Monday, November 27, 2017

যে সমস্ত জাল যঈফ হাদীস তাবললীগ জামা‘আতে বহুল প্রচারিত

যে সমস্ত জাল যঈফ হাদীস তাবললীগ জামা‘আতে বহুল প্রচারিত


সম্মানিত পাঠক! এ প্রবেন্ধ আমরা ঐ সমস্ত জাল ও যঈফ হাদীস তুলে ধরছি যা তাবলীগ জামা‘আতের মুরুবিব এবং তাদের মুবাল্লিগরা অহরহ বর্ণনা করে। আমার কথায় বিশ্বাস না হলে তাবলীগী মারকায অথবা তাবলীগী ভাইদের বয়ান ও তাদের সাথে অনন্ত তিন দিন সময় দিয়েছেন অথবা যারা এক চিল্লা তিন চিল্লা সময় জামা‘আতে লাগিয়েছেন তারা যদি আল্লাহকে ভয় করেন তাহলে মনে হয় আমার কথা সত্য প্রামণিত হবে এবং তা তারা অবশ্যই স্বীকার করবেন। এ সমস্ত হাদীস নামের মিথ্যা বর্ণনা অনেকবার আমি আমার নিজ কানে তাবলীগে সময় দিয়ে শুনেছি। সম্মানিত পাঠক! আমি নিজে তাবলীগ জামা‘আতের সাথে পাকিস্তানের রায়বন্ড থেকে (......সালের অর্থাৎ এক সৎসর) জামা‘আতের সাথে সময় লাগাই ও নিজামউদ্দিনে এ অধম কিছু সময় অতিবাহিত করে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার ফল আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

রওজা পাক যিয়ারাত করার আদব

রওজা পাক যিয়ারাত করার আদব


শাইখ সাহেব তার ফাযায়েলে হজ্বের মধ্যে রওজা পাক যিয়ারাতের ৬১টি আদব লিখেছেন যার অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও মনগড়া তন্মধ্যে ১৪ নং এ লিখেছেন :
‘‘যখন বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই ‘কোবায়ে খাজরা’ অর্থাৎ সবুজ গম্বজ নজরে পড়িবে, তখন হুজুরের আজমত এবং উঁচু শান ইত্যাদি মনের মধ্যে হাজির করিয়া এই কথা চিন্তা করিবে যে, সারা মাখলুকের সেরা মানব, আম্বিয়ায়ে কেরামের সর্দার ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ জাত এই কবরে শায়িত আছেন। আরও মনে করিবে, যেই জায়গা হুজুরে পাক (ছঃ)-এর শরীর মোবারকের সহিত মিলিত আছে, উহা আল্লাহ পাকের আরশ হইতেও শ্রেষ্ঠ, কা’বা হইতেও শ্রেষ্ঠ, কুরছী হইতেও শ্রেষ্ঠ, এমনকি আছমান জমিনের মধ্যে অবস্থিত যে কোন স্থান হইতেও শ্রেষ্ঠ।  (তাবলীগী নিসাব ফাজায়েলে হজ্ব- ১৩৩ পৃঃ)
পাঠক!

ফাযায়েলে দরূদ-এর ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ী

ফাযায়েলে দরূদ-এর ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ী


‘‘হুজুর (ছঃ) এরশাদ, ‘‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আমার উপর আশী বার দরূদ শরীফ পাঠ করিবে তার আশী বৎসরের গোনাহ মাফ হইয়া যাইবে।’’ (তাবলীগী নিসাব, ফাজায়েলে দরূদ শরীফ- ৪৮ পৃঃ)
শাইখ উল্লিখিত হাদীসটি কোন উদ্ধৃতি ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। মুসলিম ভ্রাতাগণ এবার লক্ষ করুন! হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দীসিনগণ কি মন্তব্য করেছেন। এই হাদীটি শুধু যঈফই নয়; বরং আল্লামা আলবানী যেমন ব্যাখ্যা করেছেন, সেই অনুসারে জালও বটে। (দেখুন : সিলসিলাতুল আহদীসুয যাঈফা- ১/১২৫ বিস্তারিত দেখুন বাংলা যঈফ ও ও জাল হাদীস সিরিজ ১ম খন্ড হা,২১৫, পৃষ্ঠা ২৩৪)
তাছাড়া এই হাদীসটা জাল হওয়ার প্রমাণ এর বিষয় বস্ত্তর মধ্যেই রয়েছে। কেননা এতে জুমার দিন আশিবার দরূদ পড়ার পুরষ্কার এই বলা হয়েছে যে, আশি বৎসরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। অথচ আল-কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন :

মাকামে মাহমুদের ব্যাখ্যা

মাকামে মাহমুদের ব্যাখ্যা


‘‘রুহুর বয়ানে বর্ণিত আছে আল্লাহ পাকের দরূদ পড়ার অর্থ হইল হুজুরে আকরাম (ছঃ) কে মোকামে মাহমুদ অর্থাৎ সুপারিশের মোকামে পৌঁছান।’’ (ফাজায়েলে দরূদ শরীফ- ১০)
মাকামে মাহমু
দের ব্যাখ্যায় শায়খ লিখেছেন :
 ‘‘কেহ বলেন, উহা হইল আল্লাহ পাক কর্তৃক তাহাকে রোজ কেয়ামাতে আরশের উপর বসান অথবা কুরছীর উপর বসান। আবার কেহ কেহ বলেন উহার অর্থ হইল শাফায়াত। কেননা সমস্ত মাখলুক সেখানে হুজুরের প্রশংসা করিবে। আল্লামা ছাখাবী ও তাহার ওস্তাদ হাফেজ এবনে হাজার বলেন

সুফীবাদের পরিভাষায় সুফী কাকে বলে?

সুফীবাদের পরিভাষায় সুফী কাকে বলে?


১. সুফী শব্দটি  صوف(পশম) থেকে উদগত হয়েছে। কারণ, সুফীরা সহজ সাধারণ জীবন যাপনের অংশ হিসাবে পশমী কাপড় পরিধান করতেন।
২. মোল্লা জামী বলেন, শব্দটি صفاء (পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা) থেকে নির্গত হয়েছে। কেননা তারা পূতপবিত্র ও স্বচ্ছ জীবন যাপন করতেন। সুফীর সংজ্ঞায় বর্ণিত এই কথাটি ঠিক নয়। কারণ সুফীরা নিজেদেরকে صوفي বলে উল্লেখ করেন। صفاء শব্দ থেকে সুফীর উৎপত্তি হয়ে থাকলে তারা নিজেদেরকে صفائي সাফায়ী বলতেন। অথচ এই মতবাদে বিশ্বাসী কোন লোক নিজেকে সাফায়ী বলেন না। বরং

সুফীবাদের বিভিন্ন তরীকার বিবরণ

সুফীবাদের বিভিন্ন তরীকার বিবরণ


সুফীদের রয়েছে বিভিন্ন তরীকা। স্থান ও কাল অনুযায়ী অসংখ্য সুফী তরীকা আত্ম প্রকাশ করার কারণে এর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে অসংখ্য সুফী তরীকা আত্মপ্রকাশ করেছে। তার মধ্যে নিম্নের কয়েকটি তরীকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রায়ই সুফী তরীকার পীর ও মুরীদদের মুখে এ সমস্ত তরীকার নাম উচ্চারণ করতে শুনা যায়। এ সমস্ত তরীকা হচ্ছেঃ

সুফীবাদের স্তর পরিক্রমাঃ

সুফীবাদের স্তর পরিক্রমাঃ


ক) শরীয়তঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থার যাবতীয় বিধানকে শরীয়ত বলা হয়। সর্বপ্রথম শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী হতে হয়। শরীয়তের যাবতীয় বিধানের মধ্য দিয়ে সুফী তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর অনুগত করেন। শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ ব্যতীত কেউ সুফী হতে পারবে না। সুফীরা এ কথাটি জোর দিয়ে বললেও তাদের আচার-আচরণ এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ

প্রচলিত সুফীবাদের কতিপয় বিভ্রান্তিঃ

প্রচলিত সুফীবাদের কতিপয় বিভ্রান্তিঃ


সুফীবাদের যেহেতু বিভিন্ন তরীকা রয়েছে তাই তরীকা ও মাশায়েখ অনুযায়ী তাদের রয়েছে বিভিন্ন আকীদা ও কার্যক্রম। নিম্নে আমরা অতি সংক্ষেপে তাদের কতিপয় আকীদা ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করবো। তবে এখানে মনে রাখতে হবে যে, সুফীবাদের সকল সমর্থকের ভিতরেই যে নিম্নের ভুল-ভ্রান্তিগুলো রয়েছে তা বলা কঠিন।
১) الحلول হুলুল এবং وحدة الوجود ওয়াহদাতুল উজুদঃ
সুফীদের যে সমস্ত ইসলাম বিরোধী আকীদাহ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট আকীদাহ (বিশ্বাস) হচ্ছে, عقيدة الحلول والاتحاد আকীদাতুল হুলুল ওয়াল ইত্তেহাদ। 
সুফীদের কতিপয় লোক হুলুল তথা সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর অবতরণে বিশ্বাস করে। হুলুল-এর সংজ্ঞায় আলেমগণ বলেনঃ

উপরোক্ত ভ্রান্ত বিশ্বাসের খন্ডনঃ

উপরোক্ত ভ্রান্ত বিশ্বাসের খন্ডনঃ


ইসলামের প্রধান দু’টি মূলনীতি এবং ইসলামী শরীয়তের দু’টি মূল উৎস কুরআন ও সহীহ হাদীছে সুস্পষ্ট ভাষায় আল্লাহর পরিচয়, গুণাগুণ এবং তাঁর অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে মহান রাববুল আলামীন নিজেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং তাঁর রাসূলও অনেক সহীহ হাদীছে তাঁর পরিচয় বর্ণনা করেছেন। এ থেকে জানা যায় যে আল্লাহ তাআলা আকাশে এবং আরশে আযীমের উপর সমুন্নত। বেশ কিছু আয়াত ও হাদীছে সরাসরি আরশের উপর সমুন্নত হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। আবার অনেক আয়াত ও হাদীছের মাধ্যমে আকাশের উপরে হওয়ার কথা জানা যায়। মূলতঃ উভয়ের মাঝে কোন দ্বন্ধ নেই। কেননা আল্লাহর আরশ হচ্ছে সাত আকাশের উপর। 
আল্লাহ তাআলা আকাশের উপরে সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহঃ
আললাহ তাআলা যে আকাশের উপরে , কুরআনে এর অনেক দলীল রয়েছে।
১) আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ

আল্লাহ্ তাআলা আসমানে সমুন্নত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত সহীহ হাদীছসমূহঃ

আল্লাহ্ তাআলা আসমানে সমুন্নত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত সহীহ হাদীছসমূহঃ


আল্লাহ্ তাআলা উপরে আছেন-হাদীছ শরীফে এ ব্যাপারে অগণিত দলীল রয়েছে।
১) আওআলের হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

(والعرش فوق ذلك والله فوق العرش وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنتُمْ عَليْهِ)

‘‘তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। তিনি তোমাদের অবস্থা (আমল) সম্পর্কে অবগত আছেন’’।[1]
   আওআলের হাদীছের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) বলেনঃ আমরা একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খোলা ময়দানে বসা ছিলাম। তখন আমাদের মাথার উপর দিয়ে একটি মেঘখন্ড অতিক্রম করার সময় তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কী? আমরা বললামঃ এটি একটি মেঘের খন্ড। অতঃপর তিনি বললেনঃ

অলী-আওলীয়াদের আহবানঃ


অলী-আওলীয়াদের আহবানঃ


সুফীদের বিরাট একটি অংশ নবী-রাসূল এবং জীবিত ও মৃত অলী-আওলীয়াদের কাছে দুআ করে থাকে। তারা বলে থাকেঃ ইয়া জিলানী, ইয়া রিফাঈ, ইয়া রাসূলুল্লাহ ইত্যাদি। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁকে ছাড়া অন্যেকে আহবান করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দুআ করবে, সে মুশরিক হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

গাউছ, কুতুব, আবদাল ও নুজাবায় বিশ্বাসঃ

গাউছ, কুতুব, আবদাল ও নুজাবায় বিশ্বাসঃ


সুফীরা বিশ্বাস করে যে, পৃথিবীতে কতিপয় আবদাল, কুতুব এবং আওলীয়া আছেন, যাদের হাতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবী পরিচালনার কিছু কিছু দায়িত্ব সোপর্দ করে দিয়েছেন। সুতরাং তারা তাদের ইচ্ছামত পৃথিবীর কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকেন।
তাবলীগি নেসাব ফাযায়েলে আমাল বইয়ে এই ধরণের একটি ঘটনা উল্লেখ আছে। ঘটনার বিবরণ এই যে, হজরত শাইখুল বলেছেনঃ আমি আমার আব্বাজানের নিকট প্রায়ই একটা ঘটনা শুনতাম। উহা এই যে, জনৈক ব্যক্তি বিশেষ কোন প্রয়োজনে পানি পথে যাইতেছিল। পথিমধ্যে

সুফী তরীকার মাশায়েখগণ বিপদ হতে উদ্ধার করতে পারেনঃ

সুফী তরীকার মাশায়েখগণ বিপদ হতে উদ্ধার করতে পারেনঃ


সুফীরা বিশ্বাস করেন যে, তাদের মাশায়েখ ও অলীগণ বিপদ হতে উদ্ধার করতে সক্ষম। তাই বিপদে তারা তাদের অলীদেরকে আহবান করে থাকে। তারা বলে থাকে মদদ ইয়া আব্দুল কাদের জিলানী, হে উমুক, হে উমুক ইত্যাদি। এভাবে বিপদাপদে পড়ে আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আহবান করা প্রকাশ্য শির্কের অন্তর্ভূক্ত আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

এবাদতের সময় সুফীদের অন্তরের অবস্থাঃ

এবাদতের সময় সুফীদের অন্তরের অবস্থাঃ


সুফীরা দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর তথা ইহসানের ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ মাশায়েখদের দিকে মনোনিবেশ করে থাকে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
الإحسان أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك
‘‘ইহসান হল,

নবী-রাসূলদের সম্পর্কে সুফীদের ধারণাঃ

নবী-রাসূলদের সম্পর্কে সুফীদের ধারণাঃ


নবী-রাসূলদের ব্যাপারে সুফীদের বিভিন্ন ধারণা রয়েছে। তাদের কতিপয়ের কথা হচ্ছে,
 خضنا بحراً وقف الأنبياء بساحله
 অর্থাৎ আমরা এমন সাগরে সাতার কাটি, নবীগণ যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকেন। অর্থাৎ সুফীগণ এমন মর্যাদায় পৌঁছতে পারেন,

অলী-আওলীয়াদের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাসঃ


অলী-আওলীয়াদের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাসঃ


অলী-আওলীয়াদের ক্ষেত্রে সুফীদের আকীদা হচ্ছে, তাদের কেউ নবীদের চেয়ে অলীগণকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, অলীগণ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আল্লাহর সকল গুণই অলীদের মধ্যে বর্তমান। যেমন সৃষ্টি করা,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে বাড়াবাড়িঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে বাড়াবাড়িঃ


সুফীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নূরের তৈরী মনে করে। তারা নিম্নের বানোয়াট হাদীছটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।

أول ما خلق الله تعالى  نوري

অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন শব্দে একই অর্থে সুফীদের কিতাবে সনদবিহীন ভাবে এই বানোয়াট হাদীছটি উল্লেখিত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো আমাদের দেশের অধিকাংশ সুন্নী মুসলমানও এই আকীদাই পোষণ করে থাকে। অথচ কুরআন ও সহীহ হাদীছের ভাষ্য থেকে জানা যায় যে, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী ছিলেন না এবং তিনি সর্বপ্রথম সৃষ্টিও ছিলেন না। সহীহ হাদীছ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

ফেরাউন ও ইবলীসের ক্ষেত্রে সুফীদের বিশ্বাসঃ

ফেরাউন ও ইবলীসের ক্ষেত্রে সুফীদের বিশ্বাসঃ


সুফীদের কতিপয় লোক ইবলীস ও ফেরাউনকে পরিপূর্ণ ঈমানদার ও আল্লাহর শ্রেষ্ট বান্দা মনে করে। সুফী দর্শনের মতে ইবলীস সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত এবং সে পরিপূর্ণ ঈমানদার।
আর মিশরের ফেরাউন সম্পর্কে সুফীদের কতিপয়ের কথা হচ্ছে, ঈমানের পরিপূর্ণ হাকীকত অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছিল বলেই সে একজন সৎ লোক ছিল। ফিরআউনের কথাঃأنا ربكم الأعلى   ‘‘আমি তোমাদের মহান প্রভু’’ এর তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে সুফীরা বলেঃ ফিরআউন নিজের ভিতরে উলুহীয়াতের অস্থিত্ব খুঁজে পেয়েছিল বলেই এ রকম কথা বলেছে। কেননা তাদের মতে পৃথিবীর প্রতিটি বস্ত্তই আল্লাহ। সুতরাং

কবর ও মাজার সম্পর্কে সুফীদের আকীদাঃ

কবর ও মাজার সম্পর্কে সুফীদের আকীদাঃ


সুফীও সুফিবাদের প্রভাবিত ব্যক্তিগণ অলী-আওলীয়া ও তরীকার মাশায়েখদের কবর পাকা করা, কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ, তাতে বাতি জ্বালানো, কবর ও মাযার যিয়ারত করার উপর বিশেষ গুরত্ব প্রদান করে থাকে। এমন কি সুফীরা বেশ কিছু মাজারের চার পাশে তাওয়াফও করে থাকে মিশরে সায়্যেদ বদভীর কবরের চতুর্দিকে সুফীরা কাবা ঘরের তাওয়াফের ন্যায় তাওয়াফ করে থাকে। ভারতের আজমীরে তথাকথিত খাজা মইনুদ্দ্বীন চিশতীর কবরেও এহেন তাওয়াফ করে থাকে চিশতীয়া তরীকার অনুসারীরা। অথচ সকল মুসলিমের কাছে অতি সুস্পষ্ট যে তাওয়াফ এমন একটি এবাদত, যা কাবা ঘরের চতুর পার্শ্বে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই করতে হবে। সুতরাং কোন কবরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করা বড় শির্ক, যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

মৃত আওলীয়ার নামে মান্নত পেশ করাঃ

মৃত আওলীয়ার নামে মান্নত পেশ করাঃ


সুফীবাদে বিশ্বাসীগণ মৃত অলী-আওলীয়াদের কবর ও মাজারের জন্য গরু, ছাগল, হাস-মুরগী-কবুতর, টাকা-পয়সা ইত্যাদি মানত করাকে ছাওয়াবের কাজ মনে করে থাকে। অথচ কুরআন ও সহীহ হাদীছের মাধ্যমে জানা যায় যে মানত হচ্ছে বিরাট একটি এবাদত, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে করা সম্পূর্ণ শির্ক।
সুতরাং মান্নত যেহেতু আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ এবাদত, তাই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য তা পেশ করা শির্ক। যেমন কেউ বললঃ উমুক ব্যক্তির জন্য নযর মেনেছি। অথবা এই কবরের জন্য আমি মান্নত করেছি, অথবা জিবরীল (আঃ) এর জন্য আমার মানত রয়েছে। উদ্দেশ্য হল এগুলোর মাধ্যমে তাদের নৈকট্য অর্জন করা। নিঃসন্দেহে ইহা শির্কে আকবরের অন্তর্গত। এ থেকে তাওবা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

অলী-আওলীয়ার উসীলাঃ

অলী-আওলীয়ার উসীলাঃ


সকল প্রকার সুফী তরীকার লোকদের আকীদার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এই যে, তারা মৃত অলীদের উসীলা দিয়ে দুআ করে থাকেন, গুনাহ্ থেকে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। উসীলা অর্থ হচ্ছে, যার মাধ্যমে কারও নৈকট্য অর্জন করা যায়, তাকে উসীলা বলা হয়। আর কুরআন ও হাদীছের পরিভাষায় যে সমস্ত বিষয় দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা যায়, তাকে উসীলা বলা হয়। কুরআন মাযীদে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

ইসলামের রুকনগুলো পালনের ক্ষেত্রে সুফীদের দৃষ্টিভঙ্গিঃ

ইসলামের রুকনগুলো পালনের ক্ষেত্রে সুফীদের দৃষ্টিভঙ্গিঃ


সুফীবাদে বিশ্বাসীগণ মনে করেন যে, তাদের কল্পিত অলীদের উপর নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি কোন কিছুই ফরজ নয়। কেননা তারা এমন মর্যাদায় পৌঁছে যান, যেখানে পৌঁছতে পারলে এবাদতের প্রয়োজন হয় না। তাদের কথা হচ্ছেঃ
إذا حصلت المعرفة سقطت العبادة
মারেফত হাসিল হয়ে গেলে এবাদতের কোন প্রয়োজন নেই। তারা তাদের মতের পক্ষে কুরআনের একটি আয়াতকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

সুফীদের যিকির ও অযীফাঃ

সুফীদের যিকির ও অযীফাঃ


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মুসলিম ঘুম থেকে উঠে, ঘুমানোর সময়, ঘরে প্রবেশ কিংবা ঘর হতে বের হওয়ার সময় থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে সকল যিকির-আযকার পাঠ করতে হবে, তার সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু সমস্ত সুফী তরীকার লোকেরা এ সমস্ত যিকির বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের বানোয়াট যিকির তৈরী করে নিয়েছে। নকশবন্দী তরীকার লোকেরা যিকরে মুফরাদ তথা শুধু الله (আল্লাহ) الله (আল্লাহ) বলে যিকির করে। শাযেলী তরীকার لا إله إلا الله এবং অন্যান্য তরীকার লোকে শুধু هوهو হু হু বলে যিকির করে থাকে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ

চুলে ও দাড়িতে জট বাঁধাঃ

চুলে ও দাড়িতে জট বাঁধাঃ


সুফীবাদের নামে কতিপয় লোকের মাথায় ও দাড়িতে ঝট বাঁধতে দেখা যায়, কারও শরীরে লোহার
শিকল, কাউকে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এটি সাহাবী, তাবেয়ী বা তাদের পরবর্তী যুগের কোন আলেম বা সাধারণ সৎ লোকের নিদর্শন ছিল না। এমন কি আব্দুল কাদের জিলানী, শাইখ আহমাদ রেফায়ী এবং

অলী-আওলীদের নামে শপথঃ

অলী-আওলীদের নামে শপথঃ


অলী-আওলীয়ার নামে শপথ করা সুফী তরীকার লোকদের একটি সাধারণ ব্যাপার। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেনঃ

مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ

যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল সে শির্ক

হালাল-হারামঃ

হালাল-হারামঃ


যে সমস্ত সুফী ওয়াদাতুল উজুদে বিশ্বাসী তারা কোন কিছুকেই হারাম মনে করে না। মদ, জিনা-ব্যভিচারসহ সকল প্রকার কবীরা গুনাহতে লিপ্ত হওয়াই তাদের জন্য

জিন-ইনসান সৃষ্টির উদ্দেশ্যঃ


জিন-ইনসান সৃষ্টির উদ্দেশ্যঃ


সুফীদের কথা হচ্ছে, জিন-ইনসানসহ সমস্ত সৃষ্টি জগত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। আফসোসের বিষয় এই যে, আমাদের দেশের অনেক বক্তাকেই অত্যন্ত মধুর কণ্ঠে ওয়াজ করার সময় এবং মিলাদ শরীফ পাঠের সময় বলতে শুনা যায় যে, নবী না আসিলে ধরায় কোন কিছুই সৃষ্টি হত না। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

সুফীরা জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় করে নাঃ

সুফীরা জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় করে নাঃ


সুফীরা মনে করেন জাহান্নামের ভয়ে এবং জান্নাতের আশায় আমল করা ঠিক নয়। তাদের কথা হচ্ছে আল্লাহর মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়াই সুফী সাধকের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি (জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভীতি) সহকারে আমাকে ডাকত এবং

গান-বাজনাঃ

গান-বাজনাঃ


সুফীবাদের দাবীদার কিছু লোক গান, বাজনা ও নৃত্যের মাধ্যমে যিকির করে থাকে। অথচ ইসলাম এগুলোকে সুস্পষ্টভাবে হারাম বলে ঘোষণা করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আখেরী যামানায় কোন কোন জাতিকে মাটির নিচে দাবিয়ে দেয়া হবে, কোন জাতিকে উপরে উঠিয়ে নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা হবে। আবার

সুফীদের যাহেরী ও বাতেনীঃ

সুফীদের যাহেরী ও বাতেনীঃ


সুফীরা দ্বীনকে যাহেরী ও বাতেনী এই দু’টি স্তরে ভাগ করে থাকে। শরীয়তকে তারা যাহেরী স্তর হিসেবে বিশ্বাস করে, যা সকলের জন্য মান্য করা জরুরী। বাতেনী স্তর পর্যন্ত শুধু নির্বাচিত ব্যক্তিরাই পৌঁছতে পারে। ইসলামী শরীয়তে যাহেরী ও বাতেনী বলতে কিছু নেই। কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে যা আছে, তাই ইসলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 

শায়েখ বা পীরের আনুগত্যঃ

শায়েখ বা পীরের আনুগত্যঃ


সুফীবাদের কথা হচ্ছে, চোখ বন্ধ করে এবং বিনা শর্তে সুফী তরীকার পীর বা শায়েখের আনুগত্য করতে হবে এবং মুরীদদেরকে তাদের সামনে পাপ করে থাকলে তা স্বীকার করতে হবে। ভক্তরা পীরের হাতে সেরকম আটকা থাকবে যেমন

পীরের আত্মার সাথে মুরীদের আত্মার সম্পর্ক তৈরী করাঃ

পীরের আত্মার সাথে মুরীদের আত্মার সম্পর্ক তৈরী করাঃ


সুফীদের কথা হচ্ছে শত শত বই-পুস্তক পাঠ করে কোন মুমিন সঠিক পথে চলতে পারবে না। পীর বা শায়েখের অন্তরের সাথে মুরীদের অন্তর যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীনি ইলম ও আমলে

ইলমে লাদুন্নী নামে কল্পিত এক বিশ্বাসঃ

ইলমে লাদুন্নী নামে কল্পিত এক বিশ্বাসঃ


সুফীরা বেশী বেশী ইলমে লাদুন্নীর কথা বলে থাকে। ইলমে লাদুন্নী বলতে তারা বুঝাতে চায় যে, এটি এমন একটি ইলম যা আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে সুফীরা পেয়ে থাকে। সাধনা ও চেষ্টার মাধ্যমে এটি অর্জন করা যায় না। তাদের কল্পিত কথা হচ্ছে অলী-আওলীয়ারা আল্লাহর পক্ষ হতে ইলমে লাদুন্নী অর্জন করে থাকে।
তাদের বানোয়াট কথার মধ্যে এটিও একটি বানোয়াট ও কল্পিত কথা এবং

কারামাতে আওলীয়ার ক্ষেত্রে সুফীদের বাড়াবাড়িঃ

কারামাতে আওলীয়ার ক্ষেত্রে সুফীদের বাড়াবাড়িঃ


কারামতে আওলীয়ার ব্যাপারে আহ্লুস্ সুন্নাতের বিশ্বাস হচ্ছে আউলীয়াদের কারামত এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের হাতে অলৌকিক ও সাধারণ অভ্যাসের বিপরীত যে সমস্ত ঘটনা প্রকাশ করে থাকেন আমরা তাতে বিশ্বাস করি। তবে অলী হওয়ার জন্য কারামত প্রকাশিত হওয়া জরুরী নয়। আওলীয়াদের কারামত সত্য। আল্লাহ তাআলা তাদের হাতে অলৌকিক ও সাধারণ নিয়মের বিপরীত এমন ঘটনা প্রকাশ করে থাকেন যাতে তাদের কোন হাত নেই। তবে কারামত চ্যালেঞ্জ আকারে প্রকাশিত হয় না; বরং

সূফীদের বা সুফিদের বাড়াবাড়ীর উদাহরন

সূফীদের বাড়াবাড়ীর উদাহরন


ক) মৃতকে জীবিত করাঃ
সুফীরা বিশ্বাস করে তাদের অলীরা মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম।
চরমোনাই পীরের লেখা ভেদে মারেফত বা ইয়াদে খোদা বইয়ের ১৫ পৃষ্ঠায় মৃতকে জীবিত করার যে গল্পটা আছে তা নিম্নরুপঃ
শামসুদ্দ্বীন তাব্রীজী নামের এক লোক ছিলেন। লোকেরা তাকে পীর সাহেব কেবলা বলত। এবার আসি মূল গল্পে।
একদা হযরত পীর সাহেব কিবলা রোম শহরের দিকে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে ঝুপড়ির ভেতর এক অন্ধ বৃদ্ধকে লাশ সামনে নিয়া কাদঁতে দেখিলেন। হুজুর বৃদ্ধকে প্রশ্ন করিলে বৃদ্ধ উত্তর করিলেন, ‘‘হুজুর এই পৃথিবীতে আমার খোঁজ-খবর করিবার আর কেউ নাই, একটি পুত্র ছিল সে

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ