিশুদ্ধ কথা হল: তায়েফ
থেকে ফেরত আসার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামএর মিরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
(দেখুন: রাহীকুল মাখতুম)
মিরাজ হয়েছিল স্বশরীরেঃ
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামায কখন ও কিভাবে পড়তে হয়? এবং এই নামাজের গুরুত্ব কি? মসজিদে প্রবেশ করে তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ না পড়ে বসা কি সুন্নাহ সম্মত?
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামায কখন ও কিভাবে পড়তে হয়? এবং এই নামাজের গুরুত্ব কি? মসজিদে প্রবেশ করে তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ না পড়ে বসা কি সুন্নাহ সম্মত?
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ বা মসজিদ সেলামীর নামায (২ রাক্আত) মসজিদ প্রবেশ করার পর বসার পূর্বেই পড়তে হয়। এর জন্য কোন সময়-অসময় নেই। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন বসার পূর্বে ২ রাক্আত নামায পড়ে নেয়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “সে যেন ২ রাক্আত নামায পড়ার পূর্বে না বসে।” (বুখারী, মুসলিম, সহীহ প্রমুখ ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৪৬৭নং)
এই দুই রাকআত নামায বড় গুরুত্বপূর্ণ। তাই তো জুমআর দিনে খুতবা চলাকালীন সময়েও মসজিদে এলে হাল্কা করে তা পড়ে নিতে হয়। (মুসলিম, মিশকাত ১৪১১নং)
আযান চলাকালে
Subscribe to:
Posts (Atom)
সাম্প্রতিক পোষ্ট
"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?
"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...
জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ
-
যৌন উত্তেজনার সময় পানির মতো আঠালো যে তরল পদার্থ বের হয়, তা কি নাপাক? একে “মাযী” বলে। আর তা নাপাক। তা বের হলে উযূ নষ্ট হয়ে যায়। শরমগাহ...
-
গুপ্ত অভ্যাস (হস্তমৈথুন) ব্যবহার করা বৈধ কি? গুপ্ত অভ্যাস (হাত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে বীর্যপাত, স্বমৈথুন বা হস্ত মৈথুন) করা কিতাব, সুন...
-
মনোমালিন্য ‘‘সংসার সাগরে দুঃখ-তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।’’ কিন্তু সেই ভেলা ডুবে গেলে আর কার কি সাধ্য? স্বামী যদি স্...
-
*সূরা বাকারা ও সূরা আলে-ইমরানের ফজিলত গুলি কি কি? এবং সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের অর্থঃ ✔1-রাতে ঘুমানোর আগে সুরা বাক্বারার শেষ ...
-
আপন মামাত, খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো বোন, চাচী, মামি, স্ত্রীর বোন বা ভাবীর সাথে মুসাফাহাহ বৈধ কি? যার সাথে পু...
-
জাহান্নাম থেকে মুক্তির ১৫টি অসাধারন হাদিস- *১-গীবত থেকে দূরে থাকা- আসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি তার (মুসলি...
-
কথা বলার ব্যপারে "ইসলামে"র শিক্ষা কি? ====== ১। কথা বলার পূর্বে সালাম দেয়া। সূরা নূরঃ ৬১ ২। সতর্কতার সাথে কথা বলা। (কে...
-
কেউ কেউ মনে করেন, আমার মন খুবই পরিস্কার। তাকে আমি মা, খালা, অথবা বোনের মতোই মনে করি ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে তাঁর সাথে মেলা-মেশা করতে অসুবিধা ...
-
# দোয়া_কবুল_না_হওয়ার_কারণগুলো_কি_কি ? ---------------------------------------------------------------------- কিছু পাপ আছে যা বান্দার মা...
-
প্রশ্ন:নাটক, সিনেমা দেখা , গল্পের বই পড়া কি জায়েজ ? =============================== উত্তর : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও সালা...










