Monday, October 16, 2017

আল্লাহর সাথে চুক্তি করে নযর মানা কি?

আল্লাহর সাথে চুক্তি করে নযর মানা কি?

চুক্তিগত নযর মাকরুহ বা হারাম। কিন্তু যে নযরে চুক্তিহীন ইবাদত থাকে, তা মাকরুহ বা হারাম নয়। তার কথাই কুরআনে বলা হয়েছে,

“নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানীয় যার মিশ্রণ হবে কর্পূর। এমন একটি ঝরনা, যা হতে আল্লাহর দাসরা পান করবে, তারা এ (ঝরনা ইচ্ছামত) প্রবাহিত করবে। তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনের ভয় করে, যেদিনের বিপত্তি হবে ব্যাপক। (দাহরঃ ৫-৭)

এ নযর বা মানত যারা পালন করে, তারা ওয়াজেব পালনের সওয়াব পায় এবং মহান আল্লাহ তাদেরকে ‘সৎকর্মশীল ও আল্লাহর দাস’ বলে অভিহিত করেছেন। (আলবানী)

আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাওয়া জায়েজ নয়। কুরআনের কসম খাওয়া জায়েজ কি?

আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাওয়া জায়েজ নয়। কুরআনের কসম খাওয়া জায়েজ কি?

কুরআন হল আল্লাহর কালাম। আর আল্লাহর কালাম হল তার সিফাত (গুন)। আর তার সিফাতের শপথ করা যায়। যেমন তার ইজ্জত, আজমত, কুদরত, কবরীয়া, জালাল ইত্যাদির কসম খাওয়া যায় এবং তার অসিলায় দুয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা যায়।

নদী (সঃ) বলেছেন, “একদা আইয়ুব (আঃ) উলঙ্গ হয়ে গোসল করছিলেন। অতঃপর তার উপর সোনার পঙ্গপাল পড়তে লাগল। আইয়ুব (আঃ) তা আঁজলা ভরে ভরে বস্ত্রে রাখতে আরম্ভ করলেন। সুতরাং তার প্রতিপালক আযযা অজাল্ল তাকে ডাক দিলেন, ‘ হে আইয়ুব! তুমি যা দেখছ, তা হতে কি আমি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেইনি?’ তিনি বললেন, ‘অবশ্যই, তোমার ইজ্জতের কসম! কিন্তু আমি আমার বরকত হতে অমুখাপেক্ষী নই।’ (বুখারি)

মহানবী (সঃ) বললেন, “জাহান্নাম ‘আরও আছে কি’ বলতেই থাকবে। পরিশেষে রাব্বুল ইজ্জত তাবারাকা তায়ালা  তাতে নিজ পায়ের পাতা (পা) রেখে দেবেন। তখন সে বলবে, ‘যথেষ্ট, যথেষ্ট, তোমার ইজ্জতের কসম!’ আর তার পরস্পর অংশগুলো সংকীর্ণ হয়ে যাবে।” (বুখারি ৭৩৮৪, মুসলিম ২৮২৮ নং, আবু আওয়ানাহ )

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “ কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তি কে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ায় সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার (মাত্র) চুবানো হবে, তারপর তাকে বলে হবে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি কি কখন ভাল জিনিস দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখন সুখ সামগ্রী এসেছে?’ সে বলবে, ‘না। তোমার ইজ্জতের কসম ! হে প্রভু।’ আর জান্নাতিদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ায় সবচেয়ে দুঃখী ও অভাবী ছিল। তাকে জানাতে (মাত্র) একবার চুবানোর পর বলা হবে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কখনো দুঃখ কষ্ট দেখেছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ গেছে?’ সে বলবে, ‘না। তোমার ইজ্জতের কসম! আমার উপর কোনদিন কষ্ট আসে নি এবং আমি কখনো কন বিপদও দেখিনি।’ (আহমাদ ১৩৬৬০ নং, বাইহাকি ১০/৪১)

মহানবী (সঃ) এই বলে দুয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন,

“আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বানীর অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

“অর্থাৎ আমি আল্লাহর মর্যাদা ও কুদরতের অসিলায় সেই জিনিসের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি, যা আমি পাচ্ছি ও ভয় করছি।”

আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে বা গায়রুল্লাহ নামে কসম খাওয়ার বিধান কি?

গায়রুল্লাহ নামে কসম খাওয়ার বিধান কি?

গায়রুল্লাহ নামে কসম খাওয়া, বাপ, মা, ছেলে, পীর, কাবা, নবী, মসজিদ, কিবলা, বই, দেশমাতা ইত্যাদির নামে কসম খাওয়া শিরক। কসম হবে কেবল আল্লাহর নামে অথবা তার কোন গুনের নাম নিয়ে অথবা কুরআন স্পর্শ করে। ইবনে উমার (রঃ) একটি লোককে বলতে শুনলেন ‘না, কাবার কসম!’ তিনি তাকে বললেন, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম খেও না। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহ নামে কসম করে, সে কুফরি অথবা শিরক করে।” (আবু দাউদ ৩২৫১, তিরমিজি ১৫৩৫ নং)

নবী (সঃ) বলেছেন, “ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তোমাদের বাপ দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে শপথ করতে চায় সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে, নচেৎ চুপ থাকে।” (বুখারি ৩৮৩৬, মুসলিম ১৬৪৬ নং)

বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার করা কসম ভঙ্গ করলে একবার কাফফারা দিলে হবে কি?

বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার করা কসম ভঙ্গ করলে একবার কাফফারা দিলে হবে কি?

একই কাজের জন্য একাধিকবার কসম খেয়ে তা ভঙ্গ করলে একবার কাফফারা দিলেই হবে। কিন্তু পৃথক পৃথক কাজের জন্য কসম খেয়ে ভঙ্গ করলে পৃথক পৃথক কাফফারা দিতে হবে। (ইবনে বাজ)
 

যেমনঃ কেউ রবিবারে বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ী যাব না।’ সোমবার বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ী যাব না।’ মঙ্গলবারেও বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ী যাব না।’ অতঃপর বুধবারে কসম ভঙ্গ করে সে মামার বাড়ী গেল। তাকে একটি কাফফারা দিতে হবে।

কিন্তু রবিবারে বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ী যাব না।’ সোমবারে বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি চাচার বাড়ী যাব না।’ মঙ্গলবারে বলল, ‘আলাহর কসম আমি খালার বাড়ী যাব না।’ অতঃপর বুধবারে কসম ভঙ্গ করে সে সকলের বাড়ী চলে গেল। তবে প্রত্যেক কসমের বিনিময়ে পৃথক পৃথক কাফফারা আদায় করতে হবে।

অনুরূপ কেউ রবিবারে বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ী যাব না।’ সোমবারে বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি চাচার বাড়ী খাব না।’ মঙ্গলবারে বলল, ‘আল্লাহর কসম আমি খালার বাড়ী শোব না।’ অতঃপর বুধবারে সে কসম ভঙ্গ করে সেই সব কাজ করল। তাকে  প্রত্যেক কসমের বিনিময়ে পৃথক পৃথক কাফফারা আদায় করতে হবে।

কাফফারা কিভাবে আদায় করা যাবে?

কাফফারা কিভাবে আদায় করা যাবে?

দশজন মিসকিনের মাধ্যম ধরনের খাবার তৈরি করে অথবা রাত্রে তাদেরকে ডেকে খাইয়ে দিন। অথবা তাদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিন। অথবা মাথাপিছু সওয়া এক কিলো করে (সর্বমোট সাড়ে বার কিলো) চাল তাদের মাঝে বণ্টন করে দিন। দশজন মিসকিন না পাওয়া গেলে পাঁচ জন মিসকিনকে দু'বেলা খাওয়ান অথবা আড়াই কিলো করে চাল দিয়ে দিন। কাপড় দিলে মহিলাকে মধ্যম দামের শাড়ী দিন, পুরুষকে মধ্যম দামের লুঙ্গি গেঞ্জি দিন। খাদ্য ও বস্ত্র দানে অক্ষম হলে তবেই তিনদিন রোজা রাখুন। খাদ্য দেওয়ার ক্ষমতা ও উপায় থাকলে রোজা রাখলে কাফফারা আদায় হবে না।

কসম ভঙ্গের কাফফারা খাদ্য বা বস্ত্রের বিনিময়ে টাকা দিলে আদায় হবে কি না?

কসম ভঙ্গের কাফফারা খাদ্য বা বস্ত্রের বিনিময়ে টাকা দিলে আদায় হবে কি না?

না। খাদ্য বা বস্ত্রই দিতে হবে। না থাকলে কিনে দিতে হবে। মূল্য আদায় করলে কাফফারা আদায় হবে না। কারণ তা কুরআনের স্পষ্ট উক্তির বিরোধিতা হবে। (ইবনে জিবরীন)

মসজিদের নামে নযর মেনে মাদ্রাসায় দেয়া যাবে কি?

মসজিদের নামে নযর মেনে মাদ্রাসায় দেয়া যাবে কি?

যে নামে নযর মানা হয়, সেই নামেই নযর পালন করতে হবে। অবশ্য যে নামে নযর মেনেছে, সেখানে পালন করা যদি দুঃসাধ্য হয়, অথবা অপর জায়গায় পালন করলে সওয়াব বেশি হয়, তাহলে নযর এর স্থান পরিবর্তন করা যায়। যেমন এক ব্যক্তি নযর মেনেছিল, মক্কা বিজয় হলে বায়তুল মাকদিসে গিয়ে নামাজ পড়বে। নবী (সঃ) তাকে বললেন, “তুমি এখানে (কাবার মসজিদে) নামাজ পড়।” (আবু দাউদ ৩৩০৫)

কেউ যদি অবৈধ বা শিরক নযর মেনে থাকে, তাহলে জানার পরে নযর পালন করার আগে সে কি করতে পারে?

কেউ যদি অবৈধ বা শিরক নযর মেনে থাকে, তাহলে জানার পরে নযর পালন করার আগে সে কি করতে পারে?

অবৈধ বা শিরক নযর পালন করা অবৈধ। তাকে তওবা করতে হবে এবং কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। দশটি মিসকিনকে খাদ্য অথবা বস্ত্র দান করতে হবে অথবা একটি গোলাম আজাদ করতে হবে। এ সবে অক্ষম হলে ৩টি রোজা রাখতে হবে। (ইবনে জিবরিন)

Sunday, October 15, 2017

নযর মানলে কি মহান আল্লাহ আশা পূরণ করে দেন?

নযর মানলে কি মহান আল্লাহ আশা পূরণ করে দেন?


আসলে আল্লাহর সাথে শর্তভিত্তিক চুক্তির নযর মাকরূহ অথবা হারাম। যেমন, ‘আল্লাহ! যদি আমার ছেলে পাশ করে, তাহলে তোমার রাহে হাজার টাকা দেব। আমার রোগী সেরে উঠলে এত টাকা দান করব’ ইত্যাদি। এতে কোন লাভ হয় না, তা আল্লাহর ইচ্ছা ও তকদীরে হয়। নযর না মানলেও তাই হয়। মহানবী (সঃ) বলেছেন,
“নযর কোন মঙ্গল আনায়ন করে না। তার মাধ্যমে কেবল বখিলের মাল বের করে নেওয়া হয়।” (বুখারি ৬৬০৮-৬৬০৯, মুসলিম ১৬৩৯-১৬৪০)
তবে ইবাদতের নযর মানলে তা পুরা করা জরুরী। রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগত্য করার নযর মানে, সে যেন (তা পুরা করে) তার অনুগত্য করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করার নযর মানে, সে যেন (তা পূরণ না করে এবং) তার অবাধ্যতা না করে।” ( বুখারি, সহিহুল জামে ৬৪৪১)
ইবনে আব্বাস (রঃ) বলেন, ‘এক মহিলা সমুদ্র সফরে বের হলে সে নযর মানল যে, যদি আল্লাহ তাআলা তাকে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ দান করেন, তাহলে সে একমাস রোজা রাখবে। অতঃপর সে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ পেয়ে ফিরে এল। কিন্তু রোজা না রেখেই মারা গেল। তার এক কন্যা নবী (সঃ) এর নিকট এসে সে ঘটনা উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “মনে কর, তার যদি কোন ঋণ বাকি থাকত, তাহলে তুমি তা পরিশোধ করতে কি না?” বলল, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, “তাহলে আল্লাহর ঋণ অধিকরূপে পরিশোধযোগ্য। সুতরাং তুমি তোমার মায়ের তরফ থেকে রোজা কাযা  করে দাও।” (আবু দাউদ ৩৩০৮, আহমাদ ২/২১৬ প্রমুখ)

অনেকে কাবা গৃহের তওয়াফ ও হাজারে আসওয়াদের চুম্বনকে পৌত্তলিকতার সাথে তুলনা করে, তা কি ঠিক?

অনেকে কাবা গৃহের তওয়াফ ও হাজারে আসওয়াদের চুম্বনকে পৌত্তলিকতার সাথে তুলনা করে, তা কি ঠিক?


আদৌ ঠিক না। কারণ তওয়াফে কাবাগৃহে পূজার উদ্দেশ্য হয় না, যেমন মূর্তিপূজা বা কবরপূজা হয়। আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করে তার আদেশ পালন করা হয় এবং তাতে তারই সন্তুষ্টি কামনা করা হয়। অনুরূপ হাজারে আসওয়াদের চুম্বনও দেওয়া হয়, যেহেতু তা একটি ইবাদত। তাতে মহানবী (সঃ) এর অনুসরণ করা হয় এবং তাতে সওয়াব হয়। আমরা জান্নাতকে ভালবাসি বলে, জান্নাতের পাথরে চুমা দিই। পাথর থেকে কোন বরকতের আশায় নয়।

পাথর চুম্বকের মত চুম্বনকারীর পাপ শোষণ করে না। বরং আল্লাহর নবী (সঃ) এর অনুসরণে তাকে চুম্বন দিলে পাপ ক্ষয় হয়। উমার (রঃ) পাথর চুম্বন দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘(হে পাথর!) আমি জানি তুমি একটা পাথর। তুমি কোন উপকার করতে পার না, অপকারও না। যদি আমি আল্লাহর রাসুল (সঃ) কে তোমাকে চুম্বন দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন দিতাম না। ‘ (বুখারি, মুসলিম, আবুদ দাউদ, তিরমিজি, নাসাই)

অনেক মানুষকে সত্যের দিশা দিতে গেলে বাপ দাদার দোহাই দেয়। অনেকে কোন বড় আলেম বা নেতার দোহাই দেয়। এমন দোহাই দিয়ে কি সত্য প্রত্যাখ্যান করা উচিত?

অনেক মানুষকে সত্যের দিশা দিতে গেলে বাপ দাদার দোহাই দেয়। অনেকে কোন বড় আলেম বা নেতার দোহাই দেয়। এমন দোহাই দিয়ে কি সত্য প্রত্যাখ্যান করা উচিত?


অবশ্যই না। প্রত্যেকের বাপ দাদা তার নিজের কাছে শ্রদ্ধেয়। কিন্তু প্রত্যেকের বাপ দাদা যে হকপন্থী, তার নিশ্চয়তা কোথায়? হকের মাপকাঠি কোন ব্যক্তিত্ব নয়, হকের মাপকাঠি হল কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ। বাপ দাদার দোহাই দিয়ে হক প্রত্যাখ্যান করার রোগ অনেক পুরাতন। কুরআন মজিদের বহু জায়গায় সে কথা উল্লেখিত রয়াছে। মহান আল্লাহ দাদুপন্থিদের ব্যাপারে বলেছেন,

অনেক লোককে কোন কাজে নিষেধ করতে গেলে বলে, ‘সবাই তো এটা করে !’ কেউ বলে, ‘লোকে তো করছে !’ কেউ বলে, ‘এত লোক করছে, তারা কি ভুল পথে আছে নাকি?’ ইত্যাদি। তাদের এমন বলা বৈধ কি?

অনেক লোককে কোন কাজে নিষেধ করতে গেলে বলে, ‘সবাই তো এটা করে !’ কেউ বলে, ‘লোকে তো করছে !’ কেউ বলে, ‘এত লোক করছে, তারা কি ভুল পথে আছে নাকি?’ ইত্যাদি। তাদের এমন বলা বৈধ কি?


লোকের দোহাই দিয়ে কোন কাজ করা বা বর্জন করা কোন মুসলিমের উচিৎ নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বর্তমানে সরকার গঠন করতে পারে, সত্য গঠন করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন,
“আর যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানভিত্তিক কথাবার্তাই বলে থাকে।” (আনআমঃ ১১৬)
“তুমি যতই আগ্রহী হও না কেন,

কোন সন্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করা বৈধ কি?

কোন সন্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করা বৈধ কি?


কোন সন্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করায় কোন দোষ নেই। যেমন দোষ নেই নিজের ছেলে ছাড়া অন্য কোন স্নেহভাজনকে ‘বেটা’ বলে সম্বোধন করা। এ সম্বোধনের উদ্দেশ্য থাকে পিতার মত শ্রদ্ধা এবং পুত্রের মতো স্নেহ প্রকাশ। পিতৃতুল্যকে ‘পিতা’ বলা এবং পুত্রতুল্যকে ‘বেটা’ বলা, তদনুরূপ মাতৃতুল্যকে ‘মাতা’ বা ‘মা’ বলা এবং কন্যতুল্যকে ‘বেটি’ বলায় কোন বংশীয় সম্বন্ধ উদ্দিষ্ট থাকে না।
আল কোরআনে জন্মদাত্রী মা ছাড়া অন্য মহিলাকে ‘মা’ বলার কথা এসেছে। মহানবী (সঃ) এর স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা বলা হয়েছে।
নবী, বিশ্বাসীদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষাও অধিক প্রিয় এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মা। (আহযাবঃ ৬)
অতঃপর

অনেকে বলে, ‘নামায পড়ে কি হবে? নামায পড়ে কে বড়লোক হয়েছে?’ এ কথা কি ঠিক?

অনেকে বলে, ‘নামায পড়ে কি হবে? নামায পড়ে কে বড়লোক হয়েছে?’ এ কথা কি ঠিক?


এ কথা দুনিয়াদারী দৃষ্টিভঙ্গির ফলশ্রুতি। যেহেতু নামায পড়ে ইহলোকে বড়লোকে হওয়া জায় না। বরং নামায পড়ে পরলোক বড়লোক হওয়া যায়। নামায ইহকালে মানুষেকে অশ্লীলতা ও নোংরামি থেকে দূরে রেখে মানুষকে মানুষ করে রাখে, সঠিক মুসলিম বানায়। আর পরকালে তাকে ইচ্ছা সুখের  বাসস্থান দান করে। পরন্ত নামায পড়লে ইহকালের সুখ নয়, বরং পরকালের সুখ লাভের জন্যই পড়া উচিৎ।

কাউকে ‘আল্লাহর খলিফা’ বলা জায়েজ কি?

কাউকে ‘আল্লাহর খলিফা’ বলা জায়েজ কি?


কাউকে আল্লাহর খলীফা বলা জায়েজ না। মানুষ আল্লাহর খলীফা হতে পারে না। বরং আল্লাহই মানুষের ‘খলীফা’ হতে পারেন; যেমন সফরের দুয়াতে আমরা বলে থাকি, ‘আন্তাস সাহিবু ফিসসাফার আলখালিফাতু ফিল আহলে।’ একদা আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) কে ‘আল্লাহর খলীফা বলা হলে, তিনি বলেছিলেন,  ‘আমি আল্লাহর খলীফা নই। বরং আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর খলীফা।’ ( বানী সিঃ যযীফাহ ৮৫ নং)

যারা বলে ‘ব্যভিচারী পাথর ছুড়ে মারলে, চোরের হাত কাটলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।’ তাদের এমন বক্তব্য কি ঠিক ?

যারা বলে ‘ব্যভিচারী পাথর ছুড়ে মারলে, চোরের হাত কাটলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।’ তাদের এমন বক্তব্য কি ঠিক ?


অবশ্যই ঠিক নয়। এমন অপরাধী মানবকে কে অধিকার দিয়ে রেখেছে? যারা এ কথা বলে, তারা কি মানুষ খুন করে না? তারা কি কারো ফাঁসি দেয় না? আসলে তাদের কাছে ওই শ্রেণির অপরাধ বড় নয়, বরং তাদের কাছে ব্যভিচার কোন অপরাধই নয়। আর আল্লাহর বিধান তো তারা মানেই না।
মানবের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। কিছু অপরাধের ফলে তিনিই তাদের মানবাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিধান দিয়েছেন।  যেহেতু

যে বলে, ‘ইসলাম নারীর প্রতি অন্যায় হয়েছে, তার যথার্থ হক প্রদান করেনি’ তার বিধান কি?

যে বলে, ‘ইসলাম নারীর প্রতি অন্যায় হয়েছে, তার যথার্থ হক প্রদান করেনি’ তার বিধান কি?


যে এ কথা বলে সেই অবিবেচক জালেম।  যেহেতু ইসলাম সর্বক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের সমানাধিকার দান না করলেও তাকে তার যথার্থ অধিকার প্রদান করেছেন। সুতরাং প্রত্যেকের নিজ নিজ অধিকার নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিৎ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“ যা  দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকেও কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা

অনেকে বলে, ‘যার পীর নেই, তার পীর শয়তান।’ এ কথা কি ঠিক?

অনেকে বলে, ‘যার পীর নেই, তার পীর শয়তান।’ এ কথা কি ঠিক?


কথাটি ঠিক। কারণ নিজে নিজে সঠিক পথ পাওয়ার চেষ্টা করলে ভ্রষ্টতাই স্বাভাবিক। তবে পীর মানে ওস্তাদ। পীর মানে বিদআতি মুর্শিদ নয়, প্রচলিত তরীকার কোন সূফীপন্থী নয়। যেমন ওস্তাদ কেবল একটা ধারাই বাঞ্ছনীয় নয়। শিক্ষার্থী মুসলিমের উচিৎ, যাকে হকপন্থী অভিজ্ঞ আলেম দেখবে, তাকেই ওস্তাদ বলে গণ্য করবে। যেহেতু মুসলিম কোন ব্যক্তি দেখে হক চেনে না, বরং হক দেখে ব্যক্তি চেনে। সুতরাং যে পীর বা ওস্তাদ পিরানে পীর অ উস্তাজুল আসাতিজাহ নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর অনুসারী নয়,

উপহাস ছলে মিথ্যা বলা কি বৈধ?

উপহাস ছলে মিথ্যা বলা কি বৈধ?


মিথ্যা বলা বৈধ নয়। মিথ্যা বললে কবিরাহ গোনাহ হয়। রাসুল (সঃ) বলেছেন, “নিশ্চয় সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায়। আর পুণ্য জান্নাতের দিকে পথ নির্দেশনা করে। আর মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, সেস পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তাকে “ মহাসত্যবাদী”  রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর নিরসন্দেহে মিথ্যাবাদিতা নির্লজ্জতা ও পাপাচার এর দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে, সেস পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তাকে ‘মহামিথ্যাবাদি” রুপে লিপিবদ্ধ করা হয়। (বুখারি ও মুসলিম)
উপহাস ছলেও মিথ্যা বলা বৈধ নয়। আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেছেন,

বন্ধু বান্ধবের সাথে মজাক ঠাট্টা করা বৈধ কি?

বন্ধু বান্ধবের সাথে মজাক ঠাট্টা করা বৈধ কি?


রসিকতা যদি বাস্তব বা সত্য কথার মধ্যে হয় এবং তাতে অশ্লিনতা না থাকে, তাহলে দূষণীয় নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) এমন রসিকতা করেছেন। যেমন, আবু উমাইর নামক এক শিশুর খেলনা পাখী (নুগাইর) মারা গেলে সে দুঃখিত হয়। তা দেখে তিনি তাকে খোস করার জন্য মস্কারা করে বললেন, “এই যে উমাইর, কি করেছে নুগাইর?”  (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত ৪৮৮৪ নং)
একদা এক ব্যক্তি তাঁর নিকট সওয়ারি উট চাইলে তিনি বললেন, “ তোমাকে একটি উটিনীর বাচ্চা দেব।” লোকটি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল ! বাচ্চা নিয়ে কি করব?’ তিনি বললেন, “ উটনি ছাড়া উট কি আর কেউ জন্ম দেয়?” (অর্থাৎ সব উটই তো  তাঁর মায়ের বাচ্চা)। (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত ৪৮৮৬ নং)
একদা এক বৃদ্ধা এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি দুয়া করে দিন যাতে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।’ তিনি মস্কারা করে বললেন, “বৃদ্ধারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” তা শুনে বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে প্রস্থান করলেন। তিনি সাহাবাদের বললেন, “ওকে বলে দাও যে, বৃদ্ধাবস্থায় ও জান্নাতে যাবে না।” (বরং যুবতী হয়ে যাবে)
পক্ষান্তরে মিথ্যা কথা বানিয়ে বলে হাস্য রসিকতা করা হারাম। রাসুল (সঃ) বলেছেন, “সর্বনাশ সেই ব্যক্তির , যে লোককে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে। তাঁর জন্য সর্বনাশ, তাঁর জন্য সর্বনাশ।” (সহিহুল জামে ৭০১৩ নং)

দাড়ি রাখতে বললে বা অন্য সৎকাজের উপদেশ দিলে অনেকে বলে, ‘তাকওয়া বুকে’ । এ কথা বলে সৎকাজ থেকে পিছল কাটা কি ঠিক?

দাড়ি রাখতে বললে বা অন্য সৎকাজের উপদেশ দিলে অনেকে বলে, ‘তাকওয়া বুকে’ । এ কথা বলে সৎকাজ থেকে পিছল কাটা কি ঠিক?


অবশ্যই ঠিক নয়। মহানবী (সঃ) নিজে বুকের প্রতি ইঙ্গিত করে অবশ্যই বলেছেন ‘তাকওয়া এখানে’। কিন্তু তা এ কথার দলিল নয় যে,  বাহ্যিক আমল জরুরী নয়। তাছাড়া হৃদয়ে তাকওয়া থাকলে বাহ্যিক দেহ ও আমলে তাঁর বহিঃপ্রকাশ অবশ্যই ঘটবে। যেহেতু রাসুল (সঃ) বলেছেন, “দেহের মধ্যে একটি গোশতপিণ্ড রয়েছে, যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হল হৃদপিণ্ড (অন্তর)” (বুখারি ও মুসলিম)

মহান আল্লাহর কোন ফয়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা কোন শ্রেণীর পাপ?

মহান আল্লাহর কোন ফয়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা কোন শ্রেণীর পাপ?


মহান আল্লাহ ইচ্ছাময় বাদশা। তিনি যা ইচ্ছা ফয়সালা করেন। বান্দার জন্য যে ফয়সালা করেন, তা তার জন্য মঙ্গলময়। তার কোন ফয়সালাতে জুলুম বা অন্যায় থাকে না। তিনি আমাকে গরীব আর আপনাকে ধনী বানিয়েছেন- এটা তার বেইনসাফি নয়। তিনি আপনার ছেলেকে সুস্থ সবল রেখেছেন এবং

‘পোড়া কপাল’, ‘কপালে লেখা’, ‘কপালে ছিল’, বা ‘কপাল খারাপ’ ইত্যাদি বলা বৈধ কি?

‘পোড়া কপাল’, ‘কপালে লেখা’, ‘কপালে ছিল’, বা ‘কপাল খারাপ’ ইত্যাদি বলা বৈধ কি?


প্রত্যেকের ভাগ্য লেখা আছে ‘লাওহে মাহফুজ’- এ। সেটাই হল মুল ভাগ্যলিপি। মহান আল্লাহ বলেন,
“পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে, আমার তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে, নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে তা খুবই সহজ। (হাদিদঃ২২)
কিন্তু জীবনের তফসীলী ভাগ্য লেখা হয় মায়ের পেটে। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,

কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে তার কি ‘নিজের চরকায় তেল দাও’ বলা বৈধ?

কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে তার কি ‘নিজের চরকায় তেল দাও’ বলা বৈধ?


কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে বা তার অন্যায়ে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকারীদের  ‘নিজের চরকায় তেল দাও’, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার’ ইত্যাদি বলে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয়। যেহেতু তার জবাবে বলা যায় যে, ‘আমরা পরের চরকায় তেল দিতেও আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ ও মন্দকাজে বাধা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এটা আমাদেরও ব্যক্তিগত ব্যাপারে।’ (ইবনে উসাইমিন)

এক মহিলার অভ্যাস যে, সে তাঁর সন্তানদেরকে অভিশাপ ও গালিমন্দ করে থাকে। কখনো বা তাদেরকে প্রত্যেক ছোট বড় দোষে কথা দ্বারা, কখনো বা প্রহার করে কষ্ট দেয়। ই স্ত্রীর ব্যাপারে আমার ভূমিকা কি হতে পারে? এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে দ্বীনের নির্দেশ কি? যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দুরে সরে যাব এবং সন্তানরা তাঁর সঙ্গে থাকবে? অথবা আমি কি করব?

এক মহিলার অভ্যাস যে, সে তাঁর সন্তানদেরকে অভিশাপ ও গালিমন্দ করে থাকে। কখনো বা তাদেরকে প্রত্যেক ছোট বড় দোষে কথা দ্বারা, কখনো বা প্রহার করে কষ্ট দেয়। এই অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে আমি তাকে একাধিকবার উপদেশ দিয়েছি। কিন্তু সে উত্তরে বলেছে, ‘তুমিই ওদের স্পর্ধা বাড়ালে অথচ ওরা কত দুষ্ট।’ শেষ ফল এই দাঁড়াল যে, ছেলেরা তাকে অবজ্ঞা করে তাঁর কথা নেহাতই অগ্র্যাহ্য করতে লাগল। তাঁর বুঝে নীল যে, শেষ পরিণাম তো গালি ও প্রহার। এই স্ত্রীর ব্যাপারে আমার ভূমিকা কি হতে পারে? এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে দ্বীনের নির্দেশ কি? যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দুরে সরে যাব এবং সন্তানরা তাঁর সঙ্গে থাকবে? অথবা আমি কি করব?


ছেলে মেয়েদেরকে অভিসম্পাত করা অন্যতম কবিরাহ গোনাহ; অনুরূপ অন্যান্যদেরকেও অভিশাপ করা, যারা এর উপযুক্ত নয়। নবী (সঃ) হতে শুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনি বলেন, “মুমিনকে অভিশাপ করা তাকে হত্যা করার সমান।”
তিনি আরও বলেন,

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আজ্ঞাবহ ধার্মিকদের প্রতি বিদ্রূপ হানার হুকুম কি?

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আজ্ঞাবহ ধার্মিকদের প্রতি বিদ্রূপ হানার হুকুম কি?


আল্লাহ ও তদীয় রাসুলের আজ্ঞাবহ ধর্মভীরু মুসলিমকে ধর্মের যথার্থ অনুগত হওয়ার কারণে বিদ্রূপ করা হারাম এবং তা মানুষের জন্য বড় বিপদজনক আচরণ। কারণ এ কথার আশংকা থাকে যে, ধর্মভীরুদেরকে তাঁর ঐ অবজ্ঞা তাঁদের আল্লাহর দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকাকে অবজ্ঞা করার ফল হতে পারে। তখন তাদেরকে ঠাট্টা ব্যঙ্গ করার অর্থই হবে, তাঁদের সেই পথ ও তরিকাকে ঠাট্টা ব্যঙ্গ করা, যার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত। যাতে তারা ঐ লোকেদের অনুরূপ হবে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

গণক কাকে বলে? গণকের কাছে যাওয়ার বিধান কি?


গণক কাকে বলে? গণকের কাছে যাওয়ার বিধান কি?
গণক এমন লোককে বলা হয়, যে অনুমানের উপর নির্ভর করে ভিত্তিহীন বিষয়ের অনুসন্ধান করে থাকে। জাহেলী যামানার কিছু পেশাদার লোকের সাথে শয়তানের যোগাযোগ ছিল। শয়তানেরা চুরি করে আকাশের সংবাদ শ্রবণ করত এবং তাদের কাছে বলে দিত। আকাশ থেকে যা শ্রবণ করত, তার সাথে আরো অনেক মিথ্যা কথা সংযোগ করে মানুষের মধ্যে তা প্রকাশ করত। তারা যা বলত,

পাপ কাজে সতর্ক করলে অনেকে বলে, ‘আল্লাহ ক্ষমাশীল’। তাঁদের এমন আশাবাদীর কথা বলা বৈধ কি?

পাপ কাজে সতর্ক করলে অনেকে বলে, ‘আল্লাহ ক্ষমাশীল’। তাঁদের এমন আশাবাদীর কথা বলা বৈধ কি?

তাঁদের জন্য এমন আশাবাদীর কথা বলে পাপ নির্বিচল থাকা অবশ্যই বৈধ নয়। যেহেতু তাঁদের জানা দরকার যে, মহান আল্লাহর যেমন মহা ক্ষমাশীল, তেমন তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। তিনি বলেন,

“আমরা বান্দাদেরকে বলে দাও, ‘নিশ্চয় আমিই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু এবং আমার শাস্তিই হল অতি মর্মম্ভেদ শাস্তি।’ ( হিজরঃ ৪৯-৫০)

“ তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (মায়িদাহঃ ৯৮)

সুতরাং তার একটা গুণবাচক দিকে ধরে থেকে অন্য দিকটা ভুলে যাওয়া আদৌ উচিৎ নয়। আশার  সাথে ভয়ও থাকা উচিৎ। (ইবনে উসাইমিন)

গোনাহের কাজে প্রতিবাদ করা হলে কারো ‘আমি স্বাধীন’ বলা বৈধ কি?

গোনাহের কাজে প্রতিবাদ করা হলে কারো ‘আমি স্বাধীন’ বলা বৈধ কি?
এই পৃথিবীর কোন মানুষই সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। প্রত্যেকেই কোন না কোন পরাধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য। ব্যক্তি স্বাধীনতা, চিন্তা স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, নারী স্বাধীনতা ইত্যাদি লাগামহীন নয়। প্রত্যেক মুসলিম মহান আল্লাহর পরাধীন গোলাম। তার আদেশ নিষেধ পালন করার ব্যাপারে কেউই স্বাধীন নয়। তাঁদের যখন কেউ আল্লাহর গোলামী থেকে ছাড়া পেতে চায়, তখন সে শয়তান অথবা প্রবৃত্তির খেয়াল খুশির গোলামে পরিণত হয়ে যায়। (ইবনে উসাইমিন)

পূর্ণ মু’মিনকে ‘মৌলবাদী’ বলে কটাক্ষ করা বৈধ কি?


যারা গৌণবাদী অথবা নকলবাদী তারাই সঠিক ইমানদারকে ‘মৌলবাদী’ বলে কটাক্ষ করে। তবে এ কটাক্ষতে মু’মিনদের গর্ব হওয়া উচিৎ। যেহেতু মৌলিক বিষয়সমুহ পালন না করলে কেউ মুক্তি পেতে পারবে না। (ইবনে উসাইমিন)।

মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে ‘শহীদ’ লেখা বা বলা বৈধ কি?

মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে ‘শহীদ’ লেখা বা বলা বৈধ কি?

নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য এমন সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট দিয়ে ওই কথা লেখা বা বলা বৈধ নয়। (ইবনে উসাইমিন) যেহেতু তা গায়েবী খবর, আর তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। অবশ্য যার শরীয়ত কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত, তাঁদের কথা স্বতন্ত্র।

মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে ‘মরহুম’ বা ‘ মগফুর’ লেখা বা বলা বৈধ কি?

মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে ‘মরহুম’ বা ‘ মগফুর’ লেখা বা বলা বৈধ কি?

নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য  এমন সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট দিয়ে ওই কথা লেখা বা বলা বৈধ নয়। ওই ক্ষেত্রে নাম উল্লেখের পরে ‘রাহিমাহুল্লাহ’ বা ‘গাফারাল্লাহু লাহ’  বলা বা লিখা বিধেয়। (ইবনে বাজ)  

মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে ‘স্বর্গীয়’, ‘বেহেশতী’, বা ‘জান্নাতী’ লেখা বা বলা বৈধ কি?

মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে ‘স্বর্গীয়’, ‘বেহেশতী’, বা ‘জান্নাতী’ লেখা বা বলা বৈধ কি?

নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য এমন সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট দিয়ে ওই কথা লেখা বা বলা বৈধ নয়। (ইবনে উসাইমিন) যেহেতু তা গায়েবী খবর, আর তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। অবশ্য যার শরীয়ত কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত, তাঁদের কথা স্বতন্ত্র।

দেশ প্রেম ইমানের অংশ কথাটি কি ঠিক?

‘দেশ প্রেম ইমানের অংশ কথাটি কি ঠিক?


মোটেই না। যেহেতু দেশ প্রেম আত্নপ্রেম ও ধন প্রেমের মতোই মানুষের প্রকৃতিগত আচরণ। সুতরাং ষে প্রেম দ্বারা কেউ প্রশংসিত হতে পারে না এবং তা ঈমানের কোন জরুরী জিনিসও নয়। বলা বাহুল্য, দেশপ্রেম মু’মিন কাফের সকলেই সমান। (সিঃ যায়ীফাহ )

শোনা যায়, জুম্মার দিন সফর করতে নেই। --- এ কথা কি ঠিক?

শোনা যায়, জুম্মার দিন সফর করতে নেই। --- এ কথা কি ঠিক?


জুম্মার দিন সফর নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোন সহিহ দলিল নেই। বরং একদা উমার (রঃ) একটি লোককে বলতে শুনলেন, ‘আজ জুম্মার দিন না হলে আমি সফরে বের হতাম।’ তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি বের হও। কারণ জুমআহ সফরে বাঁধা দেয় না।’ (বাইহাকি, সিঃ যয়ীফাহ ২১৯ নং) অবশ্য অনেকে বলেছেন, জুম্মার আজান হয়ে গেলে জরুরি ছাড়া সফর করা বৈধ নয়।

লোকের ভয়ে সত্য গোপন করা অথবা সত্যের অপলাপ করা বৈধ কি?

লোকের ভয়ে সত্য গোপন করা অথবা সত্যের অপলাপ করা বৈধ কি?


লোকে কষ্ট দেবে--- এই ভয়ে, গালি দেবে, মারবে অথবা রুযী বন্ধ করে দেবে--- এই ভয়ে, চাকরী চলে যাবার ভয়ে অথবা সন্মান ও পজিশন চলে যাওয়ার ভয়ে সত্য গোপন করা অথবা সত্যের আপলাপ করা বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন,

সাম্প্রতিক পোষ্ট

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার"?

"যারা facebook চালায় তারা কখনই ভাল মুসলিম হতে পারে না" "FB তো ইহুদীর আবিষ্কার" . "আপনি এত ইসলাম মানেন তাহলে f...

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ